প্রতিবেদন

রমজানে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে টিসিবির ব্যাপক প্রস্তুতি

মো. ইয়াছির আরাফত
আগামী মে মাসে পবিত্র রমজান শুরু হবে। আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবি সারাদেশে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছে।
জানা যায়, পবিত্র রমজান উপলে টিসিবি আগামী ২২ এপ্রিল থেকে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে খুচরা বাজারের চেয়ে কম মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করবে। এই কর্মসূচির আওতায় ২ থেকে আড়াই হাজার টন ভোজ্য তেল, ২ হাজার টন চিনি, ১ হাজার থেকে ১১০০ টন মসুর ডাল, ১ হাজার ৫০০ টন ছোলা এবং ১ হাজার টন খেজুর বিক্রি করা হবে।
সারাদেশে ট্রাকে করে ১৮৭টি স্পটে, রাজধানীতে ৩৫টি স্পটে, চট্টগ্রামে ১০টি স্পটে, প্রতিটি বিভাগে ৫টি করে এবং প্রতিটি জেলায় একটি করে স্পটে মোট ২ হাজার ৮২৭ জন ডিলার ট্রাকে করে এই পণ্য বিক্রি করবে।
টিসিবি সূত্র জানায়, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যাতে না বাড়তে পারে এবং নিম্ন আয়ের লোকদের কোনো কষ্ট না হয়, এ জন্য টিসিবি রমজান শুরুর আগেই খোলাবাজারে ন্যায্যমূল্যে এ সকল পণ্য বিক্রি শুরু করতে যাচ্ছে। তবে এ সকল পণ্যের বিক্রয়মূল্য এখনো নির্ধারিত হয়নি। শিগগিরই সরকার মূল্য নির্ধারণ করে দেবে।
রাজধানীতে টিসিবির পণ্য বিক্রয়ের নির্ধারিত স্থানগুলো হলো সচিবালয় গেট, জাতীয় প্রেসকাব, কাপ্তান বাজার, ভিক্টোরিয়া পার্ক, সাইন্স ল্যাবরেটরি মোড়, নিউমার্কেট-নীলতে মোড়, শ্যামলী-কল্যাণপুর, ঝিগাতলা মোড়, ফার্মগেট খামারবাড়ি, কলমিলতা বাজার, কচুক্ষেত রজনীগন্ধা সুপারমার্কেট, আগারগাঁও তালতলা ও নির্বাচন কমিশন অফিস, উত্তরায় রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্স, মিরপুর-১ বাজার রোড, শান্তিনগর বাজার, মালিবাগ বাজার, বাসাবো বাজার, বনশ্রী আইডিয়াল স্কুল, বাংলাদেশ ব্যাংক চত্বর, মহাখালী কিচেন মার্কেট, শেওড়াপাড়া বাজার, দৈনিক বাংলা মোড়, শাহজাহানপুর বাজার, ফকিরাপুল বাজার এবং আইডিয়াল জোন, মতিঝিল বলাকা চত্বর, খিলগাঁও তালতলা বাজার, রামপুরা বাজার, মিরপুর ১০ নম্বর চত্বর, উত্তরায় আশকোনা হজক্যাম্প, মোহাম্মদপুর টাউন হল কিচেন মার্কেট, দিলকুশা ও মাদারটেক নন্দিপাড়া কৃষি ব্যাংক।
সরকারি সূত্রে বলা হয়, রমজানের শেষ দিন পর্যন্ত টিসিবির পণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রয় করা হবে।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর রমজান শুরুর ১৫ দিন আগে টিসিবি খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি শুরু করার কারণে পণ্যমূল্য অনেকটাই সাধারণের নাগালের মধ্যে থাকে। এতে অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বাড়াতে পারে না।
আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহারে অগ্রাধিকারভুক্ত ৫টি বিষয়ের মধ্যে এক নম্বর হলো দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি প্রতিরোধ। ইশতেহারে বলা হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে জনগণের ক্রয়মতার মধ্যে স্থিতিশীল রাখার ব্যবস্থা করা এবং সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য সৃষ্টি করা হবে।
আর সেই লক্ষ্যে কাজ করছে টিসিবি।
টিসিবি সূত্র জানায়, সরকারের অন্য অনেক প্রতিষ্ঠানের মতো টিসিবি লোকসানি প্রতিষ্ঠান নয়। ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করেও লাভ করে এই সংস্থা। প্রধান কার্যালয়সহ ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় টিসিবির ৪৩ বিঘা জমি রয়েছে। পণ্য আমদানি করতে টিসিবিকে ১ হাজার কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় নিশ্চয়তাপত্র বা লোন অন ট্রাস্ট রিসিট (এলটিআর) দিয়ে থাকে অর্থ মন্ত্রণালয়। এলটিআর হলো পণ্য ক্রয় বা আমদানি করতে গেলে বিক্রেতা বা রপ্তানিকারককে দেয়া এমন একটি নিশ্চয়তাপত্র, যাতে প্রকৃত ক্রেতা পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হলে সরকারের মনোনীত ব্যাংক তা মিটিয়ে দিতে বাধ্য থাকে। তবে জানা গেছে, পিপিআরের শর্ত থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পরও রহস্যজনক কারণে টিসিবি পণ্য আমদানি করতে পারছে না। তাই সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টিসিবিকে কার্যকররূপে পুনর্গঠনের জন্য দরকার মূলত ১৯৭২ সালের টিসিবি আদেশের সংশোধন। এটি সংশোধন করা হলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে টিসিবি ভূমিকা রাখতে পারবে বলে তাদের অভিমত।
তবে শত সমালোচনা সত্ত্বেও এ কথা সত্য যে, সারা বছর না হোক, রমজান মাসে হলেও টিসিবির কারণে বাজারে দ্রব্যমূল্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষ এতে বেশ উপকৃত হয়। এমনকি পবিত্র রমজান মাসে বাজারেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অনেকটাই স্বাভাবিক থাকে। এতে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ বেশ খুশি। তারা আশা করছে, অতীতের মতো এবারও রমজানে টিসিবি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সক্রিয় তৎপরতার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় থাকবে। টিসিবির কারণে সাধারণ মানুষকে গুটিকয়েক অসাধু ব্যবসায়ীদের হাতে জিম্মি হয়ে থাকতে হবে না।