কলাম

ধর্ষণ প্রতিরোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে

সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে নারী ও শিশুদের উত্যক্তকরণ ও যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এতে সাধারণ মানুষ খুবই উদ্বিগ্ন। অবুঝ শিশুকন্যা, কিশোরী, গৃহবধূ কেউই রেহাই পাচ্ছেন না মানুষরূপী পশুদের হাত থেকে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে, আমাদের কন্যাসন্তানরা এখন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়-মসজিদ-মাদ্রাসা কোথাও আজ নিরাপদ নয়। এটি মানসিক অসুস্থতা, সামাজিক অবক্ষয় ও ক্রমবর্ধমান অপরাধপ্রবণতারই সাক্ষ্য বহন করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় তৎপরতা এবং সরকারের কঠোর অবস্থানের পরও দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা কমছেই না।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯ সালের প্রথম ৬ মাসে ২ হাজারের বেশি নারী ও মেয়েশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৩১ জন, যাদের মধ্যে হত্যা করা হয়েছে ২৬ জনকে।
১৪টি জাতীয় দৈনিকের তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি আয়েশা খানম জানান, গত বছর (২০১৮) সারাদেশে ৯৪২টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ধর্ষণ শেষে হত্যা করা হয় ৬৩ নারী ও শিশুকে। অর্থাৎ গত বছর যে পরিমাণ ধর্ষণ হয়েছে তার অর্ধেক সময়ে এ বছর ধর্ষণের সংখ্যা বেড়েছে তার থেকে প্রায় দেড়গুণ।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৪ থেকে ২০১৮ সময়ে ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধিসহ মোট ৫২৭৪ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হন। এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত ২ হাজার ৮৩ নারী ও শিশু সহিংসতার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে গণধর্ষণের শিকার ১১৩ জন। এ ছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ১২৩ জনকে। শ্লীলতাহানির শিকার ৫৪ নারী ও শিশু। যৌন নির্যাতনের শিকার ৭০ জন। মারধরের শিকার হন ১৪৭ জন এবং যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার ৯৪ জন। এর মধ্যে হত্যা করা হয়েছে ৪৭ জনকে।
এতে আরও জানানো হয়, এসব নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনায় মাত্র ৩-৪% মামলায় সাজা হয়েছে; অর্থাৎ বিচারহীনতার অপসংস্কৃতির কারণে অধিকাংশ অপরাধীই ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে।
আমরা মনে করি, স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, মাদকাসক্তি, শিশু-কিশোরদের আচরণগত সমস্যাকে গুরুত্ব না দেয়ায় এমন ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। সমাজে প্রকৃত যৌনশিক্ষা এবং এ সংক্রান্ত জনসচেতনতারও যথেষ্ট অভাব রয়েছে। তাই কন্যাশিশু ও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের পাশাপাশি পরিবারকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে এক্ষেত্রে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শুভবোধসম্পন্ন মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে।