প্রতিবেদন

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২৪টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : এগিয়ে যাচ্ছে দেশ: অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করছে সরকার

মো. শহীদ উল্যাহ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩ এপ্রিল তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশব্যাপী ১১টি অর্থনৈতিক অঞ্চল উদ্বোধন এবং ১৩টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনসহ ৬৫টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নিরলস কাজ করে চলেছে সরকার। এজন্য ২০৩০ সালের মধ্যে সারাদেশে ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। সরকারের বিশেষ প্রচেষ্টায় চলতি অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ ভাগে উত্তীর্ণ হবে। আমাদের মাথাপিছু আয়ও আমরা ১ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলারে উন্নীত করছি। এর ফলে আমাদের অর্থনীতি গতিশীল হয়েছে, আমরা এখন গতিশীল অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপরে (বেজা) আওতাধীন বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১৬টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু, ২০টি নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং ৫টি চলমান কাজের উদ্বোধনও করেন শেখ হাসিনা।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য জমি অধিগ্রহণের েেত্র ফসলি জমি নষ্ট না করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তাদের তিপূরণ সঙ্গে সঙ্গে দিতে হবে। একইসঙ্গে তাদের বিকল্প জায়গার ব্যবস্থাও করতে হবে সংশ্লিষ্টদের।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ফসলি জমি নষ্ট করবো না। মানুষের জন্য কাজ করি, মানুষকে কষ্ট দেয়ার জন্য নয়। এেেত্র যারা তিগ্রস্ত হচ্ছেন তাদের যেনো কোনো কষ্ট না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুই প্রথমে বিসিক শিল্প নগরী গড়ে তুলেছেন। এজন্য প্রশিণের ব্যবস্থাও করেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, বাঙালিদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঙালিদের আসলেই কেউ দাবিয়ে রাখতে পারেনি।
প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ ভিডিও কনফারেন্স সঞ্চালনা করেন।
ভিডিও কনফারেন্সে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরী মিরেরসরাই, মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন সোনারগাঁও নারায়ণগঞ্জ, মৌলভীবাজার শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল, সিটি ইকোনমিক জোন রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন এবং মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় আব্দুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চল-এর সঙ্গে সংযুক্ত থেকে স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার জনগণ, উপকারভোগী এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেনের সঞ্চলনায় মীরসরাই প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের তরুণসমাজ দেশে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের উদ্যোগ গ্রহণ করে যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে আমি তাদের উদ্যোগের প্রশংসা করি।
সরকারের উন্নয়ন একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, উৎপাদিত পণ্যের বাজার সৃষ্টির জন্য আমরা কেবল রপ্তানির ওপর নির্ভর করতে পারি না, দেশের মানুষের ক্রয়মতা যেন বাড়ে এবং দেশে যেন আমাদের বাজার সৃষ্টি হয় সে পদপেও আমরা নিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণা দিয়ে আমরা সারা বাংলাদেশে ডিজিটাল সেন্টার করে দিয়েছি। এর ফলে এখন ক্রয়-বিক্রয় থেকে শুরু করে সবকিছু ঘরে বসেই মানুষ অনলাইনে সারতে পারছে। সেদিকে ল্য রেখে দেশের পোস্ট অফিসগুলোকেও সরকার আধুনিকায়ন করছে। সমগ্র বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ল্য স্থির করেছি। আপনারা যারা আজ দেশের শিল্পায়নের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তারা এর সুফল পাচ্ছেন।
এ সময় আঞ্চলিক কানেকটিভিটি জোরদারে সরকারের বিবিআইএন (বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল) এবং বিসিআইএন-ইসি (বাংলাদেশ, চীন, ভারত, মিয়ানমার) পদপেসমূহও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানটা এমন চমৎকার একটা জায়গায়, যেখান থেকে প্রয়োজনে পূর্ব-পশ্চিম এবং উত্তর-দণি-সবখানেই যাওয়া যায়। এসব জায়গাতেই একটি ভালো বাজার পাওয়ার সুযোগ আমাদের রয়েছে। সে যোগাযোগও আমরা স্থাপন করেছি।
পায়রায় নতুন সমুদ্রবন্দর তৈরিতে সরকারের উদ্যোগও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসা উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারের কাজ হচ্ছে অবকাঠামোগত যে সুযোগগুলোর একান্ত প্রয়োজন সেই সুযোগগুলো সৃষ্টি করে দেয়া। এর ফলে মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে, দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি জীবনমানেরও উন্নয়ন হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের কোনো তরুণ বেকার থাকবে না। তারা প্রশিণ পাবে, উপজেলা পর্যায়ে প্রশিণ কেন্দ্রের মাধ্যমে যার ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি, পাশাপাশি শিার ব্যবস্থাও করে দিচ্ছি এবং তরুণদের জন্য বহুমুখী এবং বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় আমরা করে দিচ্ছি।
প্রশিতি জনবল সৃষ্টি করাই সরকারের ল্য উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এর পাশাপাশি উৎপাদন বৃদ্ধির কাজও সরকার করে যাচ্ছে।
সারাদেশে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর আগে আমি ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিয়েছি। আজকে আরো ১১টি করা হলো এবং ১৩টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হলো। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের জন্য সাহস করে যারা বাংলাদেশে এসেছেন তাদের আমি ধন্যবাদ জানাই। আমি মনে করি এটা আমাদের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি লাভ করেছে। এই মর্যাদাকে ধরে রেখে বাংলাদেশকে আমাদের উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে হবে। দণি এশিয়ায় বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ, সেই ল্য আমরা স্থির করেছি। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী, ২০২১ সালে আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী আমরা উদযাপন করবো। তখন বাংলাদেশ হবে ুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ। আমরা ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে চাই। এ জন্য সরকার পঞ্চবার্ষিক এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রেতি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এবং ডেল্টা পরিকল্পনা ২১০০ প্রণয়ন করেছে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী যে ১১টি অর্থনৈতিক অঞ্চল উদ্বোধন করেছেন, সেগুলো হলো মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল মোংলা, বাগেরহাট, মেঘনা অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন সোনারগাঁও নারায়ণগঞ্জ, আব্দুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চল গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ, বে-অর্থনৈতিক অঞ্চল, গাজীপুর সদর, গাজীপুর, আমান অর্থনৈতিক অঞ্চল সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ, সিটি অর্থনৈতিক অঞ্চল, রূপগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল পাকুন্দিয়া, কিশোরগঞ্জ, ইস্টওয়েস্ট স্পেশাল অর্থনৈতিক অঞ্চল কেরানীগঞ্জ, ঢাকা, কর্ণফুলী ড্রাইডক বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল আনোয়ারা, চট্টগ্রাম এবং শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল, মৌলভীবাজার সদর, মৌলভী বাজার।
প্রধানমন্ত্রী যে ১৩টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন, সেগুলো হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর (মীরসরাই, সীতাকু- ও ফেনী অর্থনৈতিক অঞ্চল), মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল-২ এ, বিজিএমইএ গার্মেন্টস ভিলেজ, মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল-২, মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল (ধলাঘাটা), জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল, সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল, আকিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল, কুমিল্লা অর্থনৈতিক অঞ্চল, বসুন্ধরা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, স্ট্যান্ডার্ড গ্লোবাল অর্থনৈতিক অঞ্চল, হোসেনদী অর্থনৈতিক অঞ্চল ও আরিশা অর্থনৈতিক অঞ্চল।
প্রধানমন্ত্রী যে ১৬টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক উৎপাদনের উদ্বোধন করেছেন, সেগুলো হলো মেঘনা এডিবল অয়েল রিফাইনারি লিমিটেড, এসপিপি পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড, তাসনিম কেমিক্যাল কমপ্লেক্স ইউনিট-২ লিমিটেড, মেঘনা পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলস লিমিটেড, সোনারগাঁও ফাওয়ার অ্যান্ড ডাল মিলস লিমিটেড, সোনারগাঁও স্টিল প্যাবরিকেট লিমিটেড, টিআইসি ইন্ডাস্ট্রিজ (বাংলাদেশ) পিটিওয়াই লিমিটেড, টিআইসি ম্যানুফ্যাকচার (বাংলাদেশ) লিমিটেড, মেঘনা স্টার ক্যাবলস অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্স লিমিটেড, থাই ফয়েলস অ্যান্ড পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ইউনিক সিমেন্ট ফাইবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, আমান সিমেন্ট মিলস লিমিটেড, আমান প্যাকেজিং লিমিটেড, মিয়াগো বাংলাদেশ লিমিটেড, সিটি অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস লিমিটেড ও সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড।
প্রধানমন্ত্রী যে ২০টি শিল্প-কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন, সেগুলো হলো এশিয়ান পেইন্ট, আরমান হক ডেনিম লিমিটেড, জুজু জিনওয়ান কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, মর্ডান সিল্টেক্স লিমিটেড, মেঘনা পিভিসি লিমিটেড, মেঘনা সুগার রিফাইনারি লিমিটেড, সোনারগাঁও সিডস ক্র্যাসিং মিলস লিমিটেড, মেঘনা বলপেন অ্যান্ড এক্সেসরিজ লিমিটেড, মেঘনা কন্টেইনার টার্মিনাল লিমিটেড, মেঘনা বেভারেজ লিমিটেড, মেঘনা নুডুলস অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরি লিমিটেড, সোনারগাঁও প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, টেকলিপ লিমিটেড, এস টু এস কেমিক্যাল লিমিটেড, রূপসী সুগার মিলস লিমিটেড, রূপসী ফাওয়ার মিলস লিমিটেড, রূপসী ফিড মিলস লিমিটেড, সিটি সিডস ক্র্যাসিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড-২, আমান ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড ও এসপিএল পেট্রো-কেমিক্যালস কমপ্লেক্স লিমিটেড।
প্রধানমন্ত্রী যে ৫টি চলমান উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেছেন, সেগুলো হলো ১৫০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্ট বিআর পাওয়ার জোন লিমিটেড, শেখ হাসিনা এভিনিউ উত্তর, শেখ হাসিনা এভিনিউ দক্ষিণ, প্রশাসনিক ভবন ও শেখ হাসিনা সরোবর।