ফিচার

যে ১০ রকমের ওষুধ সবসময় বাসায় রাখবেন

স্বদেশ খবর ডেস্ক
বিপদ কখন আসে বলা যায় না। অনেকসময় মাঝরাতে অসুস্থ হলে আমরা অসহায়ের মতো সকালের জন্য দুশ্চিন্তায় রাত জেগে থাকি বা যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকি। অথচ একটু সচেতন হলেই আমরা প্রাথমিকভাবে কিছু সমস্যার সমাধান করতে পারি। যদি অতি প্রয়োজনীয় ১০ রকমের ওষুধ আমাদের বাসায় থাকে। আসুন জেনে নিই এসব ওষুধের নাম ও ব্যবহারবিধি।

প্যারাসিটামল
ব্যথা ও জ্বর নিরাময়ে নাপা বা প্যারাসিটামলের মতো নিরাপদ ওষুধ খুব বেশি নেই বলেই এটি আমাদের দেশে বহুল ব্যবহৃত। জ্বরের জন্য প্রথমে একটি প্যারাসিটামল খেতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে, খালি পেটে এ ওষুধ খাওয়া যাবে না। জ্বর বাড়লে (<১০৩০) বা ৩ দিনের বেশি জ্বর থাকলে ডাক্তার দেখান। তবে পেটে ব্যথা, চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া বা জন্ডিসের অন্য কোনো উপসর্গ দেখলে প্যারাসিটামল খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। ট্রামাডল সাধারণত তীব্র ব্যথা উপশমে ওষুধটি ব্যবহার করা হয়। কোনোপ্রকার ঝুঁকি ছাড়াই ট্রামাডল পেইনকিলার হিসেবে নেয়া যায়; এমনকি অ্যাজমা রোগীরাও এটি নিতে পারবেন। টাইমোনিয়াম সালফেট যেকোনো প্রকার পেটে ব্যথার ক্ষেত্রে বিশেষ করে পিরিয়ডের প্রথম কয়েক দিনের ব্যথার জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর একটি ওষুধ। এসোমিপ্রাযল/ওমিপ্রাযল অধিকাংশ মানুষকেই কোনো না কোনো সময় বুক জ্বলা বা গ্যাসের সমস্যায় ভুগতে হয়; বিশেষ করে ভরপেট খাওয়ার পর। এসোমিপ্রাযল/ওমিপ্রাযল গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ হিসেবে বেশ পরিচিত। পাকস্থলিতে অ্যাসিড গঠন কমিয়ে বুক জ্বলা কমাতে সাহায্য করে। অনেক সময় গ্যাসের জন্য অনেকটা হার্ট অ্যাটাকের মতো বুকে ব্যথা হয়, এজন্য ৩০ মিনিটের মধ্যে অবস্থার উন্নতি না হলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করুন। অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রক্সাইড সাস্পেনশন বুক জ্বলা এবং গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য ২ চামচ করে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রক্সাইড সাস্পেনশন খেতে পারেন। সাস্পেনশনটি ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা হলে খেলেই বেশি আরাম পাবেন। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে কয়েকবার পাতলা পায়খানা হতে পারে, এতে চিন্তার কিছু নেই। ওরস্যালাইন ডায়রিয়ার সময় খুব সহজেই শরীর থেকে অনেক পানি বেরিয়ে যায়। প্রত্যেকবার পাতলা পায়খানা হওয়ার পর স্যালাইন খাওয়া উচিত। শরীরে পানিশূন্যতা হলে নানারকম জটিলতা দেখা দিতে পারে। অনতিবিলম্বে ডাক্তার দেখান, যদি আপনার ডায়রিয়ার সাথে জ্বরও হয়। ২ দিনের বেশি সময় ডায়রিয়া থাকে মুখ শুকিয়ে গিয়ে পিপাসা লাগে খুব কম অথবা একেবারেই প্রস্রাব না হলে প্রচণ্ড পেটে ব্যথা হলে পায়খানার সাথে রক্ত গেলে আপনার উচ্চ রক্তচাপ থাকলে ওরস্যালাইন খাওয়ার আগে রক্তচাপ মেপে নেয়া ভালো। ফেক্সোফেনাডিন/রুপাটিডিন এই অ্যান্টিহিস্টাসিনগুলো তুলনামুলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ। যাদের অ্যালারজিক রাইনিটিস (ধুলা, পরাগ, তেলাপোকা ইত্যাদির সংস্পর্শে এলে হাঁচি হওয়া) আছে তারা রাতে একবার ফেক্সোফেনাডিন বা রুপাটিডিন নিলে হাঁচি ও নাক থেকে পানি পড়ার উপশম হবে। সিলভার সালফাডিয়াযিন হালকা পুড়ে গেলে প্রথমে পোড়া জায়গাটি কলের পানির নিচে ধরুন। পানি শুকিয়ে গেলে যতœসহকারে পোড়া জায়গায় সিলভার সালফাডিয়াযিন অয়েন্টমেন্ট দিন। ফোসকা পড়লে সেটা ওঠানোর চেষ্টা করবেন না। তবে বেশি পুড়ে গেলে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন। পভিডন-আয়োডিন মলম হালকা রক্তপাতসহ ছোটখাটো কাটা-ছেঁড়ার ক্ষেত্রে ক্ষতটি শুকনা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে চেপে ধরে রাখুন। রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে গেলে কাটা জায়গায় পভিডন-আয়োডিন অয়ন্টমেন্ট দিন। এসবক্ষেত্রে স্যাভলন দিয়ে পরিষ্কার না করাই ভালো। আপনি যদি কোনো প্রকার ব্লাড থিনার (যেসব ওষুধের কারণে রক্ত জমাট বাধার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়) নিয়ে থাকেন অথবা অনেক বেশি কেটে গেলে বা প্রচুর রক্তপাত হলে আপনার ডাক্তারের সাহায্য লাগতে পারে। অ্যাসপিরিন বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জ্বরনাশক, ব্যথানাশক, প্রদাহনিরোধী ওষুধ। আকস্মিক বুকে ব্যথা এবং পরবর্তীতে বাম হাত, চোয়াল বা গলার বাম দিকে ব্যথা হওয়া হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ। হার্ট অ্যাটাকের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে সাথে সাথে ২-৩টি বেবি অ্যাসপিরিন খেয়ে নিন এবং যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করুন। যখনই অসুস্থবোধ করবেন, তখনই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবেন। সেটি সম্ভব না হলে সরকারি ২৪ ঘণ্টা মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা ১৬২৬৩ নাম্বারে ফোন করে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন অথবা শরীরের অসুস্থতা বুঝে ওষুধ খান। উল্লিখিত কোনো ওষুধে আপনার অ্যালারজি থাকলে সেটি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। তাছাড়া বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এবং গর্ভাবস্থায় অনেক ওষুধই খাওয়া যায় না, এ বিষয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।