ফিচার

রূপলাবণ্য বজায় রাখতে ওয়াটার থেরাপি

স্বদেশ খবর ডেস্ক : চুল, ত্বক সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখতে এবং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে পানি একটি অপরিহার্য উপাদান। যথেষ্ট পরিমাণে পানি খেলে রক্ত সঞ্চালন ভালো থাকে, ত্বক মসৃণ, সজীব হয় এবং চুল উজ্জ্বল থাকে। ইন্টারনাল ও এক্সটারনাল – এ দু’ভাবে এ ওয়াটার থেরাপি করা হয়। স্বদেশ খবর পাঠকদের জন্য ওয়াটার থেরাপির বর্ণনা দেয়া হলো; যা আপনার চুল ও ত্বক সুস্থ এবং উজ্জ্বল রাখবে।
ইন্টারনাল থেরাপি: ইন্টারনাল থেরাপি মানে সারাদিনে আপনি কতটা পানি খাচ্ছেন তার ওপর আপনার সুস্থ থাকা নির্ভর করে। দিনে অন্তত ৮ গ্লাস পানি খাওয়া দরকার। পানি খেলে শরীর থেকে টক্সিন বেরিয়ে যায়। গরমের সময় আরও বেশি পানি খাওয়া দরকার। কম পানি খেলে কনস্টিপেশনের সমস্যা দেখা যায়, ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের পক্ষে যা ক্ষতিকারক। তাই প্রতিদিন নিয়মিত পানি খাওয়া দরকার।
এক্সটারনাল থেরাপি: এক্সটারনাল থেরাপি মানে বাইরে থেকে পানির ব্যবহারে শরীর ও ত্বকের যতœ নেয়া হয়। নানারকম পদ্ধতির মাধ্যমে এই থেরাপি করা হয়। নানারকম হার্বস, দুধ ও পানি দিয়ে গোসলের ব্যবস্থা রয়েছে। বডি স্টিম, ফেসিয়াল ও বডি প্যাকের ব্যবহার করা যায়। সঙ্গে বডি ম্যাসাজও জরুরি। এখন চলুন জানা যাক ওয়াটার থেরাপি থেকে কী কী উপকারিতা আমরা পেতে পারি।
ক্লান্তি দূর করুন: ওয়াটার থেরাপিতে পিঠ ও গলার অংশের বিশেষ যতœ নেয়া সম্ভব। ঈষদুষ্ণ পানিতে সি সল্ট মিশিয়ে গোসল করুন। পিঠ, গলা ও ঘাড়ের ক্লান্তি দূর হবে। শাওয়ারের তলায় এমনভাবে মাথা ঝুঁকিয়ে দাঁড়ান, যাতে পিঠ ও ঘাড়ের অংশে জোরে শাওয়ারের পানি পড়ে। দারুণ আন্ডারওয়াটার ম্যাসাজ হবে। এই পদ্ধতিকে বলে হাইড্রোথেরাপি।
ত্বক মসৃণ করে তুলুন: গোসলের আগে ভিজে ত্বকে এক্সফোলিয়েটিং স্ক্রাব লাগান। বডি স্ক্রাব বা প্যাক হিসাবে বেসন, আটা ভালো কাজ করে। এক টেবিল চামচ বেসনের সঙ্গে অর্ধেক লেবুর রস, হলুদ, আধা চামচ বেকিং সোডা, দুই টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে বডিস্ক্রাব তৈরি করুন। গোসলের আগে সারা গায়ে হালকাভাবে পাঁচ মিনিট ঘষুন। প্যাক শুকনো হয়ে এলে গোসল করার সময় ঠা-া পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। শুষ্ক ত্বকের জন্য বেসনের স্ক্রাব উপকারী। এতে ত্বকের মরা কোষ ঝরে পড়বে। তারপর হালকা গরম পানিতে গোসল করুন। খুব বেশি গরম পানিতে গোসল করবেন না। ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়বে। তারপর ক্রিম বা দুধ দিয়ে হালকা ম্যাসাজ করুন। ক্রিম বা দুধের প্রোটিন ত্বক মসৃণ রাখবে। ২০ মিনিট রিল্যাক্স করুন। হালকা হাতে পানি দিয়ে সারা শরীর ম্যাসাজ করুন। শুকনো তোয়ালে দিয়ে গা মুছে ফেলুন। জোরে ঘষবেন না। একটু ভিজে থাকতে থাকতে ঘন বডি লোশন লাগান।
সজীবতা ফিরিয়ে আনুন: ঠা-া পানি এবং ঈষদুষ্ণ পানি মিশিয়ে গোসল করলে ত্বক সজীব ও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ফোলা চোখ, পায়ে ব্যথার সমস্যা থেকেও রেহাই পাওয়া যায়।
প্রথমে গোসল করার আগে ভিজে গায়ে ব্রাশ দিয়ে ভালো করে ঘষুন। রক্ত সঞ্চালন ভালো হবে। তারপর ঈষদুষ্ণ পানিতে লেমন, অরেঞ্জ, গ্রেপ ফ্রুট অয়েল, বাথফোম দিয়ে গোসল করুন। গোসলের পর পায়ের পাতায় ঠা-া পানি ঢালুন। আরাম হবে। বাথটাব থাকলে এসেনশিয়াল অয়েল মেশানো পানিতে শুয়ে থেকে পায়ের পাতা দু’টো ঠা-া পানির তলায় রাখুন। পায়ের পাতায় ঠা-া পানি ঢাললে মেটাবলিজম বুস্ট আপ হবে। শেষে বডি লোশন লাগান।
বডি স্টিম এবং ডিটক্সিফিকেশন: ক্লান্তি দূর করার পাশাপাশি শরীরের ডিপ ক্লিঞ্জিং ও ডিটক্সিফিকেশনে সাহায্য করে ওয়াটার থেরাপি। বালতিতে গরম পানি রেখে বাথরুমের দরজা বন্ধ করে দিন। পুরো বাথরুম গরম পানির ধোঁয়ায় ভরে উঠলে গোসল করতে ঢুকুন। ভিজে সি সল্ট দিয়ে সার্কুলার মুভমেন্টে কপাল থেকে পা পর্যন্ত স্ক্রাব করুন। তারপর ভালো করে গোসল করে নিন। শুকনো তোয়ালে দিয়ে গা মুছে নিন।
চুল বাদে বাকি অংশে মুলতানি মাটির প্যাক লাগান। তারপর তোয়ালে জড়িয়ে নিন। ২০ মিনিট রিল্যাক্স করার পর ঈষদুষ্ণ পানিতে গোসল করে নিন। ১৫-২০ মিনিট পর ঠা-া পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে ব্লাড সার্কুলেশন ভালো হবে। ওটমিল, মধু, দই, কমলালেবুর রস মিশিয়ে মাস্ক বানিয়ে রাখুন। মাস্কটা সারা শরীরে মেখে শুয়ে থাকুন। মাস্ক শক্ত হয়ে গেলে ভিজে তোয়ালে দিয়ে তুলে ফেলুন।
হাত ও পায়ের যতœ: সারাদিনের শেষে বাড়ি ফিরে এসে অল্প গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে তাতে পা ডুবিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। পা নরম, মসৃণ হবে। ফাটা গোড়ালির মরা কোষগুলো নরম হয়ে যাওয়ায় পেডিকিওরে সুবিধে হবে। সঙ্গে সারাদিনের ক্লান্তি কেটে যাবে, পায়ে ব্যথা কমবে। গরম পানির বালতিতে পা ডুবিয়ে, তারপর ঠা-া পানির বালতিতে পা ২ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। এভাবে ১৫ মিনিট পা ঠা-া-গরম পানিতে ডুবিয়ে রাখুন। অল্প গরম পানিতে লিক্যুইড সোপ দিয়ে হাত ভিজিয়ে রাখুন। নখ নরম হওয়ায় ম্যানিকিওরে সুবিধে হবে।
চুলের যতেœ ওয়াটার থেরাপি: শ্যাম্পুর সঙ্গে ডিম মিশিয়ে নিন অথবা ডিমের কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। পুদিনা পাতা পানিতে ফোটান ২০ মিনিট। এই মিক্সচারের সঙ্গে মাইল্ড শ্যাম্পু মিশিয়ে রোজ ব্যবহার করতে পারেন। হালকা গরম পানিতে চুল পুরো ভিজিয়ে নিন। মাথা খুব ভালোভাবে ধোবেন যাতে স্ক্যাল্পে জমে থাকা ধুলো-ময়লা ধুয়ে যায়। হাতের তালুতে পরিমাণমতো শ্যাম্পু নিয়ে সামান্য পানি মেশান। তারপর চুলের গোড়ায় ভালো করে লাগান। দ্বিতীয়বার শ্যাম্পু করুন। শাওয়ারে ধুতে পারলে ভালো হয়। ১ মিনিট ধরে ঈষদুষ্ণ পানিতে চুল ধুয়ে ফেলুন। সবসময় ঠা-া পানি দিয়ে চুল ধোয়া উচিত, এটা ভুল। সবশেষে ঠা-া পানি দিয়ে চুল ধুলে চুলের নিস্তেজ ভাব কমে যায়, স্কাল্প ভালো থাকে। চুল ধোয়ার জন্য সফট ওয়াটার ব্যবহার করুন।