সাহিত্য

জীবনের গল্প

মো. হারুন অর রশিদ
(পূর্ব প্রকাশের পর)
-ঠিক আছে তোকে দেখাবো। তুই ওর গার্ডিয়ানদের সাথে কথা বলে দেখবি, কথা দে।
-ওকে, আগে তোর উর্বশিকে দেখা তো, তারপর যা করার আমি করবো।
এক বিকেলে জামান বিবির পুকুরপাড়ে কয়েক বন্ধুসহ আড্ডা দিচ্ছিলো, সেখানে নিশানও ছিলো। তারপর দেখলো সেই মেয়েটি আর একটি মেয়ের সাথে রিকশা থেকে নেমে একটা ফাস্ট ফুডের দোকানে ঢুকলো। জামান নিশানকে ইঙ্গিত করে মেয়েটাকে দেখালো। নিশান দেখে বললো:
-আরে ও তো আমাদের মহল্লায় থাকে; তালুকদার বাড়ির শিরিন। ওকে তো আমি চিনি। ওর বাবার সাথে আমার বেশ ভালো সম্পর্ক। ওকে দোস্ত, ডোন্ট ওরি! আই উইল ম্যানেজ ইট।
-থ্যাংক ইউ দোস্ত, তুই দেখ আমি সরাসরি বিয়ে করতে চাই। তুই গার্ডিয়ানদের সাথে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে দেখ আমি আর বিলম্ব করতে চাই না।
তারপর নিশানের ঘটকালিতে বেশ ধুমধামের সাথে জামান আর শিরিনের বিয়ে হয়ে যায়। জামানের বাসা নাজির মহল্লায় আলেকান্দা থেকে বেশ কাছেই। ওদের বিয়েতে বেশ আনন্দ-ফূর্তি হয়। ওর বন্ধুরা বেশ খুশি। এতদিনে জামানের সুমতি হলো বিয়ে করে সংসারি হওয়ার। গ্রাম থেকে সব আত্মীয়স্বজন এসে ওর বিয়েতে অংশ নেয়। সবাই বেশ খুশি। জামানের শুভ কামনা করে সবাই।
বিয়ের পর শিরিনকে কাছে পেয়ে জামান খুব খুশি। বাসর রাতে বধুবেশে শিরিন বসে আছে। জামান যখন বরবেশে বাসর ঘরে আসে তখন শিরিনের বড় ঘোমটা খুলে অপলক নয়নে মুগ্ধ হয়ে চেয়ে থাকে। শিরিন খুব লজ্জা পেয়ে চোখ বন্ধ করে থাকে। জামান শিরিনের চিবুকটা উচু করে ধরে বলে,
-এখন কি আপনার নামটা বলা যাবে ম্যাডাম?
-জ্বি না। আপনি আজব মানুষ। অবশেষে আমাকে জয় করেই ছাড়লেন।
-প্লিজ, আজ আর আপনি নয়, তুমি করে বলতে হবে।
-আমার লজ্জা করছে। আমি বিশ্বাস করতে পারছি না আমার জীবনটা আপনি কিভাবে দখল করে নিলেন।
-যেদিন সুমন ফার্মেসিতে বসে তোমার ওই চোখে চোখ রেখেছিলাম সেদিনই তোমাকে আমার ভালো লেগেছিলো। তারপর থেকেই তোমাকে আস্তে আস্তে ভালোবেসে ফেলেছি। তাই তোমার পেছনে পাগলের মতো ছুটেছি। আমার উদ্দেশ্য ছিলো জীবনে বিয়ের পরই প্রেম করবো তাই সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব করেছি তোমাকে কাছে পেয়েছি। এখন আমরা চুটিয়ে প্রেম করবো।
তারপর জামান ওর এতদিনের ভালোবাসাকে বাস্তবে রূপ দিতে শিরিনকে ওর বাহুবন্ধনে আবদ্ধ করে, বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরে দু’জনের কোমল ওষ্ঠে ওষ্ঠ মিলিত হয়।
