কলাম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাংসদ সিমিন হোসেন রিমির প্রতি আব্দুস সালাম বাচ্চুর খোলা চিঠি

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা
আসসালামু আলাইকুম।
আপনি ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রবিবার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। একাদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালের ৩০শে ডিসেম্বর রবিবারে। আপনার জন্মদিবসের সাথে চমৎকার একটি মিল আছে। আমি মনে করি, রবিবারটি আপনার জন্য একটি শুভ দিন। আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যক আসনে জয় লাভ করায় টানা তৃতীয়বারের মতো আপনি সরকার গঠন করেন এবং আপনি চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
আপনার প্রতি আমার আরজ ও প্রার্থনা, শত ব্যস্ততার মাঝেও আপনি নিজে আমার লেখাটি কষ্ট হলেও দয়া করে পড়বেন। এই লেখার পূর্বে আমি ৪টি লেখা সাপ্তাহিক স্বদেশ খবর পত্রিকায় লিখেছি। আমি জানি না, প্রধানমন্ত্রী আমার সেই লেখাগুলো আপনি পড়েছেন কি না।
আমার জীবনের প্রথম লেখার শিরোনাম ছিল ‘বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও বুধবার’। দ্বিতীয় লেখা ছিল ‘বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার সাথে নিজের একাত্মতা ও স্মৃতিকথা’, তৃতীয় লেখা ছিল ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে…’, চতুর্থ লেখা ছিল ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনে রবিবার’।
আমার লেখা সংবলিত স্বদেশ খবর পত্রিকার উক্ত কপিগুলো এখনও আমার কাছে আছে। আমার প্রতি আপনার যদি দয়া হয় আপনার কষ্ট হলেও আমার জন্য একটু সময় বের করে শেষবারের মতো আমাকে দেখা করার একটু সুযোগ দিন। তাহলে নিজের জীবনকে ধন্য বলে মনে করব। পত্রের মাধ্যমে সবকিছু লেখা সম্ভব না। আপনি একজন জ্ঞানী মানুষ, অল্প কথাতেই বিস্তারিত বুঝতে পারেন। আমাকে আপনি দেখলে অবশ্যই চিনবেন। সারা জীবন আওয়ামী লীগ করে গেলাম, শুধু দুঃখ আর দুঃখ পেয়ে গেলাম। ২০০৭ সালে যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার আপনাকে গ্রেপ্তার করেন তারপর হতে মনের টানে আমি একা একাই ২ কি ৩ দিন পরপর সংসদ ভবনে যেতাম। হঠাৎ একদিন গোপালগঞ্জ জেলার বর্তমানে সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ রুহুল আমিন সাহেবের সাথে সংসদ ভবনে পরিচয় হয়। তখন রাজনীতি নিয়ে গোপনে তার সাথে আমার অনেক আলাপ হয়। আমি তাকে বলি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারত করতে মাঝে মধ্যে টুঙ্গিপাড়া যাই। তারপর তার মোবাইল নম্বরটি আমি আবদার করলাম আমাকে দেয়া সম্ভব কি না। তিনি আমাকে তার মোবাইল নম্বরটি দিলেন। সত্যি কথা বলতে, আমি তাকে বললাম আপনার চেহারা অনেকটা আমার বাবার মতো। তখন শেখ রুহুল আমিন সাহেব আমাকে বলেন, ‘তুমি আমাকে কাকা বলে ডাকবে’। বর্তমানেও শেখ রুহুল আমিন কাকার পরিবারের সাথে আমার যোগাযোগ আছে। আমাকে নিজের ছেলের মতো মনে করে মোবাইলের মাধ্যমে বাবা বলে কথা বলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলার সভাপতি লায়েক আলী বিশ্বাস সাহেব প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সুন্দর একটি বক্তব্য দেন। বক্তব্যটি পত্রিকায় আসে। বক্তব্যটি আমার খুবই ভালো লেগেছিল। তারপর শেখ রুহুল আমিন কাকাকে আমি সাথে সাথে মোবাইল করি। বলি, ‘কাকা, আপনার কাছে কী লায়েক আলী বিশ্বাস সাহেবের মোবাইল নাম্বার আছে কি না’। কাকা আমাকে বলেন, ‘আমার কাছে নেই। আমি তোমাকে তার মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে দিতে পারব’। একদিন পর কাকা লায়েক আলী বিশ্বাস সাহেবের মোবাইল নাম্বার আমাকে দিয়েছিলেন। আমি বিশ্বাস সাহেবের মোবাইল নাম্বারে ফোন করে সালাম দিয়ে বললাম, ‘আমি ঢাকা থেকে আপনাকে মোবাইল করেছি। আপনি প্রধানমন্ত্রীর ওপরে যেই সুন্দর বক্তব্য দিয়েছেন আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। আপনার বক্তব্য দেয়া পত্রিকাটি আমি যতœ করে রেখে দিয়েছি’।
বিশ্বাস সাহেব খুবই খুশি হলেন। আমার পরিচয় জানার জন্য ভীষণ অস্থির। তখন আমি বললাম, ‘গোপালগঞ্জ জেলার সহসভাপতি শেখ রুহুল আমিন কাকার মাধ্যমে আপনার মোবাইল নাম্বারটি সংগ্রহ করেছি’। তখন থেকে বিশ্বাস সাহেবের সাথে আমার মোবাইলের মাধ্যমে মাঝে মধ্যে রাজনৈতিক আলাপ হতো।
২০০৭ সালে আমি গোপালগঞ্জ শেখ রুহুল আমিন কাকার বাড়িতে যাই। তারপর যোহরের নামাজ পড়ে দুপুরের খাওয়া-দাওয়া করে দিনের প্রায় ৩.৩০ মিনিটে কাকাকে সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত করতে রওনা হয়ে গেলাম। মাজারে যাওয়ার সময় বিশ্বাস সাহেবের মোবাইল নাম্বারে ফোন করি, কিন্তু তার নাম্বারটি বন্ধ পাই। তখন আমরা দু’জন টুঙ্গিপাড়া আওয়ামী লীগ অফিসে পৌঁছেছিলাম। হঠাৎ ভাগ্যক্রমে বিশ্বাস সাহেবের ছেলে চেয়ারম্যান সোলেমান বিশ্বাস সাহেবের সাথে আমাদের দেখা হয়। তখন শেখ রুহুল আমিন কাকা আমাকে চেয়ারম্যানের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। চেয়ারম্যান সাহেবকে আমি বলি, ‘আপনার আব্বার নাম্বারটি বন্ধ পাই’। তখন চেয়ারম্যান আমাকে বলেন, ‘আব্বা তাবলীগ জামায়াতে গিয়েছেন’।
চেয়ারম্যানের সাথে আমরা দু’জন কিছুক্ষণ আলাপ করে আসরের নামাজ পড়ে বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত করে রাতে শেখ রুহুল আমিন কাকার বাসায় চলে আসি। কাকার পরিবারের সদস্যরা আমাকে যথেষ্ট সম্মান করেছেন। একরাত কাকার বাসায় থেকে আমি তারপরের দিন ঢাকায় চলে আসি। কিছুদিন পর লায়েক আলী বিশ্বাস সাহেবের সাথে আমার মোবাইলে কথা হয়। ‘আমি টুঙ্গিপাড়া এসেছিলাম আপনি তাবলিগ জামায়াতে ছিলেন’। তখন বিশ্বাস সাহেব আমাকে মোবাইলে বললেন, ‘আমার ছেলে আপনার কথা আমাকে বলেছে’। অনেক দিন পর আমি জানতে পারলাম লায়েক আলী বিশ্বাস সাহেব ইন্তেকাল করেছেন। তখন আমি তার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করি তিনি যেন জান্নাতবাসী হন।
সাবেক স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমদ সোহেল তাজ ভাইয়ের সাথে ২০০৬ সালে আমার প্রথম পরিচয় হয় পার্টি অফিসে। তারপর তাজ ভাইকে আমি বলি ‘আপনার আব্বার সাথে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। তিনি আমাকে ভীষণ আদর করতেন।’ তারপর হতে তাজ ভাইয়ের বাসায় মাঝেমধ্যে আমি যেতাম বা মোবাইলে কথা হতো। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করে তাজ ভাই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হন সেই সময় তার মোবাইলে শুধু একবার আমি কথা বলি। তাজ ভাই বেশ কিছুদিন পর মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। তারপর বিদেশ চলে যান, এখন পর্যন্ত তার সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। আমার বিশ্বাস তাজ ভাইয়ের মোবাইল নাম্বার যদি আমার জানা থাকত তাহলে আমি তার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে সাক্ষাৎ করতে পারতাম। কারণ তিনি আমাকে ভালো জানেন।
মাননীয় সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি ম্যাডামের পিএস সেলিম সাহেবের মোবাইল নাম্বারটি জোগাড় করে তার মোবাইল নাম্বারে আমি যোগাযোগ করি। আমি সেলিম সাহেবকে তাজ ভাইয়ের পরিচয় দিয়ে বলি যে, তিনি আমাকে চিনেন বা জানেন।
মরহুম তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকারের প্রথম বা মুজিব নগর সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন। তারপর সেলিমকে বলি ১৯৭৩ সালে আমার প্রিয় নেতা তাজউদ্দীন আহমদের সুবাদে কাপাসিয়া এক প্রভাবশালীর নেতার বাড়িতে আমি একাধারে ৭ দিন ছিলাম। আমার এই কথা শুনার পর সেলিম অবাক হয়ে যান। আমার জানা মতে, তাজউদ্দিন আহমদের ৪ জন ঘনিষ্ঠ লোক মারা যায়। ৪ জনের মধ্যে ২ জন সেই সময় আমার বাড়ি ঢাকার মাতুয়াইল যাত্রাবাড়িতে আসেন। তারপর সেলিমকে মোবাইলে বলি ‘দয়া করে আপনি আমাকে একটু সাহায্য করুন’। তখন সেলিম আমাকে উত্তর দেন, ‘আপনাকে আমি কী সাহায্য করতে পারি?’ আমি মাননীয় সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি ম্যাডামের সাথে সাক্ষাৎ করতে চাই’। তখন সেলিম আমাকে মোবাইলে বলেন, ‘আপনি আগামীকাল দিনের ১২টার পর আমার মোবাইলে ফোন করবেন। আমি আপনার ব্যাপারে ম্যাডামের সাথে বিস্তারিত আলাপ করব’। আমি বিগত ৪/৬/২০১৬ সালে সেলিমের মোবাইলে ১২.৫০ মিনিট হতে ১২.৫৫ মিনিটে ফোন করি। তখন সেলিমের মোবাইলে আমি সিমিন হোসেন রিমি ম্যাডামের সাথে কথা বলি। ‘ম্যাডাম যদি আমার প্রতি আপনার দয়া হয় আমি আপনার সাথে সাক্ষাৎ করতে চাই’। তখন ম্যাডাম আমাকে বলেন, ‘আপনি সেলিমের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে আসবেন। সেলিম আপনাকে সময় দিবে’। আমি সেলিমের মোবাইলে অনেকবার যোগাযোগ করি, সে আমাকে শুধু সময় দেয়। বিগত ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সেলিমের সাথে আমার মোবাইলে কথা হয়। সে আমাকে মোবাইলে বলে, ‘আপনি দু’দিন পর দিনের ১১টার পর মোবাইল করবেন’। আমি সেলিমের কথামতো তার মোবাইলে যোগাযোগ করি, রিং হয়, সে আমার মোবাইল আর ধরে না। আমি তারপর হতে সেলিম সাহেবের মোবাইলে আর ফোন করি না।
আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদ, তাঁরা শুধু বাংলাদেশের নেতা ছিলেন না, আমি মনে করি তাঁরা সারা বিশ্বের নেতা ছিলেন। আমার বিশ্বাস তাজউদ্দীন আহমদ সাহেব জীবিত থাকলে আমার জন্য উনার দরজা সবসময় খোলা থাকত। আমার মোবাইল নাম্বার ০১৯৫৪-০৯৮৭২৯। প্রধানমন্ত্রী, তাজ ভাই এবং ম্যাডামকে দয়া করে আমার সামনা-সামনি করেন। আমি যদি সেই প্রমাণ না দিতে পারি আপনি আমাকে যেই শাস্তি দিবেন আমি মাথা পেতে তা গ্রহণ করবো।
প্রধানমন্ত্রী, আপনার খুবই ঘনিষ্ঠ আত্মীয় সে আমার জানা মতে, গণভবনে থাকে। তার সাথে আমার কোনো এক সময় প্রায়ই মোবাইলে কথা হতো। সে আমাকে যথেষ্ট সম্মান করত। আমিও তাকে ভীষণ সম্মান করতাম। তার সাথে আমার কোনোদিন সাক্ষাৎ হয়নি। আমার ধারণা হয়তবা সে এখনও গণভবনে আছে। তার মোবাইল নাম্বারটি আমার ডায়েরিতে এখনও আছে। আমার পূর্বের সেই মোবাইল সিমসহ চুরি হয়ে গেছে। আমার বর্তমান নতুন মোবাইল নাম্বার দিয়ে আপনার আত্মীয়কে অনেকবার মোবাইলে চেষ্টা করেছি। অপরিচিত নম্বর বলে মনে হয় ধরে না।
আমি তার মোবাইল নাম্বার লিখলাম না, এমনকি প্রধানমন্ত্রী তার নামটি পর্যন্ত গোপন রাখলাম। প্রধানমন্ত্রী আমি পিএস সেলিম সাহেবের জন্য দু’হাত তুলে আল্লাহর দরবারে দোয়া করি। তাকে যেন আল্লাহ হাজার বছর বাঁচিয়ে রাখেন। একদিন এই পৃথিবী ছেড়ে সবার চলে যেতে হবে আল্লাহর কাছে। বঙ্গবন্ধু যদি নিজের জীবনের জন্য মায়া করতেন তাহলে আমরা কখনও বাংলাদেশ পেতাম না।
প্রধানমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত আমি শেখ রুহুল আমিন কাকার মোবাইল নাম্বার লিখতে বাধ্য হলাম ০১৭১৭-৯৮১৫৩। আপনি দয়া করে খবর নিয়ে জানবেন আমি কেমন লোক। সে আমাকে ঢাকার বাচ্চু নামেই ভালো চিনে ও জানে। তারপর মো. লায়েক আলী বিশ্বাস সাহেব মৃত্যুর পর তার মোবাইলে আমি ফোন করি। তখন তার ছেলে আমার মোবাইল ধরেন তার নাম খুব সম্ভব বোরহান। তারপর হতে আর কোনোদিন বিশ্বাস সাহেবের মোবাইলে আমি ফোন করিনি। তার আব্বা আমাকে ভালো জানত এবং তার সাথে আমার মোবাইলে কথাবার্তা হতো।
লেখক: আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ সমর্থক এবং বঙ্গবন্ধু ও তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্ধ ভক্ত