কলাম

খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই

মাদকের মতো ভেজাল খাদ্যপণ্যের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ ঘোষণা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, নির্বাহী বিভাগের কাজের অগ্রাধিকার কী হবে – সেটা আমরা নির্ধারণ করে দিতে পারি না। তবে খাদ্যে ভেজাল রোধের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। যেমনটি করা হয়েছে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। তেমনিভাবে সরকার ও সরকারপ্রধানের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যাতে খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়। প্রয়োজনে খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হবে।
নামিদামি ব্র্যান্ডের নিম্ন মানের ৫২ পণ্যের উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও বিপণন বন্ধের নির্দেশ দিয়ে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গত ১২ মে এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে মান উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নিম্ন মানের ওই সব পণ্য বাজার থেকে জব্দ করে ধ্বংস করতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে নির্দেশ প্রদান করে আদালত। আর এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করে ১০ দিনের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতেও বলা হয়।
আদালত তার পর্যবেক্ষণে এও বলেন, খাদ্যপণ্যের পরীক্ষা শুধু রমজান মাসেই হওয়া উচিত নয়, এটা সারা বছরই চলা দরকার। কারণ, ভেজাল ও নিম্ন মানের খাদ্যপণ্যের কারণে এদেশে বাস করাটা অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। আমাদের সবাইকে দেশেই থাকতে হবে। এ কারণে খাদ্যপণ্যের নিরাপত্তার ব্যাপারে আপসের কোনো সুযোগ নেই।
ওই দিন আদালত বিস্ময় প্রকাশ করে আরও বলেন, ‘নামিদামি ব্র্যান্ডের পণ্যেও ভেজাল। আমরা কোথায় আছি!’ এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের প্রতিটি নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ করা উচিত। তাদের মধ্যে সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি। খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের নিজেদের কর্মকর্তা না ভেবে দেশপ্রেমিক নাগরিক ও জনগণের প্রতি ভালোবাসা থেকে দায়িত্ব পালন করা উচিত।
আদালতের এই পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনার সঙ্গে দ্বিমত পোষণের কোনো সুযোগ নেই। মূলত ভেজাল ও অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণের ফলেই দেশের প্রায় প্রতিটা মানুষ কোনো না কোনো রোগে ভুগছেন। ঘরে ঘরে রোগী আর পাড়ায় পাড়ায় ফার্মেসি গড়ে ওঠার মাধ্যমে এ সত্যই প্রতিভাত হচ্ছে। তাই সরকার ও প্রশাসনকে যেকোনো মূল্যে জনগণের জন্য ভেজালমুক্ত খাদ্য গ্রহণের সুযোগ করে দিতে হবে।
আমরা মনে করি, খাদ্যপণ্যে ভেজালবিরোধী এ ধরনের জনবান্ধব অভিযান কঠোর হস্তে পরিচালনা করলে বাজারে সরবরাহকৃত খাদ্যপণ্যের গুণগত মান বজায় থাকার পাশাপাশি জনমনে স্বস্তি ফিরে আসবে এবং জনমানুষের নিকট সরকারের গ্রহণযোগ্যতাও অনেক গুণ বৃদ্ধি পাবে।