প্রতিবেদন

২০২১ সালে মেট্রোরেলের যাত্রা শুরু: যোগাযোগ ব্যবস্থায় আধুনিকতার ছোঁয়ায় যানজটমুক্ত হবে ঢাকা

শাহিনা মনি : ‘যানজট’ আর ‘ঢাকা’ যেন সমার্থক দুই শব্দ। ঢাকায় যানজটের বাস্তবতা এমন এক পর্যায়ে চলে গেছে যে, কেউ তার যাত্রার সময়টি নিশ্চিত করে বলতে পারলেও নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছার সময়টা বলতে পারেন না। ঢাকার যানজট সমস্যাকে সহনীয় পর্যায়ে আনতে ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস-ওভারপাস, ইউলুপ, লেন, রাস্তা প্রশস্তকরণ Ñ সব মিলিয়ে কতো রকম ব্যবস্থা যে নেয়া হয়েছে তার সঠিক হিসাব পাওয়াটাও এখন কঠিন। তাছাড়া রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও শৃঙ্খলা আনয়নে নেয়া হচ্ছে নানামুখী পদক্ষেপ। পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশের নিরলস প্রচেষ্টা সত্ত্বেও যানজট দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ পাচ্ছে না মানুষ। দিন দিন পরিস্থিতি ক্রমাবনতির দিকেই যাচ্ছে! আর এই অসহনীয় অবস্থায় যখন রাজধানীবাসীর নাকাল হওয়ার দশা, তখনই স্বস্তির সংবাদ হিসেবে শেখ হাসিনার সরকার সামনে নিয়ে আসে স্বপ্নের মেট্রোরেল প্রকল্প।
একটি সমীক্ষার তথ্যানুযায়ী, ঢাকায় যানবাহনের গড় গতিসীমা ঘণ্টায় মাত্র পাঁচ কিলোমিটার। অর্থাৎ ক্ষেত্রবিশেষে গতিসীমা হাঁটার গতির চেয়েও কম। পথ চলার এই অনিশ্চয়তা ও অচলতা থেকে মানুষকে মুক্তি দিতেই মেট্রোরেলের মতো এমন বড় প্রকল্পের কর্মযজ্ঞে নেমে পড়েছে সরকার। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদেরও আশাবাদ, মেট্রোরেল নগরবাসীকে খুব কম সময়েই গন্তব্যে পৌঁছে দেবে। নগরজীবনে বয়ে আনবে ভিন্ন মাত্রা, যোগ করবে গতি। মানুষের জীবনযাত্রার যেমন উন্নয়ন হবে তেমনি প্রাচীন শহর ঢাকার মর্যাদাও কিছুটা নিশ্চয়ই বাড়বে।
একসময় মেট্রোরেলকে স্বপ্ন মনে করা হতো। বিশেষ করে বিপুল অংকের অর্থের প্রয়োজনীয়তা সামনে এলে এ প্রকল্পটিকে স্বপ্ন ভাবাটাই যেন যৌক্তিক মনে হতো। কিন্তু শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বের ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়নে অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশের সামনে মেট্রোরেল এখন দৃশ্যমান বাস্তবতারই অপর নাম। ২০২১ সালের মধ্যেই এই প্রকল্প পুরোপুরিভাবে শেষ হবে Ñ এমন আশায় দিন গুনছেন নির্মাণকাজ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এরই মধ্যে কিছু এলাকায় পিলার দাঁড়িয়ে তার ওপর স্প্যান উঠে জানান দিচ্ছে স্বপ্ন বাস্তবায়নের বার্তা।
ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (ডিএমআরটিডিপি) বা মেট্রোরেল প্রকল্পের দৈর্ঘ্য হবে উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার। এই প্রকল্পে ২৮ সেট ট্রেন চলাচল করবে। প্রত্যেকটি ট্রেনে থাকবে ৬টি করে কার। ঘণ্টায় ১ শ’ কিলোমিটার বেগে ছুটবে
যাত্রী নিয়ে। উভয় দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহনসক্ষমতা থাকবে মেট্রোরেলের।
প্রকল্পের উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭ কিলোমিটারে ৯টি স্টেশন থাকবে। এগুলো হচ্ছে উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া ও আগারগাঁও। আর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত বাকি ৮ দশমিক ৪ কিলোমিটারে স্টেশন থাকবে ৭টি। এগুলো হলো বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, টিএসসি, জাতীয় প্রেসক্লাব ও মতিঝিল (বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে)।
প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএন সিদ্দিক জানান, ২৪ ঘণ্টাই শিফট আকারে মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ চলছে। বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যেই মেট্রোরেলের কাজ সম্পন্ন হবে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে উত্তরা-মতিঝিল পুরো রুট খুলে দেয়া হবে।
রাজধানীবাসী যখন এই মেট্রোরেলের শীতল হাওয়া গায়ে মাখছে তখন আরও দু’টি মেট্রোরেল বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখাচ্ছে সরকার। এর একটি হবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার পাশ দিয়ে বাড্ডা-রামপুরা হয়ে কমলাপুর পর্যন্ত। এই লাইনের একটি অংশ বসুন্ধরার পাশ দিয়ে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত চলে যাবে, যা পুরোটাই হবে এলিভেটেড। তবে কমলাপুর পর্যন্ত যে লাইন যাবে তার ১৬ কিলোমিটার হবে পাতাল রেল ফরম্যাটে। অর্থাৎ রেল চলবে মাটির নিচ দিয়ে। এ লাইনে কমলাপুর পর্যন্ত স্টেশন থাকবে খিলক্ষেত, কুড়িল, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা গেট, বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ, রাজারবাগ ও কমলাপুর। আর পূর্বাচলের দিকে সম্ভাব্য স্টেশন থাকবে বসুন্ধরা, পূর্বাচল, পশ্চিম পূর্বাচল সেন্টার ও পূর্বাচল টার্মিনাল।
অন্য মেট্রোরেল প্রকল্পটি হবে সাভারের হেমায়েতপুর থেকে গুলশান-নতুনবাজার-ভাটারা পর্যন্ত। এটির দৈর্ঘ্য হবে ১৯ কিলোমিটার। এ লাইনটির একাংশ হবে মাটির নিচ দিয়ে।

মেট্রোরেল: কী উপকার পাবে রাজধানীবাসী?
মেট্রোরেল চালু হলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে। চোখের পলকে ছুটবে ট্রেন। উত্তরা থেকে মতিঝিল আসতে সময় লাগবে মাত্র ৩৭ মিনিট। ৩-৫ মিনিট অন্তর অন্তর ছাড়বে এসি ট্রেন। সম্পূর্ণ এলিভেটেড মেট্রোরেলে প্রতি ঘণ্টায় উভয় দিকে ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা থাকবে। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত থাকবে ১৬টি স্টেশন। সাড়ে ৩ মিনিট অন্তর অন্তর ট্রেন থামবে। থাকবে আধুনিক রেলস্টেশন। চলন্ত সিঁড়ি দিয়ে রাস্তা থেকে স্টেশনে প্রবেশ করা যাবে। ‘প্রিপেইড কার্ড’ দিয়ে ট্রেনের ভাড়া পরিশোধ করতে পারবেন যাত্রীরা। আবার টিকিট কেটে ভ্রমণেরও সুযোগ থাকবে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলবে প্ল্যাটফর্মের প্রবেশদ্বার। বিদ্যুতে চলবে দ্রুত গতিসম্পন্ন এই ট্রেন।

যেভাবে এগিয়ে চলছে কাজ
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানির সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে মেট্রোরেলের সার্বিক গড় অগ্রগতি ২৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ। আর প্রথম পর্যায়ে নির্মাণের জন্য নির্ধারিত উত্তরা তৃতীয় পর্ব থেকে আগারগাঁও অংশের অগ্রগতি ৪০ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এই অংশের কাজ শেষ হয়ে গেলে রেল ও বিদ্যুতের লাইন স্থাপন করা হবে। এরপর রেল ট্রায়াল পর্যায়ে থাকবে। অন্যদিকে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেয়াও চলমান থাকবে। এরপর সবকিছু সেরে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন বর্ষ ২০২১ সালের বিজয় দিবসে বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেলের সম্পূর্ণ অংশ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তখন উত্তরা তৃতীয় পর্ব থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার উড়াল রুট সম্পূর্ণভাবে খুলে দেয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জনদুর্ভোগ কমাতে রাস্তার দু’দিকে দু’টি করে চারটি লেন খোলা রাখা হয়েছে। মাঝে মিডিয়ান ঘিরে কাজ চলছে। সড়কে যাতে ধূলোবালি না ওড়ে সেজন্য হার্ড ব্যারিয়ার (কংক্রিট ও লোহার বেড়া) স্থাপন করা হয়েছে। নিয়মিত পানিও ছিটানো হচ্ছে। তাছাড়া মাটি খননের সময় যেসব মাটি ওঠে সেগুলো বক্সে তুলে উত্তরায় একটি ডাম্পিং সাইটে নিয়ে ফেলা হয়। দুর্ঘটনা এড়িয়ে নির্বিঘেœ কাজ করতে নিরাপত্তার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় ‘হার্ড ব্যারিয়ার’ ব্যবহার করা হচ্ছে। এর উপরে দেয়া হয়েছে কাঁটাতারের ব্যারিকেড। ফলে নির্মাণকাজের সময় ধূলোবালি বা নির্মাণসামগ্রী নির্ধারিত এলাকার বাইরে যাচ্ছে না। এই পদ্ধতি অনুসরণ করায় সফলতা পাওয়া যাচ্ছে। প্রকল্প এলাকায় ভোগান্তি খুব সামান্য বললেই চলে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে মেট্রোরেলের কোচ কেনার জন্য জাপানি প্রতিষ্ঠান কাওয়াসাকি মিৎসুবিসি কনসর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে।
চলন্ত সিঁড়ি বেয়ে প্ল্যাটফর্মে পৌঁছানো যাবে
জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাস্তার মাঝ বরাবর উড়াল পথের (ভায়াডাক্ট) ওপর স্থাপিত ডাবল রেললাইন থাকবে। ৬ মিটার চওড়া এই উড়ালপথে উভয়দিক থেকে ট্রেন চলাচল করতে পারবে। রাস্তার ওপর ঝুলন্ত স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য হবে ১৭০ মিটার। নিচতলায় হবে টিকিট কাউন্টার ও স্বয়ংক্রিয় প্রবেশদ্বার। চলন্ত সিঁড়ির মাধ্যমে যাত্রীরা প্ল্যাটফর্মে পৌঁছবেন। ইলেকট্রিক ট্রেন চলবে বিদ্যুতের সাহায্যে। প্রতি সাড়ে ৩ মিনিট পর ট্রেন স্টেশনে থামবে।

চলবে ২৮ জোড়া ট্রেন
পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর মোট ২৮ জোড়া মেট্রোরেল চলাচল করবে রাজধানীতে। রাস্তার মাঝ বরাবর ওপর দিয়ে উত্তরা থেকে শুরু হয়ে মিরপুর-ফার্মগেট হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত যাবে এই মেট্রোরেল। প্রতি মেট্রোরেলে ৬টি কোচ থাকবে। প্রতি বর্গমিটারে ৮ জনের হিসাবে ব্যস্ততম সময়ে ১ হাজার ৮০০ যাত্রী চলাচল করতে পারবেন। মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা লাগছে; যার ১৬ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকাই দিচ্ছে জাইকা। বাকি ৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকার জোগান দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছর ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যানজট নিরসনে বহুল কাক্সিক্ষত প্রকল্প মেট্রোরেল চালু হবে বলে নিশ্চিত করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ২৯ মে মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পের আগারগাঁও সাইট অফিসে নির্মাণকাজের অগ্রগতি নিয়ে এক সভা শেষে এ তথ্য জানান তিনি। মন্ত্রী জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দেশের প্রথম মেট্রোরেলের সম্পূর্ণ অংশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, মেট্রোরেলের পূর্ত কাজ শেষ হবে আগামী বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে। আর ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে সম্পূর্ণভাবে উদ্বোধন করা হবে।
উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার পথ যাত্রীদের ৩৮ মিনিটে পৌঁছে দেয়ার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় মেট্রোরেল রুট-৬ এর নির্মাণযজ্ঞ শুরু হয় ২০১৬ সালের জুন মাসে। জাপানি সহায়তায় প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশের কাজ শেষ করে ২০২০ সালের শেষ দিকে নগরবাসীর জন্য মেট্রোরেল উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা থাকলেও এখন সেই সময় প্রায় ১ বছর পিছিয়ে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মেট্রোরেল রুট-৬ পুরোপুরি চালু হওয়ার আশার কথা জানান মন্ত্রী।
সূত্র জানায়, মেট্রোরেল প্রকল্পের রেল ও বিদ্যুতের লাইন বিদেশ থেকে এসে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে গেছে। ভায়াডাক্ট নির্মাণের পর রেল ও বিদ্যুতের লাইন বসানোর কাজ শুরু করা হবে। রেললাইনের উপরে কোচও বসানো হবে। লাল-সবুজের প্রাধান্য থাকবে কোচে। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত কোচ ট্রায়াল দেয়া হবে। নারীদের জন্য পৃথক কোচের ব্যবস্থা থাকার কথাও জানান সংশ্লিষ্টরা।
সড়ক মন্ত্রী জানান, ২০৩০ সাল নাগাদ মেট্রোরেলের ৬টি রুটের কাজ শেষ হবে। তখন যানজটের ভোগান্তি অনেকটা কমে আসবে বলে আশা করা যায়। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর ২০ কিলোমিটার এমআরটি লাইন-১ এর কাজ শিগগিরই শুরু করা হবে। এ রুটেই দেশের প্রথম পাতাল রেল বা আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল হতে যাচ্ছে।