কলাম

আওয়ামী লীগের উন্মেষ: স্বাধীন বাংলাদেশের পূর্বাভাস

ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন
একটি দলের সূচনা যে একটি স্বাধীন দেশ সৃষ্টির সূচক হতে পারে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ আওয়ামী লীগ। সূচনা অনেকের হাতে হলেও দলটি বাঙালির স্বাধীনতা ও মুক্তির লক্ষ্যাভিসারী হিসেবে আবর্তিত ও বিবর্তিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্ভাবনী ও দূরদর্শী নেতৃত্বের ছত্রছায়ায়। কাজেই দল ও নেতা ছিল প্রায় সমার্থক। অনুপুঙ্খ বিচারে বলা যায় যে, নেতা তার স্বপ্ন ও রূপকল্প রূপায়নের মাধ্যম বা মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন দলকে। এতে সমৃদ্ধ হয়েছিল দল ও নেতা উভয়ই। আর পারস্পরিক সমৃদ্ধির অনিবার্য ফসল ’৭১-এর স্বাধীন বাংলাদেশ। সুতরাং দল হিসেবে আওয়ামী লীগের মোটা দাগের অর্জন স্বাধীন বাংলাদেশ। স্বাধীনতাপরবর্তী বাংলাদেশ নির্মাণে দলটির অবদান (সাম্প্রতিককাল পর্যন্ত) একটু ভিন্নতর প্রসঙ্গ। কারণ, স্বাধীনতাপরবর্তী পর্যায়ে দলটি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পেয়েছিল ১৩১৪ দিন; আর ১৯৮১-র ১৭ মে থেকে দলটির পরিচালন বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। সব মিলিয়ে দলটির সাত দশকের আবর্তন ও বিবর্তন। সুতরাং ইতিহাসের নিরিখে এই ভূখ-ের প্রাচীনতম ও তৃণমূললগ্ন দল আওয়ামী লীগ। অবশ্য এ দীর্ঘ সময়ে অস্তিত্ব জারি রাখতে দলটিকে অনেক বাধার বিন্ধ্যাচল অতিক্রম করতে হয়েছে।
২৩ জুন বাঙালির ইতিহাসে একাধারে কালো ও লাল তারিখ। কালো তারিখ ১৭৫৭-র ২৩ জুন- পলাশির বিপর্যয়। অন্যদিকে লাল তারিখ ১৯৪৯-এর ২৩ জুন- আওয়ামী লীগের জন্ম। অবশ্য দলটির জন্মের বিস্তৃত ইতিহাস এড়িয়ে সংক্ষেপে বললে বলতে হয়, পুরনো ঢাকার কে এম দাস লেনে জনৈক কাজী হুমায়ুন বশীরের বাড়ি দৃষ্টিনন্দন রোজ গার্ডেনে ২৩-২৪ জুন মুসলিম লীগ কর্মীদের সম্মেলন। উদ্যোক্তাদের সবাই এমন ধারণা পোষণ করতেন যে, মুসলিম লীগ জনবিচ্ছিন্ন ও বাঙালি স্বার্থ সম্পর্কে উন্নাসিক একটি দল; কাজেই জনগণের মুসলিম লীগ চাই। সুতরাং যে দলটির জন্ম হলো তা পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল হলেও আসলে ছিল মুসলিম লীগের নতুন ও গণসংস্করণ। নতুন দলের নাম হলো পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ; মুসলিম লীগের আগে জুড়ে দেয়া হলো ‘আওয়ামী’ বা জনগণ; যা ছিল প্রথম সভাপতি মওলানা ভাসানীর দেয়া। বঙ্গবন্ধুর ভাষ্য অনুযায়ী (‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী,’ পৃ. ১২১) সে সময়ের পরিস্থিতি ও গণমানসিকতা বিবেচনায় রেখে শব্দটির যথার্থতা নিরূপণ করা হয়েছিল। পরে ১৯৫৩-তে কাউন্সিল সভায় প্রস্তাবিত হয়ে ১৯৫৫-র ২২ অক্টোবর ‘মুসলিম’ বাদ হয়ে যায় (উল্লেখ্য, একই সময়ে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ ‘মুসলিম’ শব্দটি ছেঁটে দেয়)। দলের এমন নাম বদলে বঙ্গবন্ধুসহ কিছু বামমনা সদস্যের প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল।
ভাসানীর নির্দেশে টাঙ্গাইলের শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক, কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমান যুগ্ম সম্পাদক আর কোষাধ্যক্ষ হলেন ইয়ার মোহাম্মদ খান। দলীয় কর্মসূচি প্রণয়নে শামসুল হক রচিত মূল দাবি নামের পুস্তিকাটিকে বিবেচনায় নেয়া হয়; আর তা ক্রমান্বয়ে সুনির্দিষ্ট ও বিস্তৃত হয়ে ৪২ দফা দাবিতে রূপান্তরিত হয়। দাবিগুলোর মৌল বিষয় ছিল দু’টো – পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন ও রাষ্ট্রভাষা বাংলা। দলটির প্রথম কার্যালয় ছিল ১৮ কারকুনবাড়ী লেন; পরে চলে যায় ৯৪ নবাবপুর রোডে। বেশ ক’বার স্থানান্তরিত হয়ে দলটির বর্তমান ঠিকানা ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভেনিউ। পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম জনসভা হয় আরমানিটোলা ময়দানে ২৪ জুন (১৯৪৯)।
দল হলো ঢাকায়, আর তার তৃণমূল ভিত্তি দিতে ৩২ বছরের তরুণ শেখ মুজিবের উদ্যোগ ও ঐকান্তিকতা কাজে লেগেছিল। ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্বে কারাবন্দি থেকেও এ তরুণ কীভাবে ঘটনাপ্রবাহকে প্রভাবিত করেছিলেন তা তার জবানিতেই আছে (‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী; পৃ. ১৯৬-২০৪)। জনগণের কাছে আওয়ামী লীগের গ্রহণযোগ্যতার সবচে’ বড় প্রমাণ ১৯৫৪-র ৮-১২ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের হয়ে দলটির প্রাপ্ত ভোট। ২৩৭টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট পায় ২২৮টি (বাকি মাত্র নয়টি আসন ছিল মুসলিম লীগের)। আর আওয়ামী মুসলিম লীগের আসন-সংখ্যা ছিল ১৪৩, যা যুক্তফ্রন্টের শরিক দলসমূহের চেয়ে বেশি।
১৯৫৩ সালে শেখ মুজিব দলের সাধারণ সম্পাদক হবার পর থেকে দলের ব্যাপ্তি ও ভিত্তি লক্ষণীয় হয়ে ওঠে। তবে আরও লক্ষণীয় এ মানুষটির স্বাধীনতাপ্রিয়তা- বাঙালির জন্য। এ প্রসঙ্গে অনেক তথ্যের মধ্যে চারটি প্রারম্ভিক তথ্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়। এক. ‘পূর্ববঙ্গ মুক্তি ফ্রন্ট’ নামে প্রচারপত্র নিজে রচনা করে নিজে প্রেস থেকে ছাপিয়ে সাইকেলে চড়ে তিনি বিলি করতেন। দুই. ১৯৬১-তে কমরেড মনি সিং ও কমরেড খোকা রায়ের সঙ্গে গোপন বৈঠকে তিনি স্বাধীনতার প্রসঙ্গ উপস্থাপন করেন। পরিস্থিতি-পরিবেশের বৈরিতার কথা ভেবে কমরেড দু’জন বঙ্গবন্ধুকে ধীরে চলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তা মানতে চাননি। তিন. ১৯৬৩-র জানুয়ারিতে বঙ্গবন্ধু গোপনে ত্রিপুরা যান এবং ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী শচীন্দ্রলাল সিংহ-র মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর কাছে বিশেষ সহযোগিতা চান। কিন্তু তিনি ভারত-চীন যুদ্ধ-বিপর্যয়ের পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইতিবাচক সাড়া দেননি। কাজেই বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্য পূরণ হয়নি। চার. ’৬৯-এর অক্টোবরে বঙ্গবন্ধু লন্ডনে যান। লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশনের মাধমে প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন। বঙ্গবন্ধুকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছিল।
বঙ্গবন্ধুর উদ্ভাবনী ও সৃজনী নেতৃত্বের এক কুশলী বহিঃপ্রকাশ ছিল ’৬৬-র ছয় দফা। ছয় দফা দাবিসম্বলিত বাংলা পুস্তিকা এবং ইংরেজি সংস্করণ আওয়ার রাইট টু লিভ-এর রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ। আপাতদৃষ্টিতে স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হলেও নিহিতার্থ যে স্বাধীনতা ছিল সে কথা ন্যাপ নেতা অধ্যাপক মোজাফফ্র আহমেদকে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন মেঠো বাংলায় এভাবে: ‘আরে মিয়া বুজলা না, দফা তো একটাই, একটু গুরাইয়া কইলাম।’
ব্যাপারটি ছিল তা-ই। ১৯৭০-এর ৫ জুন ভাষণে বঙ্গবন্ধু ছয় দফাকে জনগণের মুক্তিসনদ আখ্যায়িত করেছিলেন; আর জনগণও তা বুঝেছিল। সমাজের অভিজ্ঞজনদের কাছে ছয় দফা ছিল বাঙালির ম্যাগনা কার্টা। মোট কথা, ছয় দফার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু আমজনতার নৈকট্যে চলে গেলেন।
১৯৫৪-র নির্বাচনে প্রথম আওয়ামী মুসলিম তার শক্তি দেখিয়েছিল; আর ’৬৬-তে ছয় দফা আওয়ামী লীগকে নিয়ে গিয়েছিল ’৭১-পূর্ব সময়ে এক অনন্য উচ্চতায়; বঙ্গবন্ধু পরিগণিত হয়েছিলেন বাঙালির অবিসংবাদী নেতা হিসেবে। এখানে ব্যাপারটি ছিল নেতার অবদানে-কৃতিত্বে দলের অগ্রযাত্রা। হয়-ও তাই। নেতৃত্বের গুণে দল এগোয়, দেশ এগিয়ে যায়। নেতৃত্বশূন্যতায় বা নেতৃত্বের অবিমৃষ্যকারিতায় দল/দেশের বেহাল দশা নজীরবিহীন নয়।
তবে ছয় দফার কারণে আওয়ামী লীগ যখন মধ্য গগনে অংশুময় তারপরই দলটির দুর্দিন আসে, যা প্রায় ’৬৯-এর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিরাজমান ছিল। এ সময়ে বঙ্গবন্ধুসহ প্রথম সারির বেশির ভাগ নেতা কারাবন্দি। যুবনেতাদের মধ্যে শেষ ফজলুল হক মনি, আবদুর রাজ্জাকও কারাগারে। দল চালানোর ভার তখন পড়েছিল দুঃসময়ের কা-ারী আমেনা বেগমের ওপর, যিনি নাকি ‘রীতিমতো হ্যারিকেন জ্বালিয়ে আওয়ামী লীগ অফিস পাহারা দিতেন।’ অবশ্য রাজপথে ছিল ছাত্রলীগ।
অংশুমান আওয়ামী লীগের ইতিহাসে পরবর্তী মাইলফলক ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচন। উপকূলীয় ঘূর্ণিঝড়পরবর্তী অনিশ্চিত ও দোদুল্যমান পরিস্থিতি সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে যে ঠিক কাজটি করেছিল তা প্রমাণিত হয় নির্বাচনের ফলাফলে। নির্বাচনের দু’দিন আগে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাড আওয়ামী লীগ ক’টি আসন পেতে পারে এমন একটি প্রশ্ন করলে বঙ্গবন্ধু উত্তর দিয়েছিলেন, বরাদ্দ ১৬৯ আসনের মধ্যে ১৬৭। তিনি আরও বলেছিলেন, অন্য দু’টি আসন পাবে পিডিপি-র নুরুল আমিন ও স্বতন্ত্র রাজা ত্রিদিব রায়।
নির্বাচনের ফল হয়েছিল এমনটাই। বঙ্গবন্ধু জ্যোতিষী ছিলেন না, ছিলেন রাজনীতির নাড়িনক্ষত্র জানা একজন ঝানু রাজনীতিবিদ; আর তাই এমন সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী। তবে তারচে’ বড় কথাটি হলো, এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শুধু ছয় দফার পক্ষে বাঙালির রায় ঘোষিত হয়নি, প্রমাণিত হয়েছিল, আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় দল; আর তা জনগণের নাড়ির স্পন্দন ধারণ করা রাজনীতির কারণে। অন্যদিকে জনবিচ্ছিন্ন রাজনীতি করলে কী হয় তা মুসলিম লীগকে দেখলে বোঝা যেত। আওয়ামী লীগ জনগণের নাড়ির স্পন্দন বুঝতে পেরেছিল বলেই ‘সোনার বাঙলা শ্মশান কেন’ এমন একটি দেয়ালপত্রের মাধ্যমে ভোটার আকর্ষণ করেছিল।
কিন্তু এ নির্বাচিত দলটিকে ক্ষমতা না দেয়ার লক্ষ্যে ইয়াহিয়া-ভুট্টো চক্রের প্রকাশ্য ও গোপন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল; ফল হলো, বাঙালির উত্তাল মার্চ ’৭১। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের জীবনে আরও একটি লাল তারিখ। সেদিনের ভাষণে বঙ্গবন্ধুর প্রধান দুটো ঘোষণার প্রথমটি ছিল ‘আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না, মানুষের অধিকার চাই’; এবং দ্বিতীয়টি ছিল, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এ দুটো বাক্যে ধ্বনিত হয়েছিল বাঙালির হাজার বছর ধরে লালিত প্রশ্নের উত্তর। চূড়ান্ত লক্ষ্য স্বাধীনতার এমন কুশলী উচ্চারণের পরেও বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ইয়াহিয়া চক্রের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে; যা ছিল আসলে প্রহসন। সামরিক চক্র বাঙালি নিধনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে কালক্ষেণ করেছিল মাত্র। কিন্তু আওয়ামী লীগ যে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী তা চাউর করাই ছিল দলটির ও বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্য; সাক্ষী ছিল বিশ্ববাসী।
কিন্তু যা অবধারিত ছিল তা-ই হলো, আলোচনা ভেস্তে গেল; বাঙালির ওপর শুরু হলো ‘অপারেশন সার্চলাইট’ (২৫ মার্চ রাত); এবং বঙ্গবন্ধু হলেন গ্রেপ্তার। তবে গ্রেপ্তার হবার আগে তিনি ইথার তরঙ্গে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য বাণীবদ্ধ করলেন স্বাধীনতার সরাসরি ঘোষণা: ‘সম্ভবত এটাই আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন।’ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে নেতারা পাড়ি জমালেন ভারতে; শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধ।
বঙ্গবন্ধু স্বদেশে ফিরেই সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিলেন তাঁর ভাষণে (১০ জানুয়ারি ১৯৭২)। বাংলাদেশ ও আওয়ামী লীগ-বিদ্বেষী ঘাতকের বুলেট তাঁকে সময় দিয়েছিল মাত্র ১৩১৪ দিন। দেশ গড়ার এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু সম্পূর্ণ সাময়িকভাবে বাকশাল-রীতি চালু করতে বাধ্য হয়েছিলেন। বাকশাল একদল ছিল না; ছিল অভিন্ন জাতীয় মঞ্চ। বাকশাল আয়ু পেয়েছিল মাত্র ২৩২ দিন। সময়টিতে বাংলাদেশের সব সূচক ছিল ঊর্ধ্বমুখী। তথ্য-প্রমাণ তাই বলে।
’৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর থেকে আওয়ামী নেতৃবৃন্দ চরম সংকটকাল অতিবাহিত করতে থাকেন। বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করা ভয়ঙ্কর অপরাধ ছিল তখন। এক বাঁকবদল হলো ১৭ মে ১৯৮১। সভাপতি হিসেবে জননেত্রী শেখ হাসিনা ফিরলেন দেশে; অদ্যাবধি আছেন ঐতিহ্যবাহী দলটির নেতৃত্বে। এতদিনে দল এগিয়েছে, এগিয়েছে দেশও, যার অনুপুঙ্খ পরিসংখ্যানভিত্তিক আলোচনা প্রাসঙ্গিক হলেও বক্তব্যের সামগ্রিকতার বিচারে প্রয়োজনীয় নয়।
আলোচনা শেষ করার আগে আওয়ামী লীগের ইতিহাস মোটা দাগে ফিরে দেখা যাক। পাকিস্তান আমলে ২৪ বছর ৪ মাস ৩ দিনে দলটি কেন্দ্রে একটি কোয়ালিশিন সরকারের নেতৃত্বে দিয়েছিল ১৩ মাস। আর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগ জোট সরকার ছিল প্রায় দু’বছর। কাজেই পাকিস্তান আমলে দলটি অনেকটা সময় কাটিয়েছে সরকারবিরোধী হিসেবে। ১৯৭৭-এ অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নামে দল পুনর্গঠন করা হয়। ১৯৮১-তে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে শেখ হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে সভাপ্রধান নির্বাচিত করা হয়। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৯৬-তে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে; আর ২০০৮ থেকে আজ পর্যন্ত দলটি সরকারে আছে; এবং ক্ষমতাসীন থাকার সময়েই দলটির সত্তর বছর উদযাপিত হচ্ছে। উপরন্তু দলটি ক্ষমতাসীন থাকাকালীনই বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপিত হবে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সমৃদ্ধ হচ্ছে শেখ হাসিনার উদ্ভাবনী, সৃজনশীল ও দৃঢ় নেতৃত্বের কারণে।