প্রতিবেদন

ভুটান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে নৌপথ চালু করছে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ভারতের সঙ্গে নৌপথে যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচলের সিদ্ধান্ত হওয়ার পর এবার ভুটান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে নৌপথ চালুর বিষয়ে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ।
এ দুটি দেশের সঙ্গে প্রথমে আমদানি-রফতানি ব্যয় কমাতে কার্গো জাহাজ চলাচল করবে। পরে চাহিদা বুঝে যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল করবে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আশা করছে, চলতি বছরের মধ্যেই সব প্রক্রিয়া শেষে দুই দেশের মধ্যে নৌপথ চালু হবে।
সূত্র বলছে, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের জাহাজ চলাচলের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দুই দেশের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলাপ-আলোচনা হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরও (এসওপি) সই হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এ বছরই জাহাজ চলাচল চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জানা যায়, বাংলাদেশের সঙ্গে বৈদেশিক বাণিজ্যে সড়কপথের খরচ কমাতে মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করতে চায় ভুটান। সে জন্য ২৪ মার্চ ব্যবসায়ী ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ভুটানের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে এসেছে। তারা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসে এসওপি সই করেছে। প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিটিসি) সহযোগিতায় ৩১ মার্চের মধ্যে রুট নির্ধারণে কাজ শুরু করবে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় শ্রীলঙ্কা ও ভুটানের সঙ্গে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে তাগিদ দেয়া হয়। কার্গোর পাশাপাশি প্যাসেঞ্জার ও সী-ক্রুজের ব্যবস্থা করা যায় কি না তাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। সে সঙ্গে দুই দেশের সঙ্গে জাহাজ চলাচলের েেত্র প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ওই নির্দেশনার আলোকে কাজ করছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।
এখন শ্রীলঙ্কার সঙ্গে নৌ-প্রটোকল চুক্তির বিষয়ে চিঠি চালাচালি চলছে। এরই মধ্যে একবার খসড়া পাঠানো হয়েছে শ্রীলঙ্কায়। তাতে কিছু বিষয়ে দেশটি মতামত জানিয়েছে। ওই সব মতামত সংযোজন করে শিগগিরই ওই খসড়া আবার পাঠানো হবে। দুই দেশ সম্মত হলে চলতি বছরই এসওপি সই হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে এসওপি সই হলে দেশটির কলম্বো ও হাম্বানটোটা বন্দর ব্যবহারে বাংলাদেশ সুবিধা পাবে। শ্রীলঙ্কার এই দুটি বন্দর ব্যবহারের সুবিধা পেলে বাংলাদেশের জাহাজগুলোকে সিঙ্গাপুর হয়ে চট্টগ্রামে আসতে হবে না। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাঁচবে। এতে করে বাংলাদেশ লাভবান হবে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বলছে, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আমরা প্রথমে কার্গো জাহাজ চালু করব। পরবর্তী সময়ে যদি যাত্রীরা আগ্রহ দেখায়, তখন যাত্রীবাহী জাহাজ চালু হবে। তবে এই সম্ভাবনা খুবই ীণ। কারণ এত লম্বা সময়ে কেউ জাহাজে করে ওই দুই দেশে যেতে চাইবে না।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) বলছে, শ্রীলঙ্কা ও ভুটানের সঙ্গে আমাদের কার্গো জাহাজ চলাচল শুরু হলে আমাদের ব্যবসায়ীরা লাভবান হবে।
উল্লেখ্য, ২৯ মার্চ থেকে পরীামূলকভাবে ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা নৌরুটে যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচলের মধ্য দিয়ে ভারতের সঙ্গে প্রথম নৌপথ চালু হতে যাচ্ছে।