রাজনীতি

যে কারণে ২০ দলীয় জোটে অস্থিরতা

নুরুল ইসলাম
দেশে ‘অদ্ভুত’ ধরনের ‘জোট রাজনীতি’ প্রবর্তন করতে গিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি নিজেই একটা ‘অদ্ভুত’ দলে পরিণত হতে চলেছে।
মূলত ভারতের রাজনীতি থেকে এদেশে জোট রাজনীতি আমদানি হয়। ১৯৯০ সালের পর ক্ষমতাসীন দলকে ক্ষমতা থেকে হটাতে জোট রাজনীতি বড় ধরনের ভূমিকা পালন করায় বাংলাদেশের রাজনীতিতেও জোট রাজনীতি পাকাপাকিভাবে আসন গেড়ে বসেছে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট রাজনীতিকে কেন অদ্ভুত বলা হচ্ছে তার ব্যাখ্যাটা আগে দেয়া প্রয়োজন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি নতুন একটি জোটে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করলো। জোটটি হলো ঐক্যফ্রন্ট। ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বে আছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। এই জোটে আগে থেকেই লেপ্টে ছিল মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য, আ স ম রবের জেএসডি, কাদের সিদ্দিকীর কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের মতো ‘এক ব্যক্তি এক দলে’র মতো জনসমর্থনহীন দলগুলো। অনেকটা চুপিসারে (অর্থাৎ বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট সক্রিয় থাকলেও তাদের মতামত না নিয়ে) ঐক্যফ্রন্টে ঢুকে পড়ে বিএনপি। ঐক্যফ্রন্টের নেতারা জামায়াত বিরোধী, ২০ দলীয় জোটে জামায়াত থাকলে তারা বিএনপির সঙ্গে ‘ঘর’ না করার অবস্থান নেয়ায় যুগপৎ দুই জোটে নাম লেখায় বিএনপি। একদিকে ২০ দলীয় জোট, অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্ট। দু’জোটেই এক ‘স্বামী’ বিএনপি। ফলাফল জোটের নামে ‘অদ্ভুত’ রাজনীতি শুরু করে দলটি।
নির্বাচনে জয়লাভ করে সোজা ক্ষমতায় চলে আসার ‘লোভে’ বিভোর ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের স্বপ্নভঙ্গ হয় গত ৩০ ডিসেম্বর রাতেই। রাত যত গভীর হয় ততই ‘হতাশাভরা’ ফলাফল আসতে থাকে সারাদেশ থেকে। এক ব্যক্তি, এক দলের নেতাদের জামানত বাজেয়াপ্তের খবরও আসতে থাকে দ্রুতগতিতে। সবমিলিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্নবাজ ফ্রন্ট নেতারা প্রকাশ্যে বলতে শুরু করেন জোট রাজনীতির নীতিনির্ধারণী নানা ভুল-ভালের তথ্য। প্রথম চার মাস ‘এই-সেই’ আওয়াজে কথা বললেও ৬ মে ২০ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দেন বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ। ব্যস, শুরু হয়ে যায় ২০ দলীয় ও ঐক্যফ্রন্ট জোট নেতাদের মুখ খোলা। একজন দল ছাড়ার ঘোষণা দেন তো আরেকজন দেন আল্টিমেটাম। আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার আগেই এলডিপি নেতা বলে বসেন, বিএনপিকে নেতৃত্ব দিতে চান তিনি। কারণ বিএনপি যারা চালায় তাদের তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না। এভাবে জোটের মধ্যের সমস্যার কথা প্রকাশ্যে চলে আসতে থাকে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকরাও শুরু করেন কথা বলা।
ঘটনা চূড়ান্ত রূপ নেয় ২৯ এপ্রিল। এদিন ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট নেতাদের ‘নো অবজেকশন লেটার-এনওসি না নিয়েই স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরীর দপ্তরে গিয়ে শপথ নিয়ে নেন বিএনপির নির্বাচিত এমপিরা। এখানেও কৌশলটা পরিষ্কার না করে শপথ নেয়া থেকে বিরত থাকেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নিজে শপথ না নিলেও দলের এমপিরা শপথ নেয়ার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছড়িয়ে দিলেন অভিনব এক বাণী Ñ ‘শপথ না নেয়ার ব্যাপারে আগের সিদ্ধান্তই ভুল ছিল’!
যদিও বিএনপি এমপিদের শপথ নেয়া এবং শপথ নিয়ে তাদের রাজনীতিটা পছন্দ করেননি দলের অনেক নেতাই। এছাড়া দুই জোটের শরিক অনেক নেতা ইউটার্ন নিয়ে শপথ নেয়ায় বিএনপির কড়া সমালোচনা করেন। এসব সমালোচনার মধ্যেই ৬ মে ২০ বছরের সম্পর্কের ২০ দলীয় জোট ছেড়ে দেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ। জোট ছাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, শপথ গ্রহণের মাধ্যমে ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি ৩০ ডিসেম্বরের ‘প্রহসনের’ নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে। এছাড়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে বেশি প্রাধান্য দেয়ারও অভিযোগ তোলেন তিনি।
পার্থের বিজেপি ছাড়াও ঐক্যফ্রন্টকে কেন্দ্র করে ২০ দলের অন্য শরিকেরাও বিএনপির ওপর নাখোশ।
বিজেপি জোট ছাড়ার তিন দিনের মাথায় ৯ মে ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার আল্টিমেটাম দেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। রাজধানীর মতিঝিলে দলের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আগামী ১ মাসের মধ্যে ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে যেসব অসঙ্গতি আছে, তা নিরসন করা না হলে ৮ জুন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করবে।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী কাদের সিদ্দিকীর বক্তব্যকে স্বাগত জানান। তিনি গণমাধ্যমে বলেন, ‘উনি ওনার জায়গা থেকে তো বলতেই পারেন। আমি স্বাগত জানাই। আমরা সবসময় সরকারি দলের জবাবদিহির প্রশ্নে হইচই করেছি। আমাদেরও জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা থাকতে হবে। জনগণও দেখছে, আমরা কী করছি, না করছি। আমরা এখন যার যার দল সামলাচ্ছি। প্রতিটা রাজনৈতিক দলের মধ্যে অস্বস্তি চলছে।’
কাদের সিদ্দিকীর ঐক্যফ্রন্টের অসঙ্গতি নিরসনের তাগিদ দেয়াকে সমর্থন করে জেএসডির সভাপতি আ স ম রব বলেন, ‘এটা ভবিষ্যৎ আন্দোলন-সংগ্রাম-গণজাগরণের ভিত্তি সৃষ্টি করবে।’ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জোটের ভূমিকা নিয়ে কাদের সিদ্দিকীর বক্তব্য প্রসঙ্গে রব বলেন, জনগণকে নিয়ে যে প্রতিরোধ-সংগ্রাম গড়ে তোলা প্রয়োজন ছিল, তা হয়নি।
ঐক্যফ্রন্টের আরেক ‘বড়’ নেতা নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না অবশ্য কাদের সিদ্দিকীর বেঁধে দেয়া ১ মাস সময়ের মধ্যে সংকট নিরসনের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়ে দেন। জোটের মধ্যে অসঙ্গতি আছে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘যে অসঙ্গতি রয়েছে, তা দূর করা জন্য বিএনপিকেই বলতে হবে, শপথ নেয়ার ব্যাপারে এই এই হয়েছে, লন্ডন থেকে নির্দেশ আছে। আমি মনে করি, উদ্যোগটা বিএনপির বা ড. কামাল হোসেনের নেয়া উচিত। যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার জন্য বিএনপিকেই উদ্যোগ নিতে হবে।’ তিনি অবশ্য এখনই জোট ছেড়ে যাওয়ার পক্ষে নন।
এমন বাস্তবতায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল মাহবুবুর রহমান (অব.) বলেন, দলের একটা খারাপ সময় যাচ্ছে Ñ এটা সত্য। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জেলে, যিনি দল চালান তিনি দেশের বাইরে। দেশের বাইরে থেকে দল চালানো বেশ কঠিন, তবে তিনি চেষ্টা করছেন। সংকট নিরসনের বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, সংকটের উত্তরণ ঘটতে পারে দলের মধ্য থেকেই। দলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আন্দোলনের জন্য দলের একটা ভূমিকা থাকতে হবে।
এদিকে ২০ দলীয় জোট ছেড়ে যাওয়া বিজেপিকে ফিরিয়ে আনার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের বেশ ক’জন সিনিয়র নেতা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন বলে দৃশ্যমান হয়েছে। জোটের সর্বশেষ বৈঠকে অংশ নেয়ার জন্য পার্থকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন। বৈঠকের পরও বিএনপির পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যর্থ হন সিনিয়র নেতারা। অন্যদিকে একই বৈঠক থেকে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক এলডিপি সভাপতি কর্নেল অলি আহমেদ (অব.) বিএনপি হাইকমান্ডসহ দলের নেতাদের নিয়ে বিষোদগার শুরু করেন। যেকোনো সময় বিএনপির পক্ষ থেকেও তার প্রতি ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। আর তা হলে আরও বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি হবে বিএনপি জোট।
সম্প্রতি এলডিপির এক ইফতার পার্টিতে বিএনপি নেতাদের সামনেই এ দলের কঠোর সমালোচনা করেন অলি আহমেদ। কারও নাম উল্লেখ না করেই তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির কিছু নেতার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বিএনপিতে কিছু ছাগল আছে। এ ছাগলরা খালেদা জিয়ার চেয়েও নিজেদের বড় নেতা মনে করে।
কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপি কিছু করতে পারছে না মন্তব্য করে অলি বলেন, তার মুক্তির জন্য এলডিপি দেশব্যাপী জনমত গড়ে তুলবে। এ সময় বিএনপি নেতাদেরও তার সঙ্গে থাকার আহ্বান জানান অলি আহমেদ।
অলি আহমেদ আরও বলেন, এলডিপি মনেপ্রাণে খালেদা জিয়ার মুক্তি চায়। তবে বিএনপির কিছু ব্যক্তি চায় না খালেদা জিয়া কারাগার থেকে মুক্তি পাক। কারণ খালেদা জিয়া মুক্তি পেলে দলে তাদের গুরুত্ব কমে যাবে।
এ প্রসঙ্গে একটি উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, দেয়াল যদি নিচু হয়, ছাগল লাফ দিয়ে অনেক সময় দেয়ালের উপরে উঠে যায়। তখন পাশে হয়ত মালিক দাঁড়িয়ে থাকেন। দেখা যায় অনেক সময় ছাগলের উচ্চতা মালিকের উচ্চতা থেকে অনেক বেশি হয়। ফলে ছাগল মনে করে আমি মালিকের থেকে বেশি উঁচু। বিএনপির রাজনীতিতে এ ধরনের অনেক ছাগল আছে। আর ছাগলগুলো মনে করে, তারা যেন জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার চেয়েও বড় নেতা। তাই খালেদা জিয়া যদি জেল থেকে বের হন তাহলে তাদের অসুবিধা হতে পারে।
বিএনপি সংসদে গিয়ে সরকারের বৈধতা দিয়েছে Ñ এমন মন্তব্য করে কর্নেল অলি বলেন, জোটের সঙ্গে কথা না বলে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া সঠিক হয়নি।
তিনি বলেন, বিএনপি নেতাদের অনুরোধ করব Ñ হয় আপনারা নেতৃত্ব দেন, না হলে আমাদের নেতৃত্ব গ্রহণ করুন। তবে খালেদা জিয়ার পক্ষে জেলে থেকে আমাদের নির্দেশনা দেয়া সম্ভব নয়। আর তারেক রহমানের পক্ষেও লন্ডন থেকে সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকা সম্ভব নয়। তাই বিএনপি জোটের নেতৃত্ব দিতে দায়িত্ব নেয়ার জন্য আমি প্রস্তুত আছি। বিএনপি নেতাদের প্রতি অনুরোধ, সবাই এক জায়গায় একত্রিত হোন। আমাদের হাতকে শক্তিশালী করুন। আমি মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিতে পারি নাই, এবার জীবন দিতে প্রস্তুত আছি।
দীর্ঘদিন ধরে ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে জোটের শরিক দলগুলোকে গুরুত্ব না দেয়ায় সম্প্রতি বিজেপি জোট ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ার পর অন্যান্য শরিক দলেও সৃষ্টি হয় ক্ষোভ-বিক্ষোভ। এ পরিস্থিতিতে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক ডেকে স্কাইপিতে কথা বলেন লন্ডন প্রবাসী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিষয়টি জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, জোটে এখন কোনো সংকট নেই। আর ভুল বোঝাবুঝির কারণে বিজেপি জোট ছাড়ার ঘোষণা দিলেও শিগগিরই তারা ফিরে আসবে। জোটের পরিধি আরও বাড়ানো হবে।
কিন্তু বাস্তবে এখন পর্যন্ত বিজেপিও ফিরে আসেনি এবং জোটে শরিক দলের সংখ্যাও বাড়ানো সম্ভব হয়নি।
সূত্র জানায়, বিএনপির ভুল সিদ্ধান্ত ছাড়াও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর ২০ দলকে গুরুত্ব না দেয়া একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূলত ২০ দলীয় জোটকে অন্ধকারে রেখে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর থেকেই বিএনপির সঙ্গে ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপকালে ২০ দলীয় জোটের নেতাদের বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৪টি দলের নেতাদের সঙ্গে নেয়া এবং সারাদেশের ৩০০ নির্বাচনি এলাকায় শরিকদের মধ্যে আসন ভাগাভাগির সময় এ বিরোধ আরও বাড়ে। কারণ, ২০ দলীয় জোটের অধিকাংশ শরিক দলকেই আশানুরূপ আসন দেয়া হয়নি। সর্বশেষ জোটের কাউকে কিছু না বলে বিএনপি দলীয় ৫ সাংসদের জাতীয় সংসদে যোগদানকে কেন্দ্র করে বিএনপির প্রতি ২০ দলীয় জোটের শরিক দলের বিরোধ ও অস্থিরতা তুঙ্গে ওঠে।
২০ দলীয় জোটের বিভিন্ন শরিক দলের নেতারা এখন প্রকাশ্যেই বলছে ক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে বিএনপি তাদের ব্যবহার করলেও কখনই আশানুরূপ মূল্যায়ন করেনি। তারপরও জোটের ঐক্য অটুট রেখে চলেছে তারা। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর বিএনপির বর্তমান নেতৃত্ব দুর্দিনের জোট সঙ্গীদের অবমূল্যায়ন শুরু করে। আর এ কারণেই ভাঙনের কবলে পড়েছে বিএনপি জোট।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি এখন কেবল খালেদা-তারেককেন্দ্রিক রাজনীতিতেই আবর্তিত হচ্ছে, দল ও জনগণের স্বার্থে রাজনীতি করতে পারছে না। তাছাড়া খালেদা-তারেকের অনুপস্থিতিতে বিএনপির বর্তমান দুর্বল নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক ব্যর্থতার কারণে ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটেই কেবল সমস্যা বা সংকট তৈরি হয়েছে Ñ এমন নয়; বরং বিএনপির অভ্যন্তরেই ব্যাপক সংকট তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে দলের শীর্ষ নেতাদের কেউই কাউকে মন থেকে মানতে চান না, আবার কেউই কাউকে বিশ্বাস করেন না, একজন আরেকজনকে সরকারের দালাল বলে মনে করেন। এমনকি বিএনপির তৃণমূল নেতারাও মনে করেন, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা একে একে সরকারের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করে চলেছে। ফলে রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে বিএনপি, ২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্ট সঙ্গত কারণেই মহাসংকটে পড়েছে।