প্রতিবেদন

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে রানার গ্রুপের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

বিশেষ প্রতিবেদক
দেশে সড়ক দুর্ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ চালকদের শিা ও সচেতনতার অভাব। চালকদের শিক্ষিত ও যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অভিজ্ঞ করে গড়ে তুলতে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রাখার কথা থাকলেও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান একে সরকারের দায়িত্ব বলেই মনে করে। আশার কথা হলো, এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী ভূমিকায় নেমেছে দেশের অন্যতম বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ‘রানার গ্রুপ’। তারা মোটরসাইকেল বিক্রির পাশাপাশি চালকদের বিনামূল্যে মোটরসাইকেল চালনার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।
অন্য যানবাহনের দুর্ঘটনার পাশাপাশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়ও প্রতিনিয়ত প্রাণহানি ঘটার প্রেক্ষাপটে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধকল্পে মোটরসাইকেল ড্রাইভিংকে গুরুত্ব দিয়ে ‘রানার গ্রুপ’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন জেলায় সর্বসাধারণের জন্য বিনামূল্যে মোটরসাইকেল ড্রাইভিং প্রশিণকেন্দ্র গড়ে তুলেছে রানার গ্রুপ।

রানারের বিনামূল্যে মোটরসাইকেল ড্রাইভিং
রানার দেশে বহুদিন ধরে বিনামূল্যে মোটরসাইকেল ড্রাইভিং প্রদান করছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন জেলায় ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তুলেছে। এ পর্যন্ত ঢাকা, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, নওগাঁ, যশোর, নাটোর, বগুড়া, রংপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, মৌলভীবাজার, সাতক্ষীরাসহ মোট ১২টি জেলায় মোটরসাইকেল ড্রাইভিং ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তুলেছে। যেসব জেলায় বর্তমানে ট্রেনিং সেন্টার নেই, সেসব জেলায় পর্যায়ক্রমে এ ধরনের আরো ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে রানার গ্রুপের।

উদ্দেশ্য
ক্রেতা সাধারণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও যথাযথ ড্রাইভিংদক্ষতার পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তায় গণসচেতনতা সৃষ্টি করা রানার ড্রাইভিং ট্রেনিং সেন্টারের মূল লক্ষ্য।

রানার ট্রেনিং সেন্টারের প্রধান কাজ
ষ বিনামূল্যে মোটরসাইকেল ড্রাইভিং প্রশিণ প্রদান করা।
ষ ট্রাফিক ও মেকানিক্যাল বেসিক নলেজ সম্পর্কিত জ্ঞান প্রদান করা।
ষ সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গণসচেতনতা সৃষ্টি করা।
ষ রাস্তা ব্যবহারকারী প্রত্যেককে ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য উদ্বুদ্ধ করা।
ষ ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তিতে সহায়তা প্রদান করা।

রানারের স্লোগান
‘ট্রাফিক আইন মেনে চলুন। নিজে সচেতন হোন। অন্যকে সচেতন হতে সাহায্য করুন। ট্রাফিক আইন অনুসরণ করে মোটরযান চালিয়ে নিজে বাঁচুন এবং অপরকে বাঁচাতে সাহায্য করুন।’Ñ এই স্লোগানকে সামনে রেখে গত কয়েক বছর ধরে কাজ করছে রানার।
এ প্রসঙ্গে রানার ড্রাইভিং ট্রেনিং সেন্টারের কো-অর্ডিনেটর মো. খায়রুল আলম স্বদেশ খবরকে বলেন, বিআরটিএ’র প থেকে আমরা সর্বাত্মক সাহায্য ও সহযোগিতা পেলে এ ধরনের ট্রেনিং সেন্টারের মাধ্যমে মোটরসাইকেল সড়ক দুর্ঘটনারোধে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারবো।
তিনি আরো বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বিক্রয়োত্তর সেবা দেয়ার নিদর্শনস্বরূপ ট্রাফিক আইন অনুসরণের মাধ্যমে দুর্ঘটনামুক্ত নিরাপদ জীবনযাপনের জন্য আমাদের এই ুদ্র প্রয়াস। এক্ষেত্রে সুশৃঙ্খল জীবন নিশ্চিত করতে আমরা সকলের সাহায্য ও সহযোগিতা কামনা করছি। এই ুদ্র প্রয়াসের মধ্য দিয়ে যদি একটি জীবন রা পায় তথা একটি পরিবার উপকৃত হয় তাহলেই আমাদের সার্থকতা।
এছাড়াও তিনি মোটরসাইকেল ড্রাইভিং প্রসঙ্গে স্বদেশ খবর প্রতিনিধির কাছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মতামত ব্যক্ত করেন। এখানে তা উপস্থাপন করা হলো।

রানারের মোটরসাইকেল প্রশিণ
প্রথমে মোটরসাইকেল সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান থাকতে হবে। ২. মোটরসাইকেলে বসার আগে ব্রেক প্যাডেল, গিয়ার, হ্যান্ডেল ঠিক আছে কি না দেখতে হবে। ৩. মোটরসাইকেলে বসে স্ট্যান্ড ওঠাতে হবে। ৪. চাবির সুইচ অন করে নিউট্রাল আছে কি না দেখতে হবে। ৫. ডান পা দিয়ে কিক স্টার্ট দিতে হবে। ৬. হালকাভাবে এক্সেলারেটর ডান হাত দিয়ে চেপে ধরতে হবে। ৭. কাচ চেপে ধরে ১নং গিয়ার দিতে হবে এবং ধীরে ধীরে কাচ ছাড়তে হবে এবং সাথে এক্সেলারেটর বাড়াতে হবে। ৮. কিছুদূর অগ্রসর হয়ে পুনরায় কাচ করে দ্বিতীয় গিয়ারে যেতে হবে ও ধীরে ধীরে কাচ ছাড়তে হবে। ৯. ৩ থেকে ৫ দিন দ্বিতীয় গিয়ারে চালানোর পর দক্ষতার ওপর বিবেচনা করে পরবর্তীতে তৃতীয়, চতুর্থ গিয়ার ব্যবহার করা যেতে পারে। ১০. ৬ থেকে ৭ দিন মোটরসাইকেল সোজাভাবে চালানোর পর ২-৩ দিন টার্নিং, স্পিড ব্রেকার, জিগজ্যাগ ইত্যাদি কৌশল শিখা সম্পন্ন করতে হবে।
এছাড়াও একজন আদর্শ চালকের নিম্নোক্ত গুণাবলি থাকা দরকার।

শিাগত যোগ্যতা
একজন চালক হওয়ার জন্য ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে। চালককে অবশ্যই বাংলা-ইংরেজি লিখতে ও পড়তে জানতে হবে। বাস্তবে দেখা যায়, যেসব চালকের শিাগত যোগ্যতা ভালো তাদের ড্রাইভিং পারফরম্যান্সও খুব ভালো। শিাগত যোগ্যতা মোটরযান চালনা পেশার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে মনে করা হয় একজন চালক দ্রুত গতিতে মোটরযান চালাতে পারলেই ভালো চালক হন। আসলে এই ধারণা ভুল। আসলে চালককে রোড সাইন, রোড মার্কিং Ñ সব বিষয়েই জানতে হবে। মূলত একজন আদর্শ চালককে অবশ্যই সড়ক ব্যবহারবিধি/ট্রাফিক নিয়মকানুন ভালোভাবে জানতে হবে।

দায়িত্ববোধ
আপনি যখন মোটরযান চালাবেন তখন আপনার নিজের নিরাপত্তা, মোটরযানে বসা যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং পথচারীদের নিরাপত্তা সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে। কারণ আপনার সামান্যতম ভুলের কারণে যাত্রী ও পথচারীর বিরাট তি হয়ে যেতে পারে। কাজেই আপনি যদি দায়িত্বের প্রতি সঠিকভাবে মনোযোগী হন, তাহলে আপনার পে ট্রাফিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করে সুন্দর ও সাবলীলভাবে মোটরযান চালানো সম্ভব হবে।

যান্ত্রিক জ্ঞান
একজন চালক হিসেবে আপনাকে অবশ্যই ইঞ্জিন সম্পর্কে মৌলিক ধারণা থাকতে হবে। নতুবা আপনি ভালো চালক হতে পারবেন না। যেমন ইঞ্জিনের ফুয়েল সিস্টেম, লুব্রিকেটিং সিস্টেম, ব্রেক সিস্টেমের সাথে সম্পর্কযুক্ত পার্টস সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। এছাড়া ডিজেল ইঞ্জিনের এয়ার লক, পেট্রোল ইঞ্জিনের ভেপার লক সমস্যা এবং এগুলোকে কিভাবে প্রতিকার করা যায় তা জানা থাকতে হবে। পাশাপাশি ইঞ্জিনের ছোটখাটো ত্রুটি সারানোর বিষয়ে ধারণা থাকা দরকার।

আত্মবিশ্বাস
অভিজ্ঞতার সাথে সাথে যেমন আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায় তেমনি অধিক আত্মবিশ্বাস আবার দুর্ঘটনার কারণও হতে পারে। অনেক সময় নতুন চালকরা ট্রাফিক স্রোতের ভিড়ে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন, যা দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কাজেই আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে; কিন্তু অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং দুর্বল আত্মবিশ্বাস দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

ধৈর্য
কথায় আছে ধৈর্য একটি মহৎ গুণ। যেমন আপনি সামনের মোটরযান চালকের কাছে সাইড চাইলেন; তিনি সাইড দিলেন না বরং আরও আপনাকে বাধার সৃষ্টি করলেন। তাই বলে আপনি ধৈর্য হারিয়ে তার প্রতিশোধ নিতে যাবেন না। এটি দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। আর কোনোভাবেই প্রতিযোগিতা করে মোটরযান চালাবেন না। মনে রাখবেন, যাদের ধৈর্য বেশি তারা জীবনে অনেক উন্নতি করতে পারে। অতএব আপনি ধৈর্যসহকারে মোটরযান চালালে একজন আদর্শ চালক হয়ে ওঠবেন।

মোটরসাইকেল ড্রাইভিং
মোটরযানে আরোহণ করার পর তা নিরাপদ কিনা; এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। ইঞ্জিনে জ্বালানি, ইঞ্জিল অয়েল, চাকায় প্রেসার ঠিকভাবে আছে কি না পরীা করে নিন। সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, ট্যাক্স টোকেন, ইন্স্যুরেন্স সার্টিফিকেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে বের হতে হবে। মোটরযানের ব্রেক ও হর্ন টেস্ট করে নিতে হবে।
মোটরসাইকেলে ১ জনের বেশি যাত্রী বহন করা মোটরযান অধ্যাদেশের ১৯৮৩- এর ১০০ ধারা মোতাবেক নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
মোটরসাইকেল চালক ও পেছনের আরোহীকে অবশ্যই হেলমেট পরিধান করতে হবে।

গাড়ি (প্রি-ট্রিপ ইনস্পেকশন)
চালানোর আগে চেক করুন
১. ইঞ্জিন অয়েল, ২. টায়ার প্রেসার, ৩. জ্বালানি, ৪. মোটরযান হেডলাইট, ৫. ব্রেক অয়েল এবং ব্রেকের কার্যকারিতা, ৬. ব্রেক লাইটসহ আনুষঙ্গিক সবকিছু, ৭. স্টিয়ারিং, ৮. রেডিয়েটরের পানি, ৯. ব্যাটারির পানি ইত্যাদি।

মোটরসাইকেল চালকদের জন্য করণীয়
১. গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, ফিটনেস সার্টিফিকেট, ট্যাক্স টোকেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বীমা, রুট পারমিট ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন। ২. যানবাহন চালানোর পূর্বে মোটরযান ত্রুটিমুক্ত কি না পরীা করে নিশ্চিত হয়ে নিন। ৩. বিপজ্জনক ওভারটেকিং করে দুর্ঘটনা সংঘটিত করবেন না। ৪. মোটরযান চালানোর সময় ধূমপান থেকে বিরত থাকুন। ৫. নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মোটরযান চালাবেন না। ৬. ওভার লোডিং করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নেবেন না। ৭. ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করবেন না। ৮. মোটরযান চালানোর সময় যথাসম্ভব বামে ঘেঁষে চলুন। ৯. শাস্তি ও জরিমানা এড়াতে সময়মতো যানবাহন কর ও ফি পরিশোধ করুন । ১০. যানবাহনের কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য পেট্রোল ও ডিজেল পার্টিকুলেট ব্যবহার করুন। ১১. বেপরোয়া গতিতে মোটরযান চালিয়ে জীবনের ঝুঁকি নেবেন না। ১২. মোটরযান চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।

নিরাপদে মোটরসাইকেল চালানো
আমাদের দেশের শতকরা ৯০ ভাগ দুর্ঘটনা ঘটে সাধারণত চালকের ভুলের কারণে। তাই অবশ্যই মোটরযান চালানোর সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
১. আপনি নতুন চালক হলে বিশেষভাবে সতর্ক থাকুন। কারণ ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সের চালকেরা অথবা কিছুদিন পূর্বে যারা পরীায় পাস করেছে তারাই বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটান। ২. চালক হিসেবে আপনাকে ঝুঁকির মাত্রা বিচার করতে হবে। পথচারী এবং অন্যান্য সড়ক ব্যবহারকারীরা কি করতে পারে বিচার করার চেষ্টা করুন। ৩. মোটরযান চালানোর সময় কঠিন পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকুন। যেমন অন্ধ মোড়, সড়কের প্রতিবন্ধকতা ইত্যাদি। ৪. সড়ক অনুযায়ী আপনার মোটরযান চালানো মিলিয়ে নিন। জংশনসমূহে বিশেষভাবে খেয়াল রাখুন। গতি কমান এবং মোটরযান থামানোর জন্য প্রস্তুত থাকুন। ৫. সবসময় সর্Ÿোচ্চ গতিসীমায় মোটরযান চালানো নিরাপদ হবে না। সড়ক এবং ট্রাফিকের অবস্থা হিসাব করে মোটরযান চালানো উচিত। ৬. বিচণতার সাথে সড়কের ওপর আপনার অবস্থান ঠিক রাখতে হবে। সড়ক দেখার জন্য আপনার দৃষ্টিশক্তি উন্নত থাকতে হবে এবং বিপরীত দিক থেকে আগত ট্রাফিকের সাথে সংঘর্ষ এড়াতে হবে। ৭. নিরাপদে মোটরযান চালানোর জন্য আপনার সম্পূর্ণ মনোযোগ প্রয়োজন। মনোযোগ হারাতে পারেন এমন কিছু এড়িয়ে চলুন। যেমন গান শোনা, মোবাইল ফোন ব্যবহার ইত্যাদি। ৮. নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করে মোটরযান চালানো উচিত নয়।

নিরাপত্তা
মোটরসাইকেল ড্রাইভিংয়ের সময় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তিনটি ‘স’ কে অবশ্যই মনে রাখতে হবে।
ষ সচেতনতা (ঝরহপবৎরঃু)
ষ সৌজন্য (ঈড়ঁৎঃবংু)
ষ সাধারণ জ্ঞান (এবহবৎধষ কহড়ষিবফমব)

সড়ক দুর্ঘটনার কারণ
সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ চালকের ভুলের জন্য ৯৫%, সড়ক ও মোটরযানের ত্রুটির কারণে ৫%। আবার এই ৫% ত্রুটির জন্য মানুষের পরোক্ষভাবে হাত রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, চারটি ঙ কে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা যায় যেমন
ষ ওভার স্পিডিং (ঙাবৎ ঝঢ়ববফরহম)
ষ ওভার লোডিং (ঙাবৎ খড়ধফরহম)
ষ ওভার টেকিং (ঙাবৎ ঞধশরহম)
ষ ওভার কনফিডেন্ট (ঙাবৎ ঈড়হভরফবহঃ)
অধিকাংশ ক্ষেত্রে সড়ক দুর্ঘটনা এই ৪টি কারণেই সংঘটিত হয়।

সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর উপায়
প্রধানত ৩টি ঊ-এর ওপর সড়ক দুর্ঘটনা নিরাপত্তা নির্ভর করে।
ষ ঊ- ঊফঁপধঃরড়হ (এডুকেশন) শিক্ষা ।
ষ ঊ- ঊহমরহববৎরহম (ইঞ্জিনিয়ারিং) সড়ক প্রকৌশলী।
ষ ঊ- ঊহভড়ৎপবসবহঃ (ইনফরসমেন্ট) আইন প্রয়োগ।
এই ৩টি কারণ নিশ্চিত করা গেলে অনেকাংশে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব।

রক্ষণাত্মক মোটরযান চালনা
ষ যদি আপনি খুবই রেগে থাকেন তাহলে মোটরযান চালাবেন না ।
ষ যদি আপনি খুবই কান্ত থাকেন তখনও মোটরযান চালাবেন না ।
ষ যদি আপনি খুবই বিষাদগ্রস্ত থাকেন তাহলেও মোটরযান চালাবেন না ।

মোটরসাইকেল চালানোর বিষয়ে
বিআরটিএ’র নির্দেশনা
ষ চালকসহ ২ জনের বেশি বহন করা আইনত নিষিদ্ধ ও দ-নীয় অপরাধ।
ষ মোটরসাইকেল চালক ও যাত্রী উভয়েরই হেলমেট পরিধান করা বাধ্যতামূলক।
ষ ওভারটেকিং নিষিদ্ধ এলাকায়, রাস্তার বাঁকে, সরু ব্রিজে ওভারটেক করা যাবে না।
ষ সামনে কোনো জীবজন্তু, বালক-বালিকা কিংবা বৃদ্ধ লোক থাকলে গাড়ির গতি কমাতে হবে।
ষ কোনো অবস্থায় অস্বাভাবিক গতিতে মোটরসাইকেল চালানো যাবে না।
ষ মোড় নেয়ার সময় পূর্বেই টার্নিং সিগন্যাল লাইট জ্বালিয়ে সংকেত দিতে হবে।
ষ কোনো অবস্থাতেই ফুটপাত দিয়ে মোটরসাইকেল চালানো যাবে না।

