প্রতিবেদন

রাজধানীতে যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন উদ্যোগ মেয়র সাঈদ খোকনের

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা শহর আধুনিকায়নের পাশাপাশি শহরের যানজট নিরসনে সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে এবং ক্রমাগতভাবে বাস্তবায়ন করে চলেছে নানা কর্মসূচি। এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ সিদ্ধান্ত জানা গেল ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকনের কাছ থেকে। রাজধানীর সড়কে যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন করে আর বাস রুটের অনুমোদন দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দণি সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। অপরদিকে সড়কের বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য দৃশ্যমান পরিবর্তনের জন্য আগামী এপ্রিল থেকেই কিছু রুটের পরিবহনের চিত্র পাল্টে যাওয়া শুরু হবে বলেও জানান তিনি। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকা দণি সিটির সীমানায় পুরনো মেনুয়্যাল পদ্ধতির ট্রাফিক ব্যবস্থার পরিবর্তে দ্রুতই অটোট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন সাঈদ খোকন।
গত ২ মার্চ রাজধানীর গুলিস্তানে নগর ভবনে ঢাকা মহানগরীর পরিবহনে শৃঙ্খলা আনা এবং বাস রুট রেশনালাইজেশন ও কোম্পানির মাধ্যমে বাস পরিচালনা পদ্ধতি প্রবর্তন সংক্রান্ত কার্যক্রম সমন্বয়ে গঠিত সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাঈদ খোকন এসব কথা বলেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব ও সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল্ড (এসডিজি)-এর প্রধান সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপ (রাজউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আবদুর রহমান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপরে চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েতুলাহ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমানসহ এসংক্রান্ত অন্য সংস্থার প্রধান ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সাঈদ খোকন বলেন, শিগগিরই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাছে অটোট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা হস্তান্তর করা হবে। যদিও এরই মধ্যে ডিএসসিসি অধিত্রে এলাকার ১০টি পয়েন্টে অটোট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু রয়েছে এবং সেগুলো ভালোভাবে কাজ করছে। চূড়ান্ত পরীা শেষে এসব অটোট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা শিগগিরই ডিএমপির নিকট হন্তান্তর করা হবে। এরপর থেকে এসব এলাকায় স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ হবে।
ডিএসসিসি মেয়র বলেন, অটোট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করতে জাতীয় নির্বাচনের জন্য কিছুটা সময় বিলম্বিত হয়েছে। তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে ডিএসসিসি অধিভুক্ত এলাকার ১০টি পয়েন্টে সিগন্যাল ব্যবস্থায় অটোমেশন চালু হয়েছে। গত দেড় থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে আমাদের পর্যবেণে ওই সিগন্যালগুলো চলমান রয়েছে। আমরা আর কিছুদিনের মধ্যে ডিএমপির নিকট অটোমেশিন পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে হস্তান্তর করব এবং হস্তান্তর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমাদের ডিএসসিসি এলাকায় অটোট্রাফিক সিগন্যাল আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে।
কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন করে আর কোনো রুটে বাসের অনুমোদন দেয়া হবে না।
এ বিষয়ে মেয়র বলেন, নতুন করে ঢাকায় বাস রুটের অনুমোদন দেয়া হবে না। বিআরটিসি যদি নতুন করে কোনো রুটে বাস চলাচলের জন্য রুট পারমিট ইস্যু করা একান্তই প্রয়োজন মনে করে, তাহলে তারা আমাদের অনুমোদিত কমিটিতে আলাপ-আলোচনার জন্য তা উঠাতে পারে। এতে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা যাবে। তবে আপাতত নতুন করে বাস রুট অনুমোদন বন্ধ থাকবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, সড়কে বিশৃঙ্খলা রাতারাতি হয়নি, রাতারাতি সমাধান করাও সম্ভব না। কমিটি গঠনের প্রাক্কালে আমরা বলেছিলাম, কমপে ২টি বছর সময় লাগবে। এই ২ বছরে আমরা চেষ্টা করব, বাস রুটগুলো রেশনালাইজড করার মধ্য দিয়ে কোম্পানি গঠন করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার। সেই ল্েয আমরা কাজ করছি। আগামী ১৩ মার্চ আবার বৈঠকে বসে আমাদের পরবর্তী কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাব। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে, বিশেষ করে আগামী এপ্রিল থেকে জুন নাগাদ সরকারিভাবে কিছু বাস নামানোর কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
এসময় মেয়র প্রাইভেট মালিকদের প্রতি অন্তত কিছু বাস ঢাকার রুটে নামানোর উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য এপ্রিল-জুন মাসের মধ্যে কিছু রুটের চিত্র পাল্টে যাবে বলে আশা করছি। বিভিন্ন রুটে এসি, নন-এসি ও উন্নত মানের কয়েক শত নতুন বাস নামবে। এসব বাসের চালক বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী হবে, ফলে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।
তিনি বলেন, আমাদের ২ বছর বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চিত্র নগরবাসীকে উপহার দেব। আগামীতে ঢাকা শহরে গণপরিবহন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের সূচনা দেখতে পাবেন। এই পরিবর্তন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে যাবে। আশা করি, আগামী ২ বছরের মধ্যে ইতিবাচক চিত্র উপহার দিতে পারব। এছাড়া আগামী এপ্রিলের মধ্যে রাজধানীতে ৬০০ নতুন বাস নামানো হবে এবং এপ্রিল থেকেই দৃশ্যত পরিবর্তন ল্য করা যাবে।
উল্লেখ্য, ডিএসসিসিতে নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের বিষয়ে মেয়র সাঈদ খোকন নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই সোচ্চার। সচেতনতার অভাবে সড়কে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটছে বলে সাঈদ খোকন মনে করেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপরও গুরুত্বারোপের তাগিদ দেন তিনি এবং সংশ্লিষ্টদের সবসময়ই এ ধরনের নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। সাঈদ খোকন মনে করেন, সরকারের সক্রিয়তার পাশাপাশি নাগরবাসীর সচেতনতা ও সহযোগিতা ছাড়া আদৌ নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।