ফিচার

চাকরি জীবনের ১০টি সম্পদ

স্বদেশ খবর ডেস্ক
সম্পদ হারালে বোঝা যায় তার মূল্য। চাকরিও এখন সম্পদের চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়। তবে চাকরি ও ব্যক্তিবিশেষে এই সম্পদের পার্থক্য রয়েছে। তারপরও সাধারণ কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো চাকরিজীবনে সবার েেত্রই মূল্যবান সম্পদ হিসেবে পরিগণিত হতে পারে। এজন্য চাকরি হারানোর আগেই তার যথার্থ মূল্য দেয়া চাই। চলুন দেখে নিই চাকরিজীবনের দশটি সম্পদ কী কী…

নিজেকে এগিয়ে নেয়ার বিরামহীন চেষ্টা
নিজেকে সবসময় আপডেট করার চেষ্টা করতে হবে। এটা এমন এক সম্পদ, যা আপনার জীবনকে দারিদ্র্যের কষাঘাত থেকে মুক্তি দিতে পারে। হাল ছাড়া যাবে না। যেদিন আপনি হাল ছেড়ে দেবেন, সেদিন থেকে এই সম্পদেরও বিলুপ্তি ঘটতে শুরু করবে। যার পেশাগত দতা নেই, অভিজ্ঞতা নেই, তাকে দিয়েও কাজ চালানো যেতে পারে, কিন্তু যার দ হওয়ার আগ্রহই নেই, তার সবই শেষ। এজন্য সবসময় আত্মউন্নয়ন ঘটাতে চেষ্টা চালিয়ে যান।

ব্যাখ্যা করার সমতা
একের পর এক চেষ্টা চালিয়ে গেলেই হবে না, থাকতে হবে বিশ্লেষণ করার মতা। চেষ্টার সঙ্গে যখন আপনার বুদ্ধির যোগ হবে তখন যেকোনো কঠিন কাজও সহজেই করে ফেলতে পারবেন আপনি।
আপনার চারপাশে কী ঘটছে, কেন ঘটছে, ঘটনাগুলোর মধ্যে সম্পর্ক কী, এখানে আপনার কোনো ভূমিকা আছে কি না তা সবসময় জানতে চেষ্টা করুন। হাজারো ভাবনায় মনটাকে ব্যতিব্যস্ত রাখুন। দেখবেন একসময় ঠিকই বেরিয়ে আসবে যেকোনো জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলার করার উপায়। চাকরিজীবনে কোনো উদ্যোগের সারমর্মে আগে থেকেই পৌঁছতে পারা অনেক বড় সম্পদ।

দ্রুত হিসাব মিলাতে পারা
এই হিসাব অংকের যোগ, বিয়োগ, ভাগ কিংবা শতকরা হিসাব নয়। এটা কমবেশি সবাই জানেন। কিন্তু মুখে মুখেই দ্রুত কোনো হিসাব বের করতেও এগিয়ে থাকেন অনেকে। যেন তাদের মস্তিষ্কের কাছে ক্যালকুলেটরও হার মানবে। এই হিসাব করতে পারার মতাটাও কিন্তু বড় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয় চাকরিজীবনে। অনেকেই এটাকে জন্ম থেকে পাওয়া মতা হিসেবে জাহির করে আপনাকে নিরাশ করতে পারেন। কিন্তু চেষ্টায় কী না হয়। চেষ্টা করে দেখুন। একসময় আপনিও পারবেন।

ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা
লোকে বলে, সম্পর্কেই সব। মামা থাকলে যে চাকরির অভাব হয় না কথাটি বোধহয় এ কারণেই মানুষ বলে। আমরা সামান্য কারণেই মানুষের সঙ্গে সম্পর্কটা নষ্ট করে ফেলি। তারপর বিপদে পড়লেও তাদের দ্বারস্থ হই না। কোন সম্পর্ক বিপদে কাজে দেবে আর কোন সম্পর্ক আপনার বোঝা হয়ে থাকবে, সেটা বোঝাও এক বড় সম্পদ। ভালো সম্পর্কের সদ্ব্যবহার আপনাকে অনেক শক্তিশালী করতে পারে। সবার সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করুন। তবে একজন যোগ্য শিক এবং একজন ভালো বন্ধুকে সবসময় সামনে রাখুন। দুর্দিনে গুরুর পরামর্শ আর বন্ধুর সাহায্যের কোনো বিকল্প নেই।

নেতৃত্ব দিতে শিখুন
অলসতা করে পিছিয়ে থাকবেন না। বেশি কাজ করতে হবে ভেবে অনেকেই নেতৃত্ব দিতে চান না। নিজেকে হারিয়ে ফেলতে এরচেয়ে সহজ পথ আর নেই। মনে রাখবেন, যে বেশি কাজ করে বেশি পাওয়ার অধিকারটাও তারই। একজন ভালো নেতা হতে শিখুন। নেতৃত্ব এমন এক সম্পদ, যা শুধু আপনাকে ওপরে তোলে না, গোটা প্রতিষ্ঠানকে উন্নতির শিখরে টেনে নিয়ে যায়। আজ থেকেই নেতৃত্ব দেয়া শুরু করুন।

পেশাগত জ্ঞান ও দতাকে ঝালিয়ে নিন
আমাদের চাকরিজীবনে অনেকেই ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করে এসে যোগ দিতে হয়। আপনার যত গুণই থাক না কেন, আপনি যে পেশা বা বিভাগে কাজ করছেন, সে-সংক্রান্ত জ্ঞান ও দতা আপনার সেরা সম্পদ। এজন্য আপনার কাজের ত্রে সম্পর্কে যতদূর দতা অর্জন করা সম্ভব, সেই চেষ্টা অব্যাহত রাখুন। পাশাপাশি অফিসে আপনার কী কী সেবা পাওয়ার সুযোগ আছে এবং অফিসকে আপনার কী কী দেয়ার আছে সে বিষয়ে জেনে নিন। সে অনুযায়ী নিজের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করুন।

যোগাযোগ করার মতা
তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে যোগাযোগ রাখাটা এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ। বলা হয়, যিনি যোগাযোগে দুর্বল তিনি সবচেয়ে দুর্বল। যোগাযোগের জন্য ভাষাজ্ঞান, শব্দজ্ঞান, প্রয়োগজ্ঞান ও কমন সেন্স থাকা দরকার। বাংলা, ইংরেজিতে যার লিখিত ও কথ্য উভয় েেত্রর যোগাযোগই ভালো, তিনি অনেক বড় সম্পদের অধিকারী। যারা যোগাযোগ করতে পারেন এবং মানুষকে বোঝাতে পারেন তারাই সুযোগগুলো সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেন। এজন্য প্রতিনিয়ত যোগাযোগ বাড়ানোর দতা বৃদ্ধিতে মনোযোগ দিন।

শৃঙ্খলা
জীবনে উন্নতির জন্য শৃঙ্খলা আরেকটি বড় সম্পদ। অথচ এটাকেই কিনা মানুষ সবচেয়ে বেশি অবহেলা করে। চাকরিতে নিজের উন্নতির জন্য শুধু কাজের শৃঙ্খলা নয়, ভাবনার শৃঙ্খলাও জরুরি। শৃঙ্খলা পরিকল্পনারই পূর্বশর্ত। যে যত শৃঙ্খলাবদ্ধ, তিনি তত বেশি পরিকল্পনানির্ভর। সম্পদগুলো এভাবেই সাফল্যের পথে সিঁড়ির মতো ধাপে ধাপে সাজানো। এক বা একাধিক ধাপ বাদ দিয়ে চূড়ায় যাওয়া কঠিন। এজন্য শৃঙ্খলা বজায় রাখুন। এগিয়ে যাওয়ার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হোন।

প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকা
নিজেকে এগিয়ে রাখার প্রতিযোগিতায় চাই প্রতিজ্ঞা। নিজের কাছে, প্রতিষ্ঠানের কাছে এই প্রতিজ্ঞা অমূল্য সম্পদ। আজ যে কাজটি করতে পারলেন না আগামীতে সেটা করে দেখানোর জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হোন। প্রতিজ্ঞা অনেক সময় কাজকে সহজ করে দেয়। এটা দৃঢ়তার প্রতীক আর সবার আস্থার ভা-ার। যিনি কথার কোনো নড়চড় করে না তার প্রতি অফিসের সবার আস্থা বেশি।

অফিস পলিটিকস
নিজেকে এগিয়ে রাখার দৌড়ে সচেতন থাকতে হবে নিজেকেই। অন্যকে হয়ত আপনি ঠকাতে চান না কিন্তু অন্যরাও যেন আপনাকে ঠকাতে না পারে সেজন্য সচেষ্ট থাকুন। তার জন্য দরকার অফিস রাজনীতি। জীবনের মতো চাকরিতে কাঁটা বিছানো থাকে। যত ওপরে উঠবেন, তত বিপদ। সব সম্পদ থাকার পরও একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে অফিস রাজনীতির পিচ্ছিল পথে পা ফসকাতে পারে। ফলে রাজনীতি না করুন, রাজনীতি বুঝুন। এর সঙ্গে আপনার ভাবনাশক্তির প্রয়োগ ঘটান। এই অভ্যাস ও চেষ্টাই আপনার পথ পরিষ্কার রাখবে।