রাজনীতি

বিএনপির যোগদানে পূর্ণতা পেল সংসদ: এবার আলোচনা ‘মুক্তি পাবেন কি খালেদা জিয়া?’

নিজস্ব প্রতিবেদক : শেষ মুহূর্তে বিএনপি সংসদে যোগ দেয়ার কারণে পূর্ণতা পেল একাদশ জাতীয় সংসদ। যদিও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে না যাওয়ার পক্ষে ছিল বিএনপি। তবে শেষ মুহূর্তে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিএনপি। এ ধরনের প্রবণতার ধারাবাহিকতায় বিএনপির নির্বাচিত সাংসদরা সংসদ বর্জনের ঘোষণা দিলেও রহস্যজনক কারণে নানা নাটকীয়তার পর শেষ মুহূর্তে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাদে বিএনপির বাকি সদস্যরা গত ২৯ এপ্রিল শপথ নিয়ে সংসদে যোগদান করেন। এতে সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ এবং সংসদে সকল দলের অংশগ্রহণে এবারকার সংসদ অবশেষে পূর্ণতা পেল।
বিএনপি সংসদে গেলেও দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আইনি জটিলতায় এখনও কারাগারে রয়েছেন। তবে রাজনৈতিক অঙ্গণে সরব আলোচনা রয়েছে যে, সরকারের সাথে পর্দার অন্তরালে গোপন সমঝোতার কারণেই বিএনপি সংসদে গেছে এবং সমঝোতার মূল শর্তই হচ্ছে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সহসা মুক্তি পাচ্ছেন। যদিও বিএনপি ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো নেতা সমঝোতার কথাটি স্বীকার করছেন না। কিন্তু বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মনে এখনও বিরাট প্রশ্ন, খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন তো? আবার মুক্তি পেলেও তা কি জামিনে নাকি প্যারোলে?
জানা যায়, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় হওয়ার পর আরও ৩৬টি মামলা রয়েছে। বিচারিক আদালতে নাইকো, গ্যাটকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা ৩টির বিচারকাজ চলছে। এছাড়া আরও ১১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আর হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত রয়েছে ২৩ মামলা। এদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালত ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টের দন্ডের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া আপিল করেছেন। জামিনে মুক্তি পেতে হলে অবশ্যই এ দুটি মামলায় তাকে জামিন পেতে হবে। যদিও অন্য ৩৫টি মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে তার সবই আইনিভাবে মোকাবিলা করতে হবে। সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহম্মেদসহ অন্যান্য আইনজীবী এমনই মনে করছেন। অন্যদিকে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা বলেছেন, সরকার হস্তক্ষেপ না করলে খালেদা জিয়া সহসা মুক্তি পাবেন।
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ভোটে জেতার প্রায় ৪ মাস পর সংসদে যোগ দিল বিএনপি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র ৬ জন জিতে জানিয়েছিলেন শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত। প্রায় ৪ মাস পর নির্বাচিত ৬ জন সাংসদের মধ্যে ৫ জন শপথ নিয়েছেন। একমাত্র বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেননি। ফখরুল নিজেও জানিয়েছেন রাজনৈতিক কৌশল ও দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি শপথ
নেননি।
২৯ এপ্রিল বিকেলে দল থেকে নির্বাচিত ৪ জন সংসদ সদস্য শপথ নিয়ে রাতে সংসদ অধিবেশনেও যোগ দেন। বিএনপি থেকে নির্বাচিত ৫ জন সংসদ সদস্য হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উকিল আবদুস সাত্তার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের হারুনুর রশীদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের আমিনুল ইসলাম, বগুড়া-৪ আসনের মোশাররফ হোসেন এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমান। ৪ জনের আগেই শপথ নেন জাহিদুর রহমান। এরপর তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এখন তার বহিষ্কারের আদেশ প্রত্যাহারের কথা বলেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এই ৫ জনের যোগ দেয়ার মধ্য দিয়ে আইনসভায় ৫ বছর পর ফিরল বিএনপি। ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জনের পর দশম জাতীয় সংসদে থাকার সুযোগ হয়নি দলটির। এছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে বিএনপি থেকে বিজয়ী হয়েছেন ৬ জন। শপথগ্রহণের আগে সংসদ ভবনের বাইরের গেটে হারুনুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা শপথ নিতে যাচ্ছি।’ পরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শপথ গ্রহণ করেছে বিএনপি। সংসদে সীমিত পরিসরে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্রের জন্য কথা বলার জন্য শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
