প্রতিবেদন

ব্রিটিশ আমলের ভূমি আইন যুুগোপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন হবে ২০২৩ সালে

বিশেষ প্রতিবেদক : সাধারণ মানুষকে দ্রুত ও ঝামেলাবিহীন আধুনিক সেবা দিতে ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশনে ৯৯৮ কোটি টাকার প্রকল্প নিচ্ছে সরকার। এর আওতায় সব ভূমি অফিসে কম্পিউটার ও আধুনিক সফটওয়্যার বসানো হবে। ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য এটি উপস্থাপন করা হবে।
সূত্র বলছে, অনুমোদন পেলে ভূমি সংস্কার বোর্ড, ভূমি আপিল বোর্ড এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের আওতায় এক নেটওয়ার্কের মধ্যে আসবে ৩ হাজার ৪৫৭টি ইউনিয়ন ও পৌর ভূমি অফিস, ৫০৭টি উপজেলা ও সার্কেল ভূমি অফিস, ৪৯২টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, ৬৪ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ৮ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর ও এর ৪২০টি উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিস, ভূমি সংস্কার বোর্ড, ভূমি আপিল বোর্ড এবং ভূমি মন্ত্রণালয়।
জানা যায়, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৯৯৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রধান কাজ হবে কম্পিউটার সফটওয়্যার কেনা। তাতে ব্যয় হবে ১২৫ কোটি টাকা। কম্পিউটার ও যন্ত্রাংশ কেনা হবে ১২৩ কোটি টাকার। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পণ্য ও সেবা খাতে ৩০৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভূমিতে জনগণের দুর্ভোগ ও হয়রানি সীমাহীন। এই ভোগান্তি কমাতে ভূমি ব্যবস্থাপনায় সব ইউনিয়ন ও উপজেলা ভূমি অফিস, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, কমিশনার অফিস ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টতা জরুরি। এছাড়া বাংলাদেশে বেশিরভাগ মামলা হয় ভূমি সংক্রান্ত। কিন্তু নিষ্পত্তি হতে বছরের পর বছর চলে যায়। এসব সমস্যা নিরসনে ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন বিরাট সুবিধা নিয়ে আসবে।
সূত্র জানায়, যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং ভূমিসংক্রান্ত জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আগে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটুআইর দেয়া প্রথম সফটওয়্যারের মাধ্যমে ৫২টি জেলায় ৪৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৮টি খতিয়ান এবং ইএলআরএস সফটওয়্যারের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জ, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার ২৭ লাখ ৯৬ হাজার খতিয়ান এন্ট্রি করা হয়েছে।
এদিকে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, ব্রিটিশ আমলের ভূমি আইনকে যুগোপযোগী করা হচ্ছে। নতুন আইন তৈরির পাশাপাশি পুরনো আইন সংস্কারের মাধ্যমে ভূমিসেবা আরও গতিশীল করার উদ্দেশ্যে এই কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।
রাজধানীর কাঁটাবনে অবস্থিত ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গত ৮ জুলাই ৪ সপ্তাহের ‘১১তম বেসিক ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ কোর্স’ উদ্বোধনকালে ভূমিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী আরো বলেন, সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। মন্ত্রণালয় থেকে মাঠ পর্যায়ের ভূমি অফিসের কর্মকা- পরিবীক্ষণের পাশাপাশি আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করা হচ্ছে। দুর্নীতির প্রমাণ পেলেই আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া কিছুদিনের মধ্যে হট-লাইনের কার্যক্রম শুরু হবে, এতে ভূমি সংক্রান্ত কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বৃদ্ধি পাবে।