প্রতিবেদন

শুরু হয়েছে ঈদের কেনাকাটা: স্বস্তি দিতে প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক
পবিত্র রমজান মাসের শুরু থেকে বাজারে বাড়তি বেচাকেনা শুরু হলেও ১০ রোজার পর থেকেই পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে ঈদের কেনাকাটা। ঈদের কেনাকাটায় নগরবাসী প্রতিদিন ব্যস্ত থাকলেও ছুটির দিনগুলোতে বিভিন্ন শপিংমল ও রাজধানীর অলিগলিতে অবস্থিত ছোট-বড় দোকান ও ফুটপাতে মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেনাকাটার ধুমে মার্কেটগুলোতে এখন পা ফেলাও দায়। এবার খানিক আগেভাগে ঈদের কেনাকাটা শুরু হওয়ার পেছনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা একটা বড় ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন শপিং কমপ্লেক্সগুলোর ব্যবসায়ীরা। ক্রেতা-বিক্রেতাদের বাড়তি নিরাপত্তা দিতে সক্রিয় রয়েছে পুলিশ-র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতারা নির্বিঘেœ ঈদের কেনাকাটা ও বেচা-বিক্রি করতে পারছে।
একদিকে কাঠফাটা রোদ, মাঝে-মধ্যে আকাশে মেঘ জমে বাড়িয়ে দিচ্ছে গরমের মাত্রা। তারপরও রাজধানীতে পুরো সপ্তাহে যারা কাজের চাপ ও নানাবিধ ব্যস্ততায় ঈদের বাজার করতে পারেন না, তারা শুক্রবার-শনিবার ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনেই বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে পছন্দসই পোশাকসহ ঈদের কেনাকাটা করে থাকেন।
তাই এবার ঈদকে সামনে রেখে অন্যান্য দিনের পাশাপাশি ছুটির দিনে প্রচ- ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে রাজধানীর মার্কেটগুলোতে। যমুনা ফিউচার পার্ক শপিংমল, সুবাস্তু নজর ভ্যালি, বসুন্ধরা সিটি শপিংমল, নিউমার্কেট, চাঁদনী চক, গাউছিয়া, নূরজাহান সুপার মার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, আজিজ সুপার মার্কেট, গুলিস্তান বঙ্গবাজার, পীরইয়ামিনী মার্কেট, টিকাটুলির রাজধানী সুপার মার্কেটসহ পাড়া-মহল্লায় অবস্থিত বিভিন্ন ছোট-বড় দোকান ও মার্কেটে চলছে ঈদের জমজমাট কেনাকাটা।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সরজমিনে দেখা যায়, প্রতিটি মার্কেট ও শপিংমলেই ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সর্বত্রই দেখা যায় মানুষের ঢল। মার্কেট ও শপিংমলের ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখা গেল, দোকানগুলোতে চলছে কেনাকাটা। অফিসের ফাঁকে ছুটির দিনে সপরিবারে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা রাজধানীর মাতুয়াইলের মাসুদ মিয়া বলেন, কাজের চাপে অন্যদিন আসার সুযোগ থাকে না। তাই ছুটির দিনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে শপিংয়ে চলে এলাম। সামনে হয়ত ভিড় আরো বাড়বে। তাই ঈদের কেনাকাটাটা একটু আগে-ভাগেই শেষ করতে চাই।
বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, অনেকেই বিকেলের সম্ভাব্য ভিড় এড়াতে সকাল-সকাল কেনাকাটা করতে মার্কেটে আসছেন। কিন্তু ভিড় বেড়ে সকালের দিকেও ক্রেতাদের একই বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। নির্দিষ্ট উৎসব ছাড়াও নিউমার্কেট এলাকার দোকানগুলোতে সবশ্রেণির ক্রেতাদের ভিড় সারা বছরই লেগে থাকে। সাধ্যের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্য এখানে সহজেই পাওয়া যায়।
রমজানে মার্কেটে ক্রেতাদের বাড়তি উপস্থিতি দেখে বিক্রেতাদের মুখে হাসি ফুটছে অবিরাম! নিউমার্কেট, গাউছিয়া ও চাঁদনী চকে মেয়েদের থ্রি-পিস, শাড়ি, থান কাপড়ের দোকান, শিশুদের বাহারি রঙ ও ডিজাইনের পোশাক, জুয়েলারি, কসমেটিসক, ব্যাগ, স্যান্ডেল, জুতাসহ নিত্যপ্রয়োজনী প্রায় সকল পণ্যই মেলে। দোকানিরা বলছেন, ছুটির দিন ১০ মে শুক্রবার থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের বেচাকেনা শুরু হয়েছে। ১৫ রোজার পর থেকে এই ভিড় আরও বাড়বে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ সামনে রেখে বৈচিত্র্যময় পণ্যে দোকান সাজানোর প্রস্তুতি শবেবরাতের আগেই শেষ করেছেন তারা। শবেবরাতের আগে থেকেই দোকান মালিকরা মালামাল আনতে শুরু করেন আর প্রথম রোজার আগেই তাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়। রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স ও নিউমার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি দোকানই ঈদকে কেন্দ্র করে তাদের প্রস্তুতি শেষ করেছে। দোকানে দোকানে শোভা পাচ্ছে বাহারি রঙের-ঢঙের পণ্য। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ক্রেতাদের চাপও রয়েছে অনেক। বেচা-বিক্রিতে খুশি বিক্রেতারা এবং ঈদের কেনাকাটা নির্বিঘেœ করতে পেরে সাধারণ ক্রেতারও রয়েছে বেশ স্বস্তিতে।
রাজধানীর বিভিন্ন দোকান ও মার্কেটের ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, প্রচ- গরমের কারণে এবারকার ঈদকে সামনে রেখে ছেলে-বুড়ো সকলেই সুতি কাপড়ের পোশাকের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন। ডিজাইনাররাও এবার সুতি কাপড় দিয়েই তৈরি করেছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষের জন্য আকর্ষণীয় সব ধরনের পোশাক।