প্রতিবেদন

বঙ্গবন্ধুর ‘জুলিও কুরি’ পদক প্রাপ্তির ৪৬তম বার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : সবার সম্মিলিত চেষ্টায় আমরা উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়তে সম হব

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফ্যাসিবাদবিরোধী, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামকে বিশ্ব মানবতার ইতিহাসে চির অম্লান করে রাখার ল্েয বিশ্ব শান্তি পরিষদ ১৯৭৩ সালের ২৩ মে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করে। ঐতিহাসিক এ দিবসকে স্মরণীয় করে রাখার ল্েয পরে বাংলাদেশে আত্মপ্রকাশ করে গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান জুলিও কুরি বঙ্গবন্ধু শান্তি সংসদ। এ প্রতিষ্ঠানের প থেকে ২০১৬ সালে প্রবর্তিত হয় ‘বঙ্গবন্ধু শান্তি পদক’। জুলিও কুরি বঙ্গবন্ধু সংসদ থেকে নিয়মিত একটি গবেষণাধর্মী পত্রিকাও প্রকাশিত হয়। পত্রিকার নাম ‘আমাদের জুলিও কুরি বঙ্গবন্ধু’। পাকি পত্রিকাটি সংগঠনের মুখপত্র হিসেবে নিয়মিত প্রকাশিত হয়ে থাকে।
বঙ্গবন্ধুর জুলিও কুরি শান্তি পদক অর্জন বাঙালির এক বিরল সম্মান। এ মহান অর্জনের ফলে জাতির পিতা পরিণত হন বঙ্গবন্ধু থেকে বিশ্ববন্ধুতে। কিন্তু এ প্রাপ্তি বা অর্জন দেশি-বিদেশি অনেকের কাছেই চোখের বালি বা ঈর্ষণীয় বিষয় ছিল। একটি ছোট্ট দেশ তাও অনুন্নত তৃতীয় বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ, এ দেশের এত শান্তির দরকার কী? ধনী বিশ্বের আশঙ্কা হচ্ছে গরিব মানুষদের শান্তি নিশ্চিত করা হলে তার নিজের সুখ শান্তির ঘাটতি হয়ে থাকে। তাই ধনী বিশ্বের প্রচ- ােভ আর ঈর্ষা ছিল বঙ্গবন্ধুর প্রতি। তারই প্রতিফলন তারা ঘটায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মতো নিষ্ঠুর ও নির্মম ঘটনায়। এ এক কলঙ্কিত ইতিহাস, পাপ-পঙ্কিল অধ্যায়। সেই বিকৃত ইতিহাস ও অধ্যায়ের বলি হয়েছেন আমাদের মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই মহামানবের নামে বিশ্ব শান্তি পরিষদের কাছে ইতিহাসের কি কোনো চাওয়া-পাওয়া থাকবে না? ইতিহাস যদি শাশ্বত ও চিরকালের হয়ে থাকে তাহলে বিশ্ব শান্তি পরিষদ বঙ্গবন্ধুর নামে নিশ্চয়ই আরেকটি বিশ্ব শান্তি পদকের প্রবর্তন করে শান্তির জন্য বঙ্গবন্ধুর সমর্পিত জীবনকে চিরকালের মানুষের জন্য একটি স্বীকৃত ব্যবস্থার দ্বার উন্মোচন করে যাবে।
মানুষের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান। প্রত্যেক মানুষ তার নিজের জীবনকে খুবই মায়া করে থাকে। একমাত্র জাতির জনক বঙ্গবন্ধুই নিজের জীবনকে সারাটা জীবনই তুচ্ছ করে গেছেন। জাতির প্রতি তার এ টান, মমতা ও ভালোবাসা তাকে কি আন্তর্জাতিকতায় উত্তীর্ণ করে তুলতে পারেনি? যেখানেই মানবতার অবয় দেখেছেন সেখানেই তিনি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছেন, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, বিশ্ব বিবেককে জাগানোর চেষ্টা করেছেন এবং বিশ্বসভায় তাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাই আজকের বিশ্ব শান্তি পরিষদ এবং সচেতন বিশ্ব মানবসমাজকে সোচ্চার হতে হবে যেন বিশ্ব শান্তি পদক নামে আরেকটি শান্তি পদকের ঘোষণা আসে। বিশ্ব শান্তি পদক নামের আরেকটি পদক তালিকায় পুরস্কারের ত্রে প্রস্তুত করে বিশ্ব মানবতাকে সমুন্নত করার সময় এসেছে। বঙ্গবন্ধু ইতিহাসের এক মহানায়ক, মহান ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদার অধিকারী।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘জুলিও কুরি’ শান্তিপদক প্রাপ্তির ৪৬তম বার্ষিকী উদযাপন উপলে ২৩ মে দেয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, উন্নত ও সমৃদ্ধ এবং শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে আমাদের সম্মিলিতভাবে প্রয়াস চালাতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, আশা করি, সবার সম্মিলিত চেষ্টায় আমরা ‘রূপকল্প-২১’ ও ‘রূপকল্প-৪১’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সম হবো।
জাতির জনকের ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদক প্রাপ্তির ৪৬তম বার্ষিকী এবং জুলিও কুরি বঙ্গবন্ধু সংসদ প্রবর্তিত ‘বঙ্গবন্ধু শান্তি পদক’ প্রদান উপলে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেতা ও জাতীয়তাবাদকে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করেন। দণি-পূর্ব এশিয়ার সংঘাতময় পরিস্থিতি উত্তরণেও তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।
তিনি বলেন, বিশ্ব শান্তি পরিষদের শান্তি পদক কমিটি জাতির পিতার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৩ সালের ২৩ মে তাঁকে (বঙ্গবন্ধু) ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদকে ভূষিত করে। এটি ছিল বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতির জনকের অবদানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং দেশের জন্য প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মান।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিশ্বের মুক্তিকামী, নিপীড়িত, মেহনতি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা। শান্তি, সাম্য, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। জেল-জুলুম, অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেছেন। জাতির পিতার অতুলনীয় সাংগঠনিক দতা, প্রজ্ঞা, মানবিক মূল্যবোধ, ঐন্দ্রজালিক ব্যক্তিত্ব বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা সংগ্রামের ল্েয ঐক্যবদ্ধ করে। তাঁর নির্দেশে গোটা বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটায়।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বৈরিতা নয়’ এবং ‘সকল বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান’কে, পররাষ্ট্রনীতির মূলমন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।
তিনি বলেন, আমরা যখনই সরকার পরিচালনায় এসেছি, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতির পিতার নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করেছি। অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আদর্শকে শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছি। আইনের শাসনের প্রতি আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তিতে সাহায্য করেছে। আমরা ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান করেছি।
জুলিও কুরি বঙ্গবন্ধু সংসদের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জুলিও কুরি বঙ্গবন্ধু সংসদ জাতির পিতার ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদক অর্জনের জাতীয় ইতিহাস সংরণের পাশাপাশি গণমানুষের কাছে তুলে ধরতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।