ফিচার

হ্যাকিং থেকে বাঁচতে

আব্দুল্লাহ আল মামুন
অবারিত তথ্যের দ্বার উন্মোচন করেছে ইন্টারনেট। দেশ-বিদেশের যেকোনো প্রান্তের তথ্য খুঁজে দিতে ইন্টারনেটের জুড়ি নেই। বিশ্বজুড়ে তথ্যের সন্ধানে ওয়েব থেকে ওয়েবে ঘুরে বেড়ানোর কাজ চলছে প্রতিক্ষণে। তবে এ ঘুরে বেড়ানার সময় ওঁৎ পেতে রয়েছে কিছু সুযোগসন্ধানী চক্র; যারা একটু সুযোগ পেলেই হ্যাকিং করে হাতিয়ে নেয় অন্যের তথ্য। ইন্টারনেটের কল্যাণে অবারিত এ তথ্যভা-ারে অন্যের তথ্যের প্রতি অপনজর বাড়ছে এ চক্রের। যারা মূলত হ্যাকার নামে পরিচিত। অন্যের তথ্য হাতিয়ে বিক্রি করে দেয়া বা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়াই এদের কাজ।
বিভিন্নভাবে হ্যাকাররা তথ্য চুরি করতে পারে। পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান, ম্যালওয়্যার ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়ে হ্যাক, তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগে হ্যাকিং, ই-মেইল হ্যাকিং, স্মার্টফোনের তথ্য হ্যাকিং, ওয়েবসাইট এবং চ্যাট রুমের মাধ্যমে তথ্য চুরিসহ আরও নানান উপায়ে গোপনীয় তথ্যের সন্ধানে থাকে হ্যাকাররা।
হ্যাকিং করাটা বোধ হয় ইদানীং বেশ সোজাই হয়ে গেছে। আজকাল সবার অনলাইন অ্যাকাউন্টই তাই কমবেশি হ্যাকিংয়ের ঝুঁকির মধ্যে থাকে। তবে একটু সচেতন থাকলে হ্যাকারদেরও বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজের তথ্য সুরক্ষিত রাখা যায়।
হ্যাকিং এড়াতে প্রথমেই তথ্য গোপন রাখুন। আধুনিক প্রযুক্তির কারণে মানুষের সুযোগ-সুবিধা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে তথ্য চুরির ঘটনা। সাবধান হলে আপনি খুব সহজেই ব্যক্তিগত তথ্য রক্ষা করতে পারেন।
পাসওয়ার্ড নিজের কাছে রাখুন: কম্পিউটার, স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটের পাসওয়ার্ড যেন কখনই এক না হয়। আর ব্যাংক কার্ডের সঙ্গে যেন এই পাসওয়ার্ডের মিল না থাকে। এছাড়া কম্পিউটার, স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটে কোনো পাসওয়ার্ড লিখে রাখবেন না। এর ফলে আপনার তথ্য চুরির আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়। বাড়ির বাইরে গেলে এগুলো লক করে যাবেন।
নিজ নামে গুগল অ্যালার্ট ব্যবহার করুন: এটা খুব সহজ পন্থা, আপনি যদি দেখতে চান ইন্টারনেটে আপনার সম্পর্কে সবাই কী
বলছে। সোজা এই ঠিকানায় যান যঃঃঢ়://িি.িমড়ড়মষব.পড়স/ধষবৎঃং এবং আপনার নাম লিখুন। তারপর আপনার নামের বিভিন্ন ধরন লিখে, তার আগে ও পরে কোটেশন মার্ক জুড়ে দিন।
ডিভাইস ব্যবহারের পর লক্ষ্য রাখা: আপনি যদি অন্য কারো কম্পিউটার বা ট্যাবলেট ব্যবহার করেন, তবে একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ জিনিস লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। আপনার পর যিনি সেটা ব্যবহার করবেন, তিনি যাতে আপনার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে না পারে সেটা খেয়াল রাখুন। আপনি যদি এটা করতে ভুলে যান, তাহলে ফলাফল ভয়াবহ হতে পারে।
যত্রতত্র ফোন, ইমেইল বা ঠিকানা না দেয়া
অচেনা কোনো মানুষ এই নম্বরগুলো জানতে চাইলে, আপনারা দেবেন না। দেখা যায় কোনো অফিস তাঁর কর্মীর কাছ থেকে এসব তথ্য চাইলে, অনেকেই স্বেচ্ছায় তা দিয়ে দেয়। বহু অফিস এ নিয়ে একটি প্রোফাইল তৈরি করে। আপনার কিন্তু এসব তথ্য না দেওয়ার অধিকার আছে। তাই আপনি যদি এতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করেন, তবে দেবেন না।
দুই স্তরের নিরাপত্তা ব্যবহার: এখন আর শুধু পাসওয়ার্ড দিয়ে নিজেকে নিরাপদ ভাবা ঠিক হবে না। প্রায় সময়ই পাসওয়ার্ড হ্যাক হতে দেখা যাচ্ছে। টু-স্টেপ অথেনটিকেশন বা ২
স্তরের নিরাপত্তা ব্যবহার করুন। এখন অনেক
ওয়েবসাইট বা সার্ভিস ২ স্তরের নিরাপত্তা দিচ্ছে। ২ স্তরের এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় ব্যবহারকারীকে তাঁর অ্যাকাউন্টে নিয়মিত পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পাশাপাশি লগ ইন করার সময় স্মার্টফোন ও ট্যাবে আরও একটি কোড ব্যবহার করতে হয়। এতে অতিরিক্ত একটি
স্তরের নিরাপত্তা পাওয়া যায়। তাই যতক্ষণ হাতে মোবাইল ফোন থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত আর কেউ অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারছে না সেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। অ্যাপল, গুগল, ফেসবুক, ড্রপবক্সের মতো অনেক সার্ভিসের ক্ষেত্রে ২
স্তরের এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া রয়েছে। নতুন কোনো যন্ত্রে যখনই লগ ইন করতে যাবেন, তখন পাসওয়ার্ড দেয়ার পর একটি গোপন কোড চাওয়া হবে। এটি কেবল আপনার ফোনে তৎক্ষণাৎ পাবেন। যদি হ্যাকার আপনার পাসওয়ার্ড জানে, তবে আপনার মোবাইলে আসা কোড না জানা পর্যন্ত অ্যাকাউন্ট হ্যাক করতে পারবে না।
স্মার্ট পাসওয়ার্ড ব্যবহার: যেসব অ্যাকাউন্ট বা ওয়েবসাইটে আপনার স্পর্শকাতর তথ্য রয়েছে, সেগুলোতে দীর্ঘ ও জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। অক্ষর, চিহ্ন, সংখ্যা প্রভৃতি মিলিয়ে পাসওয়ার্ড জটিল করে তুলুন। প্রতিটি ওয়েবসাইটের জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং পাসওয়ার্ড মনে রাখতে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করুন। এ ক্ষেত্রে লাসপাস বা পাসওয়ার্ড সেফ কাজে লাগতে পারে। প্রতি বছর অন্তত একবার পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।
এইচটিটিপিএস ব্যবহার: প্রতিটি ওয়েবসাইট ব্রাউজের সময় এইচটিটিপিএস ব্যবহার করুন। এইচটিটিপিএস ব্যবহার করতে এইচটিটিপিএস এভরিহোয়্যার টুলটি ব্যবহার করতে পারেন। এই টুলটি আপনার ব্রাউজারের সব তথ্য এনক্রিপ্ট করে। আপনি যদি অ্যাড্রেসবারে শুধু এইচটিটিপি ব্যবহার করেন, তবে যে কেউ আপনার ইন্টারনেট ব্রাউজের বিষয়ে নজরদারি করতে পারে।
ওয়াই-ফাই সেটআপ: ওয়াই-ফাই সেটআপের ক্ষেত্রে পাসওয়ার্ড দিন। ডিফল্ট পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন না। সিকিউরিটি এনক্রিপশন দেওয়ার বেলায় ডব্লিউপিএ-২ নির্বাচন করে দিন। বেশির ভাগ রাউটারে ওয়্যারড ইকুভ্যালেন্ট প্রাইভেসি (ডব্লিউইপি) বা ওয়্যারলেস প্রটেক্টেড অ্যাকসেস (ডব্লিউপিএ) ডিফল্ট আকারে দেওয়া থাকে। যেকোনো মূল্যে এ এনক্রিপশন বাদ দিন।
ওয়াই-ফাই অদৃশ্য করবেন না: আপনার হোম রাউটার সেটিংসের সময় আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ঐরফব ঃযব ঝঝওউ? আপনি যদি আপনার ওয়াই-ফাইকে আড়াল করার জন্য ইয়েস নির্বাচন করে দেন, তখন আপনার মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ হোম নেটওয়ার্ক খুঁজে পেতে সক্রিয়ভাবে স্ক্যান করতে থাকে। সংযোগ পেলেও সব সময় নেটওয়ার্ক পাওয়ার জন্য আপনার যন্ত্র স্ক্যান চালিয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি গোপন একটি প্রকল্পের ওয়াই-ফাই হ্যাকার বেন স্মিথ বলেন, নিরাপত্তার কথা ভাবলে এসএসডি লুকানোর মাধ্যমে আপনি নিজেকে ৫ বছর পুরনো প্রযুক্তির কাছে সমর্পণ করেন।
ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহারে সাবধান: বিমানবন্দর, বাস টার্মিনাল, কফি শপের মতো জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট লগ অনের সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কেননা এমন ওয়াই-ফাই সংযোগ ব্যবহারে সবচেয়ে সহজে পাসওয়ার্ড এবং ব্যক্তিগত তথ্য হ্যাক করা যায়। এমনকি হ্যাকাররা চাইলে ব্রাউজার হিস্টোরিতেও প্রবেশাধিকার পাবে। এ ঝুঁকি আরও প্রবল হবে অ্যাকাউন্ট লগ অনের সময় পাসওয়ার্ড সেইভ করে রাখলে। স্মার্টফোনে গুরুত্বপূর্ণ একাউন্টে ঢুকতে থ্রি-জি অথবা ফোর-জি সংযোগ ব্যবহার করলে অনেকটাই নিরাপদ থাকা সম্ভব।
ফোনের ওয়াই-ফাই বন্ধ রাখুন: সব সময় ফোনের ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ চালু রাখবেন না। হ্যাকারদের ঝোঁকই হচ্ছে এ ধরনের সুযোগ খোঁজা। সব সময় ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ চালু রাখলে অপরিচিত ব্যক্তিরাও ফোনের মধ্যে কী আছে, তা দেখার জন্য চেষ্টা চালায়।
সব সময় চালু রাখলে কী সমস্যা? সমস্যা হচ্ছে, আগে কোন কোন নেটওয়ার্কে আপনি সক্রিয় ছিলেন হ্যাকাররা তা জানতে পারেন। আগের সেই নেটওয়ার্কের সূত্র ধরে হ্যাকাররা প্রতারণার ফাঁদ পাতে। হ্যাকাররা আগের নেটওয়ার্কের ছদ্মবেশে নতুন নেটওয়ার্ক তৈরি করে আপনার ফোনকে আগের কোনো ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ নেটওয়ার্কে যুক্ত করার জন্য প্রলোভন দেখায়। একবার এই নেটওয়ার্কে ঢুকে পড়লে হ্যাকাররা ফোনে অসংখ্য ম্যালওয়্যার ঢুকিয়ে দেয় এবং আপনার অজান্তেই ফোন থেকে তথ্য চুরি, নজরদারির মতো কাজগুলো চালিয়ে যায়। তাই যখন প্রয়োজন থাকে না, তখনই ওয়াই-ফাই ও ব্লুটুথ বন্ধ রাখুন।
আক্রান্ত সাইট সম্পর্কে সচেতন হোন: কিছু নিবন্ধনবিহীন ওয়েবসাইট আছে, যেগুলো প্রলুব্ধকারী সফটওয়্যারের সাহায্যে তথ্য হাতিয়ে নেয়। এসব সাইটে হ্যাকাররা বিভিন্ন উৎসবে সক্রিয় হয়। অনলাইনে কোনো উপহার কেনার সময় হ্যাকাররা বিভিন্ন রকম বিজ্ঞাপন ও ছবি দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। তাই হ্যাকিং বা ভাইরাস আক্রান্ত না হতে এসব সাইট এড়িয়ে চলতে হবে। ব্রাউজারে অ্যাড ব্লকার ব্যবহার করতে হবে। অথবা পরিচিত ও জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে হবে।
ভুয়া অ্যাপস থেকে সাবধান: স্মার্টফোনে নতুন কোনো অ্যাপস ডাউনলোড করার সময় সতর্ক থাকা খুবই জরুরি। কেননা কাক্সিক্ষত অ্যাপসটির সঙ্গে অনেক ক্ষতিকারক অ্যাপসও জুড়ে দেওয়া হয়। এগুলো ভুলক্রমে ডাউনলোড হলে এর ক্ষতিকারক ম্যালওয়্যার ফোনের তথ্য চুরি বা নষ্ট করতে পারে। তাই এসব ক্ষতিকারক অ্যাপস থেকে বাঁচতে ইউজার রিভিউ ব্যবহার দেখে নিতে হবে। অথবা অ্যাপসনির্মাতা সম্পর্কে ভালোভাবে তথ্য যাচাই করে নিতে হবে।
আন্তর্জাতিক কল করতে সাবধানতা: ইন্টারনেট কানেকশনের মাধ্যমে অথবা মডেমের সাহায্যে আন্তর্জাতিক কল এখন প্রায় সবাই করেন। এমনটি করতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন অনেকেই। তবে এক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কেননা কিছু ওয়েবসাইট আছে যেখানে ডায়ালার অথবা ভিউয়ার নামে কিছু কন্টেন্ট ডাউনলোড করতে বলা হয়। এসব কন্টেন্ট ডাউনলোড করলে তা ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেবে এবং ফোন বিল কাটা শুরু করে দিবে। এ থেকে নিরাপত্তা পেতে ওসব প্রোগ্রাম ডাউনলোড থেকে বিরত থাকতে হবে। অথবা কম্পিউটারে এন্টি-ম্যালওয়্যার সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে।
ফিশিং থেকে সাবধান: ফিশিং তথ্য চুরির একটি পুরনো পদ্ধতি হলেও তা এখনও বেশ কার্যকর। এর মাধ্যমে ইমেইলে যেকোনো সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান অথবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা বিল পেমেন্ট সাইট থেকে ইমেইল আসে। এসব মেইল সম্পর্কে সতর্ক না থাকলে ব্যবহারকারীর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য যেমন : পাসওয়ার্ড, ক্রেডিট কার্ডের বৃত্তান্ত ইত্যাদি চুরি হতে পারে। এমনকি এসব মেইল আক্রান্ত সাইটগুলোর লিংকও বহন করে। তাই এসব মেইল সুরক্ষা পেতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সাবধানে সংরক্ষণ করতে হবে। যেকোনো মেইল ওপেন করার আগে পরীক্ষা করে নিতে হবে এবং সন্দেহ হলে প্রয়োজনে ইউআরএল স্ক্যান করতে হবে।
অনলাইন নিলাম এবং কেনাকাটায় সতর্কতা
অনলাইন নিলাম কিংবা শপিংয়ের ক্ষেত্রে ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র অথবা গেজেটের বিজ্ঞাপন দেয়া এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এতেও হ্যাকারদের ধোঁকাবাজিতে পড়তে পারেন অনেকেই। অনেক সময় মানহীন পণ্য গছিয়ে দেয়া কিংবা যে দাম লেখা আছে তার চেয়ে বেশি দর দেয়ার মতো ঝামেলায় পড়তে হতে পারে। এমনকি ক্রেডিড কার্ডও জালিয়াতির খপ্পরে পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে শুধু ক্রেতা নন, বিক্রেতাও ধোঁকা খেতে পারেন। এসব ঝামেলা থেকে বাঁচতে পণ্যটি সম্পর্কে আগে জেনে নিতে হবে। পারলে বিক্রেতার খোঁজ নেয়া এবং শুধু ইমেইল কিংবা পোস্ট অফিসের মাধ্যমে এসব পণ্য না কিনে সরাসরি কথা বলতে হবে।
ইন্টারনেট সুবিধার পণ্য কিনতে তড়িঘড়ি বাজারে ইন্টারনেট সুবিধার নতুন পণ্য এলে অনেকেই তা কেনার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতাপ্রতিষ্ঠানগুলো ইন্টারনেট সুবিধার নতুন পণ্য বাজারে আনার জন্য যেভাবে তড়িঘড়ি করে, প্রাইভেসি ও নিরাপত্তার বিষয়ে তত গুরুত্ব দেয় না। হ্যাকার স্ট্যানস্লাভ বলেন, ইন্টারনেট সুবিধার এমন পণ্য নিরাপদ এ কথা বলা হলেও আদতে তা নয়। তাই ইন্টারনেট সুবিধার নতুন পণ্যগুলো নিরাপদ কি না, তা দেখে কেনা উচিত।
কেনাকাটায় কার্ড নয় ক্যাশ: আপনি যদি চান আপনি যে পণ্যটি কিনছেন, সেই কোম্পানি আপনার পরিচয় না জানুক, তবে নগদ
অর্থে জিনিস কিনুন।
অনলাইন বিনিয়োগে সাবধানতা: অনেক সময় অনলাইনে কোনো কোম্পানির শেয়ার সম্পর্কে উল্টা-পাল্টা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়। এতে বিনিয়োগ করলে চরম ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বিনিয়োগের আগে কোম্পানির শেয়ার সম্পর্কে জেনে নিতে হবে।
নিজে খোঁজখবর না নিয়ে অথবা কারো তথ্যে বিশ্বাস করে বিনিয়োগ করলে ধোঁকাবাজদের হাতে অর্থ তুলে দিতে হতে পারে।
চাকরি সংক্রান্ত ধোঁকাবাজি: চাকরির বিষয়টি খুবই নাজুক একটি বিষয়। বেকাররা সব সময় যেকোনো উপায়ে কাজ পেতে চায়। এ সুযোগটিই নেয় একটি সুযোগসন্ধানী চক্র। কখনও দেশি বা বিদেশি কোম্পানিতে নিয়োগের কথা বলে সরাসরি অর্থ (অগ্রিম ফিস, গ্যারান্টি বা জামানত) দাবি করা হয়। আবার কখনও বিদেশে চাকরির নামে অর্থ দাবি করা হয়। এসব ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কোম্পানির বিষয়ে ঠিকভাবে না জেনে অর্থ দিলে চক্রটি চাকরি দেওয়ার পরিবর্তে অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেবে।
ক্লিক স্ক্যাম: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অথবা অনলাইন সাইটে গেইম বা ড্যান্সিং/জাম্পিং অপশনে ক্লিক করতে বলা হয়। ভুলেও এসব অপশনে ক্লিক করা যাবে না। কেননা এগুলো ব্যক্তিগত তথ্য সকলের কাছে ছড়িয়ে দেবে অথবা কম্পিউটারে থাকা বিভিন্ন তথ্য চুরি করে নেবে।
হিস্ট্রি এবং কুকিস মুছে ফেলুন: আপনি সর্বশেষ কবে এটা করেছেন? আপনি যদি নিশ্চিত না হন, ব্রাউজারে গিয়ে এটা পরিবর্তন করুন। ব্রাউজারের প্রাইভেসি সেটিংস-এ যান, সেখানে নেভার রিমেমবার হিস্ট্রি নির্বাচন করুন। এর ফলে ইন্টারনেটে আপনাকে ট্র্যাক করাটা হ্যাকারদের জন্য কঠিন হবে। এছাড়া আপনি অ্যাড অনও ব্যবহার করতে পারেন।
হ্যাকারদের হাত থেকে বাঁচার উপায় ভালো বলতে পারেন। তবে তাদের মতো চিন্তা করতে পারলে আপনিও নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন। কথায় আছে, ঞযব ভরৎংঃ ংঃবঢ় রহ ষবধৎহরহম যড়ি ঃড় ঢ়ৎড়ঃবপঃ ধহফ ফবভবহফ ভৎড়স যধপশবৎং রং ঃড় ঃযরহশ ষরশব ড়হব। খোদ হ্যাকারদেরই দেওয়া এই পরামর্শগুলো মেনে চললে আপনি অনলাইনে সুরক্ষিত থাকবেন বলে আশা করি। আপনার মনে হতে পারে আপনার তথ্য আইডি তো হ্যাক হচ্ছে না। তাহলে কেন এত সাবধানতার দরকার! সাবধান থাকতে সমস্যা তো নেই। যদি হ্যাক হয়ে যায় তাহলে কিছুই করার থাকবে না। তাই সাবধান থাকা ভালো।
লেখক: প্রযুক্তিপ্রেমিক ও পরামর্শক