প্রতিবেদন

সড়কে নৈরাজ্য-মৃত্যুর মিছিল থামছেই না: যে কারণে কার্যকর হচ্ছে না প্রতিকারে নেয়া সিদ্ধান্তগুলো

মো. ইয়াছির আরাফত
প্রতিদিনের টেলিভিশন চ্যানেলের খবর এবং পত্রিকার পাতা উল্টালেই চোখে পড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় সারাদেশে আহত ও নিহত হওয়ার নির্মম ঘটনা। এ যেন আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা, সংশ্লিষ্টদের নানামুখী উদ্যোগ এবং সরকারের শীর্ষ মহলের হস্তক্ষেপ, এমনকি কঠোর নির্দেশনাতেও থামানো যাচ্ছে না সড়ক-মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল।
রাজধানী ঢাকাতে বেপরোয়া বাসের চাপায় সর্বশেষ ১৯ মার্চ প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরী। এর আগে গত বছরের ২৯ জুলাই জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় মারা যান রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিার্থী আবদুল করিম রাজীব ও দিয়া খানম মিম।
দু’টি ঘটনার পরই প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। কিছু উদ্যোগও নেয়। তবু সড়কে নৈরাজ্য ও মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। সড়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর জন্য মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কিছু পদপে নিতে হবে। কিন্তু তারচেয়ে বেশি প্রয়োজন এখনই জরুরি ভিত্তিতে কিছু উদ্যোগ নেয়া।
গবেষকরা বলছেন, সড়কে নৈরাজ্য-মৃত্যুর মিছিল ঠেকাতে নানা ধরনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। সবচেয়ে বেশি দরকার রাস্তা বাড়ানো। কিন্তু ঢাকা শহর পরিকল্পনাহীনভাবে বেড়ে ওঠায় রাস্তা বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। রাজধানীতে যে পরিমাণ সড়ক আছে, তার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই সড়কের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।
সঠিকভাবে সড়ক ব্যবহারের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো, মানুষের চলাচলের জন্য ফুটপাত উন্মুক্ত করতে হবে। প্রতিটি রাস্তার মাঝে যে ডিভাইডার আছে সেটাতে রেলিং দিয়ে রাস্তা পারাপার বন্ধ করতে হবে। শুধু নির্দিষ্ট জায়গায় বাস থামার ব্যবস্থা করতে হবে।
এ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ হলো ড্রাইভাররা যদি কোনো ট্রেনিং স্কুল থেকে না আসে, তাহলে তাকে লাইসেন্স দেয়া যাবে না। প্রত্যেক ড্রাইভারের নিয়োগপত্র থাকতে হবে। কারণ তারা ১৫ দিন গাড়ি চালায়, সেই বেতন দিয়ে পুরো মাস চলতে হয়। ফলে শুধু ড্রাইভারদের ওপর চাপ দিলেই হবে না, পুরো সিস্টেম পাল্টাতে হবে।
উল্লেখ্য, আবরার আহমেদ চৌধুরী ঢাকার সড়কে যেদিন মৃত্যুবরণ করেন সেদিনই সিলেটে বেড়াতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন এক সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী ও তার শিশুপুত্র। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ওই সেনা কর্মকর্তাসহ আরো দুজন। গোয়াইনঘাটে একটি ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হচ্ছেন ঢাকা সেনানিবাসের সার্জেন্ট সুজা আহমদের স্ত্রী ইলোরা পারভীন ও তার ছেলে সাজিদ। তারা সিলেটের বিছনাকান্দি ও জাফলংয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন।
১৯ মার্চ ঢাকা ও সিলেটের পাশাপাশি আরো ৯টি জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ১৩ জন মৃত্যুবরণ করেন। ২২ মার্চ ছুটির দিনেও সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান অন্তত ১৬ জন। এভাবে প্রতিদিনই সারাদেশের কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে।
এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ বলছে, রাজধানীতে এমনিতেই রাস্তা অনেক কম। তাছাড়া সরকারের বিভিন্ন সংস্থার উন্নয়নমূলক কাজ চলার কারণে, বিশেষ করে মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ চলার কারণে সংকুচিত হয়ে পড়েছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। তারপরও ডিএমপির ট্র্যাফিক বিভাগ রাজধানীর যানচলাচল সচল রাখার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ঢাকার ট্র্যাফিক বিভাগ মনে করে, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এখনই ঢাকার রাস্তা থেকে যানবাহনের সংখ্যা ও মানুষ কমাতে হবে। কিন্তু এগুলো যেহেতু চট করেই সম্ভব নয়, তাই প্রথমত চালকদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। তাদের মোটিভেট করতে হবে।
পরিবহন শ্রমিকদের মোটিভেট করতে ডিএমপির পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সর্বশেষ ২১ মার্চ মহানগর নাট্যমঞ্চে ১ হাজারের মতো বাসশ্রমিককে নিয়ে মোটিভেশনাল প্রোগ্রাম করা হয়েছে। এ কাজ এখন থেকে নিয়মিতই চলছে।
পাশাপাশি পথচারীদের মধ্যে আইন মেনে চলার প্রবণতা তৈরি করতে হবে। কারণ আমাদের দেশের অশিতি মানুষই কিন্তু বিদেশে গিয়ে শৃঙ্খলা মেনে চলেন। তাহলে এখানে কেন সম্ভব নয়?
ফুটপাত হাঁটার জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। যেকোনো জায়গায় হুট করে রাস্তা পার হওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। আসলে সবাই যদি আইন মানেন তাহলে পরিস্থিতি আপনাআপনি বদলে যাবে। যেমনটি দেখা যায় ঢাকা সেনানিবাসের অভ্যন্তরে যানচলাচলের দৃশ্য ও মানুষের আইন মেনে চলার প্রবণতা দেখে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক রাজধানীতে ৬টি কোম্পানির মাধ্যমে ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিতে বাস চলাচলের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এতে চালকদের প্রতিযোগিতার প্রবণতা অনেক কমে যাবে বলে মনে করেছিলেন তিনি। গ্রিন ঢাকা নামে একটি কোম্পানির বাস উত্তরা-মতিঝিল রুটে চালু হলেও আর কোনো কোম্পানির বাস ঢাকার সড়কে দেখা যায়নি।
আনিসুল হকের উদ্যোগ প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম স্বদেশ খবরকে বলেন, অনেকদিন ধরেই এ উদ্যোগটা বন্ধ ছিল। এখন আমরা ওই পরিকল্পনা আবার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছি। দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকনের সঙ্গে কথা বলে ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিতে বাস চলাচলের উদ্যোগ আমরা শিগগিরই নেব।
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে যা করা দরকার প্রসঙ্গে আতিকুল ইসলাম বলেন, আসলে অনেক জায়গায় দ্রুত ফুটওভারব্রিজ করা দরকার। এগুলো করতে বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান তাদের সিএসআরের ফান্ড দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করতে পারে। আমরা তাহলে ওই ফুটওভারব্রিজটি তার নামে বা তার প্রতিষ্ঠানের নামে করে দিতে পারি। এ ছাড়া ফুটপাত হাঁটার জন্য উন্মুক্ত করা দরকার।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, অদ চালকদের মধ্যে যাত্রী নেয়ার প্রতিযোগিতা ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
স্বদেশ খবরকে তিনি বলেন, ঢাকার নানা কোম্পানির নামে চলাচলকারী বাসগুলো বিভিন্ন মালিকের। এজন্য তারা প্রতিযোগিতা করে। দৈনিক চুক্তিতে চলাচলের কারণে এগুলো প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। যে কারণে দুর্ঘটনা বেশি হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমাদের কাউন্টার সিস্টেম নেই; ফলে দিন শেষে চালক মালিককে যে টাকা দিত তাতেই সন্তুষ্ট থাকতে হতো এবং এ পদ্ধতিতে চালকদের নানা অজুহাতের কারণে মালিকরা কম টাকা পেত। তাই মালিকরা এখন চালকদের সঙ্গে চুক্তিতে চলে গেছে। এ কারণে চালকরা বেশি আয়ের আশায় প্রতিযোগিতা করছে। এটা বন্ধ করতে হবে। তাছাড়া ঢাকা শহরে বেশিরভাগ চালকই পাকা লাইসেন্সধারী না, অনভিজ্ঞ। তারা লেগুনা, পিকআপসহ হালকা যানবাহনের চালক। ভারী লাইসেন্সধারী চালকরা ঢাকায় গাড়ি চালাতে আসে না। ফলে দ চালকের অভাবে মালিকরা অদ ড্রাইভারদের হাতেই গাড়ি তুলে দিচ্ছে। এতে দুর্ঘটনা ঘটছে।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে এই পরিবহন নেতা বলেন, আমরাও তো চেষ্টা করে পারছি না। এখনও ২০ ভাগের বেশি গাড়ি চালকের অভাবে প্রতিদিন রাস্তায় নামানো যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়েই আমরা এত টাকার গাড়ি অদ চালকদের হাতে তুলে দিচ্ছি। আমরাও চাই সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসুক, মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করুক। কোনো মালিক কি চাইবেন তার এত টাকার গাড়ি কাউকে চাপা দিক, আর জনতা সেই গাড়ি ভাঙচুর করুক বা আগুন লাগাক?
বুয়েটের এআরআইর গবেষণা থেকে জানা গেছে, ২০১৬ সালের মার্চ থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬৬৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬৯৯ জন নিহত এবং ১ হাজার ২২৭ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৫৪টি দুর্ঘটনাই বাসের কারণে ঘটেছে। এছাড়া ১৩০টি মোটরসাইকেল, ১১৩টি ট্রাক, ৭৩টি পিকআপ এবং ৫৬টি ব্যক্তিগত গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে। এর মধ্যে ২০১৬ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শুধু রাজধানী ঢাকায় ১২৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩৭ জন, আহত হয়েছেন ৩৩৭ জন। ২০১৭ সালে ঢাকায় ২৬৩টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৭৬ জন এবং ৩৫৮ জন আহত হন। ২০১৮ সালে ঢাকায় ২৮০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮৬ জন নিহত হন। আহত হয়েছিলেন ৫৩২ জন। ওই বছর ১৩৪টি দুর্ঘটনার কারণ ছিল বাস।
গত বছরের ২৯ জুলাই রাজধানীর শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিার্থীর বাসচাপায় মৃত্যুর ঘটনায় টানা ছাত্রআন্দোলন গড়ে উঠলে তাদের ৯ দফা দাবি মানার আশ্বাস দেয় সরকার, ঘরে ফেরে শিার্থীরা। গত প্রায় ৮ মাসে শিার্থীদের ৯ দাবির মধ্যে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ জাতীয় সংসদে অনুমোদন হয়েছে ঘটনার ২ মাসের মধ্যে সেপ্টেম্বরে। বাকি দাবিগুলো এখনো প্রক্রিয়াধীন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁর কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশ দেয়া হলেও শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
শিার্থীদের প্রথম দাবি ছিল বেপরোয়া চালককে ফাঁসি দিতে হবে এবং এই শাস্তি সংবিধানে সংযোজন করতে হবে।
সর্বশেষ তথ্যানুসারে, অভিযুক্তদের বিচার আদালতে চলছে। সড়কে বেপরোয়া গাড়ি চালনায় মৃত্যুদ-ের বিধান রেখে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুমোদন করা হয়েছে গত ১৯ সেপ্টেম্বর। দুই শিার্থীকে চাপা দেয়া বাসের চালক, সহকারী, মালিকসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সরকার তাৎণিক জাবালে নূর পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল করলেও পরে ওই পরিবহনের বাস ঢাকার রাস্তায় চলতে দেখা গেছে।
এ ছাড়া শিার্থীদের চলাচলে এমইএসে ফুট ওভারব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা স্থাপনের দাবি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে আন্ডারপাস বা ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এটির কাজ শুরু হয়েছে, তবে পুরো ফল পেতে আরো সময় লাগবে।
শিার্থীদের দাবি ছিল প্রতিটি সড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় গতিরোধক স্থাপন করা। এ দাবির সম্পূরক হিসেবে সব স্কুলের সামনে গতিরোধক নির্মাণের পাশাপাশি প্ল্যাকার্ডযুক্ত বিশেষ ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগেরও নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে সড়ক বিভাগ দেশের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে অবকাঠামো উপযোগী করতে শুরু করেছে। যেমন ঢাকা-আরিচা সড়কে দুর্ঘটনা আগের চেয়ে অনেক কমেছে ওই সড়কে বাঁক কমানোর কারণে।
শিার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে থামিয়ে তাদের বাসে তুলতে হবে Ñ এ দাবি পূরণ হয়নি। দাবিটি বাস্তবায়নে সরকার একমত হলেও সব স্থানে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে বিভিন্ন স্থানে শিার্থীরা জানিয়েছে।
সারাদেশে শিার্থীদের জন্য বাসে হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে Ñ শিার্থীদের এই দাবিও পুরো বাস্তবায়ন হয়নি। বরং ঢাকার প্রধান সড়কে পরিচয়পত্র দেখিয়ে বাসে ওঠার পরও হাফ ভাড়া নেয়া হচ্ছে না। বাসের চালক ও মালিকরা এ দাবির বিরোধিতা করছেন।
শিার্থীদের অন্যতম দাবি ছিল ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল এবং লাইসেন্স ছাড়া চালকদের গাড়ি চালানো বন্ধ করা। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গত বছরের আগস্ট থেকে বারবার বৈঠক হয়েছে। তার পরও রাস্তায় ফিটনেসবিহীন বাস চলছে। লাইসেন্স ছাড়া চালকরা গাড়ি চালাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিআরটিএ ও ডিএমপির ট্র্যাফিক বিভাগকে সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সংস্থা দুটি বারবার অভিযান চালানোর পরও আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না।
শিার্থীদের আরেকটি দাবি ছিল, বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া যাবে না। এর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেছিলেন, সিটিং সার্ভিসের েেত্র এটি আইনসম্মতও নয়। কিন্তু পুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেয়ার পরও এ আদেশ কার্যকর হয়নি; বরং সিটিং সার্ভিসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলেও এসব বাস চলছে লোকাল সার্ভিসের মতোই।

শেষ কথা
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকার ও সংশ্লিষ্টরা ইদানীং বেশ আন্তরিক। বিশেষ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং প্রশাসনের উদ্যোগে ঢাকা শহরের অধিকাংশ ফুটপাত ও সড়ক সংলগ্ন অবৈধ স্থাপনা এখন অনেকটা অবৈধ দখলমুক্ত। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পুলিশের ট্র্যাফিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্টরা আগের তুলনায় এখন অধিক পরিমাণে সক্রিয় এবং নানামুখী কার্যকর প্রয়াস চালাচ্ছে। তবে গাড়ির মালিক, পরিবহন শ্রমিক এবং পরিবহন শ্রমিক নেতা ও গাড়ি মালিকদের প্রতিনিধির সাথে সরকার তথা প্রশাসনের যথাযথ সমন্বয় এবং পরিপূর্ণ সহযোগিতার অভাবেই সড়কে কাক্সিক্ষত শৃঙ্খলা ফেরানো যাচ্ছে না। পাশাপাশি ট্র্যাফিক আইন মেনে না চলার প্রবণতা এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাবে সড়কে প্রত্যাশিত পর্যায়ে শৃঙ্খলা ফিরছে না। এতে সড়ক দুর্ঘটনা কমছে না। তাই কেবল সরকারকে দোষারোপ না করে সড়ক ব্যবহারকারী সাধারণ জনগণ ও সংশ্লিষ্ট সকলকে এক্ষেত্রে সজাগ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তাহলেই সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে।