অর্থনীতি

২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার খসড়া বাজেট

ওসমান গনি শাহীন
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ‘রোডম্যাপ’ ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এরই মধ্যে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার খসড়া বাজেট প্রধানমস্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে উপস্থাপন করেছেন। খসড়া বাজেটে আওয়ামী লীগের ইশতেহার অনুযায়ী গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করাসহ নানা বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাজেট প্রস্তুত করার অংশ হিসেবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদ সদস্য, সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং সদস্য, সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সভাপতি ও সদস্য, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি এবং সদস্য, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সদস্য এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের সঙ্গে এরই মধ্যে মতবিনিময় করেছেন। তাছাড়া প্রাক-বাজেট আলোচনা করেছেন ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশাজীবী মহলের সাথে।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগের ইশতেহারের আলোকে আগামী বাজেট তৈরি করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি গ্রামের প্রতিটি রাস্তা পাকাকরণ, আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষি উৎপাদন এবং ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগসহ ১৫টি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে মেগা প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশনা থাকছে নতুন বাজেটে। এর বাইরে সুষম উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে গ্রামীণ উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিও সরকারের বিশেষ নজর রয়েছে। এজন্য ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। গ্রাম পর্যায়ের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো চালু হলে বিপুল মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এতে গ্রামের মানুষকে কাজের জন্য শহরে ছুটতে হবে না।
সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ কর্মসূচি সামনে রেখে নতুন বাজেটের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। গত ১০ বছরের উন্নয়নে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ২০১৯-২০ সালের অর্থবছরের বাজেটের আকার বাড়ানো হবে। এজন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হবে ১০ মেগা প্রকল্প ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ ১০ উদ্যোগ বাস্তবায়নে।
আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি। আগামী অর্থবছরের বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপির আকার প্রস্তাব করা হয়েছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এ খাতে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক জনতুষ্টির এই বাজেটে নতুন করে কর ও ভ্যাট বাড়ানো হচ্ছে না। তবে টিআইএনধারী আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান এরকম ১ কোটি মানুষকে করের আওতায় আনার পদক্ষেপ থাকছে। ভ্যাট আইন-২০১২ নতুন অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করবে সরকার। ১৩ লাখ বাড়িয়ে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৮৭ লাখে উন্নীত করা হচ্ছে।
এবারের বাজেটে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী পালনের প্রতিফলন থাকবে। সবচেয়ে বেশি মনোযোগ থাকবে নির্বাচনি ইশতেহার অনুসারে ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে। এছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনে সরকারি-বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। আসন্ন বাজেটে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ জিডিপির প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
আগামী ১৩ জুন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রথমবারের মতো অর্থমন্ত্রী হিসেবে বাজেট ঘোষণা করবেন আ হ ম মুস্তফা কামাল। টানা তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনার সুযোগ পাওয়ায় বাজেটেও এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হচ্ছে। প্রতি বছর বাড়ছে বাজেটের আকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন-২১ বাস্তবায়নে সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হচ্ছে বাজেটে। ওই সময়ের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়া এবং দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী এক শ’ বছরে কোনদিকে যাবে বাংলাদেশ সেজন্য করা হয়েছে ডেল্টা প্ল্যান। এছাড়া ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ দিকনির্দেশনা নিয়েই এটি চূড়ান্ত করা হবে। প্রাথমিকভাবে এবার মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৮ দশমিক ১ শতাংশ। চলতি বাজেটের আকার ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। আসন্ন বাজেটে ব্যয়ের পরিমাণ বাড়ছে ৫৮ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা। এছাড়া এবারের বাজেটে বড় আকারের ব্যয় মেটাতে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ১৩ দশমিক ১ শতাংশের সমান। চলতি বছর রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য হচ্ছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। আগামী বাজেটে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ৩৮ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা বেশি ধরা হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশের মধ্যেই বাজেটের ঘাটতি রাখা হয়েছে।
আসন্ন বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। কয়েকটি মেগাপ্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এসব প্রকল্প দ্রুত শেষ করতে বাজেটে বরাদ্দ বেশি রাখা হবে। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ ১০ উদ্যোগও এবারের বাজেটে গুরুত্ব পাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান স্বদেশ খবরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বাজেট উপস্থাপনা করা হয়েছে। তিনি মনোযোগ দিয়ে বাজেটের খুঁটিনাটি পর্যবেক্ষণ করেছেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদন আসার পর বাজেট ঘোষণার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। আগামী ১৩ জুন অর্থমন্ত্রী সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন।

‘আগামী ৫ বছর কোনো পণ্যে
ট্যাক্স রেট বাড়বে না’
আগামী ৫ বছরে কোনো পণ্যে ট্যাক্স রেট বাড়বে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ৩০ এপ্রিল শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরামর্শক কমিটির ৪০তম সভায় মন্ত্রী এ প্রতিশ্রুতি দেন।
নতুন বাজেটে ট্যাক্স বাড়বে কি বাড়বে না Ñ সে বিষয়ে অর্থমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, আমি বলতে পারি আগামী ৫ বছরে কোনো বিষয়ে ট্যাক্স রেট বাড়বে না। বরং সামনে সব বিষয়ে ট্যাক্স রেট কমবে। তবে ট্যাক্সের আওতা বাড়বে। দ্বৈত কর পরিহার করা হবে। এবারের আয়কর হবে হয়রানিমুক্ত।
২০১৯-২০ সালের জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এবার বাজেটে ব্যাপক সংস্কার আসছে। সংস্কার করলেও অনেকে বলছেন, অর্থমন্ত্রী কোন ক্ষমতাবলে ঋণখেলাপিদের ক্ষমা করে দেবেন? আমি ক্ষমাও করবো না আবার জেলেও দেবো না। ব্যাংকিংসহ নানা খাতে বাজেটে এবার সংস্কার করবো।
মন্ত্রী বলেন, বাজেটে প্রথমেই বলবো সামর্থ্যবানরা সবাই করের আওতায় আসবে। একটা অভিযোগ সবসময় থাকে, যারা ট্যাক্স দেয় বেশি বেশি দেয়। অন্যদিকে, যারা দেয় না Ñ তারা কিছুই দেয় না। এটা আর হবে না। সামর্থ্য যাদের আছে তাদের সবাইকে ট্যাক্স দিতে হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এবার আমি কর আদায় করেই ছাড়বো। তবে কাউকে কষ্ট দিয়ে ট্যাক্স আদায় করবো না। সবাইকে ভালোবেসে কষ্ট না দিয়ে ট্যাক্স আদায় করবো। হাঁসের শরীর থেকে পালক তুলবো ঠিকই যেন হাঁস টের না পায়।
তিনি বলেন, এবার এমনভাবে বাজেট ঘোষণা করবো, যাতে বাজেট সব মানুষের জন্য হয়। বাজেটে ১ বছরের আয়-ব্যয় থাকবে কিন্তু বাজেটের ভিত হবে ২০৪১ সাল। ২০৪১ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যার হাত ধরে বাংলাদেশ উন্নত দেশ হবে। সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। সব চ্যালেঞ্জ আমি চলার পথের পাথেয় মনে করি। এক একটা চ্যালেঞ্জ আমাদের নতুন নতুন পথ দেখাবে। বিশ্বাস ও সততা দিয়ে দেশকে আমরা এগিয়ে নিতে চাই।

আমার গ্রাম আমার শহর
নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী নতুন বাজেটে ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এ লক্ষ্যে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হবে। এছাড়া নতুন বাজেটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী পালনের প্রতিফলন থাকবে। দেশের প্রতিটা গ্রামকে শহরে রূপান্তর করার ঘোষণা থাকবে নতুন বাজেটে। পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হবে গ্রামকে। যেখানে ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ সব ধরনের নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেয়া হবে। এ সংক্রান্ত ঘোষণা থাকবে বাজেটে। তবে আমার গ্রাম আমার শহর এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য মূল দায়িত্ব থাকবে স্থানী সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের। অন্য সব মন্ত্রণালয়কে এ কাজে সম্পৃক্ত করা হবে।

সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় চাকরি
সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আসন্ন বাজেটে উপকারভোগীর সংখ্যা ১৩ লাখ বাড়িয়ে ৮৭ লাখে উন্নীত করা হবে। এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা খাতের আওতায় প্রতি পরিবারের একজনকে চাকরি দেয়ার ঘোষণা দেবেন অর্থমন্ত্রী। সামাজিক সুরক্ষা খাত অগ্রাধিকার পাবে। নতুন করে ১৩ লাখ দরিদ্র মানুষকে এই সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা হবে। বর্তমান বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় সাড়ে ৭৩ লাখ মানুষ বিভিন্ন ভাতা পান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী, এবারের বাজেটে যোগ্য সব প্রতিবন্ধীকে সামাজিক বেষ্টনীর আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে তাদের মাসিক ভাতা ও পরিবারের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষাবৃত্তির টাকা বাড়ানো হবে। বাড়বে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা। এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে।

বাড়বে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা
নতুন বাজেটে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতাও বাড়ানো হবে। বর্তমানে প্রায় ২ লাখ মুক্তিযোদ্ধা নগদ ১০ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা পান। ২০১৯-২০ বাজেটে তাদের শুধু ভাতা বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা করা হবে। অর্থাৎ তাদের মাসিক ভাতা আরও ২ হাজার টাকা বাড়বে। এর বাইরে মুক্তিযোদ্ধারা বর্তমানে দুই ঈদে সমপরিমাণ দুটি বোনাস, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস ভাতা ও বৈশাখী ভাতা ভোগ করছেন। এসব সুবিধা আগের মতোই অব্যাহত রাখা হবে।

গরিব রোগীদের নগদ সহায়তা বাড়বে
বাজেটে গরিব রোগীদের জন্য নগদ সহায়তা বাড়ানো হবে। ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোক ও প্যারালাইসিসে আক্রান্ত গরিব রোগীদের এককালীন নগদ সহায়তা দেয় সরকার। এর পরিমাণ রোগীপ্রতি ৫০ হাজার টাকা। বর্তমানে ১৫ হাজার রোগী আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন। আসন্ন বাজেটে এই সংখ্যা দ্বিগুণ করা হবে। এছাড়া বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠী এবং তাদের ছেলেমেয়েরা মাসিক ভাতাসহ নানা সুবিধা পাবে। বর্তমানে ৬৪ হাজার মানুষ এই সুবিধা ভোগ করছে। নতুন বাজেটে এই সংখ্যা ৮১ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।