প্রতিবেদন

নতুন সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমের নেতৃত্বে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক: তারুণ্যনির্ভর নতুন নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করল ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ-এফবিসিসিআই। সংগঠনের ২২তম সভাপতি হয়েছেন শেখ ফজলে ফাহিম। তিনি বিদায়ী কমিটিতে জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। নতুন কমিটিতে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হিসেবে আছেন মুনতাকিম আশরাফ। তিনি এতদিন ছিলেন সহসভাপতির দায়িত্বে।
ফেডারেশন ভবনে ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় পরিচালকদের প্রথম সভায় ২০১৯-২১ মেয়াদের জন্য নতুন কমিটি নির্বাচন করা হয়। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ছিলেন অধ্যাপক আলী আশরাফ।
সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ছেলে। গোপালগঞ্জ চেম্বারের প্রতিনিধি ফাহিম এফবিসিসিআই’র বিদায়ী সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনের স্থলাভিষিক্ত হলেন। মাল্টিডিসিপ্লিন প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকিউরমেন্ট কোম্পানি অবসিডিয়ান বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম। তিনি ইউরো পেট্রো প্রডাক্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের নির্বাহী কমিটিরও সদস্য তিনি। জ্যেষ্ঠ সহসভাপতির দায়িত্বে আসা মুনতাকিম আশরাফ বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট এডওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি ইন অস্টিন থেকে লিবারেল আটর্স ইন পলিটিক্যাল ইকোনমিতে স্নাতক করা শেখ ফজলে ফাহিম মাস্টার্স করেছেন হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে। কনফেডারেশন অব এশিয়া প্যাসেফিক চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
সভাপতি নির্বাচিত করায় ফেডারেশনের আওতাধীন চেম্বার এবং অ্যাসোসিয়েশনের সব সদস্য ও নেতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ফজলে ফাহিম। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সবার সহযোগিতায় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে জাতীয় অবকাঠামো খাতের উন্নয়নসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নেটওয়ার্কে যুক্ত থেকে ফেডারেশন আগামী ২ বছর আরও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।’
এফবিসিসিআইয়ের সাংগঠনিক কাঠামোতেও কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। সহসভাপতির পদ এবার দুটি থেকে বাড়িয়ে ৭টি করা হয়েছে। জ্যেষ্ঠ সহসভাপতির সঙ্গে চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে ৩ জন করে মোট ৬ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে সহসভাপতি হিসেবে। চেম্বার গ্রুপ থেকে সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন হাসিনা নেওয়াজ, রেজাউল করিম রেজনু ও দিলিপ কুমার আগরওয়াল। আর অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে সহসভাপতি হয়েছেন বিজিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ এবং নিজাম উদ্দিন রাজেশ। ফেডারেশনের চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ এবং এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও সহসভাপতিরা এবারের নির্বাচনে শেখ ফজলে ফাহিমের নেতৃত্বাধীন প্যানেল ‘সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ’কে সমর্থন জানান। আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ভোটাভুটির প্রয়োজন হয়নি এবার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সালমান এফ রহমানও নির্বাচনের ফল ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন। নতুন সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যবসা খাতের নেতৃত্ব আমরা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হস্তান্তর করছি। নবনির্বাচিত সভাপতি, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও সহসভাপতিবৃন্দ এবং বোর্ডের অধিকাংশই নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করছে। এটি ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
বিদায়ী সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘অত্যন্ত যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে শেখ ফজলে ফাহিম সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি, তার নেতৃত্বে আগামী মেয়াদে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষিত হবে। সেই সাথে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ফেডারেশন আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’
সব মিলিয়ে সংগঠনটিতে মোট পরিচালক পদ ৭২টি। এসব পদ আবার দুই ভাগে বিভক্ত। এক ভাগে ৩৬টি পদে পরিচালক হন দেশের জেলাভিত্তিক বাণিজ্য সংগঠন বা চেম্বার থেকে। আর ৩৬টি পদ সংরক্ষিত পণ্যভিত্তিক ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর জন্য। ৭২টি পরিচালক পদের মধ্যে ৪২টিতে সাধারণ সদস্যরা ভোট দিয়ে নেতা নির্বাচন করেন। বাকি ৩০টি পদে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য সংগঠন থেকে মনোনীত পরিচালক হন। ভোটাভুটির যে প্রয়োজন হচ্ছে না, তা জানা যায় গত ২৫ মার্চ। ওই দিন মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। ৪২টি পরিচালক পদে ৪২ জনই শেষ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর আগে ২০১৭ সালের ১৪ মে এফবিসিসিআইয়ের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন হয়েছিল। পরিচালক পদে চেম্বার অংশে ভোটাভুটি ছাড়া বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। তবে অ্যাসোসিয়েশন অংশে তখন ভোটাভুটি হয়েছিল।

একনজরে এবার কমিটিতে যারা
চেম্বার গ্রুপ: শেখ ফজলে ফাহিম, হাসিনা নেওয়াজ, মাসুদুর রহমান মিলন, আজিজুল হক, দিলীপ কুমার আগরওয়ালা, মাসুদ পারভেজ খান ইমরান, মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত সরকার, মো. রেজাউল করিম রেজনু, গাজী গোলাম আশরিয়া, তাবারাকুল তোসাদ্দেক হোসাইন খান টিটো, মো. কহিনুর ইসলাম, প্রবীর কুমার সাহা, মো. আতাউর রহমান ভুঁইয়া, মোহাম্মদ বজলুর রহমান, মোহাম্মদ রিয়াদ আলী, মো. হাসানুজ্জামান, হুমায়ুন রশিদ খান পাঠান, এ এইচ আহমেদ জামাল, শারিতা মিল্লাত, সুজীব রঞ্জন দাস ও একেএম শাহেদ রেজা।
অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ: মুনতাকিম আশরাফ, খন্দকার রুহুল আমিন, আবু মোতালেব, মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ, মো. শফিকুল ইসলাম ভরসা, শমী কায়সার, রাশেদুল হোসাইন চৌধুরী রনি, মো. হাবিব উল্লাহ ডন, শাফকুয়াত হায়দার, হেলেনা জাহাঙ্গীর, আমজাদ হুসাইন, নিজাম উদ্দিন রাজেশ, এস এম জাহাঙ্গীর হোসাইন, মো. আবুল আয়েস খান, আবু নাসের, খন্দকার মইনুর রহমান জুয়েল, হাফেজ হারুন অর রশিদ, আবদুল হক, মেহেদী আলী, মো. মুনির হোসাইন ও কাজী শোয়েব রশিদ।