প্রতিবেদন

১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মদিন পালিত : বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে অনেকের অভিমত: ৭ মার্চকে স্বাধীনতা দিবস ঘোষণা করা হোক

মেজবাহউদ্দিন সাকিল : ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মদিন পালিত হয়েছে। আর মাত্র এক বছর পর ২০২০ সালে জাতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মজয়ন্তী পালন করবে। তাঁরই জ্যেষ্ঠ কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর ৯৯তম জন্মদিনে তাঁরই স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে চলেছেন।
আশা করা হচ্ছে, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত টানা তৃতীয় এবং মোট চতুর্থবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামী বছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মজয়ন্তী যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পালন করবে পুরো জাতি।
উল্লেখ্য, এখন থেকে শত বছর আগে বাংলার মেহনতি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের ত্রাতা হিসেবে এ অঞ্চলের নিভৃত এক পল্লীতে সৃষ্টিকর্তা যে মহামানবকে পাঠিয়েছিলেন, তাঁরই সুযোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে জননেত্রী শেখ হাসিনা সেই বাংলাদেশেরই হাল ধরে আছেন। তাঁর প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর মতোই তাঁর আত্মজার আজন্ম লালিত স্বপ্ন Ñ বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, বাঙালি জাতিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না।
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বাঙালি জাতির ত্রাতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। বজ্রকণ্ঠে বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
২৬ মার্চের ১৯ দিন আগে ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু স্পষ্ট করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। স্বাধীনতার স্বপ্নকে গুঁড়িয়ে দেয়ার জন্য পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ২৫ মার্চের কালরাতে নিরীহ বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু আরেকবার বাংলাদেশের স্বাধীনতার যে ঘোষণা দেন, সে তারিখটিকে নির্ধারণ করে এই দিনে পালিত হয় আমাদের স্বাধীনতা দিবস। ৪৮ বারের মতো এবারো ২৬ মার্চে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে স্বাধীনতা দিবস।
স্বাধীনতা দিবসের দীর্ঘ সময় পরে এসে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার কাছে বিবেচনার জন্য অনেকেরই সবিনয় অনুরোধ, ৭ই মার্চকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ঘোষণা করুন। দ্ব্যর্থহীন সত্য, ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’, ‘তোমাদের যার যা কিছু আছে, তা নিয়ে প্রস্তুত থেকো’ Ñ স্বাধীনতা ঘোষণার এর চেয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা আর কী হতে পারে?
বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মজয়ন্তীর প্রাক্কালে ৯৯তম জন্মদিনে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার কাছ থেকে ৭ই মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস Ñ এই ঘোষণাটি জাতি আশা করছে। বিশেষ করে দলমত নির্বিশেষে আমার মতো এদেশের অনেক মানুষ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ৭ই মার্চকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ঘোষণা করার আশা করছেন এদেশের গণতন্ত্রের মানসকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে।
২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস এবং ওই দিবসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা নিয়ে কিছুটা হলেও প্রশ্ন থাকার প্রেক্ষাপটে এবং স্বাধীনতার ঘোষণায় একজন অখ্যাত মেজরের ভাগ বসানোর উচ্চাভিলাসের কারণে, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের উজ্জ্বলতা অনেকটাই ম্লান। স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্রের কারণে ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসটি কিছুটা হলেও বিতর্কিত। সেক্ষেত্রে ৭ই মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে স্বমহিমায় উজ্জ্বল। তাছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূলমন্ত্র এবং মানবসভ্যতার অমূল্য দলিল, যা জাতিসংঘের অন্যতম সংস্থা ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত।
আমাদের মনে রাখতে হবে, ৭ই মার্চ থেকে ২৫ মার্চের কালরাত – মাঝখানের এই ১৮ দিনে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আলোচনা চালিয়ে গেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে, কোনো এক অখ্যাত মেজরের সঙ্গে নয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্নকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য পাকিস্তানি জান্তা ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে নিক্ষেপ করেছিল, কোনো এক অখ্যাত মেজরকে নয়।
