প্রতিবেদন

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলই জয়ী

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার) কার্যনির্বাহী পরিষদের (২০১৯-২০) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেল ও বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল প্রায় সমান সংখ্যক আসনে জয়লাভ করেছে। এতে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতিতে কোনো দলের একক প্রভাব থাকবে না; বরং উভয় দলেরই সমান কর্তৃত্ব থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের মনোনীত সাদা প্যানেলের সভাপতি পদে এ এম আমিন উদ্দিনসহ ৬ জন নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম নীল প্যানেল সম্পাদক পদে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ ৮ জন নির্বাচিত হয়েছেন। দীর্ঘ ৫ বছর পর সভাপতি পদে আওয়ামী লীগ পন্থি এ এম আমিন উদ্দিন নির্বাচিত হলেন। আর টানা সপ্তমবারের মতো সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।
গত ১৩-১৪ মার্চ ২ দিনব্যাপী নির্বাচনের পর ১৫ মার্চ এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়। দুদিনের নির্বাচনে ৫ হাজার ৮২১ জন ভোটার ভোট দেন। সুপ্রিমকোর্ট বার ভবনের হল রুমে এ ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ ওয়াই মশিউজ্জামান। ফলাফল ঘোষণার পর নির্বাচিতদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ১ বছর এই নতুন কার্যনির্বাহী কমিটিই দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবী সমিতির নেতৃত্ব দেবে।
সমিতির ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতি, সহ-সভাপতি, সহ-সম্পাদক ও ৩ জন সদস্য নিয়ে মোট ৬টি পদ পেয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেল। আর সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সহ-সম্পাদক, কোষাধ্য ও ৪ জন সদস্যসহ মোট ৮টি পদে জয় পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেলের প্রার্থী আবু মোহাম্মদ আমীন উদ্দিন (এ এম আমিন উদ্দিন) সভাপতি পদে পেয়েছেন ৩ হাজার ২২৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী পেয়েছেন ২ হাজার ৪৪৩ ভোট। এ এম আমিন উদ্দিন ৭৮২ ভোট বেশি পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। সভাপতি পদে স্বতন্ত্র আরও দুই প্রার্থী ছিলেন। তাদের মধ্যে এ বি এম ওয়ালিউর রহমান পেয়েছেন ৪৪ ভোট। আর ড. ইউনুস আলী আকন্দ পেয়েছেন ৫৩ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল থেকে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন পেয়েছেন ৩ হাজার ৫৬ ভোট। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাদা প্যানেলের আব্দুল নুর দুলাল পেয়েছেন ২ হাজার ৬৪৯ ভোট।
দুটি সহ-সভাপতি পদের একটিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মো. জসিম উদ্দিন ২ হাজার ৮৪৯ ভোট এবং বিএনপি সমর্থিত আব্দুল বাতেন ২ হাজার ৮৫৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। কোষাধ্য নির্বাচিত হওয়া বিএনপি সমর্থিত মো. ইমাম হোসেন ২ হাজার ৯৪৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাদা প্যানেলের মো. সৈয়দ আলম টিপু পেয়েছেন ২ হাজার ৮৩০ ভোট।
সহ-সম্পাদকের দুটি পদের একটিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাজী শামসুল হাসান শুভ ২ হাজার ৭২৯ এবং অন্যটিতে বিএনপি সমর্থিত শরীফ ইউ আহম্মেদ ২ হাজার ৭২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
কার্যনির্বাহী কমিটির ৭টি সদস্য পদে ৪টিতে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী কাজী আখতার হোসাইন ৩ হাজার ১৬৯, মোহাম্মদ উসমান চৌধুরী ৩ হাজার ৩৬, রাশিদা আলিম ঐশী ৩ হাজার ৯৬ ও সৈয়দা শাহীন আরা লাইলী ২ হাজার ৮৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। আর ৩টিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আফিয়া আফরোজি রানী ২ হাজার ৮৭৭, চঞ্চল কুমার বিশ্বাস ২ হাজার ৮৫২ ও মো. শামীম সরদার ২ হাজার ৯৮৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
গত বছর সুপ্রিমকোর্ট বারের নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতি-সম্পাদকসহ ১০টি পদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল। তার বিপরীতে ৪টি পদে জয় পেয়েছিল আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেল।
এ বিষয়ে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির দুবারের নির্বাচিত সাবেক সভাপতি ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহম্মেদ বলেন, আমি আশাবাদী ছিলাম এবারের নির্বাচনে সভাপতি, সম্পাদকসহ ১৪টি পদেই সাদা প্যানেলের প্রার্থীগণ জয়লাভ করবেন। ডিভিশন হলো কী কারণে তা আমার বোধগম্য নয়। আমার মনে হয়, সাদা প্যানেলে আইনজীবীদের মধ্যে ঐক্যের অভাব দেখা দিয়েছে। প্রার্থী মনোনয়ন ঠিক ছিল। শুনেছি বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের প্রার্থী ও আইনজীবীরা ভোটারদের টাকা-পয়সা দিয়েছে। অবশ্য এটা আমি দেখিনি। জয়লাভের জন্য চেষ্টা করা হয়েছে, কোনো ত্র“টি ছিল না। নির্বাচনে ওরা মেজরিটি পেল। ভবিষ্যতে বিষয়টিতে আরও ভালোভাবে চিন্তাভাবনা করতে হবে।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, আমার কাছে মনে হয় যারা হাইকোর্টে নিয়মিত প্র্যাকটিস করে তারাই সাদা প্যানেলে ভোট দিয়েছে। আর যারা মফস্বল থেকে এসে ভোট দিয়েছে তারাই নীল প্যানেলে ভোট দিয়েছে। ওরা সুপ্রিমকোর্টে প্র্যাকটিস করে না। শুধু তালিকায় নাম রয়েছে। ভোটের দিন এসে ভোট দিয়ে যায়। সে কারণেই নীল প্যানেলে বেশি প্রার্থী বিজয় লাভ করেছে।