রাজনীতিতে বিএনপির এই ইউটার্নকে সরকারি দলের সঙ্গে সমঝোতারই ইঙ্গিত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সবকিছু মিলে বিএনপির সংসদ সদস্যরা যোগ দেয়ায় জাতীয় সংসদ পূর্ণতা পেয়েছে – এটিই এখন বাস্তবতা।
সরকারের সঙ্গে অলিখিত সমঝোতা হলে জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতি মামলায় আপিল ও হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেই খালেদা জিয়ার মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহম্মেদ বলেন, সব মামলায় খালেদা জিয়াকে জামিন নিতে হবে। সহজে মুক্তি পাওয়ার পথ দেখছি না। মুক্তি পেতে হলে কয়েকটি আইনি ধাপ পেরুতে হবে। যেসব মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে সেগুলো থেকে জামিনের আবেদন করতে হবে। কারাগার থেকে ওকালতনামা স্বাক্ষরের পর সংশ্লিষ্ট আদালতে জামিনের আবেদন করতে হবে। সেখানে জামিনের আবেদন নামঞ্জুর হলে পুনরায় হাইকোর্টে আসতে হবে। তারপরও আপিল বিভাগ রয়েছে। কাজেই শিগগিরই তিনি মুক্তি পাচ্ছেন না।
প্রায় একই ধরনের মন্তব্য করলেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ড. মোমতাজ উদ্দিন মেহেদী। তিনি বলেন, খালেদা শিগগিরই মুক্তি পাবেন বলে মনে হচ্ছে না। মুক্তি পাওয়ার কোনো কারণ আছে বলে মনে করি না। তাকে (খালেদা জিয়া) সব মামলাই মোকাবিলা করতে হবে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, রাষ্ট্রদ্রোহ, হত্যা, ইতিহাস বিকৃতি, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি, ভুয়া জন্মদিনসহ পাহাড়সম মামলা রয়েছে। এগুলোকে আইনিভাবে মোকাবিলা করতে হবে।
এদিকে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা বলেছেন, সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে খালেদা জিয়া মুক্তি পাননি। আইন নিজস্ব গতিতে চলছে না এবং সরকার যদি হস্তক্ষেপ না করে তা হলে এই দুটি মামলায় জামিন হলে তিনি জেলখানা থেকে বেরিয়ে আসবেন। অন্যদিকে দুদকের আইনজীবী বলেছেন, খালেদা জিয়ার আইনজীবী বাজে কথা বলছেন। মামলা দুদকের। এখানে সরকারের হস্তক্ষেপ করার কিছু নেই। দুই মাসের মধ্যে জিয়া চ্যারিটেবল মামলার নথি নিম্ন আদালত থেকে আসবে। এরপর মেনশন করবে। আমরা প্রস্তুত। জামিনের আইনি মোকাবিলায় প্রস্তুত।
গত ১৪ মার্চ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালাস চেয়ে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেছেন খালেদা জিয়া। এ মামলায় হাইকোর্ট তাকে ১০ বছরের কারাদ- দিয়েছে। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি জানান, আবেদনে খালাসের পাশাপাশি খালেদা জিয়ার জামিনও চাওয়া হয়েছে। গত বছরের ৩০ অক্টোবর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়াকে ১০ বছর কারাদ- দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। একইসঙ্গে ৫ বছরের দ- থেকে খালাস চেয়ে খালেদা জিয়ার করা আপিল খারিজ করে দেয় আদালত। এছাড়া ১০ বছরের দ- থেকে খালাস চেয়ে মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে কাজী কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের আপিল খারিজ করে আদালত। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় গত বছরের ৮ ফেব্র“য়ারি খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদ- দেয় রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত অস্থায়ী পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত।
অন্যদিকে ৩০ এপ্রিল জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৭ বছরের কারাদ- থেকে খালাস চেয়ে খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে নিম্ন আদালতের দেয়া ১০ লাখ টাকা যে অর্থদ- দিয়েছিল তা স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি নিম্ন আদালত থেকে এই মামলার নথি তলব করা হয়েছে। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কুদ্দুস জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর নিম্ন আদালতের ৭ বছরের সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল আবেদনটি জমা দেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, মুক্তির বিষয়টি সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। আমরা একটায় জামিন নেবো, সরকার এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাবে, আবার নতুন মামলা দিবে। তাদের কাজই হলো সময়ক্ষেপণ করা।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা ছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরও ৩৬টি মামলা রয়েছে। সম্প্রতি আরও দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা জামিনযোগ্য।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া গত বছরের ১২ মার্চ মুক্তি পেতে পারতেন। হাইকোর্ট থেকে জামিন দেয়া হয়েছিল। সরকারের হস্তক্ষেপে মুক্তি পাননি। আইন নিজস্ব গতিতে চললে এবং সরকার যদি কোনোরূপ হস্তক্ষেপ না করে তা হলে খালেদা জিয়ার এই দুটি মামলায় (জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা) জামিন হলে জেলখানা থেকে বেরিয়ে আসবেন।
জানা গেছে, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৮টি মামলার মধ্যে এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ৪টি এবং আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১০ বছরে দায়ের হয় ৩৪টি মামলা। তবে কয়েকটি ছাড়া সব মামলাতেই জামিনে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এখন মুক্তির জন্য জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় জামিন নিতে হবে খালেদা জিয়াকে। অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালত খালেদা জিয়াকে ৫ বছর সাজা দিয়েছিলেন। তবে হাইকোর্টে খালাস চেয়ে আবেদন করলে তার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়। এরপর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়, সেইসঙ্গে জামিনও চাওয়া হয় এ মামলায়। আর চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালত ৭ বছরের সাজা দিয়েছেন খালেদা জিয়াকে। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে এ মামলা। এর বাইরে সম্প্রতি কুমিল্লার হত্যামামলায় জামিন হয়েছে খালেদা জিয়ার। যদিও এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। আর দুটি মামলায় সম্প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে বিচারিক আদালত।
অন্য মামলাগুলোর মধ্যে মূলত রাষ্ট্রদ্রোহ, হত্যা, ইতিহাস বিকৃতি, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি, ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে এসব মামলা হয়। ২৫টি মামলা হয়েছে ঢাকায়। কুমিল্লায় ৩টি এবং পঞ্চগড় ও নড়াইলে ১টি করে মামলা হয়েছে। নাশকতা ও বাসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যার অভিযোগে কুমিল্লার আদালতে ২টি মামলা রয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানহানির অভিযোগে করা ১টি মামলা বর্তমানে স্থগিত। নড়াইলে মানহানির অভিযোগে ১টি মামলা রয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মানচিত্র ও জাতীয় পতাকাকে অবমাননার অভিযোগে ঢাকার আদালতে ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর মানহানির মামলা করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী। ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট সাংবাদিক গাজী জহিরুল ইসলাম মামলা করেন। ২০১৪-১৫ সালে বিএনপিসহ ২০ দলের ডাকা হরতাল-অবরোধের সময় বাসে আগুন, ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ, মানুষ হত্যাসহ বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনায় ঢাকায় করা ১০টি মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
তবে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মী এবং দেশের সাধারণ মানুষ মনে করে, প্রকৃতপক্ষে সরকারের সাথে সমঝোতার কারণে বিএনপি একাদশ সংসদ নির্বাচনকে বৈধতা দিলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অবশ্যই কারামুক্ত হবেন; যা কেবল সময়ের অপেক্ষামাত্র।