প্রতিবেদন

হজযাত্রা নির্বিঘ্নে করতে সরকারের ব্যাপক প্রস্তুতি : ফাইট শুরু ৪ জুলাই

বিশেষ প্রতিবেদক
সরকারের নানামুখী উদ্যোগ ও আন্তরিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও হজযাত্রায় প্রায় প্রতিবারই কোনো না কোনো সমস্যা দেখা দেয়। তাই এবার শুরু থেকেই সরকার এক্ষেত্রে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে এ বছর আগেভাগেই প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে, যাতে করে হজ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কোনোরূপ বিশৃঙ্খলা না ঘটে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে হজ এজেন্সি চূড়ান্ত করেছে। পবিত্র হজে গমনেচ্ছুক যাত্রীদের নিবন্ধনও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এবার সরকারিভাবে ৭ হাজার ১৯৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২০ হাজার জন মিলে সর্বমোট ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন বাংলাদেশ থেকে হজে যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

সরকারের শীর্ষ মহলের নির্দেশনায় হজ-ফাইট পরিচালনার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপ। আগামী ৪ জুলাই থেকে চলতি মৌসুমের প্রথম হজ-ফাইট শুরু হচ্ছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর (বিজি-৩০০১) একটি ফাইট ওই দিন সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যাবে।
নির্ধারিত সময়ে ও নির্বিঘেœ হজ-ফাইট পরিচালনার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বাড়তি ব্যবস্থাও নিয়েছে। চলতি মৌসুমে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনে সৌদি আরব যাবেন। এঁদের মধ্যে বিমানের ফাইটে যাবেন ৬৩ হাজার ৫৯৯ জন। উদ্বোধনী হজ ফাইটের আগে বিমানবন্দরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ হজযাত্রীদের বিদায় জানাবেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এছাড়া একই দিনে (৪ জুলাই) হজ-ফাইট বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স (বিজি-৩১০১) সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে, বিজি-৩২০১ বিকেল ১৫ টা ১৫ মিনিটে, বিজি-৩৩০১ রাত ১৯টা ১৫ মিনিটে এবং শিডিউল ফাইট বিজি-০০৩৫ রাত ২০টা ১৫ মিনিটে জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে। চট্টগ্রাম এবং সিলেট থেকেও এ বছর যথাক্রমে ১৯টি ও ৩টি হজ-ফাইট পরিচালনা করা হবে।
রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, এয়ার এশিয়া এক্স কোম্পানি থেকে এ ৩৩০-৩৪৩ মডেলের দু’টি এয়ারবাস ৭৫ দিনের জন্য ভাড়া নেয়া হচ্ছে। এসব উড়োজাহাজে ৩৭৫টি করে আসন রয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই দুই এয়ারবাসে ফাইট পরিচালনা করা হবে। এছাড়া এবার হজ ফাইট পরিচালনার জন্য বিমান নিজস্ব চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ ব্যবহার করবে বলেও বিমান সূত্রে জানা যায়।
সূত্র জানিয়েছে, চলতি হজ মৌসুমে ৩২ দিনে ১৫৭টি ডেডিকেটেড ও ৩২টি শিডিউল ফাইট পরিচালনা করবে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থাটি। হজযাত্রীদের নিয়ে শেষ ফাইটটি যাবে ৫ আগস্ট। হজের পর দেশের পথে ফিরতি ফাইট ১৭ অগাস্ট থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে ১৪ সেপ্টেম্বর।
জানা গেছে, এ বছরই প্রথম ঢাকা থেকে মদিনায় ১১টি হজ ফাইট পরিচালনা করা হবে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম থেকে জেদ্দা ১০টি, সিলেট থেকে জেদ্দা ৩টি, চট্টগ্রাম থেকে মদিনা ৭টি ডেডিকেটেড হজ ফাইট পরিচালনা করা হবে। বাকি ১২৬টি ফাইট ঢাকা থেকে জেদ্দায় নিয়ে যাবে হজযাত্রীদের।
সূত্র জানায়, প্রথমবারের মতো হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশন এবার ঢাকাতেই হবে। ফলে সৌদি আরবে গিয়ে ইমিগ্রেশনের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না তাদের। তবে ফাইটের একদিন আগেই হজযাত্রীদের তথ্য সৌদি আরবে পাঠাতে হবে। ফলে ওই সময়ের পর ফাইটে নতুন করে যাত্রী নেয়া যাবে না। এ কারণে হজ এজেন্ট ও যাত্রীদের তাদের ফাইটের ২৪ ঘণ্টা আগেই যাত্রার বিষয়টি নিশ্চিত করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। জটিলতা এড়াতে এ বছর কোনো হজযাত্রী যাত্রা বাতিল করলে বা সময় পরিবর্তন করলে জরিমানা আদায় করবে বিমান।
এ বিষয়ে বিমানের জনসংযোগ বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক তাহেরা খন্দকার স্বদেশ খবরকে বলেন, হজযাত্রীরা টিকিট কেনার পর ফাইটের ২৪ ঘণ্টা আগে সময় পরিবর্তন করলে ২০০ মার্কিন ডলার এবং যাত্রার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিবর্তন করলে ৩০০ মার্কিন ডলার জরিমানা আদায় করা হবে।
তাহেরা খন্দকার বলেন, নির্ধারিত ফাইটে না গেলে টিকিটের টাকাও ফেরত দেবে না বিমান। হজযাত্রীরা চাইলে ওয়ানওয়েতে ১০০ ডলার এবং রিটার্ন যাত্রায় ২০০ ডলার দিয়ে ইকোনমি কাস থেকে বিজনেস কাসে আসন পরিবর্তন করে নিতে পারবেন। তবে বিজনেস কাসে আসন ছাড়া পৃথক কোনো খাবার বা সুবিধা দেয়া হবে না। হজযাত্রীরা যেকোনো ধারালো বস্তু, ছুরি, কাঁচি, নেইল কাটার, ধাতব দাঁতখিলান, কান পরিষ্কারক, তাবিজ ও গ্যাস জাতীয় বস্তু, অ্যারোসল এবং ১০০ মিলিলিটারের বেশি তরল পদার্থ হ্যান্ডব্যাগে বহন করতে পারবেন না। কোনো খাদ্যসামগ্রীও সঙ্গে নিতে পারবেন না। হজযাত্রীদের মালামাল পরিবহনে স্যুটকেস অথবা ট্রলিব্যাগ ব্যবহার করতে হবে। যেকোনো অবস্থায় গোলাকৃতি, দড়িবাঁধা ব্যাগ ইত্যাদি বিভিন্ন আকৃতির ব্যাগেজ গ্রহণ করবে না বিমান। প্রত্যেক হজযাত্রী বিনামূল্যে সর্বাধিক দুটি ব্যাগে ৪৬ কেজি মালামাল এবং সর্বোচ্চ ৭ কেজি মাল হ্যান্ডব্যাগে সঙ্গে নিতে পারবেন। কোনো অবস্থাতেই প্রতিটি ব্যাগের ওজন ২৩ কেজির বেশি হওয়া যাবে না। কোনো অবস্থাতেই হজযাত্রীরা বিমানে পানি বহন করতে পারবেন না। তবে বিমান প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য ৫ লিটার করে জমজমের পানি দেশে নিয়ে আসবে।