প্রতিবেদন

পূর্ণ মন্ত্রী হলেন ইমরান, নতুন প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকার গঠনের ৭ মাসের মাথায় মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়েছেন নতুন একজন প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া মন্ত্রিসভার সদস্য একজন প্রতিমন্ত্রী পদোন্নতি পেয়ে পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন।
গত ১৩ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বঙ্গভবনের দরবার হলে ইমরান আহমেদ ও ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরাকে যথাক্রমে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান।
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আলাদাভাবে শপথ নেয়ার পর পৃথকভাবে গোপনীয়তার শপথ নেন নতুন মন্ত্রী ইমরান আহমেদ ও প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, উচ্চপদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ হোসেনও শপথ অনুষ্ঠানে ছিলেন।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদকে মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরাকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে গত ১২ জুলাই আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রকাশিত আদেশে বলা হয়, ইমরান ও ইন্দিরার নিয়োগ তাদের শপথ নেয়ার দিন থেকে কার্যকর হবে।
এর আগে গত ১১ জুলাই জেলা প্রশাসক সম্মেলন বিষয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রথম এই দু’জনের বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান।
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর গত ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টানা তৃতীয় মেয়াদে শপথ নেন শেখ হাসিনা। ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী এবং ৩ জন উপমন্ত্রীকে নিয়ে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা সাজান তিনি।
৫ মাসের মাথায় গত ১৯ মে প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাস করা হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়। এ ছাড়া ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বারকে একই মন্ত্রণালয়ের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী করা হয়। আর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের একক দায়িত্ব দেয়া হয় প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী তাজুল ইসলামের অধীনে রাখা হয় শুধু স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের অধীনে রাখা হয় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে এতদিন কোনো মন্ত্রী ছিল না। সিলেট-৪ আসনের এমপি ইমরান আহমদ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে একাই দায়িত্ব পালন করছিলেন। মন্ত্রীর দায়িত্বে তিনি একই মন্ত্রণালয়ে থাকবেন, না প্রধানমন্ত্রী তার দপ্তর বদলে দেবেন, সে বিষয়ে কোনো ঘোষণা এখনও আসেনি। ঘোষণা না এলেও সংরক্ষিত আসনের সাংসদ ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বলে জানা যায়। এতদিন প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ মন্ত্রণালয়ের দেখভাল করে আসছেন।
একজনের পদোন্নতি এবং একজনের অন্তর্ভুক্তিতে মন্ত্রিসভায় এখন মন্ত্রীর সংখ্যা বেড়ে হলো ২৫ জন। তবে প্রতিমন্ত্রীর সংখ্যা আগের মতোই ১৯ জন এবং উপমন্ত্রীর সংখ্যা ৩ জনই রয়েছে।