সাহিত্য

ভালোবাসার সম্পর্ক

মো. হারুন অর রশিদ : পূর্ব প্রকাশের পর : এক সময় ওরা বাসায় আসে, তারপর তিথী ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় নেয় সাহেবের কাছ থেকে। এদিকে বাসায় সবাই দুশ্চিন্তার প্রহর গুণছিলো তিথীর জন্য। এই ঘটনার সময় যখন, তখন এখনকার মত হাতে হাতে মোবাইল ছিলো না, ছিলো না ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা। তাই ওদের কোন খবর না পেয়ে বাসার সবাই চিন্তা করছিলো। যখন দেখলো সাহেবের সাথে তিথী বাসায় ফিরে এসেছে তখন সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো।
সন্ধ্যায় বাশার ওর বোনকে নিয়ে সাহেবের সাথে আলাপ করতে এলো এবং ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানালো। সাহেব তো লজ্জায় লাল হয়ে গেল। তবু মনে মনে একটা বিষয় ওকে আন্দোলিত করে, ও তাহলে একটা ভালো কাজ করার সৌভাগ্য অর্জন করেছে।
তারপর ওদের সাথে একটা ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেল। প্রতিদিন ওরা তিনজন এক সাথে ছাদে আড্ডা দেয়, সময় কাটায়। কখনো হাঁটতে বের হয়। হাঁটতে হাঁটতে মীরহাজিরবাগ, কখনো দোলাইরপাড় চলে আসে। এক সাথে ফুচকা খায় আইসক্রিম খায়। তিথীর সবচেয়ে প্রিয় খাবার হলো আইসক্রিম। কিন্তু ওর টন্সিলের সমস্যা থাকায় কেউ ওকে ঠান্ডা খেতে দেয় না তাই মাঝে মাঝে ওদের সাথে যখন বের হয় তখন এই সুযোগটা নেয় তিথী। কারণ সাহেব তো জানে না ওর সমস্যার কথা।
সাহেবের সাথে ওর সম্পর্ক যথেষ্ট ঘনিষ্ঠ হয়, তিথী মনে মনে একটা ছবি এঁকে ফেলে ওর হৃদয়ের আঙিনায় সেখানে একমাত্র আরাধ্য হলো সাহেব। কিন্তু মুখ ফুটে ওর ভালোবাসার কথা ওর মনের মানুষের কাছে প্রকাশ করতে পারে না। এক সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে যায় আসে সময় পেলেই সাহেবের কাছে চলে আসে তিথী এক সাথে অনেক দূর পর্যন্ত চলে যায় কিন্তু ওদের মাঝে যে ভালোবাসার অঙ্কুরোদগম ঘটে তা প্রস্ফুটিত হতে পারে না যথা সময়ে। ওদের হৃদয়ের স্পন্দন দোল খেলে যায় কখন যে তিথীর কাছে সাহেব প্রকাশ করবে ওর আকাক্সক্ষার কথা তিথী সেই অপেক্ষায় থাকে। মাঝে মাঝে তিথী রাত জেগে সাহেবের নোট লিখে দেয় সাহেব কোন এক অধিকারের বলেই হয়তো তিথীকে দিয়ে এই কাজগুলো করিয়ে নেয় আর তিথীও সোৎসাহে কাজগুলো করে আনন্দ পায়। আবার মাঝে মধ্যে তিথী নিজ হাতে রান্না করে সাহেবের জন্য নিয়ে আসে। কারণ আপার বাসা থেকে যে খাবার দেয় তাতে সাহেবের ঠিকমত উদরপুর্তি হতো না তা তিথীর অজানা নয়। তাই সাহেবকে নিজে পরিবেশন করে খাইয়ে তিথী আনন্দ পায় আর সাহেবও তৃপ্তি সহকারে খায়। তবু তিথী অপেক্ষার প্রহর গোণে সাহেব কখন ওকে ভালোবাসার আহবান জানাবে আর তিথী সেই আহবানে নিজেকে সঁপে দেবে। কিন্তু সাহেব যে কঠিন হৃদয়ের মানুষ কখনো যে সে ওর আশার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হবে না তা ও বুঝতে পারে না। তবুও তিথী অপেক্ষা করে কখন যেন হৃদয়ের তারে ডাক আসবে ওর হৃদয়ে।
হঠাৎ সাহেবের ভাগ্যের চাকা সত্যি ঘুরে যায়। অষ্ট্রেলিয়ার একটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ও একটা স্কলারশীপ পায়। দ্রুততম সময়ে মধ্যে অষ্ট্রেলিয়া যেতে হবে।
তিথীর মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। কত স্বপ্ন দেখেছে ও সাহেবকে ঘিরে কিছুতেই ওর মনের কথাটা সাহেবকে বলার অবকাশ হয়নি। সাহেবের সত্যিকার বন্ধু হিসেবে ওর ভালো সব সময় চায় কিস্তু ওকে এতো স্বল্প সময়ের মধ্যে যে হারাতে হবে, দূরে চলে যেতে হবে তা ও কল্পনাও করতে পারেনি। তারপর সাহেবের সাথে মার্কেটে গিয়ে ওর আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কিনলো তিথীর পছন্দমত। সময় ঘনিয়ে এলো একদিন সত্যি সাহেবের বিদায় ঘন্টা বেজে উঠলো। বিদায় মুহূর্তে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসবে সবশেষে তিথীর কাছে গেল। তিথী ওকে কিছু উপহার দিলো তার মধ্যে র‌্যাপিং করা একটা রবীন্দ্র গল্প সমগ্র। তারপর আচমকা সবার সামনেই সাহেবকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠলো তিথী। এতো দিনের জমানো ওর হৃদয়ের বেদনার বাঁধ যেন ভেঙে গিয়ে জোয়ারের ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়লো সাহেবের বুকে। সাহেব অপ্রস্তুত হয়ে গেল কিছুই বলতে পারলো না শুধু ওর মাথায় হাত বুলিয়ে সান্তনা দেয়। ঘটনার আকস্মিকতায় নিজেকে সংযত রাখতে পারে না সাহেব। হঠাৎ দু‘চোখ ঝাপসা হয়ে গেল। তারপর সামনের দিকে পা বাড়ালো।
তিথীর এই আকস্মিক ব্যবহারে সাহেবও আশ্চর্যান্বিত হয়ে গেল। গাড়িতে বসে বইয়ের মোড়ক খুলে দেখলো রবীন্দ্র গল্পসমগ্র তার সাদা পৃষ্ঠায় লেখা, দঞযব সড়ৎব ুড়ঁ ৎবধফ ঃযব সড়ৎব ুড়ঁ রিষষ নব ষবধৎহবফ’এবং ‘ উরষরমবহপব রং ঃযব সড়ঃযবৎ ড়ভ মড়ড়ফ ষঁপশ.’ তারপর এক কোণে ছোট করে লেখা, ‘যেখানেই থাকো তুমি যতোই দূরে, সারাটি জীবন তুমি রবে আমার হৃদয়জুড়ে।’
৩.