তারপরও সেই অখ্যাত মেজর তাঁর উচ্চাভিলাস চরিতার্থ করার জন্য ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস এবং দিবসটির ঘোষণাকারী হিসেবে ভাগ বসিয়েছে। তার গঠিত রাজনৈতিক দল-বিএনপি স্বাধীনতার ঘোষণা তথা ২৬শে মার্চকে নিয়ে এখনও নোংরা রাজনীতি করছে। কিন্তু ৭ই মার্চ একান্তই বঙ্গবন্ধুর নিজস্ব। সেখানে কোনো ভাগিদার নেই। ৭ই মার্চ বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু যে ঐতিহাসিক ভাষণে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন, আন্তর্জাতিকভাবে সে ভাষণটি আড়াই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ ভাষণের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণটি তাই যেকোনো দেশের স্বাধীনতা ঘোষণার ‘ম্যাগনাকার্টা’ হিসেবে বিবেচিত।
তাই বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনেকের মতো আমাদেরও ঐকান্তিক চাওয়া, ৭ই মার্চকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ঘোষণার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেয়া যেতে পারে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শেখ হাসিনা আপনি পরম মমতায় বাঙালি জাতির জন্য পিতার অসম্পন্ন কাজ সম্পন্ন করছেন। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা করে ২৫ মার্চের কালরাতে গ্রেফতার হয়ে ৯ মাস জেল খেটে ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে বঙ্গবন্ধু সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেন এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সে পরিকল্পনাকে যে পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে আততায়ীর হাতে মৃত্যুবরণ করেন, সে পরিকল্পনাগুলোর বাকি কাজ এখন তাঁরই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে সম্পন্ন হচ্ছে। শেখ হাসিনা সরকার পরিচালনা করতে গিয়ে বিস্ময়ভরে দেখছেন, কত সুন্দরভাবেই না বাঙালি জাতির পিতা তাঁর প্রাণপ্রিয় জাতির উন্নয়নের জন্য মন্ত্রণালয়ভিত্তিক পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখে গেছেন। শেখ হাসিনা আরো দেখেছেন, মাত্র ৩ বছর রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগে তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে গেছেন, পরবর্তী শাসকরা সে কাজগুলোকে কিভাবে স্তব্ধ করে দিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নামটি পর্যন্ত যাতে কেউ উচ্চারণ না করে, সেজন্য নানা পন্থা ও কূটকৌশল অবলম্বন করেছিল।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে যখনই যে প্রকল্প গ্রহণ করতে গেছেন, সে প্রকল্প নিয়ে স্টাডি করতে গিয়ে তিনি দেখেছেন, তার পিতা কত বিজ্ঞানমনস্কভাবেই না অন্তত অর্ধশতাব্দী আগে সেই প্রকল্পের পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাই যখনই যেকোনো আলোচনায় সুযোগ পান, তখনই বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রেখে যাওয়া অসম্পন্ন কাজই সম্পন্ন করছে। জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই বাংলাদেশ বিনির্মাণেই নিরন্তর সংগ্রাম করে চলেছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যে স্বপ্নের অপমৃত্যু হয়েছিল, সে স্বপ্নকে চিরতরে স্তব্ধ করে রাখার জন্য বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী চক্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে টানা ২১ বছর রাষ্ট্রক্ষমতারও বাইরে রেখেছিল। এই দীর্ঘ সময়ে বঙ্গবন্ধুর সকল পরিকল্পনাকে হিমাগারে পাঠিয়েই ১৫ আগস্টের ঘাতকচক্র নিবৃত্ত হয়নি, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের যাতে কোনোরূপ বিচার করা না যায়, সেজন্য ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল, হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করতে তাদের জন্য বৈদেশিক মিশনে চাকরির ব্যবস্থাও করেছিল স্বাধীনতাবিরোধী তৎকালীন শাসকগৌষ্ঠী। বঙ্গবন্ধুর নাম যাতে সবাই ভুলে যায়, সেজন্য ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু একাত্তর ও পঁচাত্তরের ঘাতকচক্র শত চেষ্টা করেও বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে পারেনি, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বের কারণেই।
১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ Ñ এই ২১ বছরে বঙ্গবন্ধুর ঘাতকরা ভেবেছিল, বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগকে ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করা গেছে। আওয়ামী লীগের পক্ষে আর ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে দেয়া এই দলটি যাতে আর কোনো দিনই রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে না পারে, সেজন্য ঘাতকচক্র ১৫ আগস্টের কালরাতে শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করে ক্ষান্ত হয়নি, সেইসঙ্গে হত্যা করেছিল বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সকল সদস্যকেই। কিন্তু সে সময় বাংলাদেশের ইতিহাসকে সঠিক পথে চালানোর জন্য বিধাতার নির্দেশেই হয়ত বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা তখন জার্মানিতে ছিলেন। শেখ হাসিনার সেই জার্মানি সফরই বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করে।
১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের ৬ বছর পর ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। এর ১৫ বছর পর ১৯৯৬ সালে তিনি তাঁর ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রক্ষমতায় আনতে সক্ষম হন। বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এরপর ৭ বছর বিরতি দিয়ে ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন। টানা ১০ বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসম্পন্ন কাজগুলো সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে তাঁরই কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।
বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর মতো বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাও হত্যার হুমকি পাচ্ছেন। অসংখ্যবার তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করে একাত্তর ও পঁচাত্তরের ঘাতকচক্র। কিন্তু প্রতিবারই সৃষ্টিকর্তার অসীম রহমতে শেখ হাসিনা মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন। কিন্তু দমবার পাত্রী শেখ হাসিনা নন। তিনি দ্বিধাহীন চিত্তে ঘোষণা দিয়েছেন, বাঙালি জাতির জন্য বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে তিনি যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করাসহ প্রয়োজনবোধে জীবন পর্যন্ত দিয়ে দিতে প্রস্তুত। তিনি বেশ আস্থার সঙ্গে বলেছেন, বাঙালি জাতির উন্নতির জন্য তিনি তাঁর জীবন দিতেও প্রস্তুত। তিনি আরো বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর শেষ করতে না পারা কাজগুলো তাকে দিয়ে সম্পন্ন করানোর জন্যই বিধাতা বোধ হয় তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।
হ্যাঁ, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বেঁচে আছেন, বঙ্গবন্ধুর অসম্পন্ন কাজ সম্পন্ন করার জন্যই। এ জন্য যত বাধা-বিপত্তি আসছে, তিনি তা প্রতিহত করছেন নিজস্ব বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে। শেখ হাসিনা বিশ্বাস করেন, তিনি তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রেখে যাওয়া কাজগুলো এমনভাবে সম্পন্ন করবেন, যাতে বাংলাদেশ একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হতে পারে।
জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সে লক্ষ্যেই ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ যে অবস্থানে ছিল, ২০১৯ সালে এসে সে অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে। এই সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার মোটা দাগে যে কয়েকটি অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে Ñ তার পেছনে অবদান রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার। গত ১০ বছরে বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। ব্যাপক হারে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ইতিবাচক উত্তরণ ঘটেছে, বাজেটের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বাজেট বাস্তবায়িত হয়েছে, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, মানুষের মাথাপিছু আয় এবং রফতানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ।
এসব অর্থনৈতিক সাফল্যের কারণে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টর ফর ইকোনেমিক্স অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ (সিইবিআর)-এর হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান দুই ধাপ এগিয়ে এখন ৪১তম। অর্থনৈতিক উন্নতির এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩৩ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের ২৪তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হিসেবে ওই তালিকায় উঠে আসবে বলেও জানিয়েছে সিইবিআর।
অপরদিকে প্রাইসওয়াটারহাউস কুপারস (পিডাব্লিউসি) ব্লুমবার্গ, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামসহ বিভিন্ন উন্নয়নসহযোগী সংস্থা বলছে, ২০৪০ সালের মধ্যে বিশ্বে বাংলাদেশ হবে অন্যতম একটি শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ।
বাংলাদেশের এই যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, তার পুরোটাই এসেছে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে। তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি যেভাবে টেকসই শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াচ্ছে, তাতে আশা করা যায়, বাংলাদেশ ২০২১ সালের আগেই মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের আগেই উন্নত দেশের কাতারে নিজেকে শামিল করতে সক্ষম হবে। আর এটা সম্ভব হবে বঙ্গবন্ধুর আত্মজা শেখ হাসিনার জন্যই। কারণ তিনি যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসম্পন্ন কাজ সম্পন্ন করার জন্য জাতির কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ।