সাহিত্য

জীবনের গল্প

মো. হারুন অর রশিদ : স্ত্রী ও ৬ মাসের একটি ছেলে সন্তান নিয়ে জামানের ছোট সুখের সংসার। নদী-নালা-খাল-বিল পরিবেষ্টিত জেলা বরিশাল শহরে বাস করে তারা। বাস্তবতার সাথে সংগ্রামের মাধ্যমে জীবন পরিচালনা করে আসছে। ছোটখাট ঠিকাদারী ব্যবসা করে জীবনজীবিকা নির্বাহ করে জামানের পরিবার। বাবা-মা-ভাই-বোন সবাই গ্রামের বাড়িতে থাকে। কিন্তু ব্যবসার প্রয়োজনে ওকে অন্য দুই ভাই-বোনসহ শহরে থাকতে হয়।
জামানের ওপর সংসারের বিরাট দায়িত্ব। ভাই-বোনদের লেখাপড়ার খরচ বহন করার পাশাপাশি বাবা মায়ের সংসারের টুকিটাকি খরচ থেকে শুরু করে সব খরচই ওকে বহন করতে হয়। তারপর নিজের সংসার চালানো, সব মিলিয়ে জামানের ওপর বেশ একটা চাপ সবসময় থাকে। দুইটা ভাই-বোনকে নিজের কাছে রেখে লেখাপড়া করানো তো চাট্টিখানি কথা নয়।
জামান তার পরিবারের অনেক বড় দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়েছে। কারণ ওর বাবা বৃদ্ধ, সংসারে আর কোনো কর্মক্ষম ব্যক্তি না থাকায় সবকিছু জামানকেই সামলাতে হয়। লেখাপড়া শিখে চাকরি করবে এটাই ছিলো ওর জীবনের লক্ষ্য। তাই একটা চাকরির জন্য কত জায়গায় না ধর্ণা দিয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু আজকালকার যুগে মামা-চাচা না থাকলে চাকরি যে পাওয়া যায় না তা ও হাড়ে হাড়ে জেনে গেছে। ইন্টারভিউ দিয়ে চাকরি পাওয়া মুস্কিল সাথে আবার হলুদ খামে মোটা একটা বান্ডিল দিতে হয়। এদিকে ওর বাবা ওদের লেখাপড়া শেখাতে গিয়ে সর্বস্ব খুইয়েছেন, চাকরির জন্য উপঢৌকনের জোগান দেবেন কিভাবে? তাই নিজের চেষ্টায় যা পারে তাই করার জন্য উঠেপড়ে লাগে জামান। পেপার দেখে দরখাস্ত করে আর ইন্টারভিউ দিয়ে যেতে থাকে একের পর এক। কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, ওর কপালে একটা চাকরিও জোটে না। কিন্তু হাল ছাড়ে না জামান। চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে প্রতিনিয়ত। একবার তো পুলিশের এসআই পদের জন্য চেষ্টা করে প্রায় হওয়া চাকরি শুধুমাত্র ঘুষের টাকা জোগাড় করে দিতে পারেনি বলে চাকরিটা ওর হাতছাড়া হয়ে গেল। গ্রেডিংয়ে/যোগ্যতার মানদ-ে ওর চেয়ে যে নিচে ছিলো সে টাকা দিয়ে চাকরিটা কিনে নিলো ওর চোখের সামনে। অথচ মেধা-যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও জামান টাকার অভাবে চাকরিটা পেল না।
জামান ছাত্রজীবনে একটা দলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলো। বিএম কলেজে পড়ার সময় নেতাদের সাথে কত মিটিং-মিছিল করেছে। হরতালের দিন পিকেটিং করে কত দামি গাড়ির কাঁচ ভেঙেছে। পুলিশের গাড়িতে কতো ঢিল ছুঁড়ে মেরেছে; আবার কতবার পুলিশের লাঠিপেটা খেয়েছে। একবার তো পুলিশ ধরে নিয়ে রামধোলাই দিয়েছিল। হরতালে ইট-পাটকেল না ছুঁড়লে, কোনো নতুন গাড়িতে আগুন না দিলে তো হরতাল সফল হয় না। এক হরতালের দিনে কলেজের বড় ভাইয়েরা জোর করে নিয়ে গেল পিকেটিংয়ের জন্য। নতুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে অপেক্ষমান বাসগুলো ভাঙতে লাগলো ঠিক তখনই দাঙ্গা পুলিশ এসে চারদিক থেকে ঘিরে টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে ওদের ধরে নিয়ে গেল। তারপর থানায় নিয়ে এমনভাবে ধোলাই দিলো যে হাড়-মাংস যেন আলাদা হয়ে গেল। সেই সময় রাজনীতির বড় বড় নেতাদের টিকিটি পর্যন্ত দেখা গেল না। কেউ একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এলো না। কেউ ওদের ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য এগিয়ে আসেনি থানাতে। পরদিন কোর্টে চালান করে দিলো ওদের। জামানের বাবা এক কানি জমি বিক্রি করে নগদ ২০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে ওকে ছাড়িয়ে আনলো। তারপর থেকে আর কোনো পিকেটিং-মিছিলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়ে লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করে। তারপর বিএ পাস করার পর থেকেই চাকরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইতোমধ্যে ওদের দল ক্ষমতাসীন হয়ে দাপটের সাথে ক্ষমতার অপব্যবহার করে চলেছে। ঠিক সেই সময় ওর কাছেও একটা মহাসুযোগ এসে উপস্থিত হয়। পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে জামান আবার আশার আলো দেখতে পায়। এতদিনের লালিত স্বপ্ন যেন জামানের হাতের মুঠোয় ধরা দেয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিল ও যদি চাকরি করে তা হলে পুলিশের চাকরিই বেছে নেবে। ওকে যখন হরতালের পিকেটিং থেকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল, তারপর থানায় নিয়ে যখন নির্বিচারে অত্যাচারে জর্জরিত করেছিলো তখন থেকেই একটা আশা ওর মনের মাঝে বারবার উঁকি দিতে থাকে; তা হলো পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করে সত্যিকার সেবা দেবে জনগণকে। তাই সাব-ইন্সúেক্টর পদে পরীক্ষা দেয়ার জন্য আদা-জল খেয়ে লেগে যায়। ও জানে দলের প্রয়োজনে সময়ে-অসময়ে এগিয়ে গিয়েছে, হরতালে সবার আগে পিকেটিং করে পুলিশের হাতে মার খেয়ে মরতে মরতে বেঁচে গিয়েছিল। দলের জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে জেল খেটেছে। তাই ওর ভরসা দলের নেতারা ওর চাকরির জন্য অবশ্যই সুপারিশ করবেন। তাই ওর দলীয় নেতাদের কাছে ধর্ণা দেয় এবং আব্দার করে চাকরিটার জন্য। তারাও ওকে আশ্বাস দেয়। জামান সেই কঠিন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আনুষঙ্গিক সব পরীক্ষা দিলো সব নিয়মমাফিক। এক সময় সব ক্ষেত্রেই সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয়। কিন্তু ওর পরীক্ষা ‘শেষ হইয়াও হইলো না শেষ।’ কারণ স্থানীয় এমপি মহোদয়ের সুপারিশ ছাড়া তো কোনোভাবেই নিয়োগপত্র প্রাপ্তি সম্ভব নয়। জামান ভাবে, এমপি সাহেব তো ওর নিজের লোক, তার নির্বাচনের সময় ওরা সব বন্ধু মিলে খেয়ে না খেয়ে যে হাড়-ভাঙা খাটুনি খেটেছে তা তো এমপি সাহেবসহ সবাই জানেন। তাই ও নিশ্চিন্তে থাকে ওর চাকরি পাক্কা হয়ে আছে। এক প্রত্যুষে জামান উপস্থিত হয় এমপি সাহেবের বাসায়। ওকে দেখেই এমপি সাহেব বুঝতে পারেন তার টাকার বাক্স উপস্থিত। সমাদর করে জামানকে বসতে বলে জিজ্ঞাসা করেন:
-কিরে জামান তোর খবর কী? তোরতো কোনো দেখা-সাক্ষাৎ নেই একদম।
-জ্বি ভাইয়া, আমি তো এতদিন পুলিশের এসআই পদে চাকরির পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। আল্লাহর রহমতে তো সব ক্ষেত্রেই নির্বাচিত হয়েছি; এখন আপনার রিকমন্ডেশন পেলেই চূড়ান্ত নিয়োগ হবে।
-হ্যাঁ, আমি তো সব জানি। তোর জন্য ওপরে যা করার সবই করেছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সব ব্যবস্থা করেছি, তোর চাকরি তো এক প্রকার ফাইনাল।
-থ্যাংক ইউ ভাইয়া।
-আরে বাবা শুধু শুকনা থ্যাংকস দিলে তো হবে না। তুইতো জানিস সবকিছুর একটা সিস্টেম আছে। শোন হুদার সাথে যা, ও তোকে সব বুঝিয়ে দেবে।
তারপর এমপি সাহেব তার পিএস হুদাকে ইঙ্গিতে যা বোঝানোর তা বুঝিয়ে দিলেন। হুদা ভাই জামানকে নিয়ে পাশের রুমে গেলেন। তারপর জানালেন, শোন জামান, স্যারকে তো উপরের সবাইকে ম্যানেজ করতে হয়। স্যারের কাছে কেন্দ্রের নির্দেশ আছে প্রতি ক্যান্ডিডেটের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা করে নিতে হবে। তুই যত তাড়াতাড়ি পারিস টাকা জোগাড় করে দে, তোর এসআই হওয়া এখন শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র ।
কথাটা শুনে জামান যেন আকাশ থেকে পড়লো। ওর কানকে যেন বিশ্বাস করতে পারছে না। যে এমপির জন্য এতকিছু করলো আর এখন ওর এই মুহূর্তে ওর কাছে এতো টাকা ঘুষ চাইছে। কোথায় পাবে এতো টাকা! ওর বাবার সেই সামর্থ নেই যে ওর জন্য টাকা জোগাড় করে দেবে। তাই হুদার হাতটা জড়িয়ে ধরে বলে, হুদা ভাই আপনি তো আমার ফ্যামিলি সম্পর্কে সবই জানেন। সমস্ত জায়গা জমি বিক্রি করলেও এতো টাকা জোগাড় করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আমার জন্য যত কম টাকা নিয়ে সম্ভব একটু চেষ্টা করে দেখেন না ভাই।
-আমার তো কিছু করার নেই। স্যার যা বলবেন, তা-ই করা লাগে। তারপরও তোর জন্য স্যারকে যতটা কম করা যায় আমি দেখবো। তুই আগে টাকার জোগাড় কর।
তারপর শত চেষ্টা করেও এতো টাকা ম্যানেজ করতে পারে না। মাঠের জমি বিক্রি করে এবং দ্বারে দ্বারে ঘুরে সর্বসাকুল্যে মাত্র ২ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না। উপরের নেতাদের টাকা না দিলে নাকি পুলিশের এসআই পদে নিয়োগপত্র পাওয়া যায় না। অবশেষে রণে ভঙ্গ দিয়ে ভাগ্যের নির্মমতার কাছে নিজেকে সঁপে দিতে হয়। জামান সব পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয়েও ভাগ্যের পরীক্ষায় হার মানতে হলো সামান্য কিছু টাকার জন্য। পুলিশের চাকরিতে আর জয়েন করা হলো না জামানের।
এবার চাকরির পেছনে দৌড়ানো বন্ধ করে দিয়ে এক সময় স্বাধীন ব্যবসা হিসেবে কিছু করবে বলে মনস্থির করে। কিন্তু ব্যবসা করতে চাইলেই তো করা যায় না; সেখানেও প্রচুর টাকার প্রয়োজন। তারপর রাজনৈতিক আর এক বড় ভাই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলো ওর প্রতি। সে আন্তঃজেলা প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার। সে ওকে সাথে নিলো সাহায্য করার জন্য। তারপর থেকেই তার সাথে কাজ শিখে নিজেই এক সময় ঠিকাদারী