প্রতিবেদন

মহাসড়কের পর এবার রেল ও নৌপথে বিশেষ নজর দিচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
অবকাঠামো খাতে বিশেষ করে সারাদেশে সড়ক-মহাসড়ক খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তাই নতুন করে আর কোনো মহাসড়কের অনুমোদন না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা নতুন করে মহাসড়ক নির্মাণের প্রয়োজন নেই জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের এবার রেলপথ ও নদীপথের দিকে নজর দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। একই সঙ্গে সারাদেশের নদী রা করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ঢাকার বাইরে যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের েেত্র পুকুর-জলাশয় রা করে প্রকল্প বাস্তবায়নের নিদের্শনাও দেন প্রধানমন্ত্রী।
গত ৫ মার্চ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভাশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনাগুলো জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
একনেক সভায় মোট ৬ হাজার ২৭৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে সরকার ব্যয় করবে প্রায় ৩ হাজার ৩১৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণে ২ হাজার ৯৬২ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয় হবে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, রেল, সড়ক ও নৌপথের সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলা ও আঞ্চলিক যোগাযোগের পরিসংখ্যান হিসেবে সারাদেশে মহাসড়কের পরিমাণ প্রায় ২২ হাজার কিলোমিটার। অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ৬টি মহাসড়ক শেষ দশ বছরে উন্নীত হয়েছে চার লেনে, যা বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান উন্নতিরই স্মারক।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব কারণেই সরকার হয়ত চায় না নতুন করে আর কোনো মহাসড়ক তৈরি করতে। নদী ও রেলপথে এ কারণেই বিশেষ দৃষ্টি দেয়া হচ্ছে বলে করছেন অনেকেই।
একনেক সভায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন সড়কের প্রয়োজন নেই। আমাদের দেশে পর্যাপ্ত মহাসড়ক রয়েছে, এগুলো শুধু সংস্কার-মেরামত করতে হবে। এখন রেলওয়ের দিকে নজর দিতে হবে, পাশাপাশি নৌপথের দিকেও নজর দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সড়কের প্রকল্প আমরা নেব না তা নয়, কিন্তু রেল ও নৌপথে বেশি জোর দিতে চাই। যোগাযোগে জাতীয় গ্রিড তৈরি করতে হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রকল্প ও ঢাকা সিটি নেইবারহুড আপগ্রেডিং প্রকল্প অনুমোদন দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের নদীগুলো রার কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু বড় বড় নদী নয়, ছোট নদীর দিকেও নজর দিতে হবে।
সেই সঙ্গে ঢাকাসহ আশপাশের নদীগুলোকে রার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সিটি করপোরেশনকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ঢাকার বাইরে যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের েেত্র পুকুর-জলাশয় রা করে প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলেন।
বিভিন্ন প্রকল্পের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশে দ্রুত শিল্পায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে। এসব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পরিকল্পিত শিল্পায়নের মাধ্যমে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে স্থানীয় এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার খোলা দ্বার নীতি নিয়েছে। এই নীতির আলোকে অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপ (বেজা) অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগে আকৃষ্ট করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া দেশের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিতে সরকার বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপরে মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে ২০১৫ সাল হতে ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ বছরে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এরই মধ্যে ২০১৮ সালের জুনে মোট ৭৯টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৫৬টি সরকারিভাবে এবং অবশিষ্ট ২৩টি বেসরকারিভাবে প্রতিষ্ঠা করা হবে।
এদিন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাপানিজ ও স্থানীয় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে শিল্পোৎপাদনের মাধ্যমে রফতানি আয় বৃদ্ধি এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।
আড়াইহাজারে জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫৮২ কোটি ১৮ লাখ টাকা। তাঁতীদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে চলতি মূলধন সরবরাহ ও তাঁতের
আধুনিকায়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৫৮ কোটি টাকা।
এই প্রকল্প অনুমোদনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁতীদের তালিকা তৈরি করতে হবে। এরপর তাদের উন্নয়ন করতে হবে। তাদের ঋণ ডেলিভারি সহজ করতে হবে। তারা যেন নিয়মিত ঋণ পায়, সেজন্য ১০ টাকায় অ্যাকাউন্ট খুলে দিতে হবে।
এছাড়াও অনুমোদন দেয়া কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৫৬ কোটি টাকা। জয়পুরহাট জেলায় তুলশী গঙ্গা, ছোট যমুনা, চিড়ি ও হারাবতী নদী পুনঃখনন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১২৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
মূলত এই প্রকল্প নিয়ে কথা বলার সময়ই প্রধানমন্ত্রী বড় নদীর পাশাপাশি ছোট নদীর দিকেও নজর রাখার কথা বলেন। ছোট ছোট নদী রার জন্য প্রয়োজনে খনন করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।