কলাম

বিচারাধীন মামলা কমাতে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের ভূমিকা রাখতে হবে

দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় চিন্তিত সরকার ও বিচার বিভাগ। তাই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি নতুন করে মামলা দায়েরের সংখ্যা যতটুকু সম্ভব কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার ও বিচার বিভাগ। উল্লেখ্য, দেশের আদালতগুলোতে ৩০ লাখের অধিক মামলা বিচারাধীন, যার বেশিরভাগই ছোটখাটো অপরাধের জন্য দায়েরকৃত। গত ২৬ জুন ঢাকায় বিচার প্রশাসন ও প্রশিণ ইনস্টিটিউটে ‘রেস্টোরেটিভ জাস্টিস (আরজে) এ্যাপ্রোচ ইন মেডিয়েশন’ শীর্ষক প্রশিণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এ তথ্য জানান। এর আগে মন্ত্রী সম্প্রতি জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, দেশের আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩৫ লাখ ৮২ হাজার ৩৪৭টি। স্বাধীনতার মাত্র চার দশক পর এত মামলা বিচারাধীন থাকা মোটেও ভালো লক্ষণ নয়।
আমরা মনে করি, নিষ্পত্তির হার আরও বাড়লে মামলাজট অনেকাংশেই কমে যাবে। তবে মামলাজট কমাতে হলে অবশ্যই বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর জোর দিতে হবে। এতে অনেকে শুরুতেই মামলা করা থেকে রেহাই পাবেন। ফলে বাদি-বিবাদি উভয়ই উপকৃত হবেন। বিচারপ্রার্থীদের সুবিচার প্রাপ্তি এবং বাদি-বিবাদি উভয় পক্ষকে দীর্ঘমেয়াদি হয়রানি থেকে মুক্তি দিতে এই অবস্থার অবসান জরুরি।
তাছাড়া সামান্য ঘটনায় মামলা করার প্রবণতা হ্রাস করায় গুরুত্ব দেয়া উচিৎ। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে অনেক মামলা হয় সামান্য কারণে এবং অনেক সময় জেনে-বুঝে মিথ্যা অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে পরিকল্পিতভাবে মামলা দায়ের করা হয়। বিশেষ করে প্রতিপক্ষকে হেনস্থা করতে বাদির চতুরতা এবং নিজের পকেট ভারী করতে কোনো কোনো আইনজীবী ‘প্রলুব্ধকরণ নীতিতে’ কাজ করেন। মিথ্যা মামলা অনেক সময় থানার অসাধু পুলিশ সদস্যদেরও অনৈতিক ‘স্বার্থের’ জন্য সুবিধা তৈরি করে। উন্নত দেশগুলোর বিচারব্যবস্থার দিকে খেয়াল করে বলা যায়, মামলাকারী, পুলিশ ও আইনজীবীদের নৈতিক ভূমিকা মামলার সংখ্যা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে স্মরণ রাখতে হবে যে, সত্য-মিথ্যা যেকোনো মামলাতেই বাদি-বিবাদি উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। এজন্য আইন-আদালতের পাশাপাশি বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। প্রথমে মিথ্যা ও পরিকল্পিত মামলা এবং যেসব মামলার জয়লাভের সম্ভাবনা নেই, সেসব মামলা না করাই শ্রেয়। পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ চেষ্টা করা উচিত, যাতে করে আদালতে না গিয়ে সমঝোতার মাধ্যমে অর্থাৎ বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা যায়। তা হলে মামলার সংখ্যা যেমন কমে আসবে তেমনি হয়রানি ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার হাত থেকেও রক্ষা পাবে বাদি-বিবাদি উভয় পক্ষই।