প্রতিবেদন

যোগাযোগ সহজ ও যানজটমুক্ত করতে সরকারের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৬ মার্চ গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতায় ৪ লেন ফাইওভার ও লতিফপুর রেলওয়ে ওভারপাস উদ্বোধন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে ভাষণ দেন।
প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকল্প এলাকার জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি বলেন. যোগাযোগ সহজ ও যানজটমুক্ত করতে সরকার কার্যকর কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোইয়াশো ইজুমি এবং জাইকার স্থানীয় প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যোগাযোগব্যবস্থা সহজ ও যানজটমুক্ত করতে সরকার চৌরাস্তার মোড়গুলোতে ওভারপাস নির্মাণ করে দেবে। এখন আমরা যত রাস্তা করছি কোথাও আর চৌরাস্তার মোড় থাকবে না। এটাকে ওভারপাস করে নিয়ে যাব, সেটা সড়ক ও রেল সব জায়গায়, যাতে যোগাযোগ কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয় এবং যানজট যেন না হয়। সেদিকে ল্য রেখেই আমরা এই পদপে নিয়েছি।
লতিফপুর রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণে কোনো যানবাহনকে আর সেখানে থামতে হবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সেখানে রেললাইন থাকায় দিনে ২৪ বার গেট বন্ধ করতে হয়, যা আর করতে হবে না, মানুষ সহজেই যাতায়াত করতে পারবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের সাথে সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে উপআঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ উন্নীতকরণের ল্েয ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের ৯ম কিলোমিটারে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার শীতল্যা নদীর ওপর জাইকার অর্থায়নে দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু নির্মিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী মেঘনা এবং মেঘনা-গোমতি সেতুর জরাজীর্ণ অবস্থার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এটি পুনর্নির্মাণের বিষয়ে বলেন, দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতুসহ এই ৩টি সেতুই জাইকার অর্থায়নে তৈরি হবে। সেতুগুলো চারলেনের হবে এবং এর ফলে আমাদের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কটি আমরা ইতোমধ্যেই চারলেনে উন্নীত করেছি। সাথে সাথে সেতুগুলোও যেন উন্নত হয়ে যায় সেই ব্যবস্থাও আমরা নিচ্ছি। এটা হলে আমাদের ব্যবসাবাণিজ্য, পণ্য পরিবহন Ñ সর্বত্রেই উন্নত হবে এবং সময় বাঁচবে। তাছাড়া এ সব এলাকার যে যানজট, তাও দূর হবে।
ঢাকা-সিলেট সড়কটিও চারলেনে উন্নীত করতে সরকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ব্রিজ এবং ওভারপাসগুলোও যেন চারলেনের হয় সেই ব্যবস্থাও সরকার নিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বিগত ১০ বছরে দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নয়নের বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য পদপে তুলে ধরেন। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু এবং চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, গত ১০ বছরে ৪ হাজার ৩৩১ কিলোমিটার সড়ক মজবুতকরণ, ৫ হাজার ১৭১ কিলোমিটার মহাসড়ক প্রশস্ত, ৪ হাজার ৮৬৯ কিলোমিটার মহাসড়ক নির্মাণ এবং ৮ হাজার ২৫৮ কিলোমিটার সড়ক ওভার রুলিং করা হয়েছে। ৪৫৭ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করা হয়েছে।
যাত্রাবাড়ী থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত সড়ক ৮ লেনে উন্নীত করার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার মেরিনড্রাইভও নির্মাণ করা হয়েছে। সেইসাথে ৩ হাজার ৯৭৭টি কালভার্ট নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। ঢাকা, টঙ্গী, চট্টগ্রাম ও ফেনীতে ৭টি ফাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে বেশকিছু আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে।
রেলপথের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ১৬টি স্টেশনবিশিষ্ট মেট্রোরেলের নির্মাণকাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। এর মাধ্যমে ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা থাকবে। গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের কাজও দ্রুত সম্পন্ন হবে। ৩৩০ দশমিক ১৫ কিলোমিটার নতুন রেললাইন নির্মাণ করা হয়েছে, ২৪৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার মিটার গেজ থেকে ডুয়েল গেজে রূপান্তর এবং নতুন ৭৯টি রেল স্টেশন এবং ২৯৫টি রেল সেতু আমরা নির্মাণ করেছি।
রেলের উন্নয়নের জন্য ৩০ বছর মেয়াদি একটি মাস্টারপ্ল্যান নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা থেকে সব জেলার সঙ্গেই যেন সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয় সেই উদ্যোগটা আমরা নিয়েছি।
তিনি এ সময় বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুতে তার নেতৃত্বাধীন সরকারের রেল লাইন স্থাপনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সরকার পদ্মাসেতুর রেল যোগাযোগকে বরিশাল পর্যন্ত সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত যেন রেল যোগাযোগ সম্প্রসারিত হয় তার সমীা চলছে। তাছাড়া ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত সংযোগ করে দিচ্ছে। ফলে খুলনাতেও আরো সহজে যোগাযোগটা করা যাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকারের আওয়তায় গত ১০ বছরে ৫২ হাজার ২৮০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন, ৭৫ হাজার ৭৭৩ কিলোমিটার পাকা সড়ক, ৭১ হাজার ৬৩৬ মিটার ব্রিজ পুনর্নির্মাণ এবং ৩ লাখ ১ হাজার ৩৪১ মিটার কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে।