কলাম

মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে অবৈধ উপায়ে বিদেশযাত্রা বন্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ ও জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি

গত ৯ মে লিবিয়ার জুয়ারা থেকে অবৈধভাবে ইতালি গমনকালে ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকাডুবিতে ৮৫-৯০ জন প্রাণ হারান। তাদের মধ্যে ৩৯ জন বাংলাদেশি ছিলেন। নিহত ও নিখোঁজ বাংলাদেশিদের বেশিরভাগের বাড়ি বৃহত্তর সিলেট, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, কিশোরগঞ্জ ও নোয়াখালীতে। তাদের মধ্যে ফেঞ্চুগঞ্জের চারজনসহ অন্তত ২২ জনের বাড়ি বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে। এ ঘটনায় স্বজনরা শরীয়তপুরের নড়িয়া ও সিলেটের বিশ্বনাথ থানায় দুটি মামলা করেন।
অবৈধভাবে ইউরোপে পাচারকালে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনার তদন্তে নেমে গত ১৬ মে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) রাজধানীর আবদুল্লাপুর, খিলক্ষেত ও বিমানবন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মানবপাচার চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনাই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে কোস্টগার্ড ও মিয়ানমারের নৌ সদস্যদের হাতে আটক হয় বেশকিছু নৌকা। পরপর এরকম কিছু নৌযান আটকের পর কর্তৃপক্ষ সতর্ক হলেও অবৈধ যাত্রা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। অবৈধ অভিবাসীর যাত্রা শুধু এই অঞ্চলে নয়, আফ্রিকা থেকে ইউরোপের পথেও বেড়ে গেছে। গত কয়েকদিনে ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবে অনেক হতাহতের ঘটনা এবং বেশকিছু উদ্ধার অভিযানই তার প্রমাণ।
যাত্রাপথের বিপদ, অবৈধ পন্থায় কোনো দেশে ঢুকে পড়া এবং সে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়া, নয়তো বনে-জঙ্গলে দিনের পর দিন পালিয়ে থাকা, দালালদের হাতে নির্যাতনের শিকার হওয়া, অনাহারে-অর্ধাহারে অনিশ্চিত জীবনযাপনের খবর জানা সত্ত্বেও নৌ পথে ‘স্বপ্নের’ বিদেশ যাত্রা থামছে না। বিপদের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ পন্থায় নৌকায় করে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও নেপাল থেকে যাত্রাও থামানো যাচ্ছে না।
এমন বাস্তবতায় অবৈধ পন্থায় বিদেশ যাওয়ার নেপথ্য কারণ খুঁজে বের করে এর প্রতিকার করা দরকার এবং এক্ষেত্রে সবার আগে প্রয়োজন জনসচেতনতা। সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়াতে সরকারকেও নানা ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। পাশাপাশি অভিবাসন নিয়ে হাতে নিতে হবে বড় ধরনের পরিকল্পনা। সারাদেশে গড়ে তুলতে হবে আরবান গ্রোথ সেন্টার। বিদেশ গমনে জিটুজি পদ্ধতি বাতিল করতে হবে – কারণ এটা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। এর বদলে নিয়োগদাতা দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ কমিশন গঠন করা যেতে পারে। অভিবাসন ব্যয় আরও কমানোর পাশাপাশি দালালদের দৌরাত্ম্য দমাতে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনের প্রয়োগ করে প্রতারক ও পাচারকারীদের দৃষ্টন্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।