প্রতিবেদন

দিল্লির মসনদে আবারও মোদি: শেখ হাসিনার অভিনন্দন : বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক হবে আরো জোরদার

শাহিনা মনি
ভারতের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে ৩৪৯ আসনে জয় নিশ্চিত করেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স-এনডিএ। অন্যদিকে গেরুয়া বিপ্লব দেখিয়ে শরিক দল ছাড়াই ম্যাজিক ফিগারে অর্থাৎ ২৭২টি আসনই কেবল নিশ্চিত করেনি বিজেপি, একক দল হিসেবে জয় নিশ্চিত করেছে ৩০১টি আসনে। অর্থাৎ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের চেয়ে ২৯টি আসন বেশি পেয়েছে বিজেপি। হিন্দি ভাষাভাষি বলয়ে ভালো করেছে দলটি। গুজরাট ও মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যগুলোতে নিজেদের কর্তৃত্ব ধরে রেখেছে তারা। পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িষ্যা ও উত্তর-পূর্বেও ভালো ফল করেছে বিজেপি। এবারের লোকসভা নির্বাচনে ৫৪৩ আসনের মধ্যে ৫৪২ আসনে ভোটগ্রহণ হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে ভোট অনুষ্ঠিত হয়নি ভেলরে।
লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের নিরঙ্কুশ জয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভোটের ফলাফল ঘোষণার দিন ২৩ মে বিকেলে টেলিফোনে নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এসময় সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্যও মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আপনার অসাধারণ নেতৃত্বে ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের জয়ে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ এবং আমার প থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। এই জয় আপনার প্রতি বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশের জনগণের বিশ্বাস ও আস্থার প্রতিফলন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, সত্যিকার সুসম্পর্ক, পারস্পরিক বিশ্বাস ও শ্রদ্ধায় ভারতের সঙ্গে বহুমাত্রিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয় বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা ছিল এই সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, নিজেদের জনগণ দ্বারা আপনি ও আমি পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার ফলে ইতোমধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য আদর্শ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং আমাদের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

দু’দেশের সম্পর্কে আন্তরিকতার
প্রতিফলন ঘটেছে: ভারত
লোকসভা নির্বাচনে বিজয়ের প্রেেিত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরে মোদির কাছে টেলিফোনও করেন। তাঁর টেলিফোনকে ‘প্রতিবেশী দুটি দেশের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আন্তরিক সম্পর্কের প্রতিফলন’ বলে বর্ণনা করেছে নয়াদিল্লি।
গত ২৩ মে সন্ধ্যায় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে প্রথম যে ক’জন বিদেশি নেতা অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাদের অন্যতম। এতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আন্তরিক সম্পর্ক এবং দুই নেতার মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক থাকার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উভয় নেতা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে এক অনন্য নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার কাজ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির গতিশীল নেতৃত্বে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের (এনডিএ) বিশাল বিজয়ের প্রেেিত শেখ হাসিনা ২৩ মে বিকেলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করে আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ৫ মিনিটের টেলিফোন সংলাপে তারা নিরাপত্তা, পরিবহন, জ্বালানি েেত্র অংশীদারিত্ব এবং দু’দেশের জনগণ পর্যায়ে সম্পর্ক গভীরতর করার চলমান পরিকল্পনাগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার গুরুত্বের বিষয়টিও স্বীকার করেন।
টেলিফোন আলাপকালে শেখ হাসিনা মোদিকে বলেন, ‘এই বিশাল বিজয় আপনার প্রতি ভারতীয় জনগণের বিশ্বাস ও আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে।’ একে অন্যতম ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এই বিজয়ে দণি এশিয়ার মানুষ খুশি হবে এবং তারা একসঙ্গে কাজ করতে পারবে। সংলাপকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং তার সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
এদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা না হলেও ভারতের রাষ্ট্রীয় মতায় আসা আবারও পাকাপোক্ত করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপি। নির্বাচনের ফলাফলে বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে আছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। ভারতের জাতীয় নির্বাচনের এই ফল কিভাবে দেখছে বাংলাদেশের মতাসীন দল আওয়ামী লীগ?
দলটির শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতা বলছেন, তারা মনে করেন দ্বিতীয় মেয়াদে বিজেপি মতায় আসায় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কিছু অমীমাংসিত বিষয়ের সুরাহা হবে। দলটি বলছে, গত ৫ বছরে বিজেপি ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক ভালো ছিল। এবারও সম্পর্কের সে ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আওয়ামী লীগ। যে কারণে জনগণ যে দলকেই ভোট দিয়ে জয়ী করেছে, আওয়ামী লীগ সে দলকে স্বাগত জানাবে। বাংলাদেশে গত ১০ বছর ধরে রাষ্ট্রমতায় আওয়ামী লীগ, ভারতেও গত ৫ বছর ধরে বিজেপি মতায় Ñ এ কারণে সম্পর্কের জায়গাটি অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। তবে ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের সঙ্গেও আওয়ামী লীগের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় আছে এবং তা বজায় থাকবে।
অন্যদিকে বিজেপি নেতারাও বলছেন, মোদি বাংলাদেশের বন্ধুত্বকে মূল্য দেন, তিনি চান না যে পানিবণ্টন চুক্তি করতে না পারার ব্যর্থতার কারণে চীনের দিকে সরে যাক ঢাকা।
বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের অভ্যুত্থান নিয়ে ‘মিডনাইট ম্যাসাকার’ গ্রন্থের লেখক বাংলাদেশ পর্যবেক সুখরঞ্জন দাসগুপ্তা বলেন, ভীত হয়ে চুক্তি না করার জন্য মোদি তার পূর্বসূরী মনমোহন সিংকে সমালোচনা করায়, তার জন্য এখন সময় হলো ভিন্ন কিছু করার। তিনি হয়ত বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশীর সাথে করা ভারতের মর্যাদাপূর্ণ প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য মমতাকে রাজি করানোর অন্তত শেষ একটি চেষ্টা করবেন। কিন্তু সেটা না হলে তিনি হয়ত তার নিজস্ব পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হবেন।
সাম্প্রতিক সিএসডিএস-হিন্দু সমীায় দেখা গেছে, ভারতীয়রা বাংলাদেশকেই সবচেয়ে বিশ্বস্ত দেশ মনে করে। ৪৮ ভাগের অভিমত এটা, আর ভারতের ঐতিহ্যবাহী মিত্র রাশিয়ার প্রতি সমর্থন দেখা গেছে ৪৬ ভাগ।
শেখ হাসিনার অত্যন্ত বন্ধুপ্রতিম মনোভাবের প্রোপটে এমনটা দেখা গেছে। তাছাড়া ভারতের কোনো দলই বাংলাদেশের সাথে পানিচুক্তির বিরোধিতা করছে না। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমার তো ফারাক্কা ব্যারেজ ভেঙে দেয়ার পরামর্শ পর্যন্ত দিয়েছেন।
ভারতবাসীরা শেখ হাসিনাকে ভারতের বন্ধু মনে করে। এর যৌক্তিক কারণও আছে। তিনি ভারতের নিরাপত্তা ও কানেকটিভিটির জন্য যা করেছেন, ভারতের অন্য কোনো প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী তেমনটা করেননি। মোদির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ব্যক্তিগতভাবে বলেছিলেন, হাসিনার মতো নেতাদের এগিয়ে নিতে এবং তাকে প্রাপ্য বিনিময় দিতে প্রতিবেশী দেশটির সাথে করা মর্যাদাপূর্ণ প্রতিশ্রুতির প্রতি অবশ্যই সম্মান প্রদর্শন করা হবে।
মোদির ঘনিষ্ঠ সহকারীরা বলছেন, মোদি যদি কঠোর নেতা হিসেবে নিজের অবস্থান অক্ষুণœ রাখতে চান, তবে যত বাধাই আসুক না কেন, বাংলাদেশের সাথে চুক্তি করার জন্য মমতাকে মোকাবিলা করতেই হবে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর একজন সদস্য বলেন, ভারতের কংগ্রেসের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্কটা ঐতিহাসিক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময় থেকে এই সম্পর্ক। বঙ্গবন্ধু পরিবারের সঙ্গেও কংগ্রেসের পারিবারিক সম্পর্ক আছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আওয়ামী লীগের জন্য কংগ্রেসের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা অনেক সহজ। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায়ই ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত সরকারকে দায়ী করেন। আর ওই সময় ভারতে বিজেপি মতাসীন ছিল। তবে এই নেতা বলেন, বিজেপি এখন রাজনীতির চেয়ে রাজনৈতিক অর্থনীতিকে গুরুত্ব দেয় বেশি। নরেন্দ্র মোদিও ব্যবসাবান্ধব বলেই সবাই জানেন। গত ৫ বছরে বিজেপির সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও ভারতের বিজেপির রাজনীতিকদের সঙ্গে বোঝাপড়ার সম্পর্ক রয়েছে। ফলে বিজেপি আবার মতায় আসায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এখন যে সম্পর্ক তাতে টানাপড়েনের সম্ভাবনা নেই।

‘বন্ধুত্ব অটুট থাকবে’
বড় ব্যবধানের জয় পেয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারে বিজেপি সরকার আসায় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্ব অটুট থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এম এ মোমেন। ২৩ মে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চায়না ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব হংকংয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের জাতীয় নির্বাচনের পর যে রাজনৈতিক দলই (বিজেপি) মতায় আসুক না কেন, তাদের সাথে আমাদের সহযোগিতার সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে। ভারতের বিজেপি, কংগ্রেসসহ সকল রাজনৈতিক দলের সাথেই আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে।
ড. মোমেন বলেন, প্রতিবেশী দেশের সাথে আমাদের সুসম্পর্ক বিদ্যমান। আমরা প্রতিবেশী দেশের স্থিতিশীলতা চাই। ভারতের সাথে আমাদের গভীর বন্ধুত্ব রয়েছে। নরেন্দ্র মোদি পুনরায় মতায় ফেরায় আমাদের পুরনো সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে।

যেভাবে মোদির দখলে দিল্লি
পরিসংখ্যানে ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এনডিএ জোট পেয়েছিল ৩৩৬টি আসন। আর ২০১৯ সালে তারা পেয়েছে ৩৪৯টি আসন। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট সার্বিক বিবেচনায় ফল খারাপ করলেও ২০১৪ সালের তুলনায় এবার কিছুটা ভালো করেছে। ২০১৪ সালের ষোড়শ লোকসভা নির্বাচনে তারা পেয়েছিল ৫৯টি আসন আর এবার তাদের অর্জন ৯১টি। ২০১৪ সালে বিজেপি এককভাবে অর্জন করেছিল ২৮২টি আসন। এবারের নির্বাচনে তারা পেয়েছে ৩০১টি আসন, যা গতবারের চেয়ে ১৯টি বেশি।
গত ২০ মে লোকসভা নির্বাচনের ৭ দফার ভোটের শেষ ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বিভিন্ন জরিপ সংস্থার বুথফেরত সমীা বলছিল, আবারও দিল্লির মসনদে বসতে যাচ্ছে মতাসীন বিজেপি জোট। তারা আসন পেতে পারে তিন শ’রও বেশি। প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটের ঘরে আসতে পারে দেড় শ’র কিছু বেশি আসন। আর পশ্চিমবঙ্গে এগিয়ে থাকবে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে সেখানে নিজেদের আসন বৃদ্ধির নজির গড়তে পারে বিজেপি জোট। বাস্তবেও ঘটেছে তাই। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের দুর্গে হানা দিয়েছে গেরুয়া সেনারা। সর্বশেষ তথ্যানুসারে পশ্চিম বাংলার ৪২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল পেয়েছে ২৪টি আসন। বিজেপি দখলে নিয়েছে ১৮টি আসন।
২০১৪ সালের নির্বাচনে বাংলায় বিজেপির আসন ছিল মাত্র দু’টি। এবারের নির্বাচনে বাংলায় রীতিমতো গেরুয়া বিপ্লব ঘটেছে। অন্যদিকে এ রাজ্যে দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে মতায় থাকা বাম দল একটি আসনও পায়নি। অর্থাৎ পুরোপুরি বামশূন্য হয়ে গেছে এ রাজ্যটি।
এবার ভারতে ভোট হয়েছে ১১, ১৮, ২৩ ও ২৯ এপ্রিল এবং ৬, ১২ ও ১৯ মে। ২৩ মে ভোট গণনায় দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী কংগ্রেস পরিবারের প্রতিনিধি রাহুল গান্ধীর পরিবর্তে ‘চৌকিদার’ মোদিতেই ভরসা খুঁজেছেন ভারতের প্রায় ৯০ কোটি ভোটার। হার মেনে নিয়ে এরই মধ্যে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী অভিনন্দন জানিয়েছেন মোদিকে। বলেছেন, জনতার রায় শিরোধার্য, মোদি ও বিজেপিকে অভিনন্দন।
এবারের নির্বাচনে বিরোধীদের কাছে কার্যত তুরুপের তাস ছিল উত্তরপ্রদেশ। কারণ আসন সংখ্যার নিরিখে ভারতের সবচেয়ে বড় এই রাজ্যে দীর্ঘদিন পর দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি বহুজন সমাজ পার্টি এবং সমাজবাদী পার্টি এক হয়ে ভোটে লড়েছিল। সঙ্গে ছিল অজিত সিংহের আরএলডি। কিন্তু তাতেও ফল আশানুরূপ হয়নি। থামানো যায়নি গেরুয়া ঝড়। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপি পেয়েছিল ৭১টি আসন। এবার তারা পেয়েছে ৫০টি আসন।
বিরোধী মহাজোটের নেতৃত্ব দেয়া চন্দ্রবাবু নাইডু নিজের রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশেই রীতিমতো ধরাশায়ী হয়েছেন। ভোটের ফলের প্রবণতায় রাজ্যের ২৫ আসনের মধ্যে ২০টিরও বেশি আসনে পেয়েছে জগনমোহন রেড্ডির ওয়াইএসআর কংগ্রেস। প্রতিবেশী রাজ্য তেলেঙ্গানাতেও ভালো করেছে বিজেপি।
মাত্র কয়েক মাস আগেই মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান এবং ছত্তীসগড়ের বিধানসভা ভোটে বিজেপিকে সরিয়ে মতায় বসতে সক্ষম হয়েছিল কংগ্রেস। ধারণা করা হচ্ছিল, বিধানসভা ভোটের প্রভাব থাকবে লোকসভাতেও। বিরোধী শিবিরের আশা ছিল এই তিন রাজ্যে বিজেপির ফল ব্যাপক খারাপ হবে। কিন্তু তিন রাজ্যে কার্যত ২০১৪ সালের ফলের চেয়ে খুব কিছু হেরফের হয়নি।
ভারতের ইতিহাসে মোদিই হতে চলেছেন তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী, যিনি পরপর দু’বার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে মতায় আসীন হবেন। অর্থাৎ কোনো জোট বা শরিক দলের সাহায্য ছাড়াই সরকার গঠনের জন্য ম্যাজিক ফিগার ছাড়িয়ে গেল কোনো দল। এর আগে জওহরলাল নেহরু পরপর তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন কংগ্রেসের হয়ে। ১৯৬৭ এবং ১৯৭২ সালে পরপর দু’বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। এই দু’বারও এককভাবে ম্যাজিক ফিগার পৌঁছেছিল কংগ্রেস।