প্রতিবেদন

সেনাসদর নির্বাচনি পর্ষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : সেনাবাহিনীকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সবসময় জনগণের পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্য বাহিনীর নেতৃত্ব যোগ্য, দক্ষ, কর্মক্ষম ও দেশপ্রেমিক অফিসারদের হাতে ন্যস্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। গত ১৬ জুন সেনাবাহিনী সদর দপ্তরের সেনাসদর কনফারেন্স হলে ‘সেনাসদর নির্বাচনি পর্ষদ-২০১৯’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির লক্ষ্যে ৫ দিনব্যাপী আয়োজিত এ নির্বাচনি পর্ষদের মাধ্যমে কর্নেল হতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং লে. কর্নেল হতে কর্নেল পদবিতে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দের সমন্বয়ে গঠিত এ পর্ষদের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের জন্য যোগ্য ও দক্ষ অফিসারগণ সরকারের অনুমোদনসাপেক্ষে পদোন্নতি পাবেন।
নির্বাচনি পর্ষদ পদোন্নতির জন্য দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস, নেতৃত্বের যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা, সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য রয়েছে এমন সব সেনাকর্মকর্তাদের সুপারিশ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, উন্নত ও পেশাদার সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে জাতির পিতা ১৯৭৪ সালেই প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করেন। সেই আলোকেই বর্তমান সরকার একটি শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার জন্য আর্মড ফোর্সেস গোল ২০৩০ প্রণয়ন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে গিয়েছিলাম সেখানে জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেলসহ সকলেই আমাদের সেনাবাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। তখন গর্বে ও আনন্দে আমার বুক ভরে গিয়েছিল।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর কর্মদক্ষতা দেশের গ-ি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিম-লেও প্রসার লাভ করেছে। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং বিভিন্ন বৈদেশিক মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের আত্মত্যাগ, কর্তব্যনিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য বয়ে আনছে বিরল সম্মান ও মর্যাদা, যা বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে অত্যন্ত উজ্জ্বল করছে।
প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের পর ১৯টি সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনা তুলে ধরেন। ১৯৮১ সালে নির্বাসিত জীবন থেকে দেশে ফেরার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যখন দেশে ফিরলাম তখন বলেছিলাম এই আত্মঘাতী অবস্থা আমরা চাই না। দেশের সর্বক্ষেত্রে শান্তি চাই। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসই আমার মূল শক্তি।’
তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় দেশের বিভিন্ন খাতে উন্নয়নচিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিরোধী দলে থাকার সময়ই তিনি দেশের উন্নয়নের পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন। মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে প্রবৃদ্ধি আরো বাড়বে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবৃদ্ধি যখন বাড়ে তখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে তার সুফল পায় সাধারণ মানুষ।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, সেনাসদস্যদের মনোবল বৃদ্ধিতে সরকার সম্প্রসারণ ও কল্যাণমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।
একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের নেয়া কর্মকা- তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী দেশপ্রেম, সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী সেনাবাহিনী সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলেও জানান শেখ হাসিনা।
সেনাবাহিনী তার মূল কার্যক্রমের পাশাপাশি সব সময়ই জাতিগঠনমূলক কর্মকা-ে নিজেদের নিয়োজিত করেছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পেশাগত দক্ষতার কারণে দীর্ঘ প্রত্যাশিত পদ্মাসেতু নির্মাণের কাজ তদারকিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সেনাবাহিনীর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রকল্প, হাতিরঝিল সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প, বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার নির্মাণ, মহিপাল ফ্লাইওভার নির্মাণ এবং থানচি-আলীকদম সড়ক নির্মাণ, ৩০০ ফিট রাস্তার আধুনিকায়ন প্রকল্পসহ জাতিগঠনমূলক কর্মকা-ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বর্তমান সরকার সেনাবাহিনীর উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে বিশ্বাসী এবং সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় সকল কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দেশের প্রতিরক্ষা ও বাহিনীসমূহের পেশাগত দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি-২০১৮’ মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেয়েছে।
এর আগে সেনা সদর দপ্তরে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।