খেলা

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ১০০ দিনের কাউন্টডাউন শুরু

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা। আর এ খেলার জমজমাট ও আকর্ষণীয় আসর হচ্ছে বিশ্বকাপ ক্রিকেট। আগামী ৩০ মে থেকে ১৪ জুলাই ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের দ্বাদশ আসর। সে হিসাবে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ১০০ দিনের কাউন্টডাউন ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ ৮টি দেশ স্বাগতিক ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ, ভারত, দণি আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা এবং বাছাই পর্ব থেকে উন্নীত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তানসহ মোট ১০টি দল অংশ নিচ্ছে এবারের টুর্নামেন্টে।
এই দশ দলকে নিয়ে লিগ পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। লিগ পর্ব শেষে পয়েন্ট টেবিলের সেরা চার দল খেলবে সেমিফাইনাল। সেমি শেষে হবে ফাইনাল।
উল্লেখ্য, ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসের মোট ১১টি ভেন্যুতে এবারের আসরের ৪৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ১৪ জুলাই ক্রিকেটের মক্কাখ্যাত লর্ডসে ফাইনাল দিয়ে পর্দা নামবে এবারের আসরের। আর ২ জুন লন্ডনের ওভালে দণি আফ্রিকার বিপে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ।
বিশ্বকাপ ক্রিকেটে কোন দলের কি অবস্থান
তা নিয়েই স্বদেশ খবর-এর এবারের পর্যালোচনা।
আফগানিস্তান: ২০১৫ বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেয়ার পর থেকে আফগানিস্তান দল অত্যন্ত দ্রুত উন্নতি করছে। তারা জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিত বাছাই পর্বে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর ২০১৯ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আফগানিস্তান দলের তুরুপের তাস হবেন লেগ স্পিনার রশিদ খান। ২০ বছর বয়সী এ তারকা বোলার উইকেট শিকারে বেশ পারঙ্গম। মাত্র ৪৪ ওয়ানডে ম্যাচে ১০০ উইকেটের মালিক হয়েছেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়া: বর্তমান চ্যাম্পিয়ন এবং টুর্নামেন্ট ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ৫ বারের শিরোপা জয়ী। নিজ মাঠে ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সর্বশেষ আসর ২০১৫ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নেয় দলটি। স্টিভ স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নারকে তাদের ত্রাণকর্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ: ২০১৫ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা বাংলাদেশ দলটি যুক্তরাজ্যের মাটিতে মনের মণিকোঠায় স্থান পাওয়ার মতো কিছু পারফরমেন্স করতে চায়। নিজেদের দিনে বিশ্বের যেকোনো দলকে হারাতে সম ওয়ানডে ক্রিকেটে পুরোপুরি বদলে যাওয়া টাইগাররা। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দলটি ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল খেলেছে।
৫০ ওভার ফর্মেটে চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া মাশরাফি বিন মর্তুজা, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করবে টাইগাররা।
ইংল্যান্ড: ১৯৭৫ সালে শুরুর পর প্রতিটি আসরে অংশ নিলেও এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে পারেনি দলটি। তাদের সেরা নৈপুণ্য ৩ বার ফাইনাল খেলা, যেটি ছিল সর্বশেষ ১৯৯২ বিশ্বকাপে। বাংলাদেশের কাছে পরাজিত হয়ে ২০১৫ বিশ্বকাপের গ্র“প পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় ইংলিশদের।
ভারত: স্বাগতিক ইংল্যান্ডের ন্যায় এবার ফেবারিট হিসেবে বিশ্বকাপ শুরু করবে বিরাট কোহলির নেতৃত্বাধীন ভারত। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে ওয়ানডে সিরিজ জয় করা র‌্যাংকিংয়ের দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারতীয় দলটি রয়েছে ফর্মের তুঙ্গে।
নিউজিল্যান্ড: ৬ বার সেমিফাইনাল এবং ২০১৫ আসরের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হওয়া ব্ল্যাক ক্যাপসরা প্রথমবার বিশ্বকাপ শিরোপার আশা করছে।
পাকিস্তান: পাকিস্তান একটি আনপ্রেডিক্টেবল দল। দুই বছর আগে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে উদ্বোধনী ম্যাচে ভারতের কাছে ১২৪ রানে পরাজিত হওয়ার পর ফাইনালে সেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলটিকেই ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছিল পাকিস্তান।
দণি আফ্রিকা: ১৯৯২ বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেয় দলটি। প্রথমবারই সেমিফাইনালে উন্নীত হলেও বৃষ্টির কারণে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হওয়া প্রোটিয়াদের অধিকাংশ আসরেই নক আউট পর্বে বিদায় নিতে হয়েছে।
শ্রীলংকা: সম্প্রতি দণি আফ্রিকায় টেস্ট জিতলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শীর্ষ দলগুলোর জন্য মোটেই হুমকি নয় ম্যাচ ফিক্সিং ও দুর্নীতিতে জর্জরিত ১৯৯৬ বিশ্বকাপজয়ী শ্রীলংকা। ২০১৫ বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে দণি আফ্রিকার কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত ওয়ার পর থেকে তাদের ক্রিকেট ভবিষ্যৎ অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: সম্প্রতি নিজ মাঠে ইংল্যান্ডের বিপে টেস্ট সিরিজ জিতলেও টুর্নামেন্টে ফেবারিটের তকমা থাকছে না ১৯৭৫ ও ১৯৭৯ প্রথম দুই বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করা ওয়েস্ট ইন্ডিজের।