মোটরসাইকেল চালানোর নিয়মাবলি
১. রাস্তায় মোটরযান চালানোর সময় যতদূর সম্ভব রাস্তার বাম দিক ঘেঁষে চালাবেন এবং বিপরীত দিক থেকে আগত মোটরযানগুলোকে তার ডান দিক দিয়ে যেতে বা ক্রস করতে দেবেন। ২. রাস্তায় মোটরযান চালানোর সময় একইদিকে চলমান সামনের মোটরযান বা যেকোনো যানবাহনকে ওভারটেক করার সময় তার ডান দিক দিয়ে ওভারটেক করবে এবং বিপরীত দিক থেকে আগত মোটরযানগুলো ডান দিক দিয়ে ক্রস করবে। ৩. ওভারটেক করার সময় ডান দিক দিয়ে এবং ক্রস করার সময় বাম দিক দিয়ে চলার বিধান থাকা সত্ত্বেও কোনো কোনো েেত্র এর ব্যতিক্রম বিধান রয়েছে।
ক. যদি সামনের মোটরযানের চালক ডান দিকে যাওয়ার সংকেত দেয় এবং তার মোটরযান রাস্তার মাঝামাঝি অথবা তারচেয়ে বেশি এসে পড়ে তবে পেছনের মোটরযানের চালক সামনের মোটরযানের বাম দিক দিয়ে ওভারটেক করবে। খ. বিপরীত দিক থেকে আগত মোটরযানের চালক যদি ডান দিকে যাওয়ার সংকেত দেয় এবং তার মোটরযান যদি রাস্তার মাঝামাঝি অথবা তারচেয়ে বেশি এসে পড়ে তবে ওই মোটরযানের বাম দিক দিয়ে ক্রস করবে।
৪. নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে পেছনের মোটরযান চালক সামনের মোটরযানের চালককে ওভারটেক করবে না। ক. সামনের মোটরযানকে ওভারটেক করতে গেলে যদি রাস্তার অন্যান্য যানবাহন, চালক অথবা পথচারীদের চলাচলের অসুবিধার সৃষ্টি হয় অথবা কোনো প্রকার দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। খ. যদি সামনে পাহাড় অথবা কোনো বাঁক অথবা কোনো অন্ধ মোড় অথবা কোনো প্রকার দৃষ্টিগোচরতা না থাকে। ৫. পেছনের মোটরযান চালক যদি সামনের মোটরযানকে ওভারটেক করতে শুরু করে তবে সামনের মোটরযানের চালক কোনোক্রমেই তার গতি বৃদ্ধি করবে না এবং ওভারটেক করা মোটরযানকে কোনোরূপ বাধা সৃষ্টি করবে না। ৬. কোনো সংযোগ কেন্দ্র বা বাঁকে উপনীত হওয়ার পূর্বে প্রতিটি মোটরযানের চালক তার মোটরযানের গতি কমাতে থাকবে এবং থামানোর জন্য প্রস্তুত থেকে অগ্রসর হবে। কোনো দুর্ঘটনা নেই অথবা কোনো বিপদের আশঙ্কা নেই নিশ্চিত হয়ে ওই সংযোগ কেন্দ্র অতিক্রম করবে। ৭. সংযোগ কেন্দ্রের প্রবেশ দ্বারে উপনীত হয়ে প্রত্যেক মোটরযানের চালক ডান দিকে তাকাবে, প্রয়োজন হলে থামবে এবং ডান দিক থেকে আগত মোটরযানগুলোকে আগে যেতে দেবে। ৮. রাস্তায় কোনো সভা, শোভাযাত্রা, মিছিল, পুলিশ বা সেনাবাহিনীর লংমার্চ অগ্রসরমান অথবা রাস্তায় উন্নয়নমূলক কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের ক্ষেত্রে প্রত্যেক চালক তার মোটরযানের সর্বোচ্চ গতি ১৫ মাইল বা ২৫ কিলোমিটারের বেশি করতে পারবে না। ৯. ১ জন মোটরযান চালক বাম দিকে মোড় নেয়ার সময় প্রত্যেক মোটরযানের চালক যতদূর সম্ভব রাস্তার বাম দিক ঘেঁষে চলবে, যাতে তার বাম দিক দিয়ে কোনো রিকশা বা মোটরযান প্রবেশ করতে না পারে। বাম দিকে সংকেত দেবে এবং তার মোটরযান হতে রাস্তার মোড় পর্যন্ত কোনো রিকশা বা কোনো মোটরযানকে ওভারটেক করবে না; মোড়ে পৌঁছে ডান দিক থেকে কোনো মোটরযানের সাথে সংঘর্ষ হওয়ার আশঙ্কা নেই নিশ্চিত হয়ে বাম দিকে মোড় নেবে। ডান দিকে মোড় নেয়ার সময় প্রত্যেক মোটরযানের চালক রাস্তার মাঝামাঝি চলবে। যাতে তার ডান দিক দিয়ে তার মোটরযান হতে রাস্তার মোড় পর্যন্ত যথেষ্ট ফাঁকা জায়গা থাকে। ডান দিকের সংকেত দেবে এবং প্রবেশদ্বারে পৌঁছে আগে ডানে পরে বামে আবার ডানে দেখে সোজা চলবে। যে রাস্তায় সে প্রবেশ করবে ওই রাস্তার সেন্টার লাইন অতিক্রম করে ডান দিকে মোড় নেবে। ১০. রাউন্ড অ্যাবাউট বা গোল চক্করে প্রবেশ করার সময় প্রত্যেক মোটরযানের চালক বাম দিক দিয়ে প্রবেশ করবে এবং ডান দিকে মোড় নেবে।
পরিশেষে বলা যায়, রানার ড্রাইভিং ট্রেনিং সেন্টার হতে এ সেবা নিন। বিনামূল্যে মোটরসাইকেল ড্রাইভিং শিখুন এবং সঠিক উপায়ে নিজ লাইসেন্স প্রাপ্তিতে সহায়তা নিন।