প্রতিবেদন

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নির্মূলে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ভেজাল, নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বিরুদ্ধে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। এক্ষেত্রে আইনপ্রয়োগের পাশাপাশি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সারাদেশে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। অভিযানের পূর্বে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর পূর্বসতর্কতামূলক এসব প্রোগ্রাম শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে গত ২৭ জুন রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নির্মূলে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান। এসব অনুষ্ঠানে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেছেন, নকল, ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নির্মূলে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এ জন্য তিনি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সকল কার্যালয়কে ওষুধ ব্যবসায়ীদের সাথে জনসচেতনতামূলক সভা করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২ জুলাইর মধ্যে ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ ফার্মেসি হতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ফেরত নেবেন। এ ল্েয সারা দেশে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি ও বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি কাজ করে যাচ্ছে।
আলোচনাসভায় মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বিষয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা সবাইকে সচেতন হতে হবে উল্লেখ করে বলেন, একটি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও যেন ক্রেতার হাতে না পৌঁছায়।
তিনি সভায় নির্দেশনা প্রদান করেন, ফার্মেসির কোথাও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মওজুদ/সংরণ করা যাবে না। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রয়ের জন্য সেলফ/ড্রয়ার/রেফ্রিজারেটর অথবা ফার্মেসির অন্য কোথাও পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ আলাদা কন্টেইনারে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ। বিক্রির জন্য নয়’ Ñ লাল কালি দিয়ে লিখে সংরণ করতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব তা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নিকট হস্তান্তর করতে হবে। এ বিষয়ে রেকর্ড সংরণ করতে হবে। ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া গেলে ফার্মেসিটি সিলগালা/বন্ধ করাসহ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রতি সপ্তাহে কমপে একবার ফার্মেসির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ ফার্মেসি ংবষভ রহংঢ়বপঃরড়হ করবেন এবং ফার্মেসিতে কোনো মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ পাওয়া গেলে তা ফার্মেসি হতে সরিয়ে ফেলতে হবে এবং এ সংক্রান্ত রেকর্ড সংরণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ড্রাগ লাইসেন্স ও ফার্মাসিস্টবিহীন ফার্মেসি ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না। আইনানুগভাবে ফার্মেসিতে ফার্মাসিস্টের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। আনরেজিস্টার্ড, নকল, ভেজাল, মিসব্র্যান্ডেড, কাউন্টারফেইট ওষুধ, ফিজিশিয়ান স্যাম্পল, সরকারি ওষুধ, রোগ নিরাময় করে এমন দাবিকৃত ফুড সাপ্লিমেন্ট ফার্মেসিতে মজুদ ও বিক্রয় করা যাবে না। নকল ভেজাল আনরেজিস্টার্ড ওষুধ বিক্রি বন্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঙাবৎ ঃযব ঈড়ঁহঃবৎ উৎঁমং (ঙঞঈ) ব্যতীত এন্টিবায়োটিকসহ অন্য কোনো ওষুধ বিক্রি করা যাবে না। রোগী এন্টিবায়োটিকের ফুল কোর্স যাতে সেবন করে সে পরামর্শ প্রদান করতে হবে এবং ফুল কোর্স এন্টিবায়োটিক সরবরাহ করতে হবে। ফার্মেসিতে এ বিষয়ে রেজিস্টার মেইনটেইন করতে হবে। সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (গজচ)/নির্দেশক মূল্য (ওচ)-এর চেয়ে অধিক মূল্যে ওষুধ বিক্রি করা যাবে না এবং মোড়ক সামগ্রীতে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (গজচ)/নির্দেশক মূল্যের (ওচ) স্টিকার সংযোজন বা মূল্য কেটে কলম দিয়ে হাতে লেখা যাবে না। এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ওষুধ ক্রয়-বিক্রয়ের ডকুমেন্টস্ সংরণ করতে হবে। ওষুধ বৈধ সোর্স হতে ইনভয়েসের মাধ্যমে ক্রয় করতে হবে। ওষুধ বিক্রয়ের ক্যাশমেমো সরবরাহ করতে হবে। তাপ সংবেদনশীল ওষুধ যথাযথ তাপমাত্রায় সংরণ করতে হবে। রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রা মনিটরিং করতে হবে। ডিপফ্রিজে ওষুধ সংরণ করা যাবে না। ফার্মেসিতে সরকারি ওষুধ ও ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রি করা যাবে না। সরকারি ওষুধ ও ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রি করা আইনত দ-নীয় অপরাধ।
এদিকে গত ২৮ জুন চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবং ২৯ জুন নাটোরে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। একই সাথে তিনি রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং নাটোরে মডেল ফার্মেসি ও মডেল মেডিসিন শপ উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, নকল, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নির্মূলে বাংলাদেশের ফার্মেসি ব্যবস্থাপনাকে উন্নত করতে হবে, যার কোনো বিকল্প নেই।
২৭ জুন ঢাকার ঢাকার মোহাম্মদপুর ও মিরপুর এলাকায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নির্মূলে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ড. খোন্দকার ছগীর আহমেদ এবং মিরপুরে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসরাফ হোসেন।