প্রতিবেদন

সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর দেশের আর্থসামাজিক খাতে ব্যাপক উন্নয়নের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সেক্টরেও প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে। শেখ হাসিনার সরকার জনগণের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রচুর কাজ করেছে; বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার।
দেশের মানুষের কাছে গুণগত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে গত ১৬ এপ্রিল থেকে শুরু হয় জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ, শেষ হয় ২২ এপ্রিল। এবারের সেবা সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ছিল ‘স্বাস্থ্যসেবা অধিকার, শেখ হাসিনার অঙ্গীকার’।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৭ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ সেবা সপ্তাহ উদ্বোধন করেন। এর আগে ১৬ এপ্রিল জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ-২০১৯ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পর্যায়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, র‌্যালি, ক্রোড়পত্র প্রকাশ, ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, টেলিভিশনে প্রচার-প্রচারণা, স্বাস্থ্য বিষয়ক সেমিনার, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, চিকিৎসা সেবায় নৈতিকতা বিষয়ক আলোচনা, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও পুষ্টি বিষয়ক আলোচনা অন্যতম। জাতীয় পর্যায়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও একই ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে সেবা সপ্তাহ পালিত হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের গত মেয়াদে ১৩ হাজার চিকিৎসক, ১৫ হাজার নার্স এবং ১৬ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আরও ১০ হাজার চিকিৎসকসহ পর্যাপ্ত সংখ্যক নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গত সপ্তাহে বিসিএসের মাধ্যমে ৩০৬ জন চিকিৎসক যোগদান করেছেন।
জাহিদ মালেক বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে চিকিৎসকদেরকে গ্রামে থেকে চিকিৎসা দিতে উৎসাহিত করতে সরকার নিরলস প্রয়াস চালাচ্ছে। স্বাস্থ্যখাতে সব ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম রোধে আমরা বদ্ধপরিকর। যখনই কোনো অনিয়মের অভিযোগ ওঠে তখনই সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং এ ব্যাপারে সরকারের তৎপরতা অব্যাহত আছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন নতুন হাসপাতাল নির্মাণের পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা প্রদানের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরির জন্যও আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সব বিভাগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথা জানিয়ে বলেন, যত্রতত্র মেডিকেল কলেজ করার অনুমতি দেয়া হবে না। আমরা শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক না, সমগ্র বাংলাদেশব্যাপী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিচ্ছি। দেশের সব নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার প্রত্যয় নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে আমাদের কাজ অব্যাহত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী দেশে প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা চিরায়ত স্বাস্থ্যসেবা পদ্ধতিকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা ভেষজ, আয়ুর্বেদিক, ইউনানী ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাব্যবস্থাকে উপেক্ষা করতে পারি না এবং মানুষের চিকিৎসার সুবিধার জন্য এগুলোর উন্নয়নের জন্য আরও গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশ বর্তমানে মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে এবং বিদেশে এর চাহিদা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি চিরায়ত ওষুধেরও ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ ও জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সংগৃহীত সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও জিপগাড়ির চাবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালিকের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান, স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব ছাড়াও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ। আমরা অনলাইনে চিকিৎসাসেবা দিতে পারছি। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে স্বাস্থ্য তথ্য বাতায়ন সৃষ্টি করেছি। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রতিটি উপজেলায় চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা আছে, ওয়েব ক্যামেরা দেয়া হয়েছে প্রত্যেক উপজেলায়। কাজেই ওয়েব ক্যামেরার মাধ্যমে বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা ঘরে বসে মানুষ যাতে পেতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এই সেবাটা বিশেষ করে অনলাইনের সেবাটা ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে দেয়া যাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১০ বছরে আমরা স্বাস্থ্য খাতের ব্যাপক উন্নতি করেছি। প্রথমবার সরকারে আসার পর আমরা ঢাকায় মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করেছিলাম। এরপর দ্বিতীয়বার থেকে শুরু করে আমরা চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী Ñ তিনটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি। পর্যায়ক্রমিকভাবে প্রত্যেকটা বিভাগে একটা করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেডিকেল কলেজ তৈরির ক্ষেত্রে অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে যে, কত ছাত্র, কত শিক্ষক, শিক্ষার মান কতটুকু হবে। আমাদের অভ্যাস আছে একটা যখন শুরু হয় তখন সবাই সেটা করতে চায়। কোনোভাবেই যত্রতত্র মেডিকেল কলেজ করতে দেয়া হবে না। কারণ গুণগত শিক্ষাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নার্সিংটা একসময় আমাদের চাকরির ক্ষেত্রে খুব নিম্ন পর্যায়ের ছিল। আমি তাকে উচ্চ পর্যায়ে তুলে দিই। একসময় ডিপ্লোমা নার্সিং ছিল। কেবল ডিপ্লোমা নার্সিং ট্রেনিং করা হতো।
যেকোনো বিষয়ে পড়াশোনা করে নার্সিংয়ে আসার ব্যবস্থা করতে হবে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের একটা সমস্যা রয়েছে। কেউ যদি নার্সিংয়ে আসতে চায় তাকে সায়েন্সের স্টুডেন্ট হতে হবে। ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে আমি নির্দেশ দিয়েছি, এ রকম কোনো বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত না। বরং নার্সিং পড়ার সময় সায়েন্সের যে সাবজেক্টটা যতটুকু প্রয়োজন সেটা নার্সিং শিক্ষার যে কারিকুলাম সেখানে সংযুক্ত করে দিতে হবে এবং যেকোনো সাবজেক্টে পড়–ক না কেন নার্সিংয়ে সবাই আসতে পারবে, সেই ব্যবস্থাটা করে দিতে হবে।
চিকিৎসাসেবা দেয়ার ক্ষেত্রে আরও যতœবান হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডাক্তার-নার্স নিয়োগ দিয়েছি এবং আরও যাতে উন্নতমানের হয় সেই ব্যবস্থা করছি। এখনও কিছু কিছু উপজেলায় ডাক্তারের অভাব রয়েছে। সেই অভাবটা পূরণ করার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইদানীং কিছু কিছু রোগের প্রাদুর্ভাব একটু বেশি মাত্রায় দেখতে পাচ্ছি। সেজন্য সেগুলোর চিকিৎসা দেশের প্রত্যেকটি জেলা হাসপাতালে করা যেতে পারে তার ব্যবস্থা নিচ্ছি।
এক্ষেত্রে কিডনি, ডায়াবেটিস, ক্যান্সারসহ অগ্নিদুর্ঘটনায় বার্ন হওয়া রোগের ঘটনা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশের মানুষকে আরও স্বাস্থ্যসচেতন হতে হবে। কারণ প্রায় দেখা যায় যে, কারও হার্ট ডিজিস হচ্ছে, হঠাৎ স্ট্রোক হচ্ছে বা ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ দেখা দিচ্ছে। তাহলে আমাদের খাওয়া-দাওয়া চলাফেরার ক্ষেত্রে আরও সচেতনতার সৃষ্টি হওয়া দরকার। সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী ভেষজ চিকিৎসার বিষয়ে জোর দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের দেশে আরেকটা বিষয় যেটা আমরা অবহেলা করতে পারি না। ওষুধ শিল্পে বাংলাদেশ এখন উন্নত মানের ওষুধ তৈরি করে, সেটা রপ্তানিও করে। পাশাপাশি আমাদের দেশে যেমন কিছু দেশজ ওষুধ আছে সেদিকেও যতœবান হতে হবে। সারাবিশ্বে এখন ভেষজ জিনিসের ভীষণ চাহিদা আছে। সেই ক্ষেত্রে আমাদের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা, ইউনানী চিকিৎসা, ভেষজ চিকিৎসা বা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার ওপরও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। এর ওপর গবেষণা প্রয়োজন। এই চিকিৎসা যেন মানুষ নিতে পারে আমরা সেদিকে দৃষ্টি দেব।
প্রতিবন্ধীদের বিশেষ ভাতা দেয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, অটিজম ও নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিজঅর্ডার বা প্রতিবন্ধী এ ধরনের ক্ষেত্রে যাদের সন্তান আছে তাদের প্রত্যেকটি পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছি। বিশেষ ভাতা দিচ্ছি। আগামীতে আরও একটা বৃদ্ধি করব। সেনসাস রিপোর্টটা এলে আমরা সঠিক সংখ্যাটাও জানতে পারব। কারণ সেনসাস রিপোর্টে যাতে সঠিক সত্য আসে, সেটাও আমরা ব্যবস্থা করে দিয়েছি। অটিজম বিষয়ে এখন যে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে, সায়মা হোসেন এ ব্যাপারে যথেষ্ট অবদান রেখেছে। শুধু বাংলাদেশে না, আন্তর্জাতিকভাবেও।
তিনি বলেন, বিষয়টা নিয়ে অভিভাবকরা যাতে করে একটা শিশু জন্মের পর থেকে অটিজমের কোনো সিমটম আছে কি না, সেটা যেন ধরতে পারে, জানতে পারে বা প্রতিবন্ধিতা আছে কি না তা জানতে পারে। এসব বিষয় সম্পর্কে যাতে অভিভাবক শুরুতেই সচেতনতা অর্জন করতে পারে আর সঙ্গে সঙ্গে যেন চিকিৎসাসেবা দেয়া যেতে পারে, এ ব্যাপারেও আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল, সবাই বলে। এই কথাটা আমাদের মনে রাখতে হবে। আর মনে রেখেই আমাদের সরকার সবসময় চেষ্টা করেছে, আমরা দেশের মানুষের কল্যাণ, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন, মানুষকে উন্নত জীবন দান, এটাই আমাদের লক্ষ্য। জাতির পিতা স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। বাংলাদেশকে আমরা উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা শুধু স্বাধীনতাই দেননি, মানুষের জীবন মান উন্নয়ন করার বিষয়গুলোকেও তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা যাতে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছায় সে ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। আমরা ১৯৯৬ সালে প্রথম সরকার গঠন করার পরই স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্ব দিই এবং কিভাবে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানো যায়, তার পদক্ষেপ নিই। শুধু সরকারিভাবে চিকিৎসাসেবা নয়, বেসরকারি খাতেও যাতে হাসপাতাল গড়ে ওঠে, চিকিৎসাসেবা মানুষ পেতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে হাসপাতাল নির্মাণে এবং মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মেশিনারিজ থেকে শুরু করে যা যা প্রয়োজনীয় জিনিস দরকার, সবগুলোর ট্যাক্স কমিয়ে বা প্রত্যাহার করি। এমনকি শিশুদের জন্য যে ইনকিউবেটর প্রয়োজন সেটা সম্পূর্ণ ট্যাক্স ফ্রি করে দেই, যাতে করে বেসরকারি খাত এই স্বাস্থ্যসেবায় এগিয়ে আসতে পারে। সেই সঙ্গে বিশেষায়িত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছিলাম।
সুষম খাদ্য গ্রহণে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে আরও প্রচার দরকার উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, শুধু অসুখ হলে চিকিৎসা দেব, সেটা না। অসুখ যাতে না হয় তার জন্য কিভাবে ব্যবস্থা নেয়া যায়, সে ব্যাপারেও আমাদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জিপগাড়ি উপহার দেয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিপগাড়ি উপহার দিলাম, যারা উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দিতে যাবে, সে যেন এই গাড়িটা ব্যবহার করতে পারে, সেটা মাথায় রেখেই দিয়েছি। তবে এখানে অনুরোধ করব, সবাইকে সবসময় যে গাড়িতেই চলতে হবে, তা না। কেউ সাইকেলেও চড়তে পারেন, সাইকেল চালনা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। গ্রামের সব জায়গায় কিন্তু জিপ চলবে না। সেখানে কিন্তু সাইকেলে করেও যেতে পারেন। সাইকেলে যদি দিনে একবার করে চড়েন ভালো একটা শরীরচর্চা হবে।
অ্যাম্বুলেন্সগুলো ভালোভাবে রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক অ্যাম্বুলেন্সের যদি কোনো একটা চাকা নষ্ট হয়, সেই একটা চাকা কেনার যে পয়সা সরকার থেকে নিতে হবে, ওই পয়সা আসতে আসতে চার চাকাই নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য ইতোমধ্যে আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বলেছি, সামনে বাজেট আছে, এই বাজেটে একটা থোক বরাদ্দ চাইতে হবে, যার মাধ্যমে আপনারা যেন সেগুলোকে মেরামত করার সুযোগ পান। হয়ত কিছু সিস্টেম লস হবে, কিন্তু এই যে একটা চাকার জায়গায় চারটা চলে যাওয়ার মতো এত লস হবে না, সেটা হলো বাস্তবতা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশের অধিকাংশ জায়গায় আমরা সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে পেরেছি। আর যেখানে যেখানে বাকি আছে, সেখানেও করে দেয়া হবে। স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, পুষ্টিকর খাদ্য এবং সুন্দরভাবে বাঁচা, এটাই আমাদের লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমাদের সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং এতে সাফল্যও আসছে। দেশ-বিদেশে সরকার ব্যাপকভাবে প্রশংসিতও হচ্ছে।