ড. সাহেব আলী লেখাপড়া শেষ করে দেশে ফিরে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসী ডিপার্টমেন্টে যোগদান করলো। ঢাকা শহরের অনেক কিছুই পাল্টে গেছে এতোদিনে। নদীর জল অনেক গড়িয়েছে তাই সব কিছুই যেন ওর কাছে নতুন নতুন লাগে। কত মাল্টিষ্টোরড বিল্ডিং হয়েছে ঢাকা শহরে কোথায়ও এতোটুকু জায়গা ফাঁকা নেই ঘনবসতি এলাকা লোকে ঢাকা শহর গিজগিজ করছে। বিদেশে একটা নামকরা ওষুধ কোম্পানি ওকে বেশ বড় একটা অফার দিয়ে অষ্ট্রেলিয়াতেই রেখে দিতে চেয়েছিলো কিন্তু মাতৃভূমির টানে আর বিদেশে থাকতে মন চায়নি সাহেব আলীর। ওর একটাই লক্ষ্য তা হলো ওর অর্জিত জ্ঞান দেশের কাজে বিতরণ করা। যে দেশের মানুষের উন্নতি হয় না, যেখানে মানুষ ধুকে ধুকে মরছে রোগের যন্ত্রণায়, যেখানে বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে কত প্রাণ। সেখানে ওর অর্জিত জ্ঞান সাধারণ ছাত্রদের মাঝে বিলিয়ে দিয়ে মেধা সৃষ্টিতে আত্মনিয়োগ করতে চায় ও। ক্লাসের ফাঁকে নিজে মাঝে মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখে আর বেশীর ভাগ সময় তার গবেষণা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। ফার্মাকোলজির উপর বিভিন্ন আবিষ্কারের খবরাখবর সংগ্রহ করে। আজকের দুনিয়ায় রোগের বিরুদ্ধে কত মেডিসিন আবিস্কার করছে যাতে সম্পুর্ণ রোগকে জয় করা যায় কত অনুপরমাণু নিয়ে গবেষণা করে কত নতুন তথ্য আবিষ্কার করছে বিজ্ঞানীরা। অফিসে একমনে এই সব চিন্তা করছিলো হঠাৎ এক নারী কন্ঠের রিনিঝিনি ডাকে সম্বিৎ ফিরে পায় ড. সাহেব আলী,
– আসতে পারি স্যার?
– জ্বি আসুন।
নীল রঙয়ের শাড়ী পরিহিতা এক সুন্দরী তন্বী গটগট করে হেঁটে এসে তার টেবিলের সামনে দাঁড়ালো। সাহেব আলী তাকে বসতে ইঙ্গিত করে একদৃষ্টে তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো। সেই চোখ, সেই মুখ, সেই কোকড়ানো মসৃন চুল সবই যেন আগের মত আছে শুধু মাঝখান থেকে দশটি বছর জীবন থেকে হারিয়ে গেছে। সেই নাকের কোণে ছোট একটি কালো তিল এখন একটু বড় হয়েছে।
– চিনতে পারছেন স্যার?
– কেন চিনতে পারবো না তিথী, তুমি তো সেই আগের মতই আছো।
– যাক তাহলে নামটাও মনে রেখেছেন দেখছি।
– শুধু নাম কেন তোমার পুরা অবয়র ও আমার মনের মাঝে আজও আঁকা আছে তিথী।
– তাই!
– অবশ্যই! তা তুমি জানলে কেমন করে আমি এখানে আছি?
– আমিও যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের অধ্যাপক। আপনি এখানে জয়েন করেছেন তা আমি জানি। কিন্তু ইচ্ছা করেই আপনার সাথে দেখা করিনি।
– কেন? দেখা করোনি কেন? জানো আমি দেশে ফিরে এসে তোমাকে কত খুঁজেছি, কিন্তু কেউ তোমার কোন হদিস দিতে পারলো না।
– কেন খুঁজেছেন আমাকে? আজ দশ বছরে তো একটিবারের জন্য কোনো খোঁজ করেননি?
– কে বললো খোঁজ করিনি? অষ্ট্রেলিয়া যাওয়ার পর তোমাকে কতোগুলো চিঠি দিয়েছি তুমি তো একটা চিঠিরও কোনো উত্তর দাওনি।
– আমাকে চিঠি দিয়েছেন? কই আমি তো আপনার কোনো চিঠি পাইনি। আর পাবো কিভাবে আপনি যাওয়ার পরই তো বাড়িওয়ালীর সাথে ভাবির ঝগড়া হয়, তারপর ভাইয়া রাগ করে এক সপ্তাহের মধ্যে ওই বাড়ি ছেড়ে আমাদের নিয়ে ধানমন্ডি এলাকায় চলে আসেন। আমি জানতাম আমার মন বলতো আমাকে আপনি অন্তত একটা চিঠি লিখবেন। তাই আমি কয়েকবার গিয়েছি ওই বাড়িতে শুধু আপনার খোঁজ নেওয়ার জন্য। কিন্তু বাড়িওয়ালী বলতো আমার কোন চিঠি আসেনি তাই মনের দুঃখে ব্যর্থ মনে ফিরে এসেছি বার বার। কেন যেন আমার মন বলতো আপনি অন্তত একটি বারের জন্য হলেও আমাকে লিখবেন তাই অপেক্ষার প্রহর গুণেছি। কিন্তু না আপনি আমাকে মনেই রাখেননি হয়তো ক্ষণিকের চেনা একটা মেয়েকে কেনই বা মনে রাখবেন। তবুও অপেক্ষা করেছি কোনো এক নিষ্ফল আকাঙ্খা নিয়ে। কিন্তু না সে আশা কোনো দিন পূর্ণ হবার নয় তাই নিজেকে জীবনের একাকিত্বের মাঝে ঠেলে দিয়েছি।
গট গট করে মনের মাঝে জমানো কথাগুলো এক নিঃশ্বাসে বলে গেল তিথী। আজ আর কোন রাখঢাকের বালাই নেই যেন ওর কাছে। কথাগুলো বলে ও যেন একটু স্বস্তি পেল।
সাহেব একদৃষ্টে তিথীর দিকে তাকিয়ে ওর কথাগুলো শুনছিলো আর বুকের মাঝে কেমন এক অজানা অনুভূতি অনুভব করছিলো। তারপর আস্তে করে বললো,
– আমার উপর খুব রেগে আছো দেখছি
– রাগ করবো কেন আর রাগ করার কি অধিকার আছে আমার কারো উপর। সরি আপনাকে বিব্রত করার জন্য।
– না না। ও কে, তোমার অবশ্যই সে অধিকার আছে।
সাহেব লক্ষ্য করলো তিথীর দু‘চোখের কোণে জল চিক চিক করছে এখনি হয়তো বুকের মাঝে জমানো ব্যথাগুলো বিস্ফোরিত হয়ে কান্নার বন্যা বয়ে যেতে পারে তাই পরিবেশটাকে স্বাভাবিক করার জন্য সাহেব বললো,
– বাই দা ওয়ে এই যে তুমি বললে একাকিত্বের মাঝে ঠেলে দিয়েছো নিজেকে, কেন বিয়ে থা করোনি?
– না, বিয়ে করবো কাকে? যাকে জীবনের প্রারম্ভে মনে প্রাণে ঠাঁই দিয়েছিলাম সে যখন আমাকে বুঝতেই পারলো না তাই বিয়ের চিন্তা মাথা থেকে বাদ দিয়েছি। এই একাই ভালো আছি।
– ও কাউকে ভালো বেসেছিলে বুঝি।
– হ্যাঁ, এক পাষাণকে ভালোবেসেছিলাম যে কখনো আমাকে বুঝতেই পারেনি।
– কেন বুঝতে পারেনি কেন? তাকে কি কখনো বলেছিলে যে তুমি তাকে ভালোবসো?
– সে কি আমাকে বুঝতে পারতো না? আমার চোখের ভাষা কি বুঝতে খুব কঠিন ছিলো? সব কথা কি মুখে বলতে হয়?
– তা ঠিক, সব কথা মুখে বলতে হয় না ঠিকই। কিছু ভাষা আকার ইঙ্গিতেও তো বোঝাতে হয়।
– কেন সে কি আমার ইঙ্গিত বুঝতো না? কিসের আশায় তার সাথে প্রতিদিন ক্লাস শেষে অপেক্ষা করেছি কিসে জন্য শত কষ্ট সহ্য করে তার জন্য এক সাথে পথ চলেছি, নিজে টিফিন না খেয়ে তাকে খাইয়েছি। রাতের পর রাত জেগে নোট লিখে দিয়েছি। সব কি এমনি এমনি?
