কলাম

সন্ত্রাসবাদের বিশ্বায়ন ও বাংলাদেশ

মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী শিকদার (অব.)
১১৮৭ সালে তৃতীয় ক্রুসেড, যুদ্ধক্ষেত্র জেরুজালেম। যুদ্ধের একপর্যায়ে মিসরের সুলতান সালাদিন এবং হোলি রোমান সাম্রাজ্যের পোপ দ্বিতীয় আরবানের পক্ষে ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম রিচার্ড মুখোমুখি দ-ায়মান। জয়-পরাজয় তখনো নির্ধারিত হয়নি। কিং রিচার্ড সালাদিনকে উদ্দেশ করে বলছেন, ‘জেরুজালেম আমাদের পবিত্রতম প্রার্থনার জায়গা, একজনের জীবন বেঁচে থাকতেও আমরা জেরুজালেম ছাড়তে পারি না।’ প্রত্যুত্তরে সালাদিন বলেন, জেরুজালেম যেমন আপনাদের, তেমনি আমাদের জন্য পবিত্র স্থান। প্রকৃতপক্ষে আমাদের পবিত্রতার গুরুত্ব আপনাদের চেয়েও বেশি (সূত্র, ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি, আয়ান ক্রফটন, পৃষ্ঠা ৪০)।
আয়ান ক্রফটন উল্লেখ করেছেন, ১০৯৯ সালে প্রথম ক্রুসেডের মাধ্যমে হোলি রোমান সাম্রাজ্য যখন জেরুজালেম দখল করে নেয়, তখন ওই যুদ্ধে মুসলমান ও ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর ধ্বংসযজ্ঞের পরিণতিতে রক্তের স্রোতে ঢেকে গিয়েছিল জেরুজালেমের রাস্তা। আন্তঃধর্মের সহাবস্থানের ওপর সেটি ছিল এক ভয়াবহ সুনামি। তারপর দজলা, ফোরাত, মিসিসিপি আর টেমস নদীর স্রোতধারায় অনেক জল গড়িয়েছে। এ সময়ে আন্তঃধর্ম সংঘর্ষ, একই ধর্মের সেক্টারিয়ান বিভাজনজনিত সংঘর্ষে বিশ্বব্যাপী রক্তক্ষরণের সীমাহীন লেগেসি যেমন সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি অপূর্ব শান্তিময় সহাবস্থানের নজিরও আছে।
বর্তমান ইসলাম ধর্মের শিয়া ও সুন্নি মতাবলম্বীদের মধ্যে যে রকম চরম বৈরিতা লক্ষ্য করা যায়, তারচেয়েও ভয়াবহ বৈরিতার সৃষ্টি হয় খ্রিস্টান ধর্মের ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্টদের মধ্যে। প্রোটেস্ট্যান্ট গ্রুপের উত্থানের আগ পর্যন্ত ইউরোপের সব রাষ্ট্রের ওপর হোলি রোমান সাম্রাজ্যের পোপের সার্বভৌম কর্তৃত্ব ছিল। সব দেশের রাজা ও সম্রাটদের একান্ত আনুগত্য ছিল পোপের প্রতি। প্রত্যেক রাজাই নিজ নিজ দেশের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব চালাতেন এই বলে যে তিনি সরাসরি গড (সৃষ্টিকর্তা) কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে সাম্রাজ্য চালাচ্ছেন। পোপের একান্ত ভক্ত ও সমর্থক ইংল্যান্ডের রাজা পঞ্চম চার্লস কর্তৃক ভিন্নমতাবলম্বীদের যৌক্তিক দাবি প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে ১৫২৯ সালে প্রোটেস্ট্যান্ট গ্রুপের জন্ম ও উত্থান ঘটে। শুরু হয় খ্রিস্টান ধর্মের সেক্টারিয়ান দ্বন্দ্ব-সংঘর্ষ। ১৬১৮ থেকে ১৬৪৮, ৩০ বছর ধরে ভয়ানক সশস্ত্র যুদ্ধ হয় ইউরোপব্যাপী ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্টদের মধ্যে। ইতিহাসবিদরা বলছেন, সেই যুদ্ধের ভয়ংকরতায় ইউরোপ ধ্বংস্তূপে পরিণত হয়। যুদ্ধের একপর্যায়ে খাদ্যের তীব্র অভাবে মানুষ একে অন্যের মাংস পর্যন্ত ভক্ষণ করেছে। ১৬৪৮ সালে দুই পক্ষের চুক্তির মধ্য দিয়ে অবসান ঘটে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের। ইতিহাসে যেটি ওয়েস্টফালিয়া শান্তি চুক্তি নামে পরিচিত। তারপর ইংলিশ রেভল্যুশন (১৭৮৯), আমেরিকান রেভল্যুশন (১৭৭৫-৮৩) এবং ভলতিয়ার (১৬৯৪-১৭৭৪), জনলক (১৬৩২-১৭০৪) ও আইজ্যাক নিউটনের প্রদর্শিত পথ ধরে রেনেসাঁ আন্দোলনের সফলতায় ইউরোপে আলোকিত অধ্যায়ের সূচনা হয়। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা করে নিজ নিজ স্থানে মর্যাদার সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করা হয়। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রদর্শনের প্রবর্তন ঘটে। আন্তঃধর্ম এবং আন্তঃসেক্টারিয়ান সহাবস্থানের যাত্রা শুরু হয়।
ইসলাম ধর্মের ভেতরে সেক্টারিয়ান বিভাজন শুরু থেকে থাকলেও বিংশ শতাব্দীর আগ পর্যন্ত সেটি সীমা লঙ্ঘন করেনি। সীমা লঙ্ঘনের বীজ রোপিত হয় অষ্টাদশ শতাব্দীতে আরবের এক কট্টরপন্থি ধর্মীয় নেতা মুহম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহাবের (১৭০৩-৯২) হাত ধরে। সেটিকে আধুনিককালের সশস্ত্র জিহাদের পর্যায়ে আনেন মিসরের ব্রাদারহুডের প্রতিষ্ঠাতা দুই নেতা হাসান আল বান্না (১৯০৬-৪৯) ও সাঈদ কুতুব (১৯০৬-৬৬)। তাঁরা দুজন মিলে ব্রাদারহুড প্রতিষ্ঠা করেন ১৯২৮ সালে।
ঘটনাপ্রবাহের বিশ্লেষণে এটা স্পষ্ট যে মধ্যযুগ থেকে আজ পর্যন্ত, একাদশ ও দ্বাদশ শতাব্দীর আলোচিত ক্রুসেডসহ ধর্মের নামে যত যুদ্ধবিগ্রহ ও রক্তক্ষয় ঘটেছে, তা সব পক্ষেরই শাসকগোষ্ঠী সেগুলো করেছে সাম্রাজ্য বিস্তার, লুণ্ঠন ও ক্ষমতার জন্য। এর দ্বারা ধর্মের ক্ষতি ছাড়া সামান্যতম উপকার কিছু হয়নি।
সব ধর্ম-বর্ণ-জাতির মধ্যে সবসময়ই একটা উগ্রবাদী গোষ্ঠী ছিল। কিন্তু ১৯৪৮ সালে আরব ভূমিতে হাজার বছর ধরে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের উৎখাত করে ইহুদি ধর্মবাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত আন্তঃধর্ম সহাবস্থানের জায়গাটি মোটামুটি অটুট ছিল। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্রটি যেভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো, তার মধ্য দিয়ে আন্তঃধর্মের সহাবস্থানের প্ল্যাটফরমটির ওপরে একটা প্রলয় ঘটে গেছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর আরব বিশ্বে রাজতন্ত্রের উত্থান, আরব ভূমিতে তেলের আবিষ্কার এবং সেই তেলসম্পদের ওপর পশ্চিমা বিশ্বের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় ক্ষুব্ধ এক শ্রেণির মুসলমানের ভেতর থেকে কট্টর ইসলামিস্টদের উদ্ভব ঘটে। যারা অষ্টাদশ শতাব্দীর ওয়াহাবিবাদ ও একবিংশ শতাব্দীর ব্রাদারহুডের দর্শনের পথ ধরে তাদের মতে, মুসলমানদের ভূমির পবিত্রতা রক্ষায় তথাকথিত খিলাফত প্রতিষ্ঠার নামে জিহাদের ডাক দেয়। বিংশ শতাব্দীর প্রায় শেষ দিক পর্যন্ত পশ্চিমা বিশ্বের পুঁজিবাদ ও কমিউনিস্ট দর্শনের দ্বন্দ্বে ইসলামিস্ট উগ্রবাদী অংশ দুই পক্ষ থেকে সমদূরত্ব বজায় রেখেছে। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর আফগানিস্তানে যুদ্ধরত ইসলামিস্ট জিহাদি গোষ্ঠী বন্দুকের নল ঘুরিয়ে ফেলে। কট্টর ওয়াহাবীবাদী ও ব্রাদারহুড মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ সৌদি বংশোদ্ভূত ক্যারিসমেটিক নেতা ওসামা বিন লাদেন ১৯৯৮ সালে এই মর্মে ফতোয়া দিয়ে বসেন যে, আমেরিকান ও ইহুদিদের হত্যা করা প্রত্যেক মুসলমানের আবশ্যকীয় কর্তব্য (পাকিস্তান বিটুইন মস্ক অ্যান্ড মিলিটারি, হুসেন হাক্কানি, পৃষ্ঠা ৩০৭)। এই ঘোষণার সূত্র ধরে ১৯৯৮ সালে নাইরোবি ও দারুস সালামে আমেরিকার দূতাবাসে ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠীর বোমা হামলা এবং ২০০১ সালে নিউ ইয়র্কের টুইন টাওয়ার ধ্বংসের পথ ধরে ইরাক, লিবিয়া, ইয়েমেন ও সিরিয়ায় যা ঘটেছে, তার প্রত্যক্ষ প্রতিক্রিয়ায় আল-কায়েদা ও তাদের প্রক্সি উগ্র ইসলামি সশস্ত্র গোষ্ঠীর উত্থান এবং বিস্তার ঘটেছে পূর্বে ফিলিপাইন থেকে পশ্চিমে আফ্রিকার মালি পর্যন্ত।
আল-কায়েদার বর্ধিত অংশ হিসেবে আইএস (ইসলামিক স্টেট) ইরাক-সিরিয়ার বিশাল ভূখ- দখল ও নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিজস্ব স্টাইলের রাষ্ট্র ঘোষণার মধ্য দিয়ে আগুনে ঘি ঢালার মতো ঘটনা ঘটায়। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকাসহ এশিয়া-আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে উদ্বুদ্ধ ও উত্তেজিত হয়ে শত শত মুসলিম যুবক-যুবতী আইএসের পক্ষে যুদ্ধ করার জন্য তথাকথিত খিলাফতে যোগ দেয়। একই সময়ে আইএস-আল-কায়েদার মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ কিছু ব্যক্তি ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন স্থানে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর নৃশংস হত্যাকা- চালায়। ওই সব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাপী অন্যান্য ধর্মাবলম্বী, বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গ খ্রিস্টানদের ভেতরে মুসলমানদের বিরুদ্ধে এক ধরনের বিদ্বেষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দেখা যায়, আইএস নামের ক্রেজ বা পাগলামি এবং বিশ্বব্যাপী সংঘটিত রক্তাক্ত ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপ-উত্তর আমেরিকায় শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদে বিশ্বাসী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর মনে ধারণা জন্মে, কমিউনিস্ট শত্রুকে তারা পরাজিত করেছে বটে; কিন্তু নতুন করে পশ্চিমা মূল্যবোধের জন্য হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ইসলামিস্ট জঙ্গিগোষ্ঠী।
এ কথার বিপরীতে এটাও ঠিক যে মুসলিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে আমেরিকাসহ পশ্চিমা বিশ্বের দীর্ঘস্থায়ী সীমাহীন অবিচার ও অন্যায় আচরণের পরিণতিতে উগ্রবাদের উত্থান এবং বিস্তারের সুযোগ ঘটেছে। সুতরাং শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদ এবং ইসলামিস্ট উগ্র জঙ্গিবাদ একটি অন্যটির বিপরীত ও পারস্পরিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি। তাই ১৫ মার্চ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে নামাজরত মুসলমানদের ওপর বর্বরোচিত আক্রমণ এবং তাতে ৫১ জন নিরীহ মানুষের প্রাণহানি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলাকারী ব্রেন্টন টারান্ট তার ৭৪ পৃষ্ঠার ঘোষণাপত্রে যা বলেছে, তার সারমর্ম করলে দাঁড়ায়, অভিবাসী এবং মুসলমানরাই পশ্চিমা বিশ্বের শত্রু।
টারান্ট স্পষ্ট করে বলেছে, ইসলামিস্ট জঙ্গি সন্ত্রাসী কর্তৃক ইউরোপে যেসব আক্রমণ হয়েছে তার প্রতিশোধ নিতেই সে ওই মসজিদে আক্রমণ চালিয়েছে। টারান্টের ভাষা ও ইসলামিস্ট জঙ্গিদের ভাষা এক ও অভিন্ন, শুধু একটি অন্যটির বিপরীত। এর একটা বিশ্বাসযোগ্য সমাধান না হলে উভয় পক্ষের নিরীহ মানুষের প্রাণ যাবে অকাতরে।
২১ এপ্রিল ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কার গির্জা ও হোটেলে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনাকে অনেকেই ক্রাইস্টচার্চের প্রতিশোধ ও পাল্টা আঘাত বলার চেষ্টা করছে। তবে ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টা নীরব থেকে আইএসের রহস্যজনক দায় স্বীকার এবং শ্রীলঙ্কার একেবারে সংখ্যালঘু খ্রিস্টান, যারা কখনও মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি, কার্যকলাপও করেনি, তাদের ওপর আইএস বা তার পক্ষে অন্য কোনো ইসলামিস্ট জঙ্গি সংগঠন এত বড় বিশাল ডাইমেনশনের আক্রমণ চালানোর যৌক্তিকতা নিয়ে বিশ্বের বড় বড় নিরাপত্তা বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছেন। সেই প্রশ্নের উত্তর অমীমাংসিত রেখে বলতে হয়, যেভাবে প্রচার-প্রপাগান্ডা চলছে, তাতে ইসলামিস্ট ও শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী জঙ্গিগোষ্ঠী, উভয় পক্ষই নতুন করে কোমর বাঁধবে, কে কখন কোথায় কার ওপর আক্রমণ চালাবে।
আরেকটি সঙ্গত প্রশ্ন উঠেছে, তা হলো যেসব ইসলামিস্ট জঙ্গিকে আক্রমণের প্রথম সারিতে দেখা যাচ্ছে তারাই কি মূল, নাকি এর মূলে রয়েছে বৃহৎ কোনো শক্তি, যারা ইসলামিস্ট জঙ্গিদের ব্যবহার করছে তাদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের জন্য। এর উদাহরণ তো অনেক।
তবে যা-ই হোক না কেন, এর শেষ তো দেখা যাচ্ছো, বরং প্রতিনিয়তই হুমকি আসছে। এর কোনটি আসল আর কোনটি নকল, তা নির্ণয় করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। সুতরাং আতঙ্ক থেকে কারো রক্ষা নেই।
এরই মধ্যে টাইমস অব ইন্ডিয়া পত্রিকায় একটা খবর বেরিয়েছে এই মর্মে, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) বাংলাদেশ ও ভারতে হামলার পরিকল্পনা করছে। টেলিগ্রাম নামের একটি মেসেজিং অ্যাপে প্রকাশিত পোস্টারে বাংলায় লেখা হয়েছে, ‘শিগগিরই আসছি ইনশাআল্লাহ’। এই খবরের সত্য-মিথ্যা নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নের মৌলিক নীতি অনুসারে বলে রাখছি, কোনো বার্তা, ইঙ্গিত ও আলামতকে ছোট করে দেখা যাবে না। কিন্তু বাংলাদেশে ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাইরের কিছু বৃহৎ শক্তি এবং তার সঙ্গে কোরাস মিলিয়ে বাংলাদেশের কিছু পক্ষ ও গোষ্ঠী উঠেপড়ে লেগেছিল, যাতে তারা প্রতিষ্ঠিত করতে পারে বাংলাদেশে আইএস আছে। এর পেছনে কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে তা নিয়ে ওই সময়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে, আমিও লিখেছি।
বৈশ্বিক জঙ্গিবাদের প্রভাবের বাইরে নয় বাংলাদেশ। কিন্তু ওই সময়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জঙ্গিদের হামলা নিয়ে বিস্তারিত মূল্যায়নে দেখা গেছে, সেগুলো হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে, যা একান্তই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং তার বৈশিষ্ট্যের মধ্যে আইএসের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তবে সর্বশেষ টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবর সম্পর্কে অনেক নিরাপত্তা বিশ্লেষকের মত হলো ‘জঙ্গিরা প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে। এটাই শেষ কথা’।
বৈশ্বিক জঙ্গিবাদের মূলোৎপাটন করা না গেলে, সেটি ইসলামিস্ট বা শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী হোক, কোনো দেশই তার হুমকি থেকে নিরাপদ নয়। এসব অপশক্তির কবল থেকে মুক্তি পেতে হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, সংস্থা এবং বিশ্বের বৃহৎ শক্তিগুলোকে একমঞ্চে উঠে, ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থকে পাশে রেখে মানবসভ্যতাকে বাঁচানোর জন্য আন্তঃধর্ম সহাবস্থানের জায়গাটিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
লেখক: রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক