প্রতিবেদন

বাজারে নামিদামি ব্র্যান্ডের পণ্যও নিম্নমানের: বিভ্রান্ত ক্রেতারা সরকারের হস্তক্ষেপ চান

নিজস্ব প্রতিবেদক : নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সঠিক মান ও পরিমাপ নিয়ে ক্রেতাসাধারণ বরাবরই অস্বস্তিতে থাকেন। তাই তারা স্বস্তির খোঁজে ছোটেন নামিদামি ব্র্যান্ডের পণ্য ও সুপারশপের দিকে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ইদানীং বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের পণ্য ও সুপারশপে বিক্রিত পণ্যের ওপরও আস্থা রাখতে পারছেন না ক্রেতারা। বাহারি মোড়ক ও নামের চমক থাকলেও পণ্য অত্যন্ত নিম্নমানের। মানহীন ও ভেজালের দৌরাত্ম্যে পয়সা খরচ করে ঠকছেন ক্রেতাসাধারণ, হচ্ছেন বিভ্রান্ত। এ জন্য তারা সরকার ও সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন-বিএসটিআই সম্প্রতি নিম্ন মানের কারণে ৫২ প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। চাকচিক্যে ভরা মোড়কে বাজারজাত করা বহু পণ্যেই গুণগত মান নেই। পণ্যের কোয়ালিটি নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো যে ঘোষণা দিচ্ছে, বাজারজাত করা পণ্যে তা মিলছে না। বিএসটিআই নির্ধারিত মান-বিডিএস বজায় রেখে পণ্য বাজারজাত করার কথা থাকলেও এসব প্রতিষ্ঠান তার তোয়াক্কা করছে না। এমনকি অভিযান চালিয়েও থামানো যাচ্ছে না নিম্নমানের পণ্য ও ভেজালের দৌরাত্ম্য। তাছাড়া শহরের নামিদামি সুপারশপগুলোতে তাদের নির্ধারিত ব্র্যান্ডের মোড়কে নিম্নমানের পণ্য, যা বাইরের অখ্যাত ছোটখাটো প্রতিষ্ঠান থেকে চুক্তির ভিত্তিতে নিয়মিত সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।
সম্প্রতি ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে বিএসটিআই বিপুলসংখ্যক নামিদামি প্রতিষ্ঠানের পণ্য মানহীন বলে প্রমাণ পায়। জানা গেছে, পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে বিএসটিআই বাজার থেকে ২৭ ধরনের খাদ্যপণ্যের ৪০৬টি নমুনা সংগ্রহ করে। এর মধ্যে ৩১৩টি পণ্যের নমুনার প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে ৫২টি প্রতিষ্ঠানের পণ্যের নমুনা অত্যন্ত নিম্নমানের। আতঙ্কের বিষয় হলো নিত্যপণ্য থেকে শুরু করে শিশু খাদ্যপণ্যও রয়েছে এর মধ্যে। রয়েছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পানি, সরিষার তেল, সেমাই, নুডলস, সফট ড্রিংক, পাউডার, হলুদের গুঁড়া, ধনিয়ার গুঁড়া, কারি পাউডার, ঘি, মরিচের গুঁড়া, লাচ্ছা সেমাই, আয়োডিনযুক্ত লবণ, ময়দা, ফারমেন্টেড মিল্ক, বিস্কুট, সুজি, মধু, চিপস, চানাচুরসহ আরো বেশ কয়েকটি পণ্য। বিএসটিআই এই ৫২টি প্রতিষ্ঠানের কাছে নিম্নমানের পণ্যের জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।
শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ে ‘পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে বিএসটিআই গৃহীত কার্যক্রম’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিম্নমানের পণ্য বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম প্রকাশ করেন। এর মধ্যে সরিষার তেল বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সিটি অয়েল মিলের (ইউনিট এক) তীর ব্র্যান্ড, গ্রিন ব্লিসিং ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের জিবি, শবনম ভেজিটেবল অয়েলের পুষ্টি, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেডের রূপচাঁদা সরিষার তেল নিম্নমানের বলে প্রমাণ মিলেছে। লাচ্ছা সেমাইয়ের মধ্যে প্রাণ অ্যাগ্রো লিমিটেডের প্রাণ লাচ্ছা সেমাই, মিষ্টিমেলা ফুড প্রডাক্টসের মিষ্টিমেলা, মধুবন ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুটের মধুবন, মিঠাই সুইটস অ্যান্ড বেকারির মিঠাই, ওয়েল ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ওয়েল ফুড, কিরণ লাচ্ছা সেমাই, মেসার্স মধুবন অ্যান্ড প্রডাক্টসের লাচ্ছা, জেদ্দা ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের জেদ্দা এবং অমৃত ফুড প্রডাক্টসের অমৃত লাচ্ছা সেমাই নিম্নমানের বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। আয়োডিনযুক্ত লবণের ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে এসিআই, মোল্লা সল্ট, মধুমতি, দাদা সুপার, তিন তীর, মদিনা, স্টারশিপ, তাজ ও নূর স্পেশাল লবণগুলো নিম্নমানের। ফ্রেশ, প্রাণ, ড্যানিশ, সান, ডলফিন ও মঞ্জিল ফুড অ্যান্ড প্রডাক্টসের হলুদের গুঁড়া মানহীন বলে প্রমাণ মিলেছে। সূর্য, ডলফিন এবং পিওর হাটহাজারী ব্র্যান্ডের মরিচের গুঁড়ায় সমস্যা পাওয়া গেছে। এসিআই’র পিওর ধনিয়া গুঁড়াও পরীক্ষায় নিম্নমানের বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। কিং ময়দা, রূপসা দই, মক্কা চানাচুর, মেহেদি বিস্কুট, নিশিতা ফুডসের সুজি, শান্ত ফুড এবং জাহাঙ্গীর ফুড প্রডাক্টের সফট ড্রিংক ও গ্রিনলেন ব্র্যান্ডের মধু নিম্নমানের। মানসম্পন্ন নয় আরা, আল সাফি, মিজান, আর আর ডিউ, দিঘি ড্রিংকিং ওয়াটার ব্র্যান্ড এবং ডানকান ন্যাচারাল মিনারেল ওয়াটার। নিম্নমানের দুটি ঘির ব্র্যান্ড হলো বনলতা ও বাঘাবাড়ির স্পেশাল ঘি। ড্যানিস ও প্রাণের কারি পাউডার, সান চিপস, নিউজিল্যান্ড ডেইরির ডুডলি নুডলস নিম্নমানের।
বিএসটিইয়ের কর্মকর্তারা বলেন, পণ্যের নির্ধারিত মান বজায় রাখার কঠোর নির্দেশনা রয়েছে, যা বিএসটিআইয়ের বিডিএস নামে পরিচিত। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো মান বজায় রাখছে না। নিম্নমানের পণ্য বাজারজাত করছে, কিন্তু বিজ্ঞাপনে দাবি করছে, এসব পণ্য মানসম্পন্ন।
আপাতত তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিএসটিআই। জবাব সন্তোষজনক না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে এসব পণ্য নিষিদ্ধ করার মতো শক্ত পদক্ষেপও নেয়া হতে পারে।
এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব মো. মুয়াজ্জেম হোসাইন স্বদেশ খবরকে বলেন, বাজারজাতকৃত পণ্যের মান ও পরিমাপ সঠিক না হলে দায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বড় প্রতিষ্ঠান, ছোট প্রতিষ্ঠান বলে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনোরূপ তারতম্য করা হবে না।

নিম্নমানের পণ্য ও ভেজালের বিরুদ্ধে কঠোর সরকার
নিম্নমানের পণ্য ও ভেজাল নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সরকারের দুই মন্ত্রী। এ ব্যাপারে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না, সরকারের এই মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে তাদের বক্তব্যে।
শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এ প্রসঙ্গে বলেন, রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষায় অসাধু ব্যবসায়ী ও বিক্রেতারা যাতে ভেজাল, নিম্নমানের খাদ্যপণ্য ও পানীয় প্রস্তুত এবং বাজারজাত থেকে বিরত থাকে সে লক্ষ্যে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হবে। ঢাকা মহানগরীতে বিএসটিআই ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে প্রতিদিন তিনটি, ঢাকার পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও জেলা শহরে প্রতিদিন কমপক্ষে দুটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। বিএসটিআইয়ের ১০টি আঞ্চলিক, বিভাগীয় ও জেলা অফিসের মাধ্যমে প্রতিদিন একটি করে মোট ১০টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। র‌্যাবের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিদিন এক বা একাধিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় অংশ নেবেন বিএসটিআই প্রতিনিধি।
অন্যদিকে ভেজাল ঠেকাতে ও নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থা প্রতিদিন রাজধানীর ৮টি বাজারে অভিযান চালাবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। গত ৩০ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘রমজানে প্রতিদিন মন্ত্রণালয়ের চারটি এবং ভোক্তা অধিকারের চারটি দল রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে অভিযান পরিচালনা করবে। আগে দু’টি বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হতো, এখন তা বাড়িয়ে ৮টি করা হয়েছে। শুক্র ও শনিবারও অভিযান চলবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য সহনীয় অবস্থায় আছে, তবে কিছু পণ্যের দাম যেমন দুই-এক টাকা বেড়েছে, তেমনি কিছু পণ্যের দামও কমেছে। বিগত ২০১৭ আর ২০১৮ সালের রমজানের সময় যে দাম ছিল তারচেয়ে এখন দাম অনেকটাই কমেছে। কিন্তু কোনো কোনো জায়গায় দাম বেড়েছে, তবে সব জায়গায় বাড়েনি। দ্রব্যমূল্য নিয়ে আমরা সার্বিকভাবে সন্তুষ্ট। এবার রমজানে মানুষের ওপর চাপ পড়বে না। চালের দাম কমেছে, তাই কৃষকদের কাছ থেকে চাপ আসছে। রোজাকে সামনে রেখে মনিটরিং টিম যথেষ্ট সচেতন, অনিয়ম হলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালাচ্ছে, করা হচ্ছে জরিমানা। তবে জরিমানা বা জেল দেয়া সরকারের মূল উদ্দেশ্য নয়। ভোক্তাদেরও সচেতন করতে চাই, যাতে তারা না ঠকেন। বিক্রেতাদের রশিদ দিতেও বাধ্য করা হবে। ভোক্তারা সচেতন হলে সুযোগ নিতে পারবে না অসাধু ব্যবসায়ীরা।
ভোক্তাদের সচেতন করতে ২ মে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পর্যায়ে বিশ্ব ভোক্ত দিবস উদাযাপিত হয়। প্রতিপাদ্য ছিল ‘মানসম্মত নিরাপদ পণ্য’। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতির অংশ হিসেবে নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে, নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন পদক্ষেপ।

ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের বিরুদ্ধে অভিযান ও তৎপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য ঠেকাতে ডিএমপি, র‌্যাব, এপিবিএন, বিএসটিআই, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো অভিযান চালাচ্ছে।
এ অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২৩ এপ্রিল পুরান ঢাকার বাদামতলীর মৌসুমি ট্রেডার্স ও মনির এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালায় র‌্যাব। প্রায় ৬ টন মেয়াদোত্তীর্ণ ও মানহীন খেজুর জব্দ করা হয় প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে। এসব খেজুর ২ বছর মেয়াদ বাড়িয়ে নতুন প্যাকেটজাত করে বিক্রি করা হচ্ছিল। প্রতিষ্ঠান দুটিকে ৬৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দুই প্রতিষ্ঠানের ৬ জনকে ১ থেকে ২ বছর করে কারাদ- দিয়েছেন র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম।
রোজাদাররা সাধারণত খেজুর, কলা, মুড়ি, আম, সফ্ট ড্রিংক পাউডার, কার্বোনেটেড বেভারেজ, ফ্রুট সিরাপ, ফ্রুট জুস, ফ্রুট ড্রিংকস, ভোজ্যতেল, সরিষার তেল, ঘি, পাস্তুরিত দুধ, নুডলস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, পানি, ডেক্সট্রোজ মনোহাইড্রেড, সেমাই Ñ এসব খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করে থাকেন। অভিযানে এসব পণ্যে বিশেষ নজর রাখা হবে। কলা, আম, পেঁপে, পেয়ারা, আপেল, আঙুর, নাশপাতিসহ দেশি-বিদেশি প্রায় সব ফলেই বিষাক্ত কেমিক্যাল মেশাচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, নিম্নমানের ও কেমিক্যালযুক্ত খবারের লাগাম টানা হবে যে কোনো মূল্যে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অবাধ সরবরাহ, ভেজাল রোধ ও দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে সবাই সতর্ক।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, ভেজাল প্রতিরোধ করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করবে। ডিএমপির তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন স্থানে আদালত সক্রিয় থাকবে।
র‌্যাব সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা স্বদেশ খবরকে বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা রমজান মাসকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করে। প্রতিবারের মতো এবারও অসাধু চক্রের অপচেষ্টা প্রতিরোধে র‌্যাবসহ দেশের সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।
ভোক্তাদের সচেতন করার কার্যক্রম চালাচ্ছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। পুরান ঢাকার চকবাজার, মৌলভীবাজার, শ্যামবাজার, কারওয়ান বাজার, খিলগাঁওসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীদের নিয়ে করা হচ্ছে সচেতনতামূলক সভা।
ভোক্তাদের প্রত্যাশা, নামিদামি ব্রান্ডের আড়ালে নিম্নমানের পণ্য প্রস্তুত ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন। এসব পণ্য বাজারে প্রবেশ ঠেকাতে সর্বাত্মক কৌশল গ্রহণ করতে হবে। জড়িতদের বিরুদ্ধ দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অব্যাহত রাখতে হবে অভিযানও।
বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভোক্তাদেরও সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। নামিদামি প্রতিষ্ঠান ও ব্রান্ডের পণ্যটি মানসম্মত কি না Ñ তাও যাচাই-বাছাই করে নিতে হবে।
সরকারের কঠোর পদক্ষেপের সঙ্গে ক্রেতাসাধারণের সতর্কতা ও সচেতন অবস্থানেই পাল্টাতে পারে পরিস্থিতি।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, নিম্নমানের পণ্য বাজারজাত করে গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের উচিত পণ্যের মান ও পরিমাপে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া, বিশেষ করে নামিদামি ব্র্যান্ড ও কোম্পানির বিরুদ্ধে আরো বেশি পরিমাণে কঠোর হওয়া এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, যাতে ভবিষ্যতে তারা এ ধরনের অসৎ পথ থেকে সরে আসে।