কলাম

সরকারের নানামুখী উদ্যোগের ফলে দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ

মেহেদী হাসান : আবহাওয়া ও জলবায়ুর কারণে বাংলাদেশে বন্যা, খরা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগ যেমন নেমে আসে, তেমনি সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতায় আমাদের দেশের জনগণও বুঝে গেছেন কিভাবে দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হয়। যেকোনো দুর্যোগের আগে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের লোকজন ঝাঁপিয়ে পড়েন দুর্যোগকবলিত মানুষকে রক্ষায়। দুর্যোগ সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের সচেতনতা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেড়েছে। এ কারণে দেশে প্রকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানির ঘটনা আগের তুলনায় অনেক কমে এসেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে অনুকরণীয়। তবে বড় ধরনের দুর্যোগে সার্বিক ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন।
দুর্যোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে দুর্যোগের ক্ষতি কমানো সম্ভব। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত নাজুক। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগও উপেক্ষা করা যায় না। মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগেও অনেক ক্ষতি হয় দেশের। দুর্যোগ-ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সরকারের বিনিয়োগ, দুর্যোগের পূর্বাভাস ব্যবস্থার উন্নয়ন, নতুন আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন এবং দুর্যোগের প্রস্তুতি ও উদ্ধার কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবীদের নিবেদিত প্রচেষ্টাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের ফলে সাম্প্রতিক সময়ে যেকোনো দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতেও এখন সিপিপি মডেল অনুসরণ ও সম্প্রসারণ করছে। দুর্যোগ-পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রমের পরিবর্তে টেকসই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশ্বে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশ দুর্যোগ স্থিতিস্থাপকতা অর্জনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মানুষ দুর্যোগ প্রতিরোধ করতে না পারলেও দূরদর্শী পরিকল্পনার মাধ্যমে ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব। বাংলাদেশে ক্ষতি কমাতে প্রশমন কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
জার্মান ওয়াচ প্রকাশিত গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স-২০১৭ অনুযায়ী, ১৯৯৮Ñ২০১৭ সালের মধ্যে বিশ্বে ১১ হাজার ৫০০ আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৫ লাখ ২৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এসব দুর্যোগে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৩.৪৭ ট্রিলিয়ন ডলার। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ১০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৯ নম্বরে। ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে পরপর দু’বার বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৬ নম্বরে। জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের ভূমিকা নগন্য হলেও ভৌগোলিক কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ থাকছে প্রথম সারিতে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, টর্নেডো, বজ্রপাত, ভূমিধসের মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাংলাদেশের অত্যন্ত বেশি। বিগত কয়েক দশকে বাংলাদেশকে বেশ কয়েকটি প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ সাইক্লোনটি আঘাত হেনেছিল ১৯৭০ সালে, তাতে প্রায় ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।
এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বড় আকারের মানবিক সংকটের ঘটনা বাড়ছে। তাই এ অঞ্চলে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অসামরিক-সামরিক সমন্বয়ের গুরুত্বও বেড়েছে। সার্বিক জাতীয় কৌশলের অংশ হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ছাড়াও বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্স, বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, আনসার-ভিডিপি, বাংলাদেশ স্কাউটস, বিএনসিসির সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। ২০১৭ সালে রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসের সময় উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে পাঁচ সেনা সদস্যের মৃত্যু হয়। তাদের সাহসিকতার ফলে আরো বহু মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা পেয়েছিল। গত কয়েক বছর ভূমিকম্পসহ অন্যান্য দুর্যোগে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজ পরিচালনায় ২৩৬ কোটি টাকার সরঞ্জাম কিনে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও অন্যান্য সংস্থাকে দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি যানবাহন দুর্ঘটনা, অগ্নিকা-, ভবন বা সেতু ধস, সন্ত্রাসী আক্রমণের মতো মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যও সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে।
সম্প্রতি দেশে বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ গ্রহণ করা হয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় আগামী এক শ’ বছরে টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। নেদারল্যান্ডস সরকার বাংলাদেশ সরকারের সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ আছে। তাদের সাথে ২১০০ বাংলাদেশের যে ডেল্টা প্লান তা বাস্তবায়ন করা হবে। এটি বাস্তবায়ন হলে দুর্যোগ মোকাবিলা এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এক্সপার্টদের সাথে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বিনিময় দুর্যোগের ক্ষতি মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।
২০১৭ সাল ছিল বাংলাদেশের জন্য একটি দুর্যোগপূর্ণ বছর। কয়েক বছর থেকেই আবহাওয়ার বিরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল ২০১৭ সালের দুর্যোগপূর্ণ ঘটনাবলি। ২০১৭ সালে বিশেষভাবে লক্ষণীয় ছিল বাংলাদেশের বন্যা। ২০১৭-১৮ সালে ঘটে যাওয়া বাংলাদেশের বন্যা ও অস্বাভাবিক শীতের কারণগুলো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাসহ জলবায়ুর পরিবর্তনের আলোকে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হলো। ২০১৭-১৮ সাল ছিল একটি ‘লা নিনা’ (খধ ঘরহধ) বছর। যত রকম দুর্যোগ হয়েছে এ সময়ের মধ্যে, তা অনেকটা ‘লা নিনা’র কারণে। ‘এল নিনো’ (ঊষ ঘরহড়) প্রতি ৩ থেকে ৭ বছরে একবার দেখা যায়। তা বিরাজমান থাকে প্রায় ১২ থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত। এ সময় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রায় বিস্তর পার্থক্য হয় (প্রায় +০.৫ থেকে ৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। তখন এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা এবং মাঝেমধ্যে পুরো পৃথিবীর আবহাওয়াকে প্রভাবিত করে। অন্যদিকে লা নিনা হলো এল নিনোর সম্পূর্ণ বিপরীত এবং এখানে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা পার্থক্য হয় (প্রায় -০.৫ থেকে -৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস)।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া এই এল নিনো ও লা নিনার প্রতি খুবই সংবেদনশীল। এল নিনোর ফলে পৃথিবীর কোথাও কোথাও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গরম হয়, বৃষ্টি হয় কম, কখনো কখনো খরা হয়, ঝড়ের উৎপাত বেড়ে যায় (যেমন বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এমনটা হয়ে থাকে)। আবার পৃথিবীর কোথাও কোথাও এর উল্টোটাও হয়। অন্যদিকে লা নিনা হলে ঠিক এল নিনোর উল্টো প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় পৃথিবীজুড়ে। অর্থাৎ গরমের বদলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঠা-া, স্বল্প বৃষ্টির বদলে অতিবৃষ্টি ইত্যাদি দেখা দেয়। গত ৫০ বছরে এল নিনো হয়েছিল ১৭ বার এবং লা নিনা হয়েছিল ১২ বার। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে এ ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে বলে জলবায়ুবিজ্ঞানীরা বলছেন।

বাংলাদেশে বন্যার কারণ
২০১৭ সালে বাংলাদেশের বন্যার কারণ কী ছিল। যদিও বলা হয়, বাংলাদেশে এলাকাভেদে ২০১৭ সালের বন্যা ‘ভয়াবহ’ এবং ‘অতি ভয়াবহ’ পর্যায়ের ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট অনেকের মতে, ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের তুলনায় ২০১৭ সালের বন্যাকে সারাদেশের জন্য ভয়াবহ বলা যাবে না। কারণ গঙ্গার পানি নামতে নামতে বাংলাদেশে ব্রহ্মপুত্রের পানি মধ্যাঞ্চল পার করে নিচের দিকে ঠেলে দেয়। এ কারণে ১৯৮৮ বা ১৯৯৮-এর মতো বিস্তৃত দীর্ঘমেয়াদি বন্যা হয়নি। তবে পানিপ্রবাহ ও ক্ষতি বিবেচনায় বন্যাকে এলাকাভিত্তিক হিসাবে ভয়াবহ থেকে অতি ভয়াবহ বলা যায়। বিশেষ করে রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, বগুড়া, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট ও সুনামগঞ্জ অতি ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে। এসব জেলায় জানমালের ক্ষতিও হয় অনেক। বন্যার পানির তোড়ে সড়ক, মহাসড়ক, বেড়িবাঁধ ও রেললাইন বিধ্বস্ত হয়। একই মাত্রার বন্যা হয় এবার ভারত, নেপাল ও ভুটানে।
গত ৫০ বছরের পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যায়, ২০০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ৭টি বড় বন্যা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের বন্যা বড় হিসাবে চিহ্নিত। ১৯৮৭ ও ১৯৮৮ সালে ব্রহ্মপুত্র ও গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকা একসঙ্গে সক্রিয় হওয়ায় বড় বন্যা হয়। ১৯৮৭ সালে দেশের ৪০ শতাংশের বেশি আর ১৯৮৮ সালে ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা প্লাবিত হয়। ৮০ শতাংশের বেশি এলাকা প্লাবিত হয় ১৯৯৮ সালের বন্যায়। ১৯৮৮ সালে দেশের বাইরে ও ভেতরে ভারী বৃষ্টিপাত, হিমালয় পর্বতে তুষার গলা ও হিমবাহের স্থানান্তর, প্রধান নদীগুলোয় একসঙ্গে পানি বৃদ্ধি, জোয়ার-ভাটাসহ নদীর সমুদ্রমুখী প্রবাহে ধীরগতি ছিল এবং হঠাৎ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি অন্যতম প্রধান কারণ। সাধারণত, বাংলাদেশের ভেতর ও বাইরের অতিবৃষ্টি বন্যার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে অতিবৃষ্টির কারণেই এ মাত্রার বন্যা।
২০১৭ সালের বন্যার জন্য অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক কারণগুলো যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ; যেমন গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র -মেঘনা বেসিনজুড়ে অতিবৃষ্টি। তবে মোহনায় দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য ২০১৭-১৮ সালের লা নিনা অনেকাংশে দায়ী। একইভাবে ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের বন্যাও ছিল লা নিনা দ্বারা প্রভাবিত। সাধারণত প্রতি লা নিনা বছরেই বাংলাদেশের ভেতরে ও বাইরে অতিবৃষ্টি ও বন্যা হয়। ১৯৮৮ বা ১৯৯৮ সালের তুলনায় একটি অপেক্ষাকৃত দুর্বল লা নিনার প্রভাব ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে লক্ষ্য করা যাচ্ছিল, যেটা নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে প্রকটভাবে দেখা দেয়। দুর্বল লা নিনা সত্ত্বেও এটি প্রচ- আঘাত হানে বাংলাদেশে এবং ২০১৭ সালের লা নিনা ছিল এই বন্যার একটি অন্যতম কারণ।
এখানে আরেকটি তথ্য বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো। তা হলো অতীতে বাংলাদেশে যত শক্তিশালী ঝড় আঘাত হেনেছে, এর সবই ছিল এল নিনো অথবা লা নিনা সংঘটনের সময়। তবে বঙ্গোপসাগর অথবা বাংলাদেশ এলাকায় সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় লা নিনা থেকে নিরপেক্ষ অথবা এল নিনো থেকে নিরপেক্ষ হওয়ার পর্যায়ে।
অতীতে কিছু বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড়ের উদাহরণ দেখলে বোঝা যায়, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের উপকূলীয় বাগেরহাট-খুলনা এলাকায় যে সিডর আঘাত হেনেছিল, তা ছিল মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট মাঝারি ধরনের শক্তিসম্পন্ন লা নিনা উদ্ভবের কারণে। ২০০৯ সালে ১৪ থেকে ১৫ এপ্রিলে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এলাকায় ৯০ কিলোমিটার বেগে গ্রীষ্মম-লীয় ঘূর্ণিঝড় বিজলি আঘাত হানে। ওই সময় প্রশান্ত মহাসাগরে ধীরে ধীরে লা নিনা দুর্বল হয়ে যাচ্ছিল। ঘূর্ণিঝড় আইলা আঘাত হানে ২০০৯ সালের ২৫ মে। প্রশান্ত মহাসাগরে ওই সময় লা নিনা দুর্বল হয়ে নিরপেক্ষ অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিল। তখন বিষুবরেখা-সংলগ্ন প্রশান্ত মহাসাগরের পানি খুবই উষ্ণ অবস্থায় ছিল।
বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস (বিবিএস ১৯৯৩-২০০২) বিগত ২০০ বছরের ঘূর্ণিঝড়ের একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। বিবিএসে দেখানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বড় বড় ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিবিএস বলেছে, ১৭৯৫ থেকে ১৮৪৫ এবং ১৮৪৬ থেকে ১৮৯৩ সময়ের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় হয়েছে মাত্র ৩টি। ১৮৯৭ থেকে ১৯৪৭ সময়ে মধ্যে ঘূর্ণিঝড় হয়েছে ১৩টি। অন্যদিকে ১৮৪৮ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় হয়েছে ৫১টি। ১৯৮০ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত প্রশান্ত মহাসাগর এলাকায় এল নিনো অথবা লা নিনার উদ্ভবের পরিমাণও বেড়েছে । এই প্রবণতা সামনের দিনগুলোতে আরও বাড়বে। এই কয়েক দিন আগে ভারতের উড়িশ্যায় আঘাত হানার পর বাংলাদেশের ওপ দিয়ে বয়ে পাওয়া ফণীর তা-বে প্রাণহানি তেমন না হলেও ফসলসহ ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার মতো। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো সরকারের নানামুখী উদ্যোগের কারণে দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ।