খেলা

বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১৯: ফাইনালে খেলতে চায় বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ইংল্যাংন্ড ও ওয়েলসে আগামী ৩০ মে থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ ক্রিকেট। বাংলাদেশ জাতীয় দল এখন আয়ারল্যান্ডে। ওখানে ত্রিদেশীয় সিরিজের পরই শুরু হবে বিশ্বকাপ লড়াইয়ের মিশন।
কী লক্ষ্য টাইগারদের? কতদূর এগোতে চায় বাংলাদেশ? সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে টাইগার দলপতি দিলেন সব প্রশ্নের উত্তর। রাখঢাক না রেখেই বললেন, ‘ফাইনালে খেলতে চায় বাংলাদেশ। ঠিকঠাক পরিকল্পনা ও ছকমতো খেলতে পারলে শিরোপা জয়ও অসম্ভব নয়। তবে লড়াইটা অবশ্যই কঠিন।’
বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল পর্যন্ত যাওয়াটাও অনেক বড় চ্যালেঞ্জের। মানছেন মাশরাফিও, ‘খুব চ্যালেঞ্জিং হলেও আপাতত লক্ষ্য অন্তত সেমিফাইনাল খেলা।’
বিশ্বকাপের জন্য গেছে ১৫ সদস্যের নবীন-প্রবীণ দল। আয়ারল্যান্ড সিরিজে বাড়তি আরো ৪ জন রয়েছেন দলের সঙ্গে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ হবে আগামী ২ জুন, শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। সম্ভাবনার ওপরই জোর দিয়ে অধিনায়ক মাশরাফি বললেন, ‘আগে যা বলেছি, এখনও তা-ই বলতে হচ্ছে, সেমিফাইনালে যদি যেতে পারি, অনেক বড় অর্জন হবে। কারণ এবারের ফরম্যাট সেই ’৯২-এর মতো, যেটা খুব কঠিন।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ জেতার সামর্থ্য অবশ্যই আছে। আবার কিছু নেতিবাচক ব্যাপারও আছে। হয়তোবা শেষ এশিয়া কাপ জিতলে এই ধরনের টুর্নামেন্ট কিভাবে জিততে হয় এটার অভ্যাস হতো, এটার অভ্যাস থাকা খুব জরুরি। এর আগে সেমিফাইনালে খেলা বা কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা আছে। এশিয়া কাপে ফাইনালে উঠেও জিততে পারিনি ৩ বার। বড় টুর্নামেন্ট জিতলে এই চাপ সামলানো সহজ হয়। বিশ্বকাপ জেতা খুব কঠিন কিন্তু অসম্ভব বলব না।’ তিনি বলেন, ‘সেমিতে খেলতে পারলে ফাইনালে খেলাও সম্ভব। আর একটি জিতলে ফাইনাল, দুটি জিতলে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। ওই নির্দিষ্ট দিনে ভালো খেলা গুরুত্বপূর্ণ।’
তবে এবারের বিশ্বকাপকে মাশরাফি আরও কঠিন মানছেন ফরম্যাটের কারণে। ১০ দলের সবার খেলা সবার সঙ্গে। আগে যেরকম ছিল তাতে গ্রুপ পর্বে একটা বড় ম্যাচ হারলে কামব্যাক করা কঠিন হয়ে যেত, খেলা ছিল কম। এবার পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন, এখানে নয়টা ম্যাচ। সেমিফাইনাল খেলার যারা প্রত্যাশা করছে, ঘুরে দাঁড়ানোর অনেক সুযোগ থাকবে। আমাদের ওই জায়গাটা খেয়াল রাখতে হবে। ওটা একদিকে আশার জায়গা। সেইসঙ্গে শঙ্কারও বলা যায়।’
ক্রীড়া বিশ্লেষকদেও মতে, কোচ স্টিভ রোডস, ডিপেন্ডেবল মুশফিকুর রহিম, সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ও অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের বিশ্বাস, শেষ চারে খেলা সম্ভব। সবার মধ্যেই এই বিশ্বাসটা ধারণ করা খুব দরকার। দরকার আগে আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজ ভালোভাবে সম্পন্ন করা। মাশরাফি বলেন, ‘আয়ারল্যান্ড থেকে প্র্যাকটিসটা ভালোভাবে সম্পন্ন করতে হবে। আমরা যেন বিশ্বকাপের জন্য তৈরি থাকি যে কোনো পরিস্থিতি সামলাতে।’ ধারাবাহিকতার ওপর জোর দিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘আমার কাছে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ Ñ একটি হলো শুরুর দিকে উইকেট না দেয়া, যদি আমরা আগে ব্যাটিং করি। দুটি উইকেট যদি পড়ে যায়, আমরা চাপে পড়ে যাব। দুই নম্বর বিষয় হলো আগে বোলিং করলে দ্রুত উইকেট নেয়া। আমার মনে হয় ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে এই দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হবে। সেইসঙ্গে ৪৩ ওভারের পর বোলিং ও ব্যাটিং, দুটি জায়গা ঠিক রাখতে হবে। মিডল পার্টে আমরা ভালো করছি। আমরা যদি এসব ঠিক রাখতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ অনেক ম্যাচ জিততে পারব।’
মাশরাফি স্মরণ করিয়ে দেন শঙ্কার জায়গাগুলোও। বলেন, ‘আমরা এখনো ৩২০ বা ৩৪০ চেজ করতে অভ্যস্ত নই। আবার প্রতিপক্ষকে নিয়মিত ২৭০-২৮০-এর মধ্যে আটকাতেও পারছি না। এর মানে এটা নয় যে, কেউ ৩২০ করলে আমরা তা চেজ করতে যাব না। মানসিকতা গুরুত্বপূর্ণ। কেউ ৩২০ করলে আমাদের ৩২১-এর লক্ষ্য নিয়েই খেলতে হবে। এর জন্য যত ঝুঁকি নেয়া সম্ভব, সবই নিতে হবে। ঝুঁকি না নিলে হবে না। অন্যরাও তাই করবে। বিশ্বাস রাখতে হবে যে আমাদের সব সামর্থ্য আছে।’
ম্যাচ কন্ডিশন নিয়েও কথা বললেন টাইগার অধিনায়ক, ‘ইংল্যান্ডের মাঠে ৩০০-৩৫০ রান করা; ইংল্যান্ড কিংবা নিউজিল্যান্ডে দ্বিপক্ষীয় সিরিজগুলোয় আমরা জানতাম যে ব্যাটিং করা কঠিন। কিন্তু এখন দ্বিপক্ষীয় সিরিজগুলোয় প্রচুর রান হয়। আর বিশ্বকাপে আইসিসির চাওয়া থাকে ফ্যাট উইকেট এবং প্রচুর রানের। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই এখানে বড় রানের খেলা হবে। ইংল্যান্ডে এই সময়ে অনেক রান হয়। সব দলের বোলারদের জন্যই চ্যালেঞ্জ। আমাদের হয়তোবা কোনো রিস্ট স্পিনার নেই। এটা আমাদের জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যান্য দলে যাদের আছে, তারা ব্রেক থ্রু দিয়ে দেয় মাঝখানে। এটা অবশ্যই একটা চ্যালেঞ্জ।’ মাশরাফি বলেন, ‘রান করার সামর্থ্য যে আমাদের নেই, তা বলব না। অতীতে হয়ত এ রকম রেকর্ড খুব একটা নেই, চেজ করে জিতেছি বা এতো বড় রান করেছি। শ্রীলংকার বিপক্ষে আমরা ৩২৯ করেছিলাম। তামিম একশ করেছিল। এ রকম যদি ব্যাটিং করি, তা হলে সম্ভব; অন্যান্য দল যে রকম নিয়মিত করছে। আমাদের রিসেন্ট পাস্টে এত বড় স্কোর নেই। একটা কারণ হতে পারে, আমাদের হোম কন্ডিশনে তো এত রান হয় না। এটা একটা ব্যাপার।
অধিনায়কের পাশাপাশি বর্তমানে সংসদ সদস্যও মাশরাফি। আলোচনা আছে, এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ কিনা। দলের সিনিয়র সদস্য হিসেবে নিজের প্রস্তুতি কতটুকু। মাশরাফি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় না আলাদা করে তৈরি হয়ে ওখানে কিছু করতে পারব। প্লেয়ার হিসেবে আমাকে পারফর্ম করতে হবে। অবশ্যই অধিনায়কত্বটা খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে। আমার যে দায়িত্বটা আছে সেগুলো চেষ্টা করব পুরোপুরি ঠিক করার।’

একনজরে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ দল

মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল খান, লিটন কুমার দাস, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ মিঠুন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মুশফিকুর রহিম, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, সাব্বির রহমান, আবু জায়েদ চৌধুরী রাহী, সৌম্য সরকার ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তবে ঘোষিত এ দলেও পরিবর্তন আসতে পারে, আগামী ২৩ মে পর্যন্ত যেকোনো সময়। কেউ ইনজুরিতে পড়লে কিংবা ভালো পারফর্ম করলে দলে ঘটতে পারে যোগ-বিয়োগ। ফাইনালে খেলার লক্ষ্য সামনে রেখে একটি ব্যালান্সড টিমই মাঠে নামাতে চায় বাংলাদেশ।