– ঠিক বলেছো তুমি সেই সময় আমাকে সাহায্য না করলে আমার পক্ষে বিদেশ যাওয়া সম্ভব হতো না। আমি কিছুই ভুলিনি। আমার যাওয়ার ব্যাপারে তুমি সব কাজ নিজ হাতে করেছো কত জায়গা নিজে খরচ করে আমাকে নিয়ে গিয়েছো নিজ খরচে আমার সব জিনিস পত্র কিনে দিয়েছো তা আমি কিছুই ভুলিনি তিথী। আমি ভুলিনি আমার খাওয়ার কত কষ্ট হতো তুমি রাত্রে চুপি চুপি আমার রুমে খাবার নিয়ে এসেছো নিজ হাতে পরিবেশন করে আমাকে খাইয়েছো। তাই তো প্রতিটা মুহূর্ত তোমাকে ভেবেছি তোমার দেওয়া সব স্মৃতি আমি আজও সযতেœ সংরক্ষণ করে রেখেছি।
– তাই?
– হ্যাঁ তিথী। তুমি কখনো মুখে আমাকে ভালোবাসার কথা বলোনি ঠিকই কিন্তু আমি সবই বুঝতাম তবু আমিও নিজেকে অনেক বুঝিয়েছি কারণ তুমি কত সুন্দরী তোমাদের কত নাম ডাক আর আমি শুধু মাত্র দরিদ্র এক কৃষকের সন্তান। এখনো মানুষ হতে পারিনি। বিদেশে যাওয়ার সময় তোমার আচরণ, তোমার চোখের জল আমাকে আরও বিমর্ষ করেছিলো। সে সময় তোমার লেখাটা পড়ে আমি সত্যি বিমোহিত হয়ে পরেছিলাম কিন্তু তখন আর তোমাকে জানানোর মতো সময় ও সুযোগ ছিলো না। তাই তোমাকে সারপ্রাইজ দেবো বলে অষ্ট্রেলিয়া গিয়েই সব জানিয়ে চিঠি দিলাম। কি দুর্ভাগ্য দেখো সেই চিঠিটাই তোমার হাতে পৌঁছেনি।
– হ্যাঁ সবই আমার দুর্ভাগ্য! তাইতো আপনার পথ চেয়ে বসেছিলাম। আমি জানি আমার চাওয়া কখনো ব্যর্থ হবে না তারপর সব আশা ছেড়ে দিয়েছি। যাক এতোক্ষণ শুধু শুধু বাজে কথা বলে সময় নষ্ট করলাম আপনার। এবার আপনার কথা বলুন,এতো দিন কেমন ছিলেন? বিয়ে কি বিদেশী মেয়েকেই করেছেন নাকি এ দেশী?
– না, সেটা আর হয়ে উঠেনি। লেখাপড়া নিয়ে গবেষণা নিয়ে এতোই ব্যস্ত ছিলাম যে ওই পাঠ চুকানোর আর সময় পাইনি। তাছাড়া..
– তাছাড়া কি?
– তোমার স্মৃতি আমাকে এতোটাই জড়িয়ে ছিলো যে অন্য কোনো মেয়েকে মনে স্থান দিতে পারিনি। তা এবার বলো তুমি কি সত্যি বিয়ে শাদী করোনি?
– না, আপনাকে পাইনি বলে আমারও তা হয়ে ওঠেনি।
তারপর দুজনেই হেসে উঠলো। জীবনের সব হিসেব নিকেশ মুহূর্তেই সমাধান খুঁজে পেল।
সাহেব তিথীর হাতটা নিজের হাতে আলতো করে ধরে বললো,
– তাহলে দু‘জনের জন্যই আমরা আজও অপেক্ষায় আছি আর এই মুহূর্তকে কোনো ভাবেই নষ্ট করতে চাই না। এসো আমরা আমাদের ভালোবাসার সম্পর্ককে একসাথে গেঁথে ফেলি, চলো আমরা বিয়ে করি।
এই বলে সাহেব তিথীর হাত ধরে ঘর বাঁধার প্রত্যাশা নিয়ে বেরিয়ে গেল। (শেষ)