অর্থনীতি

ডুয়িং বিজনেস সূচক: ২০২১ সালের মধ্যে দেশ ৫০তম অবস্থানে আসার আশাবাদ সালমান এফ রহমানের

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর একটি হোটেলে গত ২৪ জুন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপরে (বিডা) উদ্যোগে এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য জানাতে এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সালমান এফ রহমান জানিয়েছেন, ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে বিশ^ব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস সূচকে বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে ৫০তম অবস্থানে আসবে। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের খুব সহজে সেবা দেয়ার কাজ চলছে। উদ্যোক্তারা আমাদের কাছে আগে। এজন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস শিগগিরই কার্যকর হবে।
জানা গেছে, বিশ্বব্যাংক একটি দেশের ব্যবসার পরিবেশ কেমন তার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে প্রতি বছর ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ১৮৯টি দেশের মধ্যে ১৭৬তম অবস্থান পেয়েছে। আগের বছরের চেয়ে উন্নতি হয়েছে এক ধাপ।
সালমান এফ রহমান বলেন, বিশ^ ব্যাংকের পর্যালোচনায় প্রাথমিকভাবে আমাদের অগ্রগতি ভালো। আশা করি, চলতি বছর সূচকে আমরা ব্যাপক অগ্রগতি করব। কারণ, অনেক কাজ হয়েছে। কিন্তু পর্যালোচনায় আমরা পিছিয়ে ছিলাম। দেখা গেছে, আইন আছে, কিন্তু ওয়েবসাইটে নেই। এসব কারণে আমরা ভালো করতে পারিনি। তবে আইনকানুন সংশোধন করা হবে। সরকার ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে যা যা করা দরকার করবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপ-বিডা, বাংলদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপ-বেজা, বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন কর্তৃপ-বেপজাসহ সরকারের সব সংস্থা কাজ করছে। এ পর্যায়ে বিডার নেতৃত্বে একটি সেবা সংস্থার আওতায় সব সেবা মিলবে।
দেশে ব্যবসার পরিবেশের উন্নয়নের দায়িত্ব পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। দেশ সব েেত্র এগিয়ে গেলে ইজ অব ডুয়িং বিজনেসে পিছিয়ে থাকবে না। এ েেত্র কবে, কতটা এগিয়ে যাওয়া যায় তা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৬ সালে সরকার সহজে ব্যবসা সূচকে উন্নতির বিশেষ উদ্যোগ নেয়। ওই বছর ১৯ নভেম্বর সোনারগাঁও হোটেলে সচিবদের নিয়ে এক সভায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপরে (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম এ সূচকে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দুই অঙ্ক, অর্থাৎ কমপে ৯৯তম অবস্থানে নিয়ে আসার ল্েযর কথা জানান। এরপর ডুয়িং বিজনেসের ১০টি বিষয়ে কী কী সংস্কার করতে হবে, তা বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠানো হয়। নতুন করে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সালমান এফ রহমানকে।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি সালমান এফ রহমান জানান, পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত কোম্পানির মুনাফা থেকে রাখা সঞ্চিতি বা রিটেইনড আর্নিংসের ওপর করের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। বাজেট পাসের আগেই এ বিষয়ে কাজ হবে। আমরা অনেক জায়গা থেকে প্রতিক্রিয়া পেয়েছি।
তিনি বলেন, রিটেইনড আর্নিংসে রাখা হয় কর দেয়ার পর আয় থেকে। এর ওপর আবার কর আরোপ হলে সেটা দুবার করারোপ হয়ে যাবে।
২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল কোম্পানির রিটেইনড আর্নিংস পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি হলে সেটার ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপ করেন। একপ মনে করে, শেয়ারধারীদের মুনাফার ভাগ বা লভ্যাংশ না দিয়ে এভাবে সঞ্চিতি রাখা ঠেকানো দরকার। আবার অন্য পরে আশঙ্কা, এতে কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগযোগ্য তহবিল কমে যাবে। বিদেশি কোম্পানিগুলোর কাছে যেহেতু রিটেইনড আর্নিংস বেশি, সেহেতু তারা সেটা লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করে দিলে টাকা বিদেশে চলে যাবে। এ বিষয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, রিটেইনড আর্নিংসের ওপরে কর পুরনো আয়ের ওপর নতুন করে কর আরোপের সমান। আমরা বিষয়টি চিহ্নিত করেছি।
প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সালমান এফ রহমান বাংলাদেশের অগ্রগতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, বিশ্বের অন্যদেশের তুলনায় প্রতি বছর বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। তাই নেতিবাচক দিকগুলো দ্রুত কাটিয়ে এগিয়ে যেতে হবে উন্নত বিশ্বের দিকে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগের অমিত সম্ভাবনার দেশ।
তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ নেতৃত্ব ও পরিকল্পনার প্রশংসা করে বলেন, বিশ্বের কাছে সব দিক দিয়েই বাংলাদেশকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে হবে। তবেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কামাল আজাদ বলেন, নতুন বাজেটে ট্রেড লাইসেন্স করতে করের হার বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি করলে আমরা ডুয়িং বিজনেস সূচকে পিছিয়ে থাকব। বিডাকে এ ব্যাপারে চিঠি দিতে হবে অর্থমন্ত্রীকে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপ-বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী, এফবিসিসিআই’র সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বক্তৃতা রাখেন। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর প্রতিবেদনটি উপস্থাপন ও বিশ্লেষণ করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ দণি এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ বিদেশি বিনিয়োগ-এফডিআই এসেছে ২০১৮ সালে। যার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬১ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬৮ শতাংশ। ২০১৭ সালে এফডিআই এসেছিল ২১৫ কোটি ডলার।