ফিচার

ট্রেনের টিকিট এখন হাতের মুঠোয়!

তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে মানুষের জীবনযাত্রা আগের তুলনায় এখন অনেক সহজ হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অনেক জটিল কাজ এখন অনায়াসে করা যায়, যা মানুষের হাতের মুঠোয় এসে গেছে। এ রকম একটি জটিল কাজই তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে। বলছিলাম ঘরে বসে ট্রেনের টিকিট প্রাপ্তির কথা। স্টেশনের কাউন্টারে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ট্রেনের টিকিট কাটার দিন বুঝি ফুরোল। এখন ঘরে বসেই ট্রেনের টিকিট কাটা যাবে বাংলাদেশ রেলওয়ের অ্যাপে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন শাকিল রানা।

নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক বাহন হিসেবে বিমানের পর ট্রেনকেই মানুষ বেশি পছন্দ করে। বিশেষ করে সড়কপথের নানা ঝক্কিঝামেলা এড়াতে সাধারণ মানুষ ট্রেনকেই বেছে নিতে চায়। তবে ট্রেনযাত্রার প্রতি মানুষের অধিক আগ্রহের কারণে ট্রেনের টিকিট প্রাপ্তির ব্যাপারটি এতদিন ছিল বেশ ঝামেলার; এখন এ জটিল কাজটি অত্যন্ত সহজ করে দিয়েছে রেলওয়ে অ্যাপ। আগে ট্রেনে যাতায়াত করার জন্য ট্রেনের টিকিট পাওয়াটা ছিল বেশ কঠিন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় নির্ধারিত দিন ও সময়ের টিকিট পাওয়া যেত না। আগেভাগে না গেলে অনেক সময় টিকিটও মিলত না। এজন্য সময়ও খরচ হতো বেশ। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়ে ‘রেলসেবা’ নামের অ্যাপটি চালু করার পর অতি ব্যস্ত মানুষদের আর কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। তাদের এখন আর টিকিট কাটার জন্য রেলস্টেশনে গিয়ে ভিড় করতে হয় না। তারা ঘরে বা অফিসে বসেই ‘রেলসেবা’ অ্যাপ ব্যবহার করে পছন্দমতো ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র থেকে জানা যায়, সম্প্রতি চালু হওয়া রেলসেবা অ্যাপটি ব্যবহার করে বাংলাদেশ রেলওয়ের ১১ ধরনের সেবা পাওয়া যাবে। এসবের মধ্যে থাকছে টিকিট কেনা, গন্তব্যের ভাড়া জানা, টিকিটপ্রাপ্তি সম্পর্কে জানা, রুট জানা, সময়সূচি, ট্রেনভিত্তিক বিরতি স্টেশনের নাম ও সময়, নিজের ভ্রমণ ইতিহাস জানা, কোচ ভিউ, গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের নাম, ট্রেনের ক্যান্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং খাবার কেনা।
এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন স্বদেশ খবরকে বলেন, এই অ্যাপে এখন থেকে ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রি হবে। এখন ঘণ্টায় ১৫ হাজার টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে, পরে এই সংখ্যা আরো বাড়বে। গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে। বর্তমানে শুধু অ্যানড্রয়েড সংস্করণে পাওয়া যাবে অ্যাপটি। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিগগিরই আইওএস সংস্করণও আনা হবে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন অ্যাপ
অ্যাপটি ডাউনলোডের পর ইনস্টল করতে হবে। অ্যাপটি চালু করলে লগইন অপশন দেখা যাবে। এরপর অ্যাপে নিবন্ধন করতে হবে। তবে আগেই যদি বাংলাদেশ রেলের ই-সেবা ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করা থাকে, তাহলে সেই আইডি ব্যবহার করেও অ্যাপটিতে লগইন করা যাবে। নতুন করে নিবন্ধনের জন্য সাইন আপ বাটনে ক্লিক করতে হবে। এরপর একটি পেইজ চালু হবে। সেখানে নাম, ফোন নাম্বার, আইডির পাসওয়ার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র কিংবা জন্মনিবন্ধন নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এরপর মোবাইলে একটি কোড যাবে। কোডটি সাবমিট করলেই সম্পন্ন হবে আপনার আইডিটি। একজন অ্যাপ ব্যবহারকারী একবারে সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট কাটতে পারবেন। এভাবে দিনে ২ বার টিকিট কাটতে পারবেন। সেই হিসাবে দিনে মোট ৮টি টিকিট কাটতে পারবেন।

ভাড়া ও ট্রেনের খোঁজ
অ্যাপে থাকা ওহভড়ৎসধঃরড়হ অপশনে ট্রেন ও ভাড়া সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে। এর জন্য প্রথমে অপশনটিতে গিয়ে ঋৎড়স ঝঃধঃরড়হ-এ যাত্রা শুরুর স্টেশন এবং ঃড় ংঃধঃরড়হ-এ গন্তব্য এবং তারিখ নির্ধারণ করলে যাত্রার খরচ, রুট, টিকিট আছে কি না এসব তথ্য জানা যাবে। একজন ব্যবহারকারী অ্যাপের মাধ্যমে কয়টি টিকিট কিনেছেন, তা জানা যাবে ঐরংঃড়ৎু অপশন থেকে। এছাড়াও অ্যাপের মাধ্যমে লাইভ ট্রেকিং করে ট্রেনের অবস্থান জানা যাবে। মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে তথ্যটি জানানো হবে, তাই মোবাইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর ভিত্তি করে সেবাটির চার্জ ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। অ্যাপে থাকা পড়ধপয ারবি অপশন থেকে ট্রেনের ছবি দেখতে পারবেন আপনি। এ ছাড়া অ্যাপটিতে মন্তব্য, রেটিং এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু যোগাযোগ নম্বরও পাওয়া যাবে।

টিকিট কিনবেন যেভাবে
টিকিট কেনার জন্য প্রথমে ঢ়ঁৎপযধংব অপশনে যেতে হবে। তারপর ভৎড়স ংঃধঃরড়হ অপশনে ক্লিক করে ড্রপ ডাউন মেন্যু থেকে কোন স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু হবে নির্ধারণ করুন। যদি স্টেশন না থাকে, তাহলে সার্চ বাটন থেকে কী-ওয়ার্ড লিখে স্টেশন খুঁজে পাওয়া যাবে। একই পদ্ধতিতে কোথায় যাবেন, তা নির্ধারণ করতে হবে ঃড় ংঃধঃরড়হ অপশন থেকে। এরপর লড়ঁৎহবু ফধঃব থেকে কোন তারিখে যাত্রা করবেন নির্ধারণ করে ঝবধৎপয ঞৎধরহ বাটন চাপতে হবে। নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাওয়ার ট্রেনের তালিকা দেখাবে এখানে। সেখানে ংবষবপঃ পষধংং অপশনে ক্লিক করে কোন ধরনের আসন নেবেন নির্ধারণ করুন। তারপর ধফঁষঃ এবং পযরষফ অপশন থেকে টিকিটের ধরন ও সংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে। তারপর ংবষবপঃ ংবধঃ অপশনে ক্লিক করে আসন নির্বাচন করুন। এরপর নতুন একটি পেইজে টিকিট সম্পর্কে বিস্তারিত দেখা যাবে। সেখানে থাকা ঢ়ধু হড়ি বাটনে ক্লিক করুন। এরপর অনলাইনের পেমেন্ট অপশনগুলো দেখা যাবে। ভিসা, মাস্টার কার্ড, এমেক্স কার্ড কিংবা বিকাশের যেকোনো একটি মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করার পর ফিরতি মেইল ও এসএমএসে টিকিট নিশ্চিতকরণের তথ্য পাবেন আপনি।