কলাম

জঙ্গিবাদ ইসলামকে হেয় করছে: দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে

সম্প্রতি বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই জঙ্গিবাদ একটি প্রকট সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ইসলামি চিন্তাবিদের মতে, ইসলামের বিরুদ্ধে পাশ্চাত্য ষড়যন্ত্রের কারণেই এই নব্য জঙ্গিবাদের উত্থান। তারা ইসলামকে কলঙ্কিত ও বিতর্কিত করতে জঙ্গিবাদকে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে ইসলামি দেশগুলোর আর্থসামাজিক উন্নতির পথ রোধ করতে এবং এসব দেশে তাদের সামরিক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে জঙ্গিবাদকে কাজে লাগাচ্ছে। তারা তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য কিছু বিভ্রান্ত মুসলিমকে বেছে নিয়েছে। তাদেরকে দিয়ে বিভিন্ন ঘৃণ্য অপকর্ম ঘটাচ্ছে। তাই বর্তমানে জঙ্গি বা জঙ্গিবাদ নামে কোনো খবর প্রকাশিত হলে অবধারিতভাবে ধরে নেয়া হচ্ছে এটা কোনো মুসলিমের কা-। শুধু তাই নয়, ধরে নেয়া হয় যারা সুন্নতি লেবাস পরিধান করে, দাড়ি রাখে, টুপি পরে তারাই সাধারণত এই কাজের সাথে জড়িত।
বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বিশ্বে একটি উদার মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ, কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। ধর্মপ্রীতি এদেশের ঐতিহ্য। আমাদের সমাজকাঠামোর ভেতর কোনো সাম্প্রদায়িকতা নেই। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য এদেশে কোনো ব্যবস্থা নিতে হয় না। কিন্তু দেশি-বিদেশি একাধিক কুচক্রিমহল বাংলাদেশের এ ঐতিহ্যকে মোটেই সহ্য করতে পারছে না। তাই তারা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক ধারা বিনষ্ট করে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে বাংলাদেশকে একটি সন্ত্রাস কবলিত জঙ্গিবাদী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করতে চায়।
বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশে জঙ্গিবাদের যে উত্থান ও তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়, তার সাথে শুধু গুটিকয়েক মুসলিম নামধারী ব্যক্তি ও সংগঠন জড়িত। এসব ব্যক্তি ও সংগঠনের উত্থানও রহস্যজনক। এসব ব্যক্তি ও সংগঠন বিভ্রান্ত, বিপথগামী। এরা ইসলামের শত্রুদের হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে। ইসলামের শত্রুরা এদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। এ সকল ব্যক্তি ও সংগঠন কোনোভাবেই ইসলামের জন্য কল্যাণকর হতে পারে না। তারা ইসলামকে বিশ্ববাসীর সামনে বিকৃত ও কুৎসিতভাবে উপস্থাপন করার মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়।
এ বিভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। ইসলাম জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ সমর্থন করে না Ñ এটা যেমন মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতে হবে, তেমনি কারো দাড়ি থাকলে বা মাথায় টুপি পরলেই যে তিনি জঙ্গি – এমন ধারণা থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে। পারিবারিক ও সামাজিক সম্প্রীতি বাড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বড়দের শ্রদ্ধা ও ছোটদের ভালোবাসার মানসিকতা জাগ্রত করলে এবং ইসলামি অনুশাসন সঠিকভাবে মেনে চলার বোধ জাগ্রত করতে পারলে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ কখনোই হালে পানি পাবে না।