প্রতিবেদন

রাশিয়ার রূপপুর পারমাণবিকের পর এবার দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে যাচ্ছে চীন

মেহেদী হাসান
৩০ নভেম্বর ২০১৭। বাংলাদেশের জন্য আরেকটি বিশেষ দিন। বাংলাদেশ ও রাশিয়ার পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের নতুন অধ্যায় লেখার দিন। কারণ ওই দিনই রাশিয়ার প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে ঈশ্বরদীর রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এটি বাংলাদেশের একক বৃহত্তম প্রকল্প। কেন্দ্রটির মূল পর্যায়ের উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে ২০২৩ সালে বাংলাদেশ পারমাণবিক জগতে প্রথমবারের মতো পা রাখবে।
পদ্মা নদীর পাড়ে বিস্তৃত এলাকাজুড়ে রাশিয়ান রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশনের নেতৃত্বে হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ। দুই ইউনিটের এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশ পাবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হলে দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার দৃশ্যমান উন্নতি ঘটবে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েই চলেছে মানুষের বিদ্যুতের চাহিদা। আগে যারা বৈদ্যুতিক ফ্যান ছাড়া ছিলো তারা এখন ফ্যান ব্যবহার করছে; আবার যারা ফ্যান ব্যবহার করতো তারা এখন এসি ব্যবহার করছে।
দেশের মানুষের এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে শেখ হাসিনার সরকার রূপপুর প্রকল্পের কাজ এগিয়ে যাওয়ার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, দণিাঞ্চলে দেশের দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। আর সেই ‘দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র’ প্রকল্প নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশে দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়েছে চীন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পৃক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে আগ্রহ দেখাচ্ছে চীন। এ বিষয়ে চীনের একটি প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনে প্রস্তাব জমা দিয়েছে। তবে চীন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন বিষয়ে কোনো চুক্তি না থাকায় এমন প্রস্তাবের তেমন কোনো গুরুত্ব দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, দেশের দণিাঞ্চলে নির্মিত হবে দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এই কেন্দ্র নির্মাণের স্থান নির্বাচনে একটি সমীা প্রকল্প নিয়েছে সরকার, যার মেয়াদ আগামী জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা আরও ১ বছর বাড়ানো হচ্ছে। শুরুতে ৮টি স্থান দেখার পর এখন নতুন করে ১০ জেলায় ১৩টি স্থান প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প কবে নেয়া হবে, তার কিছুই এখনও ঠিক হয়নি। এ অবস্থায় চীনা একটি প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রটি নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়েছে।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. এ এফ এম মিজানুর রহমান স্বদেশ খবরকে জানান, চীনের একটি প্রতিনিধিদল এসেছিল। তারা বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা শেষে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী এবং পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে একটি লিখিত প্রস্তাব দিয়ে গেছে। তাতে দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন তারা।
তিনি আরও জানান, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের েেত্র আগ্রহী দেশগুলোকে অবশ্যই আগে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি স্বার করতে হবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়া ২০০৯ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের যেহেতু এ ধরনের কোনো চুক্তি নেই, সেহেতু তাদের ওই প্রস্তাবের কার্যত গুরুত্ব নেই। তারপরও আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় চীনের প্রস্তাবটি গুরুত্বসহকারে আগামীতে আলোচনা করা হবে। কারণ চীন বাংলাদেশের অন্যতম বন্ধু রাষ্ট্র।
এদিকে দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে দেশের দণিাঞ্চলে নির্ধারিত ৮টি চরের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৩টি চরকে উপযুক্ত মনে করা হচ্ছিল। তবে ওই সব চরের জমি বিভিন্ন কোম্পানি ও সংস্থার নামে বরাদ্দ হয়ে গেছে। ফলে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ২ হাজার একর জমি পাওয়া সম্ভব নয় চর ৩টিতে। এখন নতুন করে ১০ জেলায় ১২টি চর ও নোয়াখালীর সোনাদিয়া দ্বীপকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। এসব স্থানে প্রয়োজনীয় পরীা-নিরীা করে দেখা হবে, স্থানগুলো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উপযুক্ত কি না। তারপরই স্থান চূড়ান্ত করা হবে।
স্থান নির্ধারণের বিষয় নিয়ে ড. এ এফ এম মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ১৩টি স্থান দেখা হয়েছে। আরও বেশকিছু স্থান দেখা যাবে। পরে উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছা ও নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ কাজ চলছে।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কম ঘনবসতিপূর্ণ দণিাঞ্চলের কোনো চর বা দ্বীপে নির্মাণের নির্দেশনা দিয়েছেন। এরপর উপযুক্ত স্থান নির্ধারণে একটি সমীা চালানোর জন্য ২০১৭ সালে প্রকল্প হাতে নেয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকভাবে ৮টি স্থানে সমীা চালানো হয়েছে। স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে পটুয়াখালীর পীয়ার চর, বরগুনার খোট্টার চর, টেংরার চর, আলিসার মোড় ও নিদ্রার চর, খুলনার চর হালিয়া, নোয়াখালীর বয়ার চর ও ফেনীর মুহুরীর চর। এর মধ্যে পীয়ার চর, খোট্টার চর ও নিদ্রার চরকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শনে যান প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা। তারা দেখতে পান এসব চরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। তাই নতুন এলাকা নির্ধারণে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পীয়ার চরের ৪৭৫ একর জমি রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এসব জমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খোট্টার চরের ১০০ একর জমি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য আইসো টেক ইলেকট্রিফিকেশন কোম্পানিকে বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। আর নিদ্রার চরের ২৬৭ একর জমি নৌবাহিনীকে শিপইয়ার্ড নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আনুমানিক ২ হাজার একর জমি প্রয়োজন উল্লেখ করে তারা বলেন, নদী বা সাগর তীরবর্তী এই পরিমাণ জমি পাওয়া সম্ভব কি না, সে তথ্য চেয়ে বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, মাদারীপুর, পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা, ভোলা, ফেনী ও সাতীরার জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয়া হয়েছে। ১০টি জেলার কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর ১৩টি চর ও দ্বীপ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে রয়েছে বরিশালের চর মেঘা, বরগুনার কুমির মারা ও পদ্মা মৌজা, নিশানবাড়ি মৌজা, লালদিয়ার চর, পটুয়াখালীর চর মোন্তাজ, সোনার চর ও মৌডুমি, নোয়াখালীর মৌলভীর চর ও চর খাসিয়া, পিরোজপুরের খোলপটুয়া, মাদারীপুরের চর জানাজাত, চট্টগ্রামের উড়ির চর, খুদুকখালী ও ছোট হানুয়া মৌজা এবং কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপ।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ত্রে নির্বাচনের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এর ওপরই মানুষ ও পরিবারের নিরাপত্তার সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত। তাই ত্রে নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নির্দেশনার পাশাপাশি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের বিধিনিষেধ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলতে হয়। ফলে স্থান নির্ধারণে নেয়া প্রকল্পের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে প্রকল্পের মেয়াদ আরও ১ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এই ১৩টি স্থানের মধ্যে সার্ভে পর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনা করে তার ফলাফল বিশ্লেষণ করে প্রাধান্যের ক্রম তৈরির মাধ্যমে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য অন্তত একটি বা দুটি ত্রে চূড়ান্ত করা হবে।
দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণে নেয়া প্রকল্পের কাজ ২০১৭ সালের জুলাই থেকে শুরু হয়ে আগামী জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উপযুক্ত চর নির্ধারণ করতে না পারায় মেয়াদ আরও ১ বছর বাড়ানো হচ্ছে। প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব এরই মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।
‘বাংলাদেশের দণিাঞ্চলে নিউকিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান নির্বাচনের সমীা’ শীর্ষক প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন সভায় সভাপতিত্ব করেন। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পটি কোথায় হবে Ñ এখনও তা নিশ্চিত করা যায়নি। বেশ কয়েকটি জেলায় পরিদর্শন কার্যক্রম চালানো হয়েছে। কিন্তু এখনো জায়গা চূড়ান্ত করা যায়নি। কবে পাওয়া যাবে সে সম্পর্কে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।
তারা আরও বলেন, এ কাজটি অন্যান্য কাজের তুলনায় বেশ জটিল। কারণ পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের আগে একটি জেলার অন্তত ১০০ বছরের ভূমির ইতিহাস জানতে হয়। সেই জায়গায় ভূমিকম্প হয়েছে কি না, বন্যা বা ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে কি না, এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে তারপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। প্রকল্পটির স্পর্শকাতরতার কারণেই জায়গা খুঁজে পেতে সময় বেশি লাগছে।
জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে অন্তত ২০০ একর জমি দরকার। উল্লিখিত জমির প্রাপ্যতা এবং জমির মালিকানা ও ভূমির ব্যবহার সম্পর্কিত প্রাথমিক তথ্য চেয়ে গত বছরের মার্চে দণিাঞ্চলের ১৫টি জেলার জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেয়া হয়। সেই চিঠির পরিপ্রেেিত ১০ জেলার জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে জবাব পাওয়া যায়। এর মধ্যে ভোলা, ফেনী, মাদারীপুর, পিরোজপুর, সাতীরা জেলা জানিয়ে দেয় তাদের কাছে পর্যাপ্ত জায়গা নেই। কক্সবাজার, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, বাগেরহাট ও খুলনা জেলার কাছ থেকে এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম জেলার সম্ভাব্য কয়েকটি জায়গার নাম পাঠায়। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে বরিশালের হিজলার চর মেঘা, বরগুনার কুমিরমারা, তালতলীর নিশানবাড়ি, পাথরঘাটার লালদিয়ার চর, পটুয়াখালীর চর মোনাজাত, সোনারচর, মৌডুবি, নোয়াখালীর হাতিয়ার মৌলভীর চর ও চর ঘাষিয়া, পিরোজপুরের খোলপটুয়া, মাদারীপুরের চর জানাজাত, চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপের উড়িরচর, বাঁশখালীর খুদুকখালি ও ছোট ছনুয়া এবং কক্সবাজারের সোনাদিয়া ও মহেশখালী দ্বীপ সরেজমিন পরিদর্শন করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং পরমাণু শক্তি কমিশনের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল।
সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ শুরু হয়। ওই দিন রূপপুরের ওই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক নির্মাণকাজ শুরুর সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দণিাঞ্চলে দেশের দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর ওই ঘোষণার পর দেশের দণিাঞ্চলে দ্বিতীয় পারমাণবিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রথমে নিউকিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) গঠন করা হয়। এরপরই দণিাঞ্চলে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্থান নির্বাচন সমীা প্রকল্প গ্রহণ করে প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণের কাজ শুরু হয়। স্থান নির্বাচন হলে প্রাথমিকভাবে দুটি ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। প্রতিটি ইউনিটে ১২০০ করে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ল্যমাত্রা থাকছে। অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরুর পরবর্তী ৫ বছরে ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।