প্রতিবেদন

সুবিধাবঞ্চিত নারীর মতায়নে এবার এলো ‘তথ্য আপা’

স্বদেশ খবর ডেস্ক
সুবিধাবঞ্চিত নারী আর ঘরে বন্দি থাকবে না। তথ্যপ্রযুক্তির অবারিত দুয়ার খুলে যাওয়ায় ওই সব নারী প্রবেশ করবে তথ্য আলোকবর্তিকায়। প্রযুক্তির কল্যাণে মতায়ন ও জীবনমান উন্নয়নে দ্রুত এগিয়ে যাবে তারা। সুবিধাবঞ্চিত নারীদের এমন মসৃণ পথে চলার পথ তৈরি করে দিচ্ছে তথ্য আপা।
তথ্য আপারা এখন প্রতিটি উপজেলায় গিয়ে জনপ্রশাসনের সঙ্গে কাজ ও সমন্বয়ের দায়িত্ব বুঝে নিচ্ছেন। পরিচিত হচ্ছেন সুবিধাবঞ্চিত নারীদের সঙ্গে। তথ্য আপাদের চিনে নিতে কষ্ট হবে না। পরনে থাকবে নকশি করা সাদা বর্ডারে বেগুনি রঙের অ্যাপ্রোন। ব্যাকপ্যাকে ল্যাপটপ ও আনুষঙ্গিক জিনিস নিয়ে সাইকেলে চেপে পৌঁছবে গ্রামের প্রতিটি বাড়ির উঠানে।
তথ্য আপা প্রকল্পের পরিচালক অতিরিক্ত সচিব মীনা পারভীন জানান, সরকারের তথ্য আপা প্রকল্প বাস্তবায়নের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রস্তুতি পর্ব শেষ হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় এ বছর এপ্রিলেই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
তিনি জানান, উপজেলাগুলোতে অফিস নেয়া হয়েছে। এগুলো হবে কেন্দ্র। প্রতি কেন্দ্রে ১ জন করে তথ্যসেবা কর্মকর্তা ও ২ জন করে তথ্যসেবা সহকারী থাকবে। সংখ্যা হবে ১ হাজার ৪৭০। ৯০ শতাংশের প্রশিণ শেষ হয়েছে। তাদের উপজেলায় পাঠানো হয়েছে। তথ্যসেবা কর্মকর্তা দশম গ্রেডের, উচ্চশিতি। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রকল্পটি জাতীয় মহিলা সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
দেশে প্রথম পর্যায়ে ১৩ উপজেলায় পাইলট প্রকল্পের সফল্যের পর দ্বিতীয় পর্যায়ে দেশের সব উপজেলায় তথ্য আপা বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক মীনা পারভীন জানান, দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও নতুন বিষয় যোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে বড় কর্মসূচি ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস)। ই-কমার্স, ই-লার্নিং, ইন্টারনেট প্রটোকল (আইপি) টেলিভিশন, অনলাইন অফলাইন সুবিধা। তথ্যভান্ডারে আছে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিা, জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি (লিঙ্গসমতা), ব্যবসা বিষয়ক কয়েকটি বিষয়ে প্রযুক্তির বাতায়ন। আইপি টেলিভিশনে মহিলা বিষয়ক সংবাদের সঙ্গে প্রামাণ্যচিত্র প্রচার করা হবে। এ থেকে একের দেখাদেখি অন্যরা অনুপ্রাণিত হতে পারে।
ই-কমার্সের মাধ্যমে গ্রামীণ নারী হস্তশিল্প প্রসারে সহযোগিতা তো পাবেই একই সঙ্গে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতের সব তথ্য পাবে। যেমন গ্রামীণ নারী বাংলার ঐতিহ্য নকশিকাঁথা বুননের পর তা নিজেরা বিপণন করতে পারে না। অল্প পারিশ্রমিকে এসব পণ্য কিনে নিয়ে যায় মধ্যস্বত্বভোগী এনজিও। ই-কমার্সে জ্ঞান দিলে নিজেরাই উৎপাদিত পণ্য বিপণনের পথ খুঁজে পাবে। ই-লার্নিং নারীর প্রযুক্তিজ্ঞানের সব দুয়ার খুলে দেবে। পরে প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন দল গঠন করতে পারবে।
তথ্য আপা ঘরের দুয়ারে নারীর স্বাস্থ্য সুরার প্রাথমিক পরীা বিনামূল্যে করে দেবেন। যেমন রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ওজন মাপা, অন্তঃসত্ত্বা নারীর সন্তান জন্মদানে নিরাপদ ব্যবস্থা সবই জানিয়ে দেবেন। নারীর রোগবালাই দূরীকরণে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। যেসব পরীা প্রকল্পের কর্মসূচি সফটওয়্যারে করা সম্ভব তাও করে দেবেন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের সঙ্গে ভিডিওকলে যোগাযোগ করিয়ে দেবেন।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেক প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছে। প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪৫ কোটি টাকা। ৫ বছর পর প্রকল্পের সব কর্মসূচির সফলতার ওপর ভিত্তি করে সরকারের এই প্রকল্প মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিষ্ঠানে রূপ নেবে। তথ্য আপা প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের সুদূরপ্রসারী ভাবনা, চলছে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া। এই প্রকল্পের সাফল্য জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে লিঙ্গ সমতা, নারী উন্নয়নের যে কথা বলা হয়েছে সেই ল্যমাত্রা পূরণ করবে।
সরকার কর্তৃক গৃহীত রূপকল্প-২০২১, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১৬-২০) এবং এসডিজির ল্যমাত্রায় নারীর মতায়নের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। অর্থনৈতিক কর্মকা-ে নারীর অংশগ্রহণ ও মতায়ন দেশের সার্বিক অগ্রগতির অন্যতম শর্ত। নারীর মতায়নে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। বাংলাদেশের গ্রামের অসহায়, দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত কিংবা কম সুবিধাপ্রাপ্ত নারীর তথ্যে প্রবেশাধিকার এবং তাদেরকে তথ্যপ্রযুক্তির সেবা প্রদান নিঃসন্দেহে নারীর মতায়নকে ত্বরান্বিত করবে। এ ল্েয মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক ‘তথ্য আপা: ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ল্েয তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলাদের মতায়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি গৃহীত হয়। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় মহিলা সংস্থা কর্তৃক উক্ত প্রকল্পটি ১ম পর্যায়ে ১৩টি উপজেলায় সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৪৯০টি উপজেলায় প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় গৃহীত হয়েছে।
প্রকল্পের উদ্দেশ্যসমূহ: ১. বাংলাদেশের ৪৯০টি উপজেলায় তথ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা; ২. তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে ১ কোটি গ্রামীণ নারীকে উদ্বুদ্ধকরণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে সাহায্য করা; ৩. তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে ই-কমার্স সহায়তা প্রদান; ৪. ই-লার্নিংয়ের মাধ্যমে প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন দল গঠন করা।