লাইসেন্স করে ব্যবসা করতে লেগে গেল। যেহেতু দল ক্ষমতায়, তাই কাজও একের পর এক ওর কাছে এসে ধরা দেয়। জামান সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে অল্প দিনেই বেশ সুনাম অর্জন করে। তারপর থেকে আর ওকে পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। সাফল্য ওর হাতে একের পর এক এসে হাজির হয়। টাকা-পয়সা-ধন-সম্পত্তি বেশ ভালোই উপার্জন করতে থাকে। মটরসাইকেলে ঘুরে বেড়ায় বন্ধুদের সাথে, আড্ডা দেয়। বাবা-মা বারবার তাগাদা দেয় এবার বিয়ে করে একটা বউ ঘরে আনার জন্য। তারা মেয়ে দেখাও শুরু করে দিয়েছেন। বেশ কয়েকটা মেয়ে দেখে এসেছেন কিন্তু মেয়ে পছন্দ হয় তো পরিবার ভালো না; আবার বড়লোক ফ্যামিলি হলেও মেয়ে দেখে পছন্দ হয় না। মেয়ে দেখার কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।
জামানের বন্ধু সুমনের জর্ডান রোডের ওষুধের দোকানে প্রতিদিনের মতো সেদিনও আড্ডা দিচ্ছিলো; এমন সময় একটা রিকশায় দু’টো মেয়ে ফার্মেসির সামনে থামলো। তারপর একজন রিকশা থেকে নেমে প্রেসক্রিপশন এগিয়ে দিলো সুমনের দিকে। সুমন ব্যস্ত প্রেসক্রিপশন দেখে ওষুধ মিলিয়ে দিতে, অন্যদিকে জামানের চোখ আটকে গেল রিকশায় বসা মেয়েটির দিকে। একবার তাকিয়ে দেখে অপরূপ সুন্দরী এক রূপসী ওর দিকে তাকিয়ে আছে। জামানও একবার তাকিয়ে আর চোখ ফেরাতে পারে না। চার চোখ এক হয়ে চোখাচোখি হয়, ওরা একদৃষ্টে একে-অপরের দিকে তাকিয়ে রইলো। জামানের কাছে যেন এই চোখ দু’টো ওর কত আপন, কত চেনা মনে হয়। একসময় ওষুধ নিয়ে সঙ্গী যখন রিকশায় আরোহন করলো তখন সে একটা মৃদু হাসি দিয়ে তাদের বহনকারী রিকশা পর্যন্ত এগিয়ে গেল।
জামানের বুকের মধ্যে কেমন যেন এক আনন্দ অনুভূতির শিহরণ অনুভূত হয়। রিকশা সদর রাস্তা দিয়ে যতক্ষণ দেখা যায় ততক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে রইলো। হঠাৎ কি মনে হতেই জামান তাড়াতাড়ি মটরসাইকেলে চড়ে বসলো আর এগিয়ে চললো রিকশা যেদিকে গিয়েছে সেদিকে। ততক্ষণে রিকশা অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে; তারপর আলেকান্দা এসে দেখলো তাদের রিকশা। জীবনে যা করেনি তাই করলো রিকশার পেছনে মটরসাইকেল চালিয়ে তাদের ফলো করতে লাগলো। কিছু দূর যাওয়ার পর এক প্রকা- বাড়ির সামনে রিকশা থামলো। বাড়ির নাম ‘তালুকদার ভবন।’ সামান্য দূরত্ব বজায় রেখে ও মটরসাইকেল থামালো। মেয়ে দু’টো নেমে হন হন করে চলে গেল। হঠাৎ সুন্দরীটি কী মনে করে যেন পেছনে তাকালো আর জামানের সাথে আবার চোখাচোখি হয়ে গেল। কিছুটা আশ্চর্যান্বিত হয়ে ওকে দেখে ভেতরে চলে গেল।
তারপর থেকে জামানের মাঝে একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেল। ওর কাজকর্ম সব চুলোয় গেল। মটরসাইকেল নিয়ে কারণে-অকারণে আলেকান্দা তালুকদার ভবনের সামনে দিয়ে চলাচল বেড়ে গেল। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। সেই অপরূপা সুন্দরীর টিকিটি পর্যন্ত দেখা যায় না।
জামানের মনে আশঙ্কা, তবে কি মেয়েটা এ বাড়ি থেকে উধাও হয়ে গেল। আর কি কোনোদিন দেখা হবে না তার সাথে?
হঠাৎ এক সকালে ওর সামনে দিয়ে মেয়েটি রিকশায় করে চলে গেল। জামান কালবিলম্ব না করে রিকশাটাকে ফলো করে যেতে লাগলো।
বরিশাল মহিলা কলেজের সামনে রিকশা থামতেই শিরিন দেখলো সেই ছেলেটি ওর পেছনে দাঁড়িয়ে আছে জিন্স প্যান্ট, গোলাপী একটা টি-শার্ট পরিহিত, চোখে সানগ্লাস Ñ ঠিক যেন নায়ক বুলবুলের মতো দেখতে। মটরসাইকেলের উপর বসে একদৃষ্টে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। সে ফার্মেসিতে যেভাবে দেখেছিল আজ তাকে কেমন যেন অন্য রকম লাগছে। তারপর রিকশার ভাড়া মিটিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতেই আরেহীটি ওর সামনে এসে দাঁড়িয়ে কাচুমাচু করে বললো:
-এক্সকিউজ মি, যদি কিছু মনে না করেন আপনার নামটা কি জানতে পারি?
-কেন বলুন তো? আর আমাকে এভাবে ফলোই বা করছিলেন কেন?
-সরি; আমাকে ভুল বুঝবেন না, প্লিজ। আপনাকে সেদিন দেখার পর কেমন যেন পরিচিত মনে হলো; তাই আপনার পেছনে এসেছিলাম।
-দেখুন এটা কলেজ। এখানে কোনো ঝামেলা করবেন না। আমার পেছনে ফারদার আসবেন না।
তারপর গেট দিয়ে জামানের কাক্সিক্ষত মেয়েটি কলেজের ভেতরে চলে গেল। জামান হঠাৎ যেন হোঁচট খেলো। জীবনে একটা মেয়েকে দেখে ভালো লাগলো; অথচ তার কাছ থেকে এ ধরনের অপ্রত্যাশিত আচরণে জামানের মনে বেশ কষ্ট লাগলো। তারপর মাঝে মাঝে কলেজে যাওয়া-আসার পথে জামান দূর থেকে ওকে দেখার চেষ্টা করে। কখনো চোখাচোখি হয়, কখনো বা না দেখার ভান করে চলে যায়। সবসময় দেখাও হয় না। কারণ কাজের চাপে ব্যস্ত থাকে জামান। ওর সবচেয়ে কাছের বন্ধু নিশান থাকে আলেকান্দা। তাই নিশানের কাছে জামান তার ভালো লাগার অনুভূতিটা ব্যক্ত করে। অতঃপর নিশান জানায়:
-তুই মেয়েটাকে আমাকে একদিন দেখিয়ে দিস, দেখি মেয়েটি কে? তোর মনে এতদিন পর দোলা দিলো! Ñ(চলবে)