প্রতিবেদন

ভিডিও কনফারেন্সে শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি : বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কের সোনালি অধ্যায় রচিত হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সম্পর্ক আগামী ৫ বছরে আরো এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
গত ১১ মার্চ এক ভিডিও কনফারেন্সে প্রতিবেশী দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কের সোনালি অধ্যায় রচিত হয়েছে।
দুই দেশের সম্পর্ককে বিশ্বে একটি রোল মডেল আখ্যায়িত করে দুই প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, অকৃত্রিম বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ দুই দেশের সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক জোরদারে শেখ হাসিনার অবদানের কথা উল্লেখ করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, গত ৫ বছরে আমরা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সোনালি অধ্যায়ের জন্য কাজ করতে পেরেছি। আমার বিশ্বাস, আগামী ৫ বছরে এই সম্পর্ক আরো অনেক এগিয়ে যাবে।
ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশে ৪টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দুই প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে এবং নরেন্দ্র মোদি নয়াদিল্লি থেকে এই ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন। দুই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আগে ঢাকা থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও নয়াদিল্লি থেকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বক্তব্য দেন। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, হাইকমিশনার ও কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ভিডিও কনফারেন্সে জম্মু ও কাশ্মিরের পুলওয়ামায় পাকিস্তানি সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর হামলার তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি এই অঞ্চল থেকে সন্ত্রাস দূর করার অঙ্গীকার করেন শেখ হাসিনা। ভারতে আসন্ন নির্বাচনের জন্য নরেন্দ্র মোদিকে শুভ কামনাও জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী পুলওয়ামা সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা এবং নিহতদের পরিবারগুলোকে সমবেদনা জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাংলাদেশের জনগণ ও বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান। জাতীয় নির্বাচনে বিশাল ও ঐতিহাসিক জয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবারো অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
ভিডিও কনফারেন্সে ৪টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে ভারত থেকে দোতলা বাস, একতলা এসি ও নন-এসি বাস এবং ট্রাক আমদানি; ভারতীয় আর্থিক অনুদানে জামালপুর, শেরপুর, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া Ñ এই ৫ জেলায় ৩৬টি কমিউনিটি কিনিক স্থাপন; ভারতীয় অনুদানে বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলার ভা-ারিয়ায় ১১টি পানি শোধনাগার স্থাপন এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোতে ভারতের ন্যাশনাল নলেজ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের আওতায় বাংলাদেশে ওই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিগত এক দশকে উভয় দেশের মধ্যে বিভিন্ন প্রথাগত খাত যেমন নিরাপত্তা, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, যোগাযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জলবায়ু ও পরিবেশ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, শিা, সংস্কৃতি, জনযোগাযোগ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য প্রভৃতি খাতে সহযোগিতা প্রভূত পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন নতুন ও অপ্রচলিত খাত যেমন ব্লু-ইকোনমি এবং মেরিটাইম, পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, মহাকাশ গবেষণা, ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ রফতানি এবং সাইবার সিকিউরিটি খাতেও দুই দেশ সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে তাঁর সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি পোষণ করে এবং কোনো সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে কখনো বাংলাদেশের মাটিতে আশ্রয় প্রদান করা হবে না। দ্বিপীয়, আঞ্চলিক ও বহুপীয় সহযোগিতার মাধ্যমে আমাদের এ অঞ্চল ও এর বাইরেও সন্ত্রাসবাদ দূর করতে আমরা বদ্ধপরিকর।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, গতকাল (১০ মার্চ) বাংলাদেশি বেশ কজন তরুণ সংসদ সদস্য ও নেতার সঙ্গে তাঁর সাাতের সুযোগ হয়েছে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সম্পর্ক আত্মীয়তার। বাংলাদেশের উন্নয়ন ভারতের জন্য আনন্দের ও অনুপ্রেরণার কারণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য অনেক উচ্চাভিলাষী ল্য ঠিক করেছেন।
উন্নয়ন প্রকল্পগুলো উদ্বোধন করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, এসব প্রকল্প সরাসরি জনজীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের জীবনমান উন্নয়নে দ্বিপীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকার প্রতিফলন ঘটবে।
তিনি বলেন, পানি শোধনাগারের মাধ্যমে কয়েক হাজার পরিবার বিশুদ্ধ পানি পাবে। কমিউনিটি কিনিকগুলোর মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ লোক সহজে স্বাস্থ্যসেবা পাবে। ভারতের সরবরাহ করা বাস ও ট্রাক বাংলাদেশি গণপরিবহনে আরো সহায়ক হবে। এছাড়া ভারতের ন্যাশনাল নলেজ নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভারতসহ সমগ্র বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত করবে।
নরেন্দ্র মোদি আরো বলেন, শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কানেক্টিভিটি (যোগাযোগ) বাড়ানোর েেত্র একটি বড় প্রেরণা।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এটি তাঁর ষষ্ঠ ভিডিও কনফারেন্স। দুই দেশের নেতাদের মধ্যে এত ঘন ঘন আলোচনা, যোগাযোগ থেকে বোঝা যায় এই সম্পর্ক কতটা গভীর ও শক্তিশালী।