ফিচার

ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে চান?

ত্বকে তারুণ্যের ভাব ধরে রাখতে কে না চায়? এ কাজে অ্যান্টি এজিং ট্রিটমেন্ট অনেক উপকারী। ত্বক চর্চার এই ট্রিটমেন্টের নানা দিক নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন শোভন মেকওভারের রূপবিশেষজ্ঞ শোভন সাহা।
বয়স ত্রিশ পেরোলেই ত্বকে কিছু পরিবর্তন আসে। তারুণ্যের রূপ-লাবণ্যের জৌলুস কমতে শুরু করে। বয়স বাড়তে থাকলে বলিরেখা পড়াটাকে স্বাভাবিক বলেই মনে করেন চিকিৎসকরা। তবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন অনেকেই। বিশেষ করে ত্বক নিয়ে যাদের মধ্যে খুঁতখুতে ভাব তারা একটু ভড়কে যান। তাদের জন্য সহজ সমাধান অ্যান্টি এজিং ট্রিটমেন্ট। চেহারায় টান টান লাবণ্য ধরে রাখতে চাইলে বয়স ত্রিশের আশপাশে গেলেই শুরু করতে পারেন অ্যান্টি এজিং।
ত্বক চর্চার এই ধারণাটি এখনও আমাদের দেশে তেমন একটা পরিচিত হয়ে ওঠেনি। বরং এর চেয়ে লেজার ট্রিটমেন্ট অনেকের কাছে বেশি পরিচিত। কিন্তু ছুরি-কাঁচির নিচে নিজেকে সঁপে দিতে যারা ভয় পান তাদের জন্য আছে অ্যান্টি এজিং। এর কয়েক রকম প্রকারভেদ রয়েছে। তবে সবগুলোরই মূল ল্য ত্বকে তারুণ্যের ভাব ধরে রাখা। যাঁরা তারুণ্য ধরে রাখতে চান, তাঁরা অনায়াসে বেছে নিতে পারেন এই সেবা।
তবে সবচেয়ে ভালো হয় একটু আগেভাগে শুরু করলে। তাতে ভালো ফল পাওয়া যায়। বয়স ত্রিশের কোঠায় পৌঁছলেই অ্যান্টি এজিং শুরু করা জরুরি। এতে ত্বকে বয়সের ছাপ লুকানো সহজ হয়। বয়স হলে ত্বকে বলিরেখা পড়তে শুরু করে। চোখের নিচে বয়সের ছাপ পড়া সমস্যা শুরু হয়। এগুলো থেকে মুক্তি পেতে চাইলে অ্যান্টি এজিং উপকারী।
মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধ মতাও কমতে থাকে। বয়স বাড়ার চিহ্ন বিভিন্নভাবে আমাদের ত্বকে, চোখে, মুখে ও চুলে প্রকাশ পায়। চামড়ায় ভাঁজ পড়তে শুরু করে। কোলাজেন ও ইলাস্টিন নামের প্রোটিন ত্বককে টান টান করে ধরে রাখতে সহায়তা করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোলাজেন ও ইলাস্টিন ধীরে ধীরে য় হতে থাকে। ফলে ত্বকে দেখা দেয় শুষ্ক ভাব, গড়ে ওঠে ভাঁজ, যাকে বলিরেখা বলা হয়। একটি গাছের যতœ নিলে যেমন সতেজ থাকে, আমাদের ত্বকও অনেকটা সে রকম। গাছের মতো আমাদের ত্বকেরও যতœ এবং পুষ্টি দরকার। এতে ত্বকও অনেক সুন্দর থাকে। ত্বকে টান টান ভাবটা বজায় থাকে। অ্যান্টি এজিংয়ের কাজটাও অনেকটা একই রকম। এই ট্রিটমেন্ট ত্বককে ভেতর থেকে সুন্দর করে তোলে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে। এ সময় ভেতর থেকে ত্বক আর্দ্র করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। অ্যান্টিং এজিংটা হাইড্রেশন বেজড হতে হবে। এটা ত্বককে কোমল করে তোলে। চামড়া শক্ত হয়ে গেলে বা ভাঁজ পড়লে সেটাকে কোমল করে হাইড্রেশন প্রক্রিয়া। পরের ধাপ কোলাজেন মাস্ক। এটি এক ধরনের প্রোটিন ট্রিটমেন্ট। এরপর ত্বকের যতেœ বিভিন্ন ধরনের প্যাক লাগানো হয়। কার কেমন ত্বক, তার ধরন বুঝে বিউটি এক্সপার্ট বেছে নেন প্যাক। এ েেত্র বিভিন্ন ধরনের ফলের নির্যাস থেকে তৈরি প্যাক অ্যান্টি এজিং ট্রিটমেন্টে বেশি উপকার দেয়।
এর সঙ্গে কিছু সু-অভ্যাস ত্বকে বয়সের ছাপ লুকাতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যায়াম, পুষ্টিকর খাবার, বিশেষ করে ফল ও শাকসবজি প্রতিদিন খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান, পরিমিত ঘুম। জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের এমন কৌশল শরীরকে যেমন রোগমুক্ত রাখে, তেমনি ত্বকও সুস্থ ও সতেজ রাখবে।
পাশাপাশি কিছু বদঅভ্যাসও দূরে ঠেলে রাখতে হবে। মুখ ও কপাল কুঁচকে ভঙ্গি করা থেকে বিরত থাকুন। সূর্যের তিকর রশ্মি থেকে দূরে থাকুন। জাঙ্কফুড ও ধূমপান পরিহার করুন। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা থেকে দূরে থাকতে হবে।
অ্যান্টি এজিং একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। রাতারাতি এর ফলাফল বোঝা খুব কঠিন। অ্যান্টি এজিং ট্রিটমেন্ট যিনি নিচ্ছেন, তাঁর পওে প্রথম দিকে এটা শুধু ত্বকের যতœ বলেই মনে হতে পারে। কেউ একবার-দুবার নিয়ে ছেড়ে দিলেই হবে না। নিয়মিত বিরতিতে ট্রিটমেন্ট করাতে হবে। পরে ধীরে ধীরে একসময় ত্বকের বলিরেখা মুছে যেতে শুরু করবে। যতদিন অ্যান্টি এজিং ট্রিটমেন্ট ধরে রাখা যাবে, ততদিন ফল পাওয়া যাবে।

কেমন খরচ
অ্যান্টি এজিং ট্রিটমেন্টের কয়েক রকমের প্যাকেজ পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে মিল রেখে অ্যান্টি এজিং ট্রিটমেন্ট করাতে প্রতিটি সেশনের খরচ পড়বে ১০ হাজার টাকা। এর বাইরের অন্যান্য সেশনের খরচ ৩ হাজার টাকা থেকে শুরু। তবে অ্যান্টি এজিং ট্রিটমেন্টে ব্যবহৃত কসমেটিকসহ পণ্যের দামের ওপরও অনেক সময় খরচ কমবেশি হতে পারে।