বিয়ের পর জামানের সংসারে অনাবিল সুখের সাগরে স্বর্গ রচনা করে। আনন্দ উচ্ছ্বাসে কেটে যায় দিনগুলো। ভালোবাসার বন্ধনে কেটে যেতে থাকে ওদের সুখের মুহূর্তগুলো। সুখ ও স্বাচ্ছন্দের মধ্যে দিয়ে কেটে যায় ৩টা বছর। কিন্তু একটা জায়গায় ওদের সংসারে একটা অভাব, একটা জিনিস অপূর্ণ থেকে যায় তা হলো ওদের ঘর আলো করে একটা সন্তান এখনও আসেনি। দুই বছর ওরা কোন সন্তান চায়নি, কিন্তু দুই বছর পর থেকে ওদের ঘরে একটা নতুন অতিথির প্রত্যাশা বেড়ে যায়, ঘরটা যেন কেমন খাঁ খাঁ করে। শিরিন আর জামান দু’জনের হৃদয়ে একটা বুভুক্ষ কামনা ওদের ঘর আলো করে একটা ফুটফুটে সন্তান ওদের সামনে ঘুরে বেড়াবে।
ওরা চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে ডাক্তারের নির্দেশিত নিয়মমতো চলে; কিন্তু কোনো কাজ হয় না। জামানের মা-বাবার বাসনা তাদের একটা নাতি বা নাতনি, যাই হোক দেখে যাওয়া। কিন্তু সে আশা অপূর্ণ থেকে যায়। তাই তারাও তাদের মনের আশা মিটানোর জন্য গ্রাম্য কবিরাজ টোটকা চিকিৎসা অব্যাহত রাখে। শিরিনের হাতে গলায় বেশ কয়েকটা তাবিজ শোভা পায় কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না।
সুখের পরে দুঃখ আর দুঃখের পরে সুখ এটা যেন চিরন্তন রীতি। উত্থান-পতন মানুষের জীবনে আবধারিত। কথায় আছে, ‘আজকে রাজা কালকে ফকির।’ দুইদিন আগেও যে দল ক্ষমতার শিখরে অধিষ্ঠিত ছিলো, পালা বদলের যাঁতাকলে পড়ে সেই দল আবার ক্ষমতার বাইরে। সবকিছু যেন হাতছাড়া হয়ে যায়। দুইদিন পূর্বে যে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি আজ বিরোধী দলের নেত্রী। ঠিক সেইভাবে জামানের জীবনেও পতনের পূর্বাভাস শুরু হয়। সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে ওদের ব্যবসায়ও ধস নামতে শুরু করে। কারণ যখন যে সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় তখন সেই সরকারের কর্মী কিংবা ব্যবসায়ীদের ক্ষমতার দাপটে ব্যবসার দাপটও অব্যাহত থাকে। ঠিকাদারী ব্যবসাতেও তার প্রভাব পড়ে। কোনো কাজই বিরোধী দলের লোকের ভাগ্যে জোটে না। সরকারি দলের লোকজনকেই কাজ দিয়ে নেতারাও টু পাইস কামানোর ধান্ধায় থাকেন। জামানদের দল যেহেতু বিরোধী ঘরানার তাই লোয়েস্ট রেটে কোটেশন করেও কোনো টেন্ডার ওদের ভাগ্যে জোটে না। আবার যে সব কাজ করেছে তার বিল পাস করাতে পারছে না রড, সিমেন্ট ও আনুষঙ্গিক পণ্যের সাপ্লায়ারদের পাওনা টাকা দিতে গিয়ে হিমসিম খেতে হয়। তাই জমানো পুঁজি ভেঙে খরচ করে দেনা শোধ আর সংসার খরচ নির্বাহ করতে থাকে। সংসারে অভাব অনটন দেখা দেয়। ইতোমধ্যে ওদের সংসারে নতুন অতিথির আগমন ঘটে। এতো সমস্যার মাঝে এক বিশাল আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে ওদের সংসারে ওর স্ত্রী সন্তানসম্ভবা। আল্লাহ যেন ওদের দিকে মুখ তুলে চাইলেন। তাই অনেক প্রতীক্ষার পর ওদের ঘর আলো করে একটা ফুটফুটে ছেলে জন্ম নেয়। জামান-শিরিন দম্পতি মহাখুশি, তেমনি ওদের বাবা-মাও আনন্দিত। এতদিনে ওদের মনের বাসনা পূর্ণ হয়েছে, আল্লাহপাক ওদের ডাক শুনেছেন। ওদের সংসারে শান্তির নহর বয়ে যায় সুখের বাতাস প্রবাহিত হয়। বেশ ধুমধাম করে আত্মীয়স্বজনদের আবার দাওয়াত করে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে ৬ দিনের দিন অনুষ্ঠান করে সন্তানের নাম রাখে কামরুল হাসান।
দেশের পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে খারাপের দিকে যেতে থাকে। কারণ, বিরোধী দলের আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। নরমাল জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, জনসাধারণের নাভিশ্বাস শুরু হয়ে যায়। একদিকে উন্নয়নমূলক কাজকর্ম হচ্ছে না বলেই চলে, তারপরও যৎসামান্য কাজ হচ্ছে সেখানেও সরকারি দলের লোকজন বাগিয়ে নিচ্ছে। জামানদের ভাগ্যে কিছুই জুটছে না। জামানের অনেক টাকা আটকে আছে বিল পাস করাতে অনেকখানে ঘুষ দিয়েও টাকা পাচ্ছে না। এদিকে জমানো টাকায় চলতে চলতে তাও শেষ হয়ে যায় চেনা বন্ধুমহল ও আত্মীয় পরিজনদের কাছ হতে হাওলাত করেও চলতে হচ্ছে। ছোট বাচ্চা বুকের দুধ পাচ্ছে না। তাই ডাক্তারের পরামর্শমতে, ল্যাকটোজেন হাফ ক্রিম কিনে খাওয়াতে হচ্ছে, তাতে প্রচুর টাকা খরচ করতে হয়। একদিকে সংসারে অভাব-অনটন চলছে, অন্যদিকে বিল তোলার জন্য ঢাকার বিভিন্ন অফিসের কর্তাদের উৎকোচের টাকার জোগান দিতে হচ্ছে। ওর সোনার সংসারে কেমন যেন এক অস্থিরতা বিরাজ করতে থাকে, দিনের পর দিন জামানের মনে নানা রকম ঝড় বইতে থাকে। শুধু ঢাকা বরিশাল করতে করতে ওর খরচ আরও বেড়ে যায়। ওর কোনো বিল এবং পাওনা টাকা পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা যায় না; শুধু সময়ক্ষেপণ হচ্ছে মাত্র।
জামানের সংসারের দুরবস্থা দিনের পর দিন আরও করুণ হতে থাকে। অনেক সময় লাজলজ্জার মাথা খেয়ে একজনের কাছে হাত পেতে ধার-দেনা করে সংসারের ব্যয় বহন করছে। কিন্তু সবসময় তাও সম্ভব হয় না। লজ্জায় কারো কাছে বারবার লোন চাওয়া সম্ভব হয় না, আবার কেউ ইচ্ছা করেও ওকে এড়িয়ে যায়। টাকা থাকতেও যখন জামান ধার চায় তখন মুখের উপর নাই বলে ওকে ফিরিয়ে দেয়। ওর এই বিপদ মুহূর্তে অনেকেই ওকে অ্যাভয়েড করে এমনকি ওর নিকট আত্মীয়রা পর্যন্ত ওকে এই অসময়ে কোনো সাহায্য সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসে না। শ্বশুর বাড়ির লোকজন ওকে দেখলে না দেখার ভান করে অন্য পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কেউ ওকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসে না। কথায় বলে, ‘বিপদেই বন্ধুর পরিচয়।’ একসময় ওর চার পাশে কত বন্ধু গিজ গিজ করতো সবসময়ই। জামান উদার হস্ত ছিলো খরচের ব্যাপারে। বন্ধুবান্ধব নিয়ে আড্ডা দিতে তাদের নিয়ে হইচৈই করতে খুব ভালো বাসতো। খরচের ব্যাপারে কখনো কার্পণ্য করেনি জামান। সেই জামানের এই বিপদের দিনে অনেক নিকটজন পর হয়ে যায়। স্বার্থের টানে অনেকেই দূরে সরে যায়। জ্ঞানী জনের উপদেশ বাণীতে বলেছেন, ৩টা জিনিস সহজেই চেনা যায় তাহলো Ñ ১. বিপদের সময় বন্ধুকে চেনা যায়। ২. অভাবের সময় স্ত্রীকে চেনা যায়। ৩. বৃদ্ধ বয়সে সন্তানকে চেনা যায়। যা চিরন্তন সত্য সম্পূর্ণ বাস্তব ঘটনা। জামান আজ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে বাস্তবতা কত কঠিন। তবে ওর বুদ্ধিমতি স্ত্রী শিরিন ওকে এই সময় সাহস জোগায় পাশে থেকে ওকে সান্ত¡না দেয় যোগ্য স্ত্রীর মতো।
দেখতে দেখতে বাচ্চার বয়স ৬ মাস হয়ে যায়। দেখতে যেন একটা টুকটুকে ডল পুতুল। টানা টানা চোখ মায়াবী চেহারা এতো সুন্দর এঞ্জেলসকে দেখে, ওর হাসি দেখে ওকে যে কেউ কোলে না নিয়ে থাকতে পারে না। বাইরের থেকে জামান যখনই বাসায় ফিরে আসে তখন যে কারো কোলে থাকলেও হুমড়ি খেয়ে বাবার কোলে আসার জন্য হাত দুটো বাড়িয়ে দেবেই। জামানও ছেলেকে বুকের মাঝে না নিতে পারলে স্বস্তি পায় না। রাতে ছেলেকে জামানের বুকের ওপর উপুড় করে শুইয়ে কিছুক্ষণ খেলা না করলে ওর ঘুমই আসে না। রাতে ওদের মাঝখানে বাবুকে শুইয়ে কোলের কাছে না নিয়ে শুলে জামানের ঘুম আসে না। আগে যেমন শিরিনকে জড়িয়ে ধরে না শুলে জামানের ঘুম আসতো না। আর এখন অভ্যাস কত পাল্টে গেছে। মানুষের ধাপে ধাপে সবকিছু কত সহজেই পরিবর্তন এসে যায়। দূরে গেলে মানুষ এক সময় বাবা-মা-ভাই-বোনের জন্য বেশি মন খারাপ করে, তাদের জন্য চিন্তা করে বেশি। তারপর বিয়ের পর আরও খারাপ লাগে প্রিয়তমা স্ত্রীর জন্য তারপর সন্তান জন্মের পর শুরু হয় সন্তানের জন্য ভালোবাসা, তার প্রতি টান বেড়ে যায়। এটাই দুনিয়ার নিয়ম যুগে যুগে পিতা-পুত্রের মধ্যে যে মধুর সম্পর্ক তা যেন এক স্বর্গীয় অনুভূতি। জামান তার গ্রামের বাড়ি বরিশাল শহরে থেকে লেখাপড়া করতো। তখন মা খুব দুশ্চিন্তা করতো। মা ওকে দেখে বলতো,
-বাবা তুমি কত হুকায়ে গ্যাছো খাওয়া-দাওয়া বুজি ঠিকমতো হরো না ।
-না মা, আমি কোই শুকাইছি। তুমি হুদাই মোর জন্যি চিন্তা করো।
-আমি যে কেন চিন্তা হরি, তা তুমি অখন বুঝবা না বাবা, যহন তোমার ছাওয়াল মিযা অবে তহন বুঝবা সন্তানের জন্যি বাবা-মায়ের মন কেমন হরে।
এখন জামান মায়ের সেই কথাগুলোর মর্ম হৃদয় দিয়ে অনুধাবন করে। ও বোঝে সন্তান বাবা-মায়ের কলিজার টুকরো। সন্তানের গায়ে ব্যথা লাগলে তা যেন প্রতিঘাত হয়ে বাবা-মার গায়ে ফিরে আসে।
সন্তান যখন পৃথিবীতে আসে তখন সংসারে স্বর্গীয় সুখ ফিরে আসে। রাতে বাবু যখন হিসু করে ওর গা ভাসিয়ে দেয় তখন ওর স্ত্রী শিরিন হয়ত আরামে ঘুমাচ্ছে। তাই তাকে আর ঘুম না ভাঙিয়ে জামান ওর কাঁথা পাল্টিয়ে নিজের পরিধেয় কাপড়ও পাল্টায়। যখন ঢাকায় কিংবা মফস্বলে সাইটে কাজের জন্য যায় তখন রাতে আর ঘুম আসে না জামানের। সন্তানের কণ্ঠের আওয়াজ না শুনলে ও স্বস্তিতে ঘুমাতে পারে না। তাই স্ত্রীকে গেস্টহাউজ থেকে ট্রাঙ্কল বুক করে, লাইন পেতে অনেক সময় লেগে যায়। অবশেষে ফোনে কথা হয় শিরিনকে বাবুর মুখের কাছে ফোনের রিসিভার ধরতে বলে, বাবুর মুখের শব্দ শুনতে চায় মনে হয় যেন বাবুর সাথে কথা বলছে। বাবুও যেন তার কথার উত্তর দিচ্ছে তাই হাই, হুই করে কথা বলে তবেই মনে শান্তি পায় জামান। প্রসঙ্গত সে সময় এখনকার মতো মোবাইল ফোনের এত প্রচলন ছিলো না; যার ফলে যখন তখন কথা বলা সম্ভব ছিলো না। বাসায় ল্যান্ড ফোন ছিলো ঠিকই কিন্তু তাও টিঅ্যান্ডটির ওপর নির্ভরশীল। ট্রাঙ্কল করে অপেক্ষা করতে হতো আধা ঘণ্টার আগে লাইন পাওয়া অসম্ভব ছিলো।
জামান একটা বিলের তদবির করতে ঢাকায় এসেছে আজ তিনদিন। এ টেবিল সে টেবিল করতে করতে কেটে যাচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। জামানের হাতের অবস্থা এমন হয়েছে চলার মতো কোনো টাকা-পয়সা নেই, সংসার চালানো খুব কষ্টকর হয়ে পরেছে। তাই যে করেই হোক অন্তত একটা বিল পাস করাতে পারলে কিছু দায় দেনা শোধ করে নিজেও চলতে পারতো। পাওনাদাররা চাপ দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাদের খারাপ কথা শুনতে খুব কষ্ট লাগে। কন্ট্রাকটারী ব্যবসাই এই রকম সে আগে খরচ করে কাজ কমপ্লিট করেছে তার পাওনা আছে লক্ষ লক্ষ টাকা সরকারের ঘরে আর ওর সংসার চালাতে কত কষ্ট করতে হচ্ছে। জীবনটা নিয়ে যেন কেমন এক হতাশার মাঝে দিন কাটাতে হচ্ছে। ওর স্ত্রী যথেষ্ট ধৈর্যের সাথে সংসারের হাল ধরে স্বামীকে ছায়ার মতো অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছে। দুঃখের সময় ওর স্ত্রী যেভাবে ওকে সান্ত¡না দিয়ে সেবা দিয়ে সুস্থ রাখার চেষ্টা করছে। ঢাকায় গেস্টহাউজের বিছানায় শুয়ে এই সব দুশ্চিন্তা করতে করতে জামানের চোখে আর ঘুম আসে না, সমস্ত রাত নির্ঘুম কেটে যায়। সারা রাত ছটফট করেছে কখন সকাল হবে বাড়ির খবর নেবে। সকালে উঠে প্রথমে স্ত্রীকে ফোন দেয়।
Ñ(চলবে)