প্রতিবেদন

দক্ষিণ কোরীয় প্রধানমন্ত্রী লি নাক ইওনের ঢাকা সফর : বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী দক্ষিণ কোরিয়া

বিশেষ প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টিকারী রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য মিয়ানমারকে রাজি করাতে দণি কোরিয়ার সহায়তা কামনা করেছেন। সদ্য ঢাকা সফর করে যাওয়া দণি কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী লি নাক ইওনের সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনা এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর কারণে এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতায় ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। আমরা আশা করব, রোহিঙ্গা সংকটের একটি আশু ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য দণি কোরিয়া মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে।
দণি কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী লি নাক ইওনের সঙ্গে গত ১৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তাঁর আহ্বানের জবাবে দণি কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের পে যা করা সম্ভব, আমরা তা করব।
কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে বাংলাদেশ ও দণি কোরিয়ার মধ্যে ব্যবসাবাণিজ্য এবং বিনিয়োগ, কূটনীতি ও সাংস্কৃতিক েেত্র সহযোগিতা বৃদ্ধির ল্েয ৩টি চুক্তি সই হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ওইদিন বিকেলে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে এ সমঝোতা চুক্তি সই হয়।
একই দিন পৃথক অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর ব্যাপারে তাঁর দেশের আগ্রহের কথা জানান। তিনি বাংলাদেশে জাহাজভাঙা শিল্প, প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন, অবকাঠামো, জ্বালানি, আইটি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে রপ্তানি বাড়াতে বাংলাদেশকে পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দেয়ারও পরামর্শ দেন।
উল্লেখ্য, দণি কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী লি নাক ইওন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে ৩ দিনের সফরে ১৩ জুলাই সন্ধ্যায় ঢাকা আসেন। তিনি ১৫ জুলাই রাতে তাজিকিস্তানের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যান।
জানা যায়, চার দেশ সফরের অংশ হিসেবে প্রথমেই ঢাকা আসেন লি নাক ইওন। তিনি ১৩-২১ জুলাই সময়ে বাংলাদেশ, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান ও কাতার সফর করেন।
বাংলাদেশ সফরকালে ১৪ জুলাই সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দণি কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী। ওইদিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপীয় বৈঠক করেন তিনি। একইদিন সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠক করেন কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী। তিনি সাভারের ইপিজেড এলাকাও পরিদর্শন করেন। এদিন রাজধানীর একটি হোটেলে কোরিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামে বক্তব্যও দেন। পরদিন ১৫ জুলাই বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
১৪ জুলাই বিকেল সোয়া ৪টার দিকে দণি কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছলে টাইগার গেটে তাঁকে স্বাগত জানান শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ ও দণি কোরিয়ার মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দণি কোরিয়ার বাজারে কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই বাংলাদেশি সব পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেয়ার আহ্বান জানান। বৈঠকে বাংলাদেশের পে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং কোরিয়ার পে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী লি নাক ইওন নেতৃত্ব দেন। ৪০ মিনিট স্থায়ী বৈঠকে আলোচনায় প্রধানত ব্যবসাবাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কারিগরি সহযোগিতার বিষয় উঠে আসে।
অবশ্য রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এই মানবিক সংকট শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে আমাদের দ্বিপীয় প্রচেষ্টার সম্পূরক হিসেবে অব্যাহত আন্তর্জাতিক চাপ ও সম্পৃক্ততা দরকার।
শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমার রাখাইন প্রদেশে একটি অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হওয়ায় বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করা যাচ্ছে না। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে তাদের ভূমি ও সম্পত্তিতে প্রবেশাধিকার দেয়া হলে তারা মিয়ানমার ফিরে যেতে উৎসাহী হবে।
প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালের নভেম্বরে ইউএনজিএ-তে মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রস্তাব গ্রহণে সমর্থন দেয়ার জন্য কোরীয় প্রজাতন্ত্রের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
দুই দেশের বাণিজ্যবৈষম্য কমাতে দণি কোরিয়ার বাজারে কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই বাংলাদেশি সব পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেয়ার অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, কোরিয়া বাংলাদেশ থেকে ওভেন গার্মেন্ট, ওষুধ, নিটওয়্যার, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফ্রোজেন ফুড ও সিরামিকসামগ্রী আমদানি করতে পারে।
দণি কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী লি নাক ইওন দণি কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে জানান।
ব্যাপক বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে দণি কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে ‘সম্ভাবনাময় দেশ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, দণি কোরিয়া বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) হিসেবে বাংলাদেশের জন্য ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করেছে।
দ্বিপীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের ইপিজেডগুলোতে টেক্সটাইল, ট্যানারি ও পাদুকা কারখানায় কোরিয়ার যথেষ্ট বিনিয়োগ রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা স্মরণ করি যে, ১৯৯৬-২০০১ সালে আমার প্রথম মেয়াদে কোরিয়ান কোম্পানিগুলো প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে তৈরী পোশাক খাতে বিনিয়োগ করেছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোরিয়া এখানে জি-টু-জি এবং পিপিপি মডেলের অধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরে বিনিয়োগ করতে পারে। ওটা বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ কেন্দ্র।
শেখ হাসিনা বলেন, কোরিয়া ১ দশমিক ৬১৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের জিডিপি নিয়ে বিশ্বের ১২তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। আমরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য কোরিয়ার আগ্রহকে স্বাগত জানাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য, আইসিটি, শিা, পানি বিশুদ্ধকরণ, জ্বালানি ও পরিবহন খাতে অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতাসহ বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের অংশীদারদের মধ্যে কোরিয়া অন্যতম।
তিনি বলেন, কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) আমাদের স্বাস্থ্য, শিা ও সামাজিক কল্যাণ খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
শেখ হাসিনা ইনটেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (আইটিএস)-এর জাতীয় মহাসড়কে করিডোরগুলোর নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তার উন্নতির জন্য কোরিয়ান তহবিলের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য কোইকার সহযোগিতা প্রশংসনীয়। মহেশখালী দ্বীপে টেলিকমের ডিজিটাল সংযোগ স্থাপনের জন্য কোরিয়া শীর্ষ সহযোগিতাকারী দেশ। বাংলাদেশে বিভিন্ন হাইটেক পার্কে আরও কোরিয়ান বিনিয়োগকে আমরা স্বাগত জানাই।
ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্ল্যান্ট স্থাপন, শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবে কোরিয়ান ভাষাশিা প্রবর্তন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য কোরিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন শেখ হাসিনা।
জবাবে কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরাও জ্বালানি, আইসিটি ও প্রতিরা খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও দণি কোরিয়াকে সমুদ্রতীরবর্তী দেশ উল্লেখ করে বলেন, সামুদ্রিক বাণিজ্য আরো সহজ করতে একটি দ্বিপীয় শিপিং চুক্তি সম্পাদন করা যেতে পারে। আমরা ইডিসিএফ-এর আওতায় কোরীয় এক্সিম ব্যাংক তহবিলের সঙ্গে একটি সমন্বিত ‘মেরিটাইম নেভিগেশন সিস্টেম ইন বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছি।
বর্তমানে অনেক বাংলাদেশি ‘এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম (ইপিএস)’-এর আওতায় কোরিয়ার মেনুফ্যাকচারিং খাতে কাজ করছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা কৃষি, নির্মাণ, ফিশারিজ ও সেবা খাতসহ অন্যান্য খাত বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য পুনরায় খুলে দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোরিয়ার বাণিজ্যিক ব্যাংকের সহযোগিতা বাংলাদেশি শ্রমিকদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে সহায়তা করবে।
তিনি বলেন, একাডেমি ও গবেষণা অভিজ্ঞতা এবং গবেষণালব্ধ তথ্য ও প্রযুক্তি বিনিময়ের ল্েয দুই দেশের মধ্যে একটি উচ্চশিা বিনিময় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা যেতে পারে। দণি কোরিয়া কারিগরি শিা ও দতা উন্নয়নের েেত্র বাংলাদেশের একটি মূল্যবান অংশীদার হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সূচিত ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে শত্রুতা নয়’ এই পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সকল বিরোধ ও মতপার্থক্য শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান করতে চায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা উন্নয়ন করে এমন বৈশ্বিক উদ্যোগসমূহ সমর্থন করে।
শেখ হাসিনা বলেন, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি (এনএনপিটি) ও সার্বিক পারমাণবিক পরীা নিষিদ্ধ চুক্তিতে (সিটিবিটি) স্বারকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ কোরীয় উপদ্বীপে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল গঠনে সকল আন্তর্জাতিক পদপেকে জোরালোভাবে সমর্থন করে।
তিনি বলেন, সিটিবিটি ও এনএনপিটি পূর্ণ বাস্তবায়নে আমাদের সমর্থন আমাদের সাংবিধানিক অঙ্গীকার থেকে উৎসাহিত। আমরা সাম্প্রতিক সময়ে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা প্রশমনকে স্বাগত জানাই।
কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী লি নাক ইওনকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা পারস্পরিক স্বার্থ ও সহযোগিতার চেতনার ভিত্তিতে কোরিয়ার প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে মূল্য দেই। আমি ২০১০ সালের মে মাসে দণি কোরিয়ার সফরের কথা স্মরণ করছি, যখন আমরা দ্বিপীয় সম্পর্ককে একটি সামগ্রিক অংশীদারিত্বে উন্নীত করার অঙ্গীকার করেছিলাম। তখন সমতা ও পারস্পরিক কল্যাণের ভিত্তিতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তও ছিল।
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইনের নেতৃত্বে কোরিয়া নিজেকে একটি উন্নত দেশে রূপান্তর ঘটাচ্ছে। দেশকে উন্নয়নের উচ্চতর স্তরে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ কোরিয়ার দ্বারা অনুপ্রাণিত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে উন্নীত হতে ভিশন-২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়ন করছি।
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে কোরিয়ার সহায়তা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কোরিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিলের (ইডিসিএফ) অধীনে আমাদের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ঋণ পেতে আগ্রহী।

তিন চুক্তি স্বার
বাংলাদেশ ও দণি কোরিয়ার মধ্যে গত ১৪ জুলাই ৩টি চুক্তি সই হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং দণি কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী লি নাক ইওনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে সমঝোতা চুক্তি সই হয়। দুই প্রধানমন্ত্রী চুক্তি স্বার অনুষ্ঠান প্রত্য করেন। চুক্তিগুলো হচ্ছে ১. কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল ডিপ্লোমেটিক একাডেমি এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা চুক্তি। এতে সই করেন দণি কোরিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী লি তায়েহো এবং বাংলাদেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির প্রিন্সিপাল সৈয়দ মাসুদ মাহমুদ খন্দকার।
২. বাংলাদেশ ও দণি কোরিয়ার মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ল্েয কোরীয় ট্রেড ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন এজেন্সি ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপরে মধ্যে সমঝোতা চুক্তিতে সই করেন কোরিয়ার বাণিজ্য বিনিয়োগ প্রমোশন এজেন্সির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়ং ওহ এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ কর্তৃপরে নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল হক।
৩. বাংলাদেশ ও দণি কোরিয়ার মধ্যে ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি সংক্রান্ত বিষয়ে সমঝোতা চুক্তিতে সই করেন দণি কোরিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী লি তায়েহো এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ
দণি কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী ১৪ জুলাই সকালে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। সকাল ৯টা ১০ মিনিটে স্মৃতিসৌধে তাকে স্বাগত জানান গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আকবর হোসেন। এ সময় তিনি স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে নাগেশ্বর চাঁপা ফুলের একটি চারা রোপণ করেন এবং পরিদর্শন বইতে স্বার করেন। পরে তিনি সাভারের ডিইপিজেড (পুরনো) জোনে দণি কোরিয়ার মালিকানাধীন ইয়ংওয়ান হাইটেক স্পোর্টস ওয়্যার লি. কারখানা পরিদর্